RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
শনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

ভৌগলিক সীমান্তরেখা, উপকুল, নদী, রেল, সড়ক ও বড় রাস্তার দু’পাশ ব্যবহার ।। ড. বায়েজিদ মোড়ল।।

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৮:২৮ অপরাহ্ণ

ভৌগলিক সীমান্তরেখা, উপকুল, নদী, রেল, সড়ক ও বড় রাস্তার দু’পাশ ব্যবহার ।। ড. বায়েজিদ মোড়ল।।

বাংলাদেশের হাইওয়ে ও বড় বড় সকল সড়ক ও রেল লাইনের দুই পাশে যে বিশাল জায়গা রয়েছে। সরকারী ভাবে ফলজ বনজ ও ঔষধীগাছ লাগাতে হবে। সরকারীভাবে দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র বনজ গাছ লাগিয়ে আসছে। বনজ গাছও থাকবে তবে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সঠিক নিদের্শনা অনুযায়ী ফলজ গাছ বেশি করে লাগাতে হবে। রাস্তার দু পাশে যদি প্রচুর পরিমানে পেয়ারা, আম, জাম, কুল, সপেদা, বেদানা, তাল, আতা, সরিফা ও কাঁঠাল গাছ লাগানো হয় আর সেই সব গাছে যদি ফল ধরে তাহলে একজন ক্ষুদার্থ গাছ থেকে পেড়ে ফল খেতে পারবে। সে আর কারো কাছে হাত বাড়িয়ে ভিক্ষা করবে না। চুরি করবেনা। টোকাই থাকবেনা। দেশের মানুষ ফল খেয়ে তাদের জীবন চালাতে পারবে। গাছের ফল মানুষ খাবে, পাখি খাবে। দেশে পাখির কিচির মিচির কলরব শুরু হবে। দেশটা তখন হয়ে যাবে, বিশ্বের মধ্যে পর্যটন নগরী। এখানে কথা হচ্ছে রাস্তার পাশের এই ফল গাছ পাহারা দিবে কে? প্রথমে যতদিন গাছগুলো বড় না হয় ততদিন এফআইভিডিবির মহিলারা আছে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কেয়ারের রাস্তা উন্নয়নের মহিলাকর্মীরা আছে, তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ আছে, থানায় পুলিশ প্রশাসন আছে, এখন একটি থানায় একাদিক পুলিশ ফাঁড়ি আছে, পুলিশের পাশাপাশী র‌্যাব আছে, প্রয়োজনে সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্রবাহীনিকেও এই কাজে লাগানো যেতে পারে।

সর্ব প্রথম দরকার সরকারের নীতি নির্ধারনী ব্যবস্থা। সরকারকে পরিকল্পনা করতে হবে যে আমরা এমন ধরনের উদ্যোগ নেবো, যেটা দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে একটি কঠোর আইনও করা যেতে পারে। রাস্তার এই গাছ নষ্ট করলে বা কাটলে বা কোন রুপ ক্ষয় ক্ষতি করলে প্রমানসহ ধরা পড়লে ৫০ বেত্রাঘাত পাশাপাশী জেল-জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে। সবচেয়ে বেশি কাজ দিবে জনগনকে এই ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করলে, “আপনার বাড়ীর পাশের রাস্তা, এই রাস্তার পাশের গাছের ফলতো আপনারই প্রাপ্য, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।” তখন দেখা যাবে যার বাড়ীর পাশে যে রাস্তা, সে সেই রাস্তার গাছ পাহারা দিবে। সবচেয়ে বড় কথা সরকার চাইলে কেহই এই উদ্যোগ নষ্ট করতে পারবে না। আমরা এতো কথা ভাবছি দুষ্টু ছেলে মেয়েদের জন্য, যে গাছগুলো দুষ্টু ছেলে মেয়েরা ভেঙ্গে ফেলছে কিনা?

কিছু কিছু গাছ এক বছর, আর কিছু গাছ দুই থেকে তিন বছর পর যখন ফল আসা শুরু করবে তখন আর কাউকে পাহারা দিতে হবে না। এতো বেশি রাস্তা, এতো বেশি ফল গাছ, কয়টা ফল খাবে দেশের মানুষ। আর এই ফল গাছ লাগানো হবে, দেশের মানুষকে ফল খাওয়ানোর জন্য। এই ফলতো ভারত কিংবা অন্য দেশের মানুষ এসে খেয়ে যাচ্ছেনা যে, তখন পাহারা দিতে হবে। রাস্তার পাশে যদি ফলগাছ লাগানো হয়, তবে এই উদ্যোগ হবে সরকারের জন্য মাইলফলক একটি কাজ, দেশকে আত্ননির্ভরশীল করার জন্য।

বাংলাদেশের ন্যাশনাল হাইওয়ে আছে ৩,৪৭৮.৪২ কিলোমিটার, আঞ্চলিক হাইওয়ে আছে ৪,২২১.৫২ কিলোমিটার, জেলার ভিতর ছোট ছোট রাস্তা আছে ১৩,২৪৭.৭৯ কিলোমিটার। এই মোট ২০,৯৪৭.৭৩ কিলোমিটার রাস্তার দু পাশে কি পরিমান ফল গাছ লাগানো যায় একবার ভাবুনতো?
এছাড়া রেল পথ আছে ২৮৫৫ রুট কিলোমিটার। পাশাপাশী নদীপথ আছে প্রায় ৮৪০০ কিলোমিটার।

নদী পথের কথা বলি নদীর দু’তীরে পলিযুক্ত মাটিতে যদি ১০টি ফল গাছ ২টি বনজ গাছ ও একটি ঔষধীগাছ অথবা টানা ২ কিলোমিটার বা ১০ কিলোমিটার ফলগাছ, তারপর ২ বা ১০ কিলোমিটার বনজ গাছ, তারপর ২ বা ১০ কিলোমিটার ঔষধীগাছ অনুপাতে লাগানো হয়। নদীর দুই তীরে জায়গা বেশি থাকে। জোয়ার ভাটায় মাটিতে আদর্তা বেশি থাকে। এই দুই তীরে কি পরিমান ফল গাছ লাগানো যেতে পারে? এই গাছের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের পাশাপাশী কিছুটা নৌবাহিনীর কোষ্টগার্ডের সদস্যরা নিবে। একদিকে আমরা ফল পাচ্ছি অন্যদিকে নদী ভাঙ্গন রোধ হচ্ছে। গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত ও মজবুত করছে।

শীতকালে আমাদের দেশে অতিথি পাখি আসে। আমরা সেই পাখিদের পাখিবরণ উৎসব করি তাদের নিয়ে অনেক ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। আমার ভাবনা অনুযায়ী হাজার রকমের পাখির আবাসস্থল হবে এই বাংলাদেশ। আমাদের দেশীয় পাখি যা আছে সেগুলো বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশী বিশ্বের বহুদেশের পাখিরও স্থায়ী আবাসস্থল হয়ে যাবে এই বাংলাদেশ। চারিদিকে মৌমাছি, প্রজাপতি আর পাখির কিচির মিচির কলকাকলী। হাজার রকম পাখির, হাজার রকমের ডাক। পাখিরা ফল খাবে, বাসা বাধবে, বাচ্চা উৎপাদন করবে। মৌমাছি মৌচাক বানাবে প্রচুর মধু উৎপাদন হবে। বাংলাদেশ থেকে মধু রপ্তানী হবে। শুধু মধু রপ্তানী করেই প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব হবে। হাজার রংয়ের প্রজাপতি ডানা মেলে এ গাছ ও গাছ, এ ফুল ও ফুলে ঘুরে বেড়াবে। এগুলো দেখতে সারা বিশ্ব থেকে কোটি কোটি পর্যটক আসবে। পর্যটকদের জন্য নতুন করে আরো পাঁচতারা সাততারা আবাসিক হোটেল গড়ে উঠবে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হয়ে যাবে। ধানের দেশ, পাটের দেশ, নদীর দেশ। এবার যোগ হবে ফলের দেশ, পাখির দেশ, প্রজাপতির দেশ হিসেবে। এই সৌন্দর্যমন্ডীত বাংলাদেশ দেখার জন্য পর্যটক এসে দেশ দেখবে, ফল খাবে, পাখি দেখবে, পাখির ছানা দেখবে, আর প্রজাপতি দেখবে। চোখ জুড়িয়ে তার দেশে ফিরে গিয়ে গল্প করবে আমার বাংলাদেশের অপরুপ রুপের।

মহল্লায় মহল্লায় গ্রামে গ্রামে এভাবে যদি সারা দেশে ফল গাছে ভরে যায়। আর সেই সব গাছে যদি ফল ধরে, তাহলে আমার দেশের কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না। কোন চোর থাকবে না। কোন ভিক্ষুক থাকবেনা। কোন ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-খারাবি ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ ফ্যাসাদ, অনিয়ম দুনীর্তি থাকবেনা। শিশু থেকে বৃদ্ধ কারো কোন অপুষ্টি থাকবেনা। রোগ-শোক মহামারী অনেক কমে যাবে।

একটি কাজী পেয়ারা খেলে একজনের পেট ভরে যায়। একটি কাঁঠাল খেয়ে ৪-৫ জনের ক্ষুধা মিটে যায়। তেমনি কয়েকশো প্রজাতির আম, কাঁঠাল, আতা, সপেদা, সরিফা, পেঁপে, সকল জাতীয় কলা, ডালিম, বেদানা, বেল, কতবেল, লিচু, বুইচি, টেপল, ডোবো, লটকন, আমড়া, কামরাঙ্গা, পাম, জলপই, জাম, জামরুল, ডুমুর, মাল্টা, লেবু, কমলালেবু, বাতাবীলেবু, নারকেল, তাল, জামবুরা, চালতা, আঁশফল, ডেওয়া, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, কাউফল, করমচা, খেজুর, খুদেজাম, অরবরই, সাতকরা, তেঁতুল, মিষ্টিতেঁতুল, তৈকর, বিলাতিগাব, আংগুর, রামবুতান, হরেক রকমের বরই বা কুল, বয়রা, আমলকী, হরতকী, নিম, নিশিন্দা ইত্যাদি।

বাউকুল আর আপেল কুল চাষ হওয়ার পর থেকে আমদানীকৃত ফলের দাম আর বাড়েনি বাংলাদেশে। বাউকুল আর আপেল কুল বাজারে আসার সাথে সাথেই আমদানীকৃত সব ধরনের ফলের দাম কমে যায়। দেশের মানুষ তখন দেশীয় ফল কেনার প্রতি ঝোকে আর আমদানীকৃত ফলের মার্কেট স্থীর হয়ে দাড়িয়ে থাকে।

মানুষতো ক্ষুধা নিবারনের জন্যই সব ধরনের খারাপ কাজ যেমন: ভিক্ষা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এর মতো কাজে লিপ্ত হয়। যখন ক্ষুধা লাগবে, ঘরে খাবার নেই, রাস্তার পাশের গাছ থেকে কিছু ফল পেড়ে খেয়ে নিলো। ক্ষুধা মিটে গেলে তার আর ঐ ছিনতাইয়ের কথা মাথায় আসবে না। এছাড়া ফলের দেশ হলে, ভাতের উপর অনেক চাপ কমে যাবে। মানুষ ভাত কম খাবে। ভাতের বিকল্প ফল খাবে। বেশি ফল খেলে মানুষ থাকবে স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী। তারা সকল ধরনের কাজে আনন্দ পাবে। বাংলাদেশের মানুষ তখন চাঁদে যাবে। মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার স্বপ্ন দেখবে।

আমরা আজ জলবায়ূ পরিবর্তনের জন্য ভাবছি! আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কি হবে? আমরা যদি ফল গাছে ভরে দেই দেশটা, তাহলে দেশটা হবে ছায়া ঘেরা সবুজ শ্যামল একটি দেশ। এই সবুজের টানে বেশি বেশি বৃষ্টিপাত হবে। আর বেশি বৃষ্টিপাত হলে ফসলে ফসলে দেশটা সত্যিকারে সোনার বাংলাদেশ হয়ে যাবে। দেশের গড় তাপমাত্রা কম থাকবে। কাল বৈশাখী ঝড়, ধমকা হাওয়া, ঘুর্ণিঝড় ও জলচ্ছাস কমে যাবে। মাটি ফেটে কখনো বৃষ্টির জন্য হাহাকার করবে না। আর এই বৃষ্টির পানি দিয়ে আমাদের কৃষি নির্ভর বাংলাদেশটাকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব। ভারতের কাছ থেকে পানি আনার জন্য তোষামোদি করা লাগবেনা।

ভারত আমাদের সীমান্ত এলাকায় তারকাটার বেড়া দিয়েছে। আমরা সীমান্তজুড়ে ফলগাছের বেষ্টনি তৈরী করবো। যে জায়গাটা আমাদের ফেলে রাখা আছে কোন কাজে ব্যবহার হচ্ছেনা। একবার ভাবুন, সীমান্ত এলাকার দুরত্ব অনেক। পুরো জায়গাটা যদি ফলগাছ লাগানোর আয়াত্বে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমাদের কতো বড় সম্পদ তৈরী হবে।

আমি কোন কৃষি জমি নষ্ট করে ফলগাছ লাগাতে বলছি না। আমি বলছি যে সব জায়গা আমাদের ফেলে রাখা আছে। যে জায়গায় কোন রুপ ফসল হয়না বা ফসলের আবাদ করা হয়না। সেই অনাবাদি ও অচাষযোগ্য জমিতেই ফল গাছ লাগানোর কথা বলছি। বাংলাদেশের স্থল সীমারেখা আছে প্রায় ৪,৪২৭ কিলোমিটার। এইটা কিন্তু বিশাল একটি জায়গা। শুধু কাজে লাগানো দরকার। সীমান্তবর্তী সব জায়গায় অবশ্য গাছ লাগানো যাবেনা তবে বেশিরভাগ জায়গায় ফল গাছ লাগানো যাবে।

আমাদের সমুদ্র উপকুলবর্তী সীমারেখা আছে প্রায় ৭১৬ কিলোমিটার এটাও বিশাল জায়গা।এই জায়গার উপযোগি ফলগাছ লাগানো যায়। যেখানে সমুদ্রের লবন পানি আসেনা সেখানে তাল নারকেলসহ অনেক ধরনের ফলগাছ লাগানো যায়। এর জন্য সারা দেশের মাটি সংগ্রহ করে পরীক্ষা নিরিক্ষা করতে হবে। আর গাছতো মাটি খেয়ে বাঁচে না, মাটির উপর কেবল মাত্র শিকড় ছেড়ে দাড়িয়ে থাকে। গাছ কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, জিপশাম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার, লৌহ, কপার, জিঙ্ক, বোরন, মলিবডেনাম, ক্লোরিন ও ম্যাঙ্গানিজ এই ১৬টি পুষ্টি উপাদান নিয়ে বেঁচে থাকে। এর মধ্যে বেশিরভাগ উপাদান মাটি পানি সূর্যের আলো বা কিরন আর বাতাস থেকে পেয়ে থাকে। আর কিছু উপাদান আছে খুব কম পরিমান লাগে। সেটা সার হিসেবে উপরি প্রয়োগ করতে হয়।

কাঠের গুরুত্বের কথা যদি বলি ফার্নিচার বানানোর জন্য, তাহলে বলবো কাঁঠাল কাঠের উপরে ভালো কাঠ আর কি আছে? কাঁঠালের চেয়ে পুষ্টিগুন আর কোন ফলে আছে? আকাশমনি, একাশিয়া, কড়ই, মেহেগুনি, কাঁঠাল কাঠের ফার্নিসারের কাছে এগুলো কিছুই না। তাই প্রয়োজনে কাঁঠাল গাছের অনুপাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

আমাদের জেলার ভিতর ছোট ছোট রাস্তা আছে ১৩,২৪৭.৭৯ কিলোমিটার। এই পুরো এলাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ওয়ার্ডে যে ইউপি সদস্য আছেন তাকে সদস্য সচিব করে রাস্তার পাশে যাদের জমি ও বাড়ী তাদের সদস্য করে একটি কমিটি করে তত্ত্বাবধান করা যাবে। এই ফল এলাকার সবার জন্য। গাছপালা ক্ষয়ক্ষতি কিংবা ফুল, মুকুল, কড়ি, ছোট ফল নষ্টকারীকে শাস্তী প্রদানের ব্যবস্থা করবেন এই ইউপি সদস্য। ইউপি সদস্য কোনভাবে ব্যার্থ হলে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করবে।

আমাদের দেশে আঞ্চলিক হাইওয়ে আছে ৪,২২১.৫২ কিলোমিটার। এখানে প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং জেলা প্রশাসন ও উপজেলা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এক যোগে কাজ করবে। বিশেষ প্রয়োজনে পুলিশের পাশাপাশী র‌্যাব ও সেনাবাহিনী টহল দেয়াসহ যে কোন ধরনের পদক্ষেপ নিবে। মোট কথা যে কোন উপায়ে রাস্তার দুপাশের গাছে ফলমুল দেখতে চাই।

বাংলাদেশের ন্যাশনাল হাইওয়ে আছে ৩,৪৭৮.৪২ কিলোমিটার। এই পুরো রাস্তায় সড়ক ও জনপদ বিভাগ, জেলা পরিষদ ও হাইওয়ে পুলিশসহ স্থানীয় সরকারের ইউনিট এখানে কাজ করবে। এই রাস্তাগুলো অনেক বড়, দেশের প্রায় সর্বত্রই রাস্তার পাশে কাঠজাতীয় গাছ আছে। কাঠ জাতীয় গাছ যদি রাস্তার ক্ষতি না করে, উপকার করে, তাহলে ফলজাতীয় গাছতো রাস্তায় বিড়ম্বনা সৃষ্টি করবার মতো কোন কারনই হতে পারেনা।

এছাড়া রেল পথ আছে প্রায় ২,৮৫৫ রুট কিলোমিটার। বাংলাদেশের রেলপথ গাছ গাছালি লাগানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন জায়গা। সেই বৃটিশ আমলে দেশের বেশিরভাগ রেলপথগুলো তৈরী হয়েছে। আজোবদি কেবল সংস্কার করেই চলছে।এই রাস্তার দু’পাশে যে ফলমুল গাছগুলো হবে এগুলো পুরোটাই রপ্তানী করা যাবে। কারন বেশিরভাগ রেল রাস্তা বয়ে গেছে নির্জন এলাকা দিয়ে। সেখানে দুষ্টু মেলেমেয়েদের প্রবেশের বা ক্ষয় ক্ষতি করার সুযোগ খুবই কম। ভুলেও কেহ রেল লাইনের ধারে কাছে যায় না। তাছাড়া স্থানীয় সরকার, রেলওয়ে পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীতো আছে দেখাশুনা করার জন্য। রেল রাস্তার দুপাশে যদি ফুলে ফলে একাকার থাকে তাহলে রেল ভ্রমন কতো আনন্দময় হবে একবার ভেবে দেখেছেন কেউ। ব্যাপারটা ভাবলে মনে হয় স্বপ্নপুরি। এই স্বপ্ন যদি বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী ও বিরোধীদলের নেতা দেখেন একবার। আমার মনে হয় তারা নিজেরাই কৃষক হয়ে ফল গাছ লাগানো শুরু করে দিবেন।

এখন প্রশ্ন এতো গাছ লাগাবেন কে? কেন্দ্রীয় সরকারের নিদের্শনা ও বাজেট বরাদ্ধ হবে। অর্থ থাকবে স্থানীয় সরকার ও সশস্ত্রবাহিনীর কাছে। সেখান থেকে গাছ রক্ষনাবেক্ষন করবেন যারা গাছও লাগাবেন তারা, কেবল সশস্ত্রবাহিনী মনিটরিং করবেন। গাছের অনুপাত ফলজ : বনজ : ঔষধী=১০:০২:০১ ঠিক আছে কিনা। যতো গাছ লাগানোর কথা তার চেয়ে একটি গাছও কম লাগানো হয়েছে কিনা।কিংবা ভালো জাতের মান সম্মত গাছ ঠিক আছে কিনা? কলমের গাছের জায়গায় বিচির গাছ লাগানো হয়েছে কিনা? কম দামী চারা বেশি করে লাগিয়ে বেশি দামের চারা কম লাগানো হয়েছে কিনা? ইত্যাদি মনিটরিংগুলো করবেন। কেউ একজন ফাঁকি দিলে পুরো দেশ ফাঁকিতে পড়বে। সেটা মাথায় রাখতে হবে।

আমরা দেখি রাজধানীর সৌন্দর্য বর্ধনে বিদেশ থেকে অনেক দামি দামি গাছ কিনে এনে লাগানো হলো। দেখতে কলা গাছের মতো কিন্তু কলা হয়না। দেখতে আলু গাছের মতো কিন্তু আলু হয়না। এই সব গাছের পরিচর্যা ব্যায় আবার অনেক বেশি। আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে এই সব গাছ এ্যাডজাস্ট হতে চায়না। এক বছর নাই ঘুরতে কোন গাছ রাস্তায় খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। অথচ মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যায় করে এই গাছ আনা হয়েছে, রাজধানীতে লাগানো হয়েছে। আমার দেশের ফনিমনসা, পাতা বাহার, বেড়ালতা, তরুলতার, গেটফুল এর চেয়ে সুন্দর ফুল আর কি আছে। একবার বীজ বপন করলে আজীবন সৌন্দর্য ধরে রাখে। এছাড়া দেশীয় পেয়ারা, কাজী পেয়ারা, কাঠাল, আম, জাম, লিচু, বেল, কতবেল, আতা, খেজুরগাছ ও কুলগাছ দেখতে কতো সুন্দর। ফল খেতে কতো সুস্বাদু। মাশাল্লাাহ একবার লাগিয়ে রাখলেই বছরের পর বছর ফল দিয়ে যায়। পরিচর্যা সহজ, একটু পরিচর্যা করলেতো ফুলে ফলে মধুময় হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেষে ফলগাছ লাগানো হয়। সেসব গাছে প্রচুর পরিমানে ফল হয়, যা আমাদের দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ মিটিয়ে থাকে। তবে আমরা যদি কৃষি বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষনার পর যেসব ধারনা বেরিয়ে এসেছে যা আধুনিক বিশ্ব অনুসরণ করে, সেভাবে গাছ রোপন ও পরিচর্যা করি। তাহলে আমরা ফল গাছ রোপনে ব্যাপক সফলতা পাবো বলে আমার ধারণা। আর আমাদের দেশে কৃষি বিজ্ঞানীরা আছে যারা সার্বক্ষনিক নতুন নতুন প্রযুক্তি দিয়ে এই মহা উদ্যোগটিকে সার্থক করে তুলবে।

আমাদের দেশটাকে বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে তুলে ধরার জন্য আমাদের অব্যবহৃত পতিত ও ফেলে রাখা সড়ক ও জনপদের হাইওয়ে, রেলপথ ও নদীর দুইকুলে খালি জায়গায় ফলের গাছ লাগানো, আমার মনে হয় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশ হবে স্বনির্ভর ও সৌন্দর্যমন্ডীত ফুল, পাকা ফলের সুঘ্রানে গৌরাবান্বিত একটি দেশ। আমার দেশের প্রতি বিশ্ববাসীর বিশেষ আকর্ষন থাকবে পর্যটনের। দেশের মানুষ এই বাঙ্গালী জাতী হবে রোগমুক্ত, স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী। থাকবেনা ক্ষুধা দারিদ্র চুরি ডাকাতি ছিনতাই অনিয়ম দুর্নীতি। দেশ সামনে এগিয়ে যাবে।


সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

দেশের প্রাণীকুলের বিদ্যমান রেড লিস্ট হালনাগাদকরণ

মাছ চাষের গুরুত্ব

২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় তিন দিনের আন্তর্জাতিক পোলট্রি মেলা

নদী ও জীবন

চিংড়ি শুধু ব্যবসা নয়, মানুষের জীবন–জীবিকা এর সাথে জড়িত

আগামীকাল ঢাকায় দুই দিনব্যাপী পোল্ট্রি এন্ড সয়া ফুড ফেস্ট শুরু হবে

ভৌগলিক সীমান্তরেখা, উপকুল, নদী, রেল, সড়ক ও বড় রাস্তার দু’পাশ ব্যবহার ।। ড. বায়েজিদ মোড়ল।।

জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৩ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন// জাটকা নিধন বন্ধ হলে দেশের মানুষ সুস্বাদু বড় ইলিশ খাওয়ার সুযোগ পাবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

সুন্দরবনে ফাঁদে আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ

ছাগল পালনের আগে যা যা জানা দরকার