RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Friday , 16 October 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬: খাদ্য আছে বাজারে, পুষ্টি কি সবার পাতে?

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
October 15, 2026 10:39 pm

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬: খাদ্য আছে বাজারে, পুষ্টি কি সবার পাতে?

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কতটা এগিয়েছে বাংলাদেশ, সরকারের করণীয় কী?

কৃষি সাংবাদিক ড. বায়েজিদ মোড়ল || সম্পাদক-AgricultureNews24.com

একটি পরিবারের ঘরে ভাত আছে, কিন্তু শিশুর পাতে নিয়মিত ডিম, মাছ, ডাল কিংবা সবজি নেই। বাজারে খাদ্য আছে, কিন্তু স্বল্প আয়ের মানুষ প্রয়োজনমতো কিনতে পারছেন না। কৃষক উৎপাদন করছেন, অথচ বিক্রির টাকা দিয়ে উৎপাদন খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ছে। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার আলোচনা শুরু করতে হবে এই তিনটি বাস্তবতা একসঙ্গে বিবেচনা করে।

১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা—এফএও ঘোষিত ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “Innovate today. Nourish tomorrow.” এর ভাবার্থ—আজকের উদ্ভাবনের মাধ্যমে আগামীর পুষ্টি নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের জন্য এই আহ্বানের তাৎপর্য গভীর। নতুন প্রযুক্তির সুবিধা কৃষকের কাছে পৌঁছানো, উৎপাদিত খাদ্যের অপচয় কমানো এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত এর বাস্তব প্রয়োগ।

খাদ্য নিয়ে সরকারি পরিকল্পনার মূল্যায়নে তাই কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসা জরুরি। দেশে কত খাদ্য উৎপাদিত হলো? উৎপাদক কত দাম পেলেন? সাধারণ মানুষ কতটা কিনতে পারলেন? আর শিশু ও মায়ের পুষ্টির অবস্থায় কতটা উন্নতি হলো? এই প্রশ্নগুলোর সমন্বিত উত্তর ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তার অগ্রগতি সম্পূর্ণ বোঝা যাবে না।

পেট ভরছে, পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে কতটা?

খাদ্য নিরাপত্তার অর্থ প্রয়োজনীয় খাবার নিয়মিত পাওয়ার নিশ্চয়তা। পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য এর সঙ্গে যুক্ত হয় খাবারের বৈচিত্র্য, নিরাপত্তা, পরিচর্যা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগ। পরিবারের খাদ্য কেনার সামর্থ্য থাকলেও শিশু উপযুক্ত খাবার না পেলে, কিংবা বারবার অসুস্থ হলে পুষ্টির উন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ইউনিসেফের প্রকাশিত বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে—এমআইসিএস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৪ শতাংশ খর্বকায় এবং ১২ দশমিক ৯ শতাংশ কৃশতায় আক্রান্ত। ছয় থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের মাত্র ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য পাচ্ছে। একই বয়সী শিশুদের মধ্যে খাদ্যদারিদ্র্যের হার ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান খাদ্যের পরিমাণের পাশাপাশি শিশুর খাবারের মান ও বৈচিত্র্যে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন তুলে ধরে।

খাদ্যদারিদ্র্যকে শুধু পরিবারের আয় দিয়ে ব্যাখ্যা করলেও বিশ্লেষণ অসম্পূর্ণ থাকে। খাবারের প্রাপ্যতা, বাজারদর, শিশুকে খাওয়ানোর জ্ঞান, মায়ের সময় ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ—সবকিছু বিবেচনায় আনতে হবে। তবে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় খাবার কেনা সম্ভব না হলে কেবল সচেতনতামূলক প্রচারণা দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা যাবে না।

সরকারের পুষ্টি কার্যক্রমকে তাই পরিবারের বাস্তব খাদ্যব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। একটি নিম্ন আয়ের পরিবার সপ্তাহে কত দিন মাছ, ডিম, ডাল, দুধ, ফল ও সবজি কিনতে পারছে—এই তথ্যও নীতিনির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হওয়া প্রয়োজন।

২০২৬ সালের খাদ্যঝুঁকি কী বলছে

খাদ্যসংকটের জাতীয় আলোচনায় এলাকার পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলের দুর্যোগপীড়িত পরিবার, হাওরের মৌসুমি কর্মহীন মানুষ, পাহাড়ের দুর্গম এলাকার বাসিন্দা এবং শহরের অনিয়মিত আয়ের শ্রমজীবীর সংকট এক রকম নয়।

আইপিসির ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে মে–আগস্ট সময়ে মূল্যায়ন করা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষকে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংকট পর্যায় বা তার ওপরে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বর সময়ে সংখ্যাটি প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়নটি ৩৬ জেলা ও চারটি বিশেষ এলাকা নিয়ে করা; ফলে এই সংখ্যাকে সারা দেশের মোট জনগোষ্ঠীর সরাসরি পরিমাপ হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। প্রক্ষেপণটিকেও ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া ফল হিসেবে দেখানো যাবে না।

এই সতর্কবার্তার নীতিগত গুরুত্ব হলো, সংকট গভীর হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় খাদ্যসহায়তা, আয় সুরক্ষা ও কৃষি পুনর্বাসন একসঙ্গে পরিকল্পনা করলে পরিবারকে ঋণ করা, উৎপাদনের সম্পদ বিক্রি করা কিংবা খাবার কমিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা করার সুযোগ তৈরি হয়।

কৃষকের ন্যায্য আয় ছাড়া খাদ্যব্যবস্থা টেকসই হবে কীভাবে

ভোক্তা কম দামে খাবার চাইবেন, সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই দাম নিশ্চিত করার পুরো চাপ কৃষকের ওপর পড়লে ভবিষ্যতের উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়ে। লোকসানের কারণে একজন সবজিচাষি আবাদ কমিয়ে দিলে, একজন ডিম উৎপাদক খামার বন্ধ করলে কিংবা একজন দুগ্ধখামারি গাভী বিক্রি করে দিলে তার প্রভাব পরবর্তী সময়ে সরবরাহে পড়তে পারে।

এ কারণে সরকারের কাজ হবে উৎপাদন খরচ, বাজারে বিক্রয়মূল্য এবং সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা। খামারে কম দাম ও বাজারে বেশি দামের মাঝখানে পরিবহন, বাছাই, সংরক্ষণ, পচন, শ্রম ও অর্থায়নের কত খরচ হচ্ছে, তা প্রকাশযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে বোঝা দরকার। কোথাও অযৌক্তিক মুনাফা বা প্রতিযোগিতায় বাধা থাকলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে শনাক্ত করতে হবে।

আকস্মিক আমদানি কিংবা রপ্তানি সিদ্ধান্তেও উৎপাদনচক্র বিবেচনা করা প্রয়োজন। কৃষক ও খামারিকে আগাম ধারণা দিতে পারলে তাঁরা বিনিয়োগ ও উৎপাদনের পরিকল্পনা ভালোভাবে করতে পারবেন। বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদকের টিকে থাকার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

উদ্ভাবন তখনই কার্যকর, যখন কৃষক ব্যবহার করতে পারেন

বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ব্যবহারযোগ্য উদ্ভাবন। কৃষকের জন্য সহজ ভাষায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মাটির পরীক্ষাভিত্তিক সারের পরামর্শ, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং নির্ভরযোগ্য বাজারতথ্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উন্নত মানের পোনা ও বাচ্চা, কার্যকর টিকা, মানসম্মত খাদ্য এবং দ্রুত রোগনির্ণয়ের সেবা উৎপাদনের ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তবে নতুন প্রযুক্তি কেনার আগে স্থানীয় পরিবেশে তার ফলাফল ও ব্যয় যাচাই করা প্রয়োজন। একটি যন্ত্র বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক হলেই ছোট খামারির জন্য সমান উপযোগী হবে—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকারি গবেষণার সাফল্য মূল্যায়নে তাই উদ্ভাবনের সংখ্যা ছাড়াও দেখতে হবে, কত কৃষক সেটি গ্রহণ করেছেন, তাঁদের ব্যয় কত কমেছে এবং আয় কতটা স্থিতিশীল হয়েছে। সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ের প্রদর্শনী এবং বিক্রয়োত্তর সহায়তা ছাড়া প্রযুক্তি অনেক সময় ব্যবহারকারীর কাছে বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

ডিজিটাল সেবার পাশাপাশি সরাসরি পরামর্শের সুযোগও রাখতে হবে। স্মার্টফোন ব্যবহার করতে না পারা কৃষক যেন সরকারি সেবা থেকে পিছিয়ে না পড়েন।

খাদ্য নষ্ট হওয়ার পথ বন্ধ করতে বিনিয়োগ চাই

উৎপাদন বাড়াতে যত গুরুত্ব দেওয়া হয়, উৎপাদিত খাদ্য ভালো অবস্থায় ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থায়ও তত মনোযোগ প্রয়োজন। সংগ্রহের পর সঠিকভাবে রাখা, উপযুক্ত পাত্রে পরিবহন এবং সময়মতো বাজারজাত করার সুযোগ না থাকলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হন।

স্থানীয় পর্যায়ে সংগ্রহকেন্দ্র, পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা, পণ্যভেদে উপযুক্ত সংরক্ষণ, মাছের জন্য মানসম্মত বরফ এবং দুধ দ্রুত শীতল করার সুবিধা গড়ে তোলা যেতে পারে। বিনিয়োগের আগে দেখতে হবে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কত পণ্য আসে, কে পরিচালনা করবেন এবং কৃষক কত খরচে সেবা পাবেন।

শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারকারীর সামর্থ্যের হিসাবও প্রকল্পের শুরুতে থাকতে হবে। খাদ্য সংরক্ষণের উদ্যোগের সাফল্য মাপতে হবে কমে আসা ক্ষতি এবং কৃষকের বাড়তি প্রাপ্তির মাধ্যমে।

নিরাপদ খাদ্যের নজরদারি শুরু হোক উৎপাদনের উৎস থেকে

পুষ্টিকর খাবার মানুষের শরীরের উপকারে আসতে হলে সেটি নিরাপদও হতে হবে। এ জন্য খামার, ক্ষেত, পুকুর, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, পরিবহন এবং বাজার—প্রতিটি ধাপে দায়িত্ব নির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।

বীজ, সার, কীটনাশক, মৎস্য ও গবাদিপ্রাণির খাদ্য এবং ওষুধের মান যাচাইয়ে নিয়মিত ব্যবস্থা থাকতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার, প্রয়োজনীয় প্রত্যাহারকাল পালন এবং খাদ্যে অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা গুরুত্ব পাওয়া উচিত। একই সঙ্গে খাদ্যবাহিত রোগজীবাণু, দূষিত পানি ও অপরিচ্ছন্ন ব্যবস্থাপনার ঝুঁকিও নজরদারিতে আনতে হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল, নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সংশোধনমূলক পদক্ষেপ স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। প্রমাণ ছাড়া কোনো খাদ্য বা উৎপাদন খাতকে অনিরাপদ বললে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আবার অভিযোগ উপেক্ষা করলেও ভোক্তার আস্থা নষ্ট হয়। বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা ও জবাবদিহিই এই দুই সমস্যার কার্যকর উত্তর।

শিশু ও মায়ের পুষ্টিতে সরাসরি বিনিয়োগ প্রয়োজন

সরকারের বিশেষ দৃষ্টির প্রথম সারিতে থাকা উচিত গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা এবং ছোট শিশু। তাঁদের জন্য খাদ্যসহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মধ্যে সংযোগ গড়ে তুলতে হবে।

বিদ্যালয়ভিত্তিক খাবার কর্মসূচিও পুষ্টি উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। স্থানীয় প্রাপ্যতা ও পুষ্টিমান অনুযায়ী নিরাপদ খাবারের তালিকা তৈরি এবং স্বচ্ছ ক্রয়ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সম্ভব হলে স্থানীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা যায়। এতে শিশুদের খাবারের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।

সামাজিক সুরক্ষার সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণেও বাজারের খাদ্যমূল্য বিবেচনা করা দরকার। সহায়তা দিয়ে পরিবার বাস্তবে কতটা খাবার কিনতে পারছে, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে। উপকারভোগী নির্বাচন, সময়মতো অর্থ বা খাদ্য পৌঁছানো এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা কার্যকর না হলে বরাদ্দের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন।

জলবায়ুর ঝুঁকিতে খাদ্য পরিকল্পনাও বদলাতে হবে

বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন পরিকল্পনায় বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও অতিরিক্ত তাপের স্থানীয় ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি। সব এলাকার জন্য একই প্রযুক্তি বা একই ফসলের পরামর্শ কার্যকর হবে না।

উপকূলে পানির লবণাক্ততা ও মিঠাপানির প্রাপ্যতা, হাওরে আগাম বন্যার সময় এবং খরাপ্রবণ এলাকায় সেচের ব্যয় অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা সাজাতে হবে। মাছ ও গবাদিপ্রাণির জন্যও দুর্যোগকালীন আশ্রয়, খাদ্য, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।

দুর্যোগের পর ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আগাম সহায়তার ব্যবস্থা গুরুত্ব পাওয়া উচিত। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কৃষক ফসল তুলতে পারছেন কি না, খামারি গবাদিপ্রাণি সরাতে পারছেন কি না এবং জেলে পরিবার বিকল্প আয় পাচ্ছেন কি না—এসবই খাদ্য নিরাপত্তার অংশ।

বিশেষ দৃষ্টি মানে পরিমাপযোগ্য দায়িত্ব

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দৃশ্যমান হবে তখনই, যখন ঘোষণার সঙ্গে দায়িত্ব, সময়সীমা ও ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রথমত, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিবারভিত্তিক খাদ্যপ্রাপ্তি ও পুষ্টির তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কৃষক ও খামারির উৎপাদন খরচ এবং প্রাপ্ত মূল্য পর্যবেক্ষণ করে সহায়তা ও বাজারনীতি সাজাতে হবে। তৃতীয়ত, শিশু-মায়ের পুষ্টি এবং বিদ্যালয়ের খাবার কর্মসূচিতে প্রয়োজনভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। চতুর্থত, সংরক্ষণ, নিরাপদ পরিবহন ও খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা উন্নত করতে হবে। পঞ্চমত, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর কাজের অগ্রগতি সমন্বিতভাবে প্রকাশ করতে হবে।

কৃষি বিভাগের সাফল্য উৎপাদনে, খাদ্য বিভাগের সাফল্য মজুতে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সাফল্য চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ রাখলে পরিবারের পুষ্টির সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। একই পরিবারের খাদ্য, আয়, স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা সাজানো জরুরি।

বিশ্ব খাদ্য দিবসের অঙ্গীকারের বাস্তব পরীক্ষা হবে মানুষের খাবারের থালায়। সেখানে বৈচিত্র্যময় নিরাপদ খাবার বাড়ছে কি না, শিশুর পুষ্টির উন্নতি হচ্ছে কি না এবং সেই খাবার উৎপাদনকারী কৃষক সম্মানজনক আয় পাচ্ছেন কি না—সরকারের সাফল্য বিচার করতে হবে এসব ফল দিয়ে। আজকের উদ্ভাবনকে আগামীর পুষ্টিতে রূপ দিতে হলে গবেষণা, বাজেট ও বাজারব্যবস্থার সুফল পৌঁছাতে হবে কৃষকের উঠান থেকে প্রতিটি পরিবারের খাবারের টেবিল পর্যন্ত।

সর্বশেষ - ছাগল পালন