বাংলাদেশে আপেল চাষ সম্ভব? বাগান করতে যা জানা জরুরি।।
বাংলাদেশে আপেল বাগান করতে চাইলে করণীয়।
জাত নির্বাচন থেকে বাগান স্থাপন, পরাগায়ন, পরিচর্যা, রোগ ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।।

বাংলাদেশে আপেল বাগান করার কথা শুনলে প্রথম প্রশ্ন আসে—আমাদের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় আপেল কি আদৌ ফলবে? উত্তর হলো, পরীক্ষামূলকভাবে সম্ভব; কিন্তু প্রচলিত শীতপ্রধান অঞ্চলের আপেলের জাত দিয়ে বাণিজ্যিক বাগান শুরু করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের জন্য মূল চাবিকাঠি হবে খুব কম শীত প্রয়োজন হয় এমন Low-chill variety নির্বাচন, উপযুক্ত এলাকার ক্ষুদ্র জলবায়ু যাচাই এবং প্রথমে পরীক্ষামূলক বাগান করা।
আপেলের স্বাভাবিক ফুল ও ফল ধরার জন্য শীতকালে নির্দিষ্ট সময় কম তাপমাত্রা প্রয়োজন, যাকে chilling requirement বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে University of Florida-এর গবেষণায় ‘Anna’, ‘Dorsett Golden’ ও ‘TropicSweet’ জাতের chilling requirement প্রায় 250–300 ঘণ্টা এবং উষ্ণ অঞ্চলের জন্য এগুলোকে উপযোগী low-chill জাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা—Florida-তে সফল মানেই বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে, এমন নয়। বাংলাদেশের শীত, আর্দ্রতা, বর্ষা, রোগবালাই ও মাটির পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই স্থানীয় গবেষণা/পরীক্ষা ছাড়া বড় বিনিয়োগ করা উচিত নয়।
১. প্রথমে বুঝতে হবে ‘Chilling Hour’ কী

আপেল একটি temperate বা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ফল। শীতকালে গাছ dormancy বা সুপ্তাবস্থায় যায়। পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিকভাবে কুঁড়ি ভাঙা, ফুল ফোটা এবং ফল ধরার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ঠান্ডা প্রয়োজন।
সহজ হিসাবে অনেক extension guide-এ 7.2°C (45°F) বা তার নিচের তাপমাত্রায় কাটানো সময়কে chilling hours হিসেবে ধরা হয়, যদিও আধুনিক chill model আরও জটিল।
শীতের ঘাটতি হলে—
- কুঁড়ি একসঙ্গে নাও ভাঙতে পারে,
- ফুল কম বা অসময়ে আসতে পারে,
- পরাগায়ন ব্যাহত হতে পারে,
- ফলের সংখ্যা কমতে পারে,
- গাছ দুর্বল ও অনিয়মিত উৎপাদনশীল হতে পারে।
এ কারণেই বাংলাদেশের আপেল চাষে প্রথম বিবেচ্য বিষয় জাত নয়, এলাকার শীতের পরিমাণ।
২. বাংলাদেশের কোন এলাকায় সম্ভাবনা বেশি?
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক আপেল চাষের জন্য নির্ভরযোগ্য অঞ্চলভিত্তিক গবেষণা ছাড়া নির্দিষ্ট জেলা নিশ্চিত করে বলা ঠিক হবে না। তবে কৃষিতাত্ত্বিকভাবে দীর্ঘ ও তুলনামূলক ঠান্ডা শীত পাওয়া উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং কিছু উচ্চভূমি পরীক্ষামূলক low-chill apple cultivation-এর জন্য আগে যাচাই করা যুক্তিযুক্ত।
বাগান করার আগে অন্তত ২–৩ বছরের স্থানীয় hourly temperature data সংগ্রহ করে chill accumulation হিসাব করা ভালো।
শুধু ডিসেম্বর-জানুয়ারির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেখলে হবে না। নির্বাচিত জাতের প্রয়োজনীয় chilling সত্যিই জমা হচ্ছে কি না সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
৩. কোন জাত দিয়ে শুরু করা যেতে পারে?
বাংলাদেশের মতো উষ্ণ জলবায়ুতে প্রথম পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত low-chill জাত বিবেচনা করা যায়।
Anna: ইসরায়েলে উদ্ভাবিত। University of Florida-এর তথ্য অনুযায়ী chilling requirement প্রায় 300 hours। ফলের স্বাদ ভালো এবং উষ্ণ অঞ্চলে পরীক্ষিত।
Dorsett Golden: বাহামা থেকে উদ্ভূত। Chilling requirement প্রায় 250 hours। Anna-এর সঙ্গে একই সময়ে ফুল আসার কারণে পরাগায়নের জন্য ভালো সঙ্গী হতে পারে।
TropicSweet: University of Florida-এর breeding programme থেকে উদ্ভাবিত low-chill cultivar। Anna ও Dorsett Golden-এর সঙ্গে cross-pollination করা যায়।
Ein Shemer: তুলনামূলক low-chill হলেও Florida trial-এ এর chilling requirement প্রায় 450 hours এবং এটি সেখানে conditionally recommended ছিল। বাংলাদেশের জন্য স্থানীয় পরীক্ষা ছাড়া এটিকেও সরাসরি সুপারিশ করা ঠিক হবে না।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
বাংলাদেশে কেউ যদি এক একর জমিতে প্রথমবার আপেল করতে চান, আমি সরাসরি এক একর বাণিজ্যিক বাগান না করে ১০–২০টি গাছ দিয়ে varietal trial করার পরামর্শ দেব। পাশাপাশি অন্তত দুটি compatible cultivar রাখতে হবে।
৪. একই জাতের গাছ লাগালেই হবে না
এখানে নতুন চাষিরা বড় ভুল করতে পারেন।
বেশিরভাগ আপেল cultivar স্বপরাগায়নে ভালো ফল দেয় না। তাই একই সময়ে ফুল আসে এমন দুই বা ততোধিক compatible cultivar লাগানো প্রয়োজন। Penn State Extension-ও বাগানে overlapping bloom period-সহ একাধিক cultivar রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।
Anna, Dorsett Golden ও TropicSweet পরস্পরের pollinizer হিসেবে কাজ করতে পারে।
অর্থাৎ—
Anna + Dorsett Golden
অথবা
Anna + TropicSweet
দিয়ে পরীক্ষামূলক বাগান শুরু করা তুলনামূলক যৌক্তিক।
ফুলের সময় মৌমাছি ও অন্যান্য pollinator-এর উপস্থিতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. জমি কেমন হতে হবে?
আপেল গাছের জন্য প্রয়োজন পূর্ণ সূর্যালোক, পানি নিষ্কাশনযোগ্য গভীর মাটি এবং ভালো বাতাস চলাচল।
Low-chill apple-এর ক্ষেত্রেও ভালো drainage অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলাবদ্ধতা হলে শিকড়ের রোগ ও গাছ দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মাটির pH আনুমানিক 6.0–6.5 উপযোগী বলে UF/IFAS-এর নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা বড় সমস্যা হতে পারে। তাই নিচু জমিতে আপেল বাগান না করাই ভালো। উঁচু জমি অথবা উঁচু bed/mound এবং কার্যকর drainage channel থাকা দরকার।
৬. বাগান করার আগে মাটি পরীক্ষা
বাগান স্থাপনের আগে অবশ্যই soil test করা উচিত।
বিশেষ করে পরীক্ষা করুন—
pH, organic matter, nitrogen, phosphorus, potassium, calcium, magnesium এবং প্রয়োজন অনুযায়ী micronutrients।
আপেল বাগান বহু বছরের বিনিয়োগ। তাই গাছ লাগানোর পর মাটির বড় সমস্যা আবিষ্কার করার চেয়ে আগে সংশোধন করা অনেক সহজ।
৭. বীজের গাছ নয়, grafted plant প্রয়োজন
বাণিজ্যিক আপেল বাগানে বাজার থেকে আপেলের বীজ নিয়ে চারা তৈরি করে লাগানো উচিত নয়।
কারণ বীজ থেকে জন্মানো গাছ সাধারণত mother plant-এর বৈশিষ্ট্য হুবহু ধরে রাখে না।
তাই প্রয়োজন—
True-to-type scion + উপযুক্ত rootstock + সুস্থ grafted plant।
Rootstock গাছের উচ্চতা, vigour, precocity, anchorage এবং কিছু রোগ ও পরিবেশগত সহনশীলতার ওপর প্রভাব ফেলে। Low-chill apple নিয়ে Florida trial-এ বিভিন্ন rootstock-এর মধ্যে গাছের বৃদ্ধি ও অভিযোজনের পার্থক্যও পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোন rootstock সবচেয়ে ভালো হবে—এটি স্থানীয় trial-এর মাধ্যমে নির্ধারণ করাই নিরাপদ।
৮. চারা কোথা থেকে কিনবেন?
এটাই বাংলাদেশের পরীক্ষামূলক আপেল বাগানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির জায়গাগুলোর একটি।
শুধু বিক্রেতা বললেন—
“এটি থাইল্যান্ডের আপেল”
“বারোমাসি আপেল”
“গরমের আপেল”
—এমন কথার ওপর ভিত্তি করে শত শত গাছ কেনা ঠিক নয়।
চারা কেনার সময় জানতে হবে cultivar name, rootstock, propagation method, nursery source এবং plant health status।
সম্ভব হলে mother plant-এর ফলন এবং cultivar authenticity যাচাই করতে হবে।
৯. চারা লাগানোর সময়
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে স্থানীয় গবেষণার ভিত্তিতে planting calendar নির্ধারণ করা সবচেয়ে ভালো। সাধারণভাবে গাছের dormancy/কম সক্রিয় বৃদ্ধির সময় এবং তীব্র গরম বা জলাবদ্ধতা এড়িয়ে রোপণ করা সুবিধাজনক।
রোপণের সময় graft union মাটির নিচে পুঁতে ফেলা উচিত নয়।
গর্তে সরাসরি অতিরিক্ত রাসায়নিক সার দিয়ে শিকড়ের সংস্পর্শে দেওয়াও ঠিক নয়। UF/IFAS-এর low-chill apple নির্দেশিকায় planting hole-এ fertilizer না দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে।
১০. গাছের দূরত্ব কত হবে?
এটি rootstock ও training system-এর ওপর নির্ভর করে।
Dwarf, semi-dwarf এবং vigorous rootstock-এর spacing এক হবে না। তাই জাতের নাম দেখে spacing নির্ধারণ করা যাবে না; rootstock + training system বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশে নতুন উদ্যোক্তার জন্য orchard design করার সময়—
সারি কোন দিকে হবে, drainage কোথায় থাকবে, irrigation line, pollinizer distribution, machinery movement এবং ভবিষ্যৎ canopy size—সবকিছু একসঙ্গে পরিকল্পনা করতে হবে।
১১. Training ও Pruning অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
আপেল গাছ ছেড়ে দিলে শুধু গাছ বড় করাই লক্ষ্য নয়। লক্ষ্য হলো—
আলো + বাতাস + শক্ত কাঠামো + ফলধারণকারী শাখা।
Modified Central Leader বা উপযোগী অন্য training system ব্যবহার করা যায়। শাখার angle খুব সংকীর্ণ হলে পরবর্তী সময়ে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে; UF/IFAS তরুণ গাছে উপযুক্ত branch angle তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
নিয়মিত pruning-এর মাধ্যমে রোগাক্রান্ত, মৃত, একে অপরকে ঘষা এবং অতিরিক্ত ঘন শাখা সরিয়ে canopy-তে আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।
১২. সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা
আপেলের শিকড়ের চারপাশে একদিকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা প্রয়োজন, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা ক্ষতিকর।
বাংলাদেশে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে drip irrigation + drainage system।
বিশেষ করে—
নতুন গাছ প্রতিষ্ঠার সময়, ফুল আসার আগে-পরে, fruit set এবং ফল বৃদ্ধির সময়ে পানির ঘাটতি যেন না হয়।
আবার বর্ষাকালে পানি জমে থাকলে দ্রুত বের করার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৩. সার ব্যবস্থাপনা
আপেল গাছে “প্রতি গাছে এত কেজি ইউরিয়া” ধরনের একটি স্থায়ী ফর্মুলা বাংলাদেশের জন্য দেওয়া বৈজ্ঞানিক হবে না।
সার নির্ধারণ করতে হবে—
মাটির পরীক্ষা + গাছের বয়স + canopy growth + leaf analysis + fruit load দেখে।
অতিরিক্ত nitrogen দিলে গাছ অত্যধিক vegetative growth করতে পারে, ফলধারণ ও ফলের গুণমান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং কিছু রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
১৪. বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ—আর্দ্রতা ও রোগবালাই
বাংলাদেশে শুধু শীতের অভাবই সমস্যা নয়। উচ্চ তাপমাত্রা, উচ্চ আর্দ্রতা ও বর্ষাকালীন বৃষ্টি আপেল চাষে বড় বাধা হতে পারে।
অনুরূপ উষ্ণ ও আর্দ্র Florida climate-এ high rainfall এবং humidity-এর কারণে apple disease ও insect pressure বেড়ে যাওয়ার কথা UF/IFAS উল্লেখ করেছে।
তাই বাংলাদেশের জন্য রোগ ব্যবস্থাপনায় শুরু থেকেই জোর দিতে হবে—
পরিষ্কার চারা, খোলামেলা canopy, orchard sanitation, আক্রান্ত ফল ও ডাল অপসারণ, পানি নিষ্কাশন, নিয়মিত scouting এবং রোগ শনাক্ত হওয়ার পর অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবস্থাপনা।
অন্ধভাবে pesticide schedule অনুসরণ না করে রোগ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
১৫. ফল পাতলা করা বা Fruit Thinning
গাছে অত্যধিক ফল রেখে দিলে ফল ছোট হতে পারে এবং গাছ দুর্বল হতে পারে। কিছু apple cultivar-এ এক বছর বেশি, পরের বছর কম ফলনের প্রবণতাও দেখা যায়।
তাই fruit set খুব বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী hand thinning করা যেতে পারে। এতে নির্বাচিত ফল বড় ও ভালো মানের হওয়ার সুযোগ পায়।
১৬. প্রথম ফল কবে পাওয়া যাবে?
এটি cultivar, rootstock, plant quality এবং management-এর ওপর নির্ভর করে। ভালো grafted tree উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় কয়েক বছরের মধ্যেই ফল দেওয়া শুরু করতে পারে। Florida extension-এর একটি low-chill apple demonstration-এ প্রথম বছর অল্প ফল এবং প্রায় তৃতীয় বছরে ভালো crop পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের জন্য এটিকে নিশ্চিত ফলনের সময়সূচি হিসেবে নেওয়া যাবে না।
১৭. ফল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
আপেল শুধু লাল হলেই পাকা হয়েছে—এমন নয়। cultivar অনুযায়ী skin colour, seed colour, firmness, soluble solids/Brix এবং স্বাদ দেখে maturity নির্ধারণ করা ভালো।
Anna, Dorsett Golden ও TropicSweet-এর ফল উপযুক্ত refrigeration-এ প্রায় ৬–৮ সপ্তাহ ভালো রাখা সম্ভব হয়েছে Florida trials-এ।
বাংলাদেশে বাজারজাত করতে চাইলে harvesting-এর পাশাপাশি grading, packaging, precooling এবং cold-chain-এর পরিকল্পনাও করতে হবে।
১৮. এক একর বাগান করার আগে যা করবেন
বাণিজ্যিক বিনিয়োগের আগে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হবে ছোট একটি Pilot Apple Orchard।
প্রথম বছর ১০–২০টি গাছ নিয়ে ২–৩টি low-chill cultivar পরীক্ষা করুন। প্রতিটি গাছের জন্য রেকর্ড রাখুন—কবে পাতা ঝরল, bud break কবে, flowering date, flowering percentage, fruit set, রোগের প্রকোপ, ফলের সংখ্যা, গড় ওজন, Brix, harvest date এবং প্রতি গাছের উৎপাদন।
দুই থেকে তিনটি পূর্ণ production cycle-এর তথ্য পাওয়ার পরই বড় বাগানের সিদ্ধান্ত নেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।
১৯. সফলতার জন্য ১০টি মূলনীতি
- এলাকার chill hours না জেনে বাগান করবেন না।
- High-chill Fuji/Red Delicious ধরনের জনপ্রিয় নাম দেখে চারা কিনবেন না।
- পরীক্ষার জন্য Anna, Dorsett Golden, TropicSweet-এর মতো verified low-chill cultivar বিবেচনা করুন।
- একাধিক compatible cultivar রাখুন।
- বীজের চারা নয়—সঠিক rootstock-এ grafted true-to-type plant নিন।
- উঁচু ও well-drained জমি নির্বাচন করুন।
- মাটি পরীক্ষা করে সার দিন।
- training-pruning ও canopy ventilation নিশ্চিত করুন।
- বর্ষার drainage এবং রোগ ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।
- ছোট trial সফল না হওয়া পর্যন্ত বড় বিনিয়োগ করবেন না।
বাণিজ্যিকভাবে কি বাংলাদেশে আপেল চাষ লাভজনক হতে পারে?
সম্ভাবনা আছে, কিন্তু এখনই এটিকে বাংলাদেশের জন্য প্রমাণিত বাণিজ্যিক ফলচাষ প্রযুক্তি হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
Low-chill apple cultivar উষ্ণ অঞ্চলে ফল দিতে পারে—এর আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হলো: পর্যাপ্ত chilling হবে কি না, ফুল ও fruit set কেমন হবে, বর্ষা ও উচ্চ আর্দ্রতায় রোগ কতটা বাড়বে, ফলের রং-স্বাদ-আকার বাজারযোগ্য হবে কি না এবং প্রতি কেজি উৎপাদন খরচ আমদানিকৃত আপেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে কি না।
এমনকি Florida-র মতো low-chill apple উৎপাদনে সক্ষম অঞ্চলেও উচ্চ বৃষ্টি ও আর্দ্রতা, রোগ-পোকা এবং বাজার প্রতিযোগিতার কারণে commercial orchard-এর সম্ভাবনাকে সীমিত বলা হয়েছে। তাই বাংলাদেশে উদ্যোক্তার প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত “বড় আপেল বাগান” নয়, “বৈজ্ঞানিকভাবে নথিবদ্ধ পরীক্ষামূলক আপেল বাগান”।
উপসংহার
বাংলাদেশে আপেল চাষ অসম্ভব—এমন সিদ্ধান্ত যেমন ঠিক নয়, তেমনি কয়েকটি গাছে ফল দেখেই “বাংলাদেশে আপেলের বাণিজ্যিক বিপ্লব সম্ভব”—এমন সিদ্ধান্তও বৈজ্ঞানিক নয়। Low-chill জাত নির্বাচন, এলাকার chill-hour mapping, সঠিক rootstock, cross-pollination, পানি নিষ্কাশন, pruning, রোগ ব্যবস্থাপনা এবং কয়েক বছরের field trial—এই ধাপগুলো সফলভাবে পার হওয়ার পরই বড় বাণিজ্যিক বাগানের দিকে যাওয়া উচিত।
বাংলাদেশে পরিকল্পিত গবেষণা ও অঞ্চলভিত্তিক varietal trial পরিচালনা করা গেলে ভবিষ্যতে কোন এলাকায় কোন low-chill apple cultivar অর্থনৈতিকভাবে চাষযোগ্য—তার নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া সম্ভব।

তথ্যসূত্র
- University of Florida, IFAS Extension (UF/IFAS) — Low-Chill Apple Cultivars for North Florida and North Central Florida — Low-chill জাত, chilling requirement, মাটি, drainage, pruning, রোগবালাই ও বাগান ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
- University of Florida, IFAS Extension — The Apple (Malus domestica, Rosaceae) — Anna, Dorsett Golden, TropicSweet ও Ein Shemer জাতের অভিযোজন, chilling requirement ও pollination বিষয়ে তথ্য।
- Penn State Extension — Apple Production — আপেলের cross-pollination, pollinizer নির্বাচন এবং বাণিজ্যিক orchard management-এর তথ্য।
- University of Minnesota Extension — Choosing Apple Rootstocks and Ordering Bare Root Apple Trees — rootstock নির্বাচন, গাছের আকার, দ্রুত ফলধারণ, planting system ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে তথ্য।
- UF/IFAS Gardening Solutions — Apples — low-chill apple, cross-pollination, মাটি, planting ও fruiting সম্পর্কিত নির্দেশনা।
- UF/IFAS Extension Nassau County — Anna Apple & Dorsett Golden Apple — উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে আপেল চাষে rainfall, humidity, insect ও disease pressure-এর ঝুঁকি।
- UF/IFAS Extension Nassau County — What Kind of Apples Can I Grow? — Anna, Dorsett Golden ও TropicSweet, soil pH 6.0–6.5, drainage, cross-pollination ও refrigerated storage বিষয়ে তথ্য।
- UF/IFAS Extension, St. Johns County — Growing Apple Trees in North Florida — low-chill apple establishment, soil testing, pollination এবং প্রাথমিক ফলধারণের ব্যবহারিক তথ্য।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: এগুলো বাংলাদেশে পরিচালিত আপেল গবেষণার উৎস নয়; মূলত উষ্ণ/কম-শীতপ্রবণ অঞ্চলে low-chill apple চাষের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য Anna, Dorsett Golden বা TropicSweet-কে “পরীক্ষামূলকভাবে বিবেচনাযোগ্য” বলা বেশি নির্ভুল, “বাংলাদেশের জন্য প্রমাণিত জাত” বলা উচিত নয়।






















