RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

বনসাই শিল্পী লায়লার স্বপ্ন : শহরে থেকে গ্রাম ছোঁয়া

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ৭:০১ পূর্বাহ্ণ

বনসাই শিল্পী লায়লার স্বপ্ন : শহরে থেকে গ্রাম ছোঁয়া
ড.  বায়েজিদ মোড়ল

টাঙ্গাইলের মেয়ে লায়লা আহমেদ। লেখাপড়া ও বেড়ে ওঠা সবই টাঙ্গাইলের আদালত পাড়ায়। ১৯৯১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় বিবাহ হয় ঐ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ছেলে ঢাকা জজ কোর্টের এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকের সাথে। ছোট বেলা থেকে গাছ লাগানোর একটা অভ্যাস ছিল লায়লার। বিয়ের পর চলে আসেন স্বামীর সাথে ঢাকার ২৭০ মালিবাগের বাসায়। ঢাকাতে এসে গ্রাজুয়েশন করার জন্য কলেজে ভর্তি হোন। কিন্তু বিয়ের পরে লেখা পড়া করতে ভালো লাগতনা তার। আর লেখা পড়ার জন্য কোন চাপও ছিলনা। স্বামী আইনজীবি সারাদিন সে বাইরে থাকে, বাসায় একা থাকতে লায়লা আহমেদের অনেক কষ্ট হয়।উড়ো উড়ো মন বাধা হয়েছে চার দেয়ালের মাঝে তখন কি করবেন! হাসবেন না কাঁদবেন, গান করবেন না নাচ করবেন। কোন কাজেই মনবসতোনা, কাজে আনন্দ পেতোনা। তখন বারান্দার টবে সৌখিন ফুলের গাছ লাগানো শুরু করেন। সকালে বিকালে গাছে পানি দেওয়া, পরিচর্যা করা, সারাদিনের কিছুটা সময় কাটে লায়লার। পরে ভাবতে থাকেন তিনি গাছ লাগাবেন। তবে কোথায় লাগাবেন? ভাবতে থাকেন…
ঢাকা শহর হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান কর্মক্ষেত্র। জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ দলে দলে ঢাকা শহর মূখী হচ্ছে। বাড়ছে জনসংখ্যা, বিস্তৃত হচ্ছে পরিধি। মানুষের জন্য আবাসন, অফিস, কলকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ঘাট ইত্যাদি তৈরি করার প্রয়োজনে দিনে দিনে খালি জায়গায় ভরে উঠছে অবকাঠামো। প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ কেটে ফেলছে গাছপালা নষ্ট হচ্ছে সবুজ প্রকৃতি। খেলার মাঠ, সবুজায়ন, পার্ক, খোলা জায়গা পরিবর্তিত হচ্ছে ধীরে ধীরে ইট কংক্রিটের চত্বরে, প্রকৃতি হচ্ছে বিপন্ন। লায়লা যেভাবে বেড়ে উঠেছে তার সন্তানরা কি সেভাবে বেড়ে উঠতে পারবে! পাবে বুক ভোরে শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন! সাত-পাঁচ অনেক ধরনের ভাবনা তিনি ভাবতে থাকেন।

তিনি বৃক্ষ মেলাতে যান এবং অনেক ধরনের সৌখিন ফুল ফল ও অরনামেন্টাল পাতার গাছ কিনে নিয়ে আসেন। সেগুলো বারান্দায় ও বারান্দার গ্রিলে ঝুলিয়ে রাখেন। পুরো বারান্ধাটা ভোরে ফেলেন গাছ লাগিয়ে। কিন্তু সারাদিনতো বারান্দায় সুর্যের আলো আসেনা গাছের বৃদ্ধি কম হয়। ফুল কম হয়। পরে ভাবলেন বাড়ীর ছাদটাতো ফাঁকা। সেই ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগালে কেমন হয়!

তিনি বৃক্ষ মেলাতে দেখেন বনসাই গাছ। একটা ছোট্ট গাছ অনেক টাকা তার দাম। অল্প জায়গায় অনেক গাছ রাখা যায়। বনসাই গাছ দেখে তার মনের মাঝে জাগে সময় কাটানোর পাশাপাশী বনসাই করলে বিক্রি করে অর্থ পাওয়া যাবে। তারপর স্বামীকে বুঝাতে থাকেন তিনি ছাদে বাগান করবেন। প্রথমে স্বামী রাজী ছিলেন না পরে তিনি লায়লা আহমেদের কথায় রাজী হোন।

২০০০ সালে শুরু করেন ছাদে বাগানের কাজ। ছাদের পূর্ব পাশে বনসাই করার জন্য নির্ধারণ করেন। আর পুরো ছাদ জুড়ে সারি সারি করে টবে লাগিয়ে দেন হরেক রকমের ফুল ফল ও অরনামেন্টাল গাছ। সকালে বিকালে সারাক্ষন তিনি ছাদের বাগানের পিছনে সময় দেন। বনসাই এর উপর বই জোগাড় করে পড়াশুনা করেন। গাছে পানি দেওয়া, গাছ লাগানো, পরিচর্যা করা এই হচ্ছে লায়লা আহমেদের কাজ। বাড়ীর ছাদের যেন কোন প্রকার ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে। গাছগুলো ছাদের বীম বা কলামের নিকটবর্তী স্থানে রাখলেন। ছাদ ড্যাম্প বা সেঁতসেঁতে যাতে হতে না পারে, এজন্য রিং বা ইটের উপর ড্রাম বা টব সমূহ স্থাপন করলেন। নিচে দিয়ে অনায়াসে আলো বাতাস চলাচল করলে ছাদ ড্যাম্প হতে রক্ষা পাবে। তারপর স্বামীকে বলে পুরো ছাদে নেট ফিনিসিং দিয়ে নিয়েছেন। আর ছাদের কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা নেই।

২০০৩ সালে এসে বনসাই বিক্রি শুরু করেন। তখন দেশে বনসাই গাছের চাহিদা শুরু হয় শুধু মাত্র বৃক্ষমেলাতে। ২০০৮ সালে বনসাই মেলা হয়। সে মেলায় লায়লা আহমেদ ৩০,০০০/Ñ টাকা দামে ১০টি বনসাই গাছ বিক্রি করেন। বর্তমানে নরমাল একটি বনসাই গাছের দাম ৫-৬ হাজার টাকা। তিনি ৫০০/-টাকা থেকে শুরু করে ৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মূল্যে বনসাই গাছ বিক্রি করেছেন। তার গাছের চারাক্রয় থেকে শুরু করে যত ধরনের খরচ হয়েছে তার পুরো টাকাই তুলে ফেলেছেন বনসাই গাছ বিক্রি করে। লায়লা আহমেদের ছাদে আছে বারো মাসি আম, আম্রপালি, সিন্দুরী আমসহ বেশ কয়েক প্রকার আম, বারো মাসি পেয়ারাসহ বেশ কয়েক জাতের পেয়ারা, বাউ কুল, আপেল কুল, থাই কুল, লেবু ও কাগজী লেবুর বেশ কয়েকটা জাত, আমড়া, থাই করমচা, মিষ্টি তেঁতুল, কামরাঙ্গা, কয়েক ধরনের ডালিম, চায়না কমলা, ভুটানি কমলা ও মাল্টা, আপেল জামরুল, নাসপাতি জামরল, স্ট্রবেরি, আতা, সপেদা, লাল শাক, পালং শাক, মুলা শাক, ডাটা শাক, কলমী শাক, পুইঁশাক, লেটুস, বেগুন, করলা, টমেটো, ফুল কপি, বাঁধা কপি, মরিচসহ হরেক রকমের ফুল ও অরনামেন্টাল প্লান্ট ইত্যাদি। এছাড়া তিনি ছাদে নারকেল ও কলাগাছ লাগিয়েছেন।
শুধু ফুল-ফল সবজিই নয়, লায়লা আহমেদ তার বাড়ির ছাদে মাছ চাষও করছেন। তার দুই ছেলে দুই মেয়ে। ২০০৮ সালে এসে ফরমালিন মুক্ত মাছ খাওয়ার জন্য তিনি ছাদের মাঝখানে একটা বড় হাউজ করেন। হাউজের দু পাশে ৩০ মিটার লম্বা দুটি ক্যানেল করেছেন। সেখানে তিলাপিয়া, শিং, মাগুর, শোল, টাকি, কই ইত্যাদি মাছ চাষ করে আসছেন। আর বাইরে গেলে তিনি তাজা মাছ কিনে এনে হাউজে ছেড়ে দেন সেখানে দু/তিন দিন পালন করে পরে মাছটা ধরে খান। তখন মাছের স্বাধ কয়েকগুন বেড়ে যায়। বাজার থেকে ইলিশ মাছ ছাড়া আর কোন মরা মাছ তিনি ক্রয় করেন না। পুরো হাউজটা কচুরিপানা দিয়ে আচ্চাদিত বলে মাছগুলো লাফিয়ে চলে যায়না। হাউজটা এমনভাবে করেছেন যে, পাশে উঁচু একটা টিলার অবয়ব সৃষ্টি করেছেন। টিলারের উপর থেকে পানি গড়িয়ে পড়লে মাছগুলো এসে তখন ¯্রােতের প্রতিকুলে লাফালাফি করতে থাকে। হাউজে মাছের লাফালাফির সাথে লায়লা-শফিক দম্পতির মনটাও লাফায়।

মাঝে মাঝে ছেলেমেয়েরা হাইজ থেকে বড়শী দিয়ে মাছ ধরে। বড়শীতে মাছ বাধলে ছেলেমেয়েরা খুশিতে লাফলাফি করে আনন্দ উল্লাস করতে থাকে। তখন লায়লার মনে হয় সত্যি ছেলে মেয়েদের খুশির জন্য কিছু করতে পেরেছি। স্বামী শফিক ভাবে এক সময় স্ত্রীর কথায় রাজি হতে চায়নি। আজ লায়লা সত্যি একটা সুন্দর কাজ করেছে। সবাইতো ছেলেমেয়ের খুশি দেখার জন্য কাজ করে। এজন্য স্বামী তার উপর অনেক খুশি এবং স্বামী আগে অফিস থেকে ফিরলে লায়লাকে সহযোগিতা করেন। গাছে পানি দেন মাছের পানি পরিবর্তন করে দেন। নিকটতম কিছু আতœীয় স্বজন আছে যারা এক সময় লায়লা আহমেদকে পাগল বলতো। বলতো ‘যার নেই কাজ সে লাগায় গাছ।’ তারা এখন বাসায় বেড়াতে আসলে রাত না থেকে যেতে চায়না। কারণ চাঁদনি রাতে ছাদ আরো ছন্দময় ও মধুময় হয়ে ওঠে। সবাইকে বেড়ানোর জন্য ডাকে তাজা হরেক রকমের নাম না জানা ফুলের গন্ধ, মিষ্টি মিষ্টি ফলের সানিন্ধ্য, কোন কিছুই উপক্ষোর নয়। ছাদে এসে ফল খায়নি এমন কেউ তার ছাদে যায়নি।

ছেলে মেয়েরা রাতের বেলা ছাদে গিয়ে লুকোচুরি খেলে। সিড়িরুমের উপরের ছাদেও গাছগাছালিতে ভর্তি। অনেক দুর থেকে বাগান বিলাসী এই বাড়ীর ছাদটি দেখা যায়। আশে পাশের বাড়ীওয়ালারা বিকালে ছাদের পাশে এসে ঘুরঘুর করে। লায়লা আহমেদ পাকা ফল ছিড়ে অনেককে দেয়। স্বামী শফিকের বন্ধুবান্ধব কেউ বেড়াতে এলে তারাও ছাদে গিয়ে বিশ্রাম নেয়। আর এজন্য ছয় তলা বাড়ীর এই ছাদের এক কর্ণারে চা নাস্তা তৈরীর ব্যবস্থা রেখেছেন। তবে লায়লা আহমেদের ছেলেমেয়েদের অভিযোগ যে, তাদের মা তাদের চেয়েও ছাদের বাগান গাছ-মাছকে বেশী ভালবাসেন।

ছাদে বাগান করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সম্পর্কে লায়লা আহমেদ বলেন- হাফ ড্রাম, সিমেন্ট বা মাটির টব, ষ্টিল বা প¬াস্টিক ট্রে, সিকেচার, কোদাল, কাচি, ঝরনা, বালতি, করাত, খুরপি, ¯েপ্র মেশিন, দোঁআশ মাটি, পঁচা শুকনা গোবর ও কম্পোষ্ট, বালু, ইটের খোয়া ইত্যাদি। টব বা ড্রামের মাটি প্রতি বছর না হলেও ১ বছর অন্তর অন্তর পুরাতন মাটি পরিবর্তন করে নতুন গোবর মিশ্রিত মাটি দিয়ে পুনরায় টবটি/ ড্রামটি ভরে দিতে হবে। এ সময় খেয়াল বাখতে হবে গাছ যেন বেশী ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। লায়লা আহমেদ বালাই দমনে পরিবেশ বান্ধব আইপিএম পদ্ধতি অনুসরন করেন। বিশেষ প্রয়োজন ব্যতিরেকে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করে জৈব রাসায়নিক বালাই নাশক যেমন-নিমবিসিডিন, বাইকাও-১ ব্যাবহার করেন। তার তত্বাবধানে বেশ কয়েকজন ছাদে বাগান শুরু করেছেন।

সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

এআইপি সম্মাননাপ্রাপ্ত ২২জন

সীমান্তমুক্ত বীজ নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক

ফার্ম করার শুরুতে’ই আমরা কিন্তু পই পই করে হিসাব করি

বাংলাদেশের মৎস্য খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান

Cultivation of fruits makes money and nutrition through the Twelve months

যদি করো ফলের চাষ অর্থ-পুষ্টি বারোমাস

গবেষণাধর্মী পরিকল্পনা নিয়ে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর করোনা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল বিপিআইসিসি

জলবায়ু পরিবর্তনে নারীর উদ্ভাবনী উদ্যোগেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পরিবার ও অর্থনীতি

মৎস্য খাতে ই-সার্টিফিকেশন স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

মৎস্য চাষে নিরাপদ ফিড ও ওষুধ সরবারহে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে