
ড. মো. বায়েজিদ মোড়ল: শাকসবজি আমাদের ক্ষুধা নিবারণ, দেহের ক্ষয়পূরণ, পুষ্টিসাধন এবং শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও শাকসবজি একটি অত্যাবশ্যক ও প্রয়োজনীয় খাদ্য।
শাকসবজিতে কিছু পরিমাণ প্রোটিন ও খনিজ পর্দাথ এবং যথেষ্ট পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট ও ভিটামিন জাতীয় উপাদান পাওয়া যায়। একমাত্র ভিটামিন ‘ডি’ ছাড়া অন্যান্য ভিটামিন যেমন- এ, বি, সি, ই এবং জি প্রায় সব টাটকা শাকসবজিতে কমবেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়া শরীরে রক্তবর্ধক লৌহ, আয়োডিন ও খনিজ পদার্থ এবং ক্যালসিয়ামও থাকে শাকসবজিতে। ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের পুষ্টি সাধন করে এবং আয়োডিন গলগণ্ড রোগ প্রতিরোধ করে। তাছাড়া প্রচুর পরিমাণে শাক খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না, পেট পরিস্কার থাকে, ফলে অসুখ বিসুখ কম হয়।
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে একজন পূর্ণ বয়স্ক লোকের দৈনিক প্রায় ২৫০-৩০০ গ্রাম সবজি খাওয়া উচিত। কিন্তু সে তুলনায় আমরা পাই মাত্র ৩১ গ্রামের মতো। উন্নত বিশ্বের জনগণ মাথাপিছু সবজি প্রাপ্যতার পরিমাণ ৩৪৮ গ্রাম। আমাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য প্রত্যহ শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ শিশু রাতকানা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। একই কারণে এ দেশে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি শিশু অন্ধ হয়ে যায়।
সবজিতে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণাবলী আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ঘোষণা দিয়েছে, যে যত বেশি সবজি ও ফল খায় ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও তার তত কম। এ ছাড়া অন্যান্য রোগবালাই থেকে বাঁচতে প্রতিদিন প্রচুর শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন, এতে চর্মরোগ, স্কার্ভি, মুখে ঘা, রিকেট, রক্তশূন্যতা এসব অনেক রোগ থেকে বাঁচা যায়। এছাড়া এসব রোগ থেকে বাঁচতে যখন শিশুর বয়স পাঁচ-ছয় মাস হয় তখন থেকে প্রতিদিন পরিমাণ মতো গাঢ় সবুজ ও রঙিন শাকসবজি শিশুকে খাওয়ানো উচিত। একমাত্র শাকসবজিতে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, নিরামিষভোজীরা দীর্ঘজীবী হয়ে থাকে। তাই আমাদের শাকসবজি আবাদ, উৎপাদন ও ব্যবহার অবশ্যই বাড়াতে হবে। অপরদিকে শাকসবজি চাষের জন্য খুব বেশি জমির দরকার হয় না। স্বল্পকালস্থায়ী ফসল হলে একই জমিতে বছরে ৩-৪ বার শাকসবজি উৎপাদনের জন্য সারাবছর বিশেষ উপযোগী। উন্নত পদ্ধতিতে উৎকৃষ্ট জাতের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শাকসবজি চাষ করে আমাদের দেশের চাহিদা মিটিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে সবজি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রফতানি করে প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার বিরাট সুযোগ রয়েছে।
























