হলষ্ট্রেইন-ফ্রিজিয়ান জাতের গরু পরিচিতিঃ এ জাতের গরুর উৎপত্তিস্থান হল্যান্ডের ফ্রিজল্যান্ড প্রদেশে। হল্যান্ডের ভাষায় এদেরকে ফ্রিজিয়ান বলা হয়। এজাত সাধারণত শীত প্রধান অঞ্চলের জাত। দুধাল গাভীর সকল জাতের মধ্যে এটা বড় আকৃতির জাত।

হলষ্ট্রেইন-ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর বৈশিষ্ট:
ফ্রিজিয়ান গাভীর বর্ণ সাধরণত ছোট বড় কালো ছাপযুক্ত এবং কখনো পুরোপুরি সাদা ও কালো হয়।
হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান গাভী সাধারণত বড় ও মাথা লম্বাটে সোজা হয়, কুঁজ অনুন্নত হয়।
গাভীর ওজন থাকে ৫৫০ কেজি থেকে ৭০০ কেজি এবং ষাড়ের ওজন ৯০০-১০০০ কেজি পর্যন্ত হয়।
প্রথম গর্ভধারণ বয়স ১৮-২৪ মাস এবং বছরে গড় দুধ উৎপাদন ৮০০০ থেকে ১২০০০ লিটার পর্যন্ত হয়।
দৈনিক এ জাতের গাভী ২০-৪৫ লিটা দুধ দিতে পারে।
হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান গরুর বৈশিষ্ট্য হলো এদের স্বতন্ত্র কালো-সাদা বা লাল-সাদা ছোপযুক্ত চামড়া, বড় আকার এবং বৃহৎ ও স্পষ্ট দুগ্ধশিরা। এছাড়া, এদের জিহ্বা ও শিং সাধারণত সাদা হয়, নাভি ঝুলে থাকে এবং এদের ওলান বেশ বড় ও স্পষ্ট।
হলষ্ট্রেইন-ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য
রঙ: কালো ও সাদা অথবা লাল ও সাদা ছোপযুক্ত চামড়া, যা এদের সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
দেহ: এদের শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বড় আকারের হয়। প্রাপ্তবয়স্ক গাভীর ওজন প্রায় ৫০০-৬০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৮০০-৯০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
জিহ্বা ও শিং: জিহ্বা ও শিং সাধারণত সাদা হয়।
নাভি: এদের নাভি ঝুলে থাকে।
ওলান: গাভীর ওলান তুলনামূলকভাবে বড় হয়।
দুগ্ধশিরা: দুগ্ধশিরা মোটা ও স্পষ্ট হয়।
অন্যান্য বৈশিষ্ট্য
প্রজনন ক্ষমতা: এদের প্রজনন ক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।
উৎপত্তি: এদের মূল উৎপত্তিস্থল নেদারল্যান্ডস, তবে বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই এদের পাওয়া যায়।
বৈশিষ্ট্যগুলোকে ক্রমানুসারে নীচের ছবির সাথে মিলিয়ে নিবেন এবং মনে রাখার চেষ্টা করবেন আশাকরি উপকৃত হবেন।
১. ক্রস গাভীর নাভি ঝুলানো থাকবে যা অরিজিনাল ফ্রিজিয়ান গাভীতে কখনও দেখা যায়না।
২. ক্রস গাভীর গলকম্বল থাকে আর অরিজিনাল ফ্রিজিয়ান গাভীর কোন গলকম্বল থাকেনা অর্থাৎ গলা অনেকটা উটের মত থাকবে।
৩. ক্রস গাভীর দুগ্ধশিরা (Milk Vain) চিকন/সরু হয়, অনেকক্ষেত্রে বুঝা যায়না। অরিজিনাল ফ্রিজিয়ান গাভীর দুগ্ধশিরা (Milk Vain) খুবই স্পষ্ট এবং মোটা অনেকক্ষেত্রে ১.৫ থেকে ২ ইন্চি মোটা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
৪. অরিজিনাল ফ্রিজিয়ান গাভীর ওলান তুলনামূলকভাবে খুবই বৃহৎ আকারের হয়।
৫. অরিজিনাল ফ্রিজিয়ান গাভীর লেজ ছোট এবং চিকন।
৬. অরিজিনাল ফ্রিজিয়ান গাভীর জিহ্বা সাদা, শিং সাদা এবং শরীরের সামনের অংশ চিকন / সরু ও পিছনের অংশ ক্রমান্বয়ে বড় হয়।
হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান গরু চেনার উপায় আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আমাদের দেশে গরু পালন একটি লাভজনক পেশা। গরু পালন করে অনেকেই তাদের বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। গরু পালনে লাভবান হওয়ার ক্ষেত্রে উন্নত জাতের গরু পালনের বিকল্প নেই। আসুন জেনে নেই হলিস্টাইন ফ্রিজিয়ান গরু চেনার উপায় সম্পর্কে-
হলষ্ট্রেইন-ফ্রিজিয়ান জাতের বকনা বাছুরের ক্ষেত্রেঃ গায়ের রং হলিস্টাইন ফ্রিজিয়ান গরুর মত কিনা, বয়স অনুযায়ী এর সঠিক বৃদ্ধি হয়েছে কিনা, এর গায়ের পশম গুলো উজ্জ্বল আর চামড়া পাতলা, জিভ সাদা কিনা, অসুস্থ গরুর চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে, চোখ হতে হবে উজ্জল, সুস্থ বাছুর চঞ্চল আর ছুটাছুটি করবে, মাথা ছোট-ঘাড় লম্বা থাকবে। অসুস্থ বাছুর বেশীর ভাগ সময়ই বসে থাকবে আর গায়ের পশম গুলো খাড়া হয়ে থাকবে এবং খেতে চাইবেনা। ভাল জাতের বাছুর কেনার সময় এর মা কতটুকু দুধ দিত যা জানতে পারলে ভাল।
হলষ্ট্রেইন-ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী গরুর ক্ষেত্রেঃ গায়ের রং হলিস্টাইন ফ্রিজিয়ান গরুর মত কিনা, সকালে-বিকালে মিলে কতটুকু দুধ পাওয়া যায়, ভাল জাতের সদ্য প্রথম বিয়ানের গাই গরুর ২ দাত মাত্রই ওঠে থাকবে , মাথা ছোট, ঘাড় লম্বা, চোখ উজ্জল, শরীরের পিছনের অংশ যথেষ্ট ভারী আর সামনের দিক সরু লম্বাটে হবে। গরু হবে অনেক উঁচু লম্বা, জিভ সাদা।বেশী দুধ পেতে হলে ২ বিয়ানের গরু কেনাই ভাল। প্রথম বিয়ানে ৪ দাঁত হলে বুঝতে হবে গরুর প্রথম বীজ দেরি করে ধরেছে আর বয়স্ক কিছুটা। গরুর দাঁত আর শিং দেখেই একমাত্র বোঝা যাবে এর বয়স কত। ভাল দুধের গরুর ওলান থেকে পেট পর্যন্ত যে রগ গুলো দেখা যায় তা বেশ স্পষ্ট হয়ে মোটা আকৃতির থাকবে।
হলষ্ট্রেইন-ফ্রিজিয়ান জাতের গাভীন গরুর ক্ষেত্রেঃ গায়ের রং হলিস্টাইন ফ্রিজিয়ান গরুর মত কিনা, মাথা ছোট, ঘাড় লম্বা, শরীরের পিছনের অংশ যথেষ্ট ভারী আর সামনের দিক সরু লম্বাটে হবে। গরু হবে অনেক উচা লম্বা, জিভ সাদা, চোখ উজ্জল। প্রথম বিয়ানের ৫-৬ মাসের গাভীন গরুর কোন দাঁত উঠবেনা আর ৯-১০ মাসের গাভীন গরুর ২ দাত হবে।
গরুর ওলানের আকার বড় এবং নরম ঢিলেঢালা হবে। অনেক সময় বড় ওলান হলেই যে গরু দুধ বেশী দেবে, এই ধারনা করে গরু বাচ্চা দেবার কিছুদিন আগেই আমরা বেশী দাম দিয়ে কিনে ফেলি। ওলান বড় হলেই যে দুধ বেশী দেবে, প্রকৃতপক্ষে এই ধারনা ভুল।
এছাড়া গরু কেনার সময় একে হাঁটিয়ে দেখতে হবে, পায়ে কোন সমস্যা আছে কিনা। অসুস্থ গরু বেশীরভাগ সময় বসে থাকবে আর কিছুক্ষন দাঁড় করিয়ে রাখার পর আবার বসে পড়বে, খেতে চাইবেনা। দুই খুর ভাল করে দেখতে হবে, কোনভাবে রোগ আক্রান্ত হয়েছে কিনা। কিছু গরুর দুই খুরের মাঝে কিছু মাংস বাড়তি থাকে এমন হলে এই গরু গুলো খুরার এক জাতীয় রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে।
























