গরুর দেশীয় জাত, মহিষ, দুধের সংস্কৃতি, প্রজননব্যবস্থা ও গবেষণা—বাংলাদেশের জন্য কী শিক্ষা আছে?
ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।
পাকিস্তানের কৃষির কথা উঠলে সাধারণত গম, তুলা, ধান বা আখের কথা সামনে আসে। কিন্তু দেশটির গ্রামীণ অর্থনীতির আরও বড় একটি শক্তি হলো গরু-মহিষসহ প্রাণিসম্পদ। বিশেষ করে সাহিওয়াল গরু, রেড সিন্ধি গরু এবং নিলি-রাভি ও কুন্ডি মহিষ পাকিস্তানকে এমন একটি জিনগত সম্পদ দিয়েছে, যা শুধু দেশটির দুধ ও মাংস উৎপাদনেই ভূমিকা রাখছে না—বিশ্বের উষ্ণ অঞ্চলের পশু প্রজননেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তান সরকারের ২০২৪ সালের কৃষিশুমারি অনুযায়ী দেশটিতে প্রায় ৫ কোটি ৫৯ লাখ গরু এবং ৪ কোটি ৭৭ লাখ মহিষ রয়েছে। ছাগল, ভেড়া, উটসহ মোট প্রাণিসম্পদের সংখ্যা প্রায় ২৫ কোটি ১৩ লাখ।
আর পাকিস্তান ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫–২৬ অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশটির মোট দুধ উৎপাদন আনুমানিক ৭ কোটি ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার টন। এর মধ্যে গরুর দুধ প্রায় ২ কোটি ৮১ লাখ টন এবং মহিষের দুধ প্রায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ টন। অর্থাৎ পাকিস্তানের দুগ্ধশিল্প বুঝতে হলে শুধু গরু নয়, মহিষকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
আমি পাকিস্তানের সরকারি পরিসংখ্যান, পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলের গবেষণা, FAO-এর প্রতিবেদন এবং দেশটির প্রাণিসম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখেছি—পাকিস্তানের সাফল্যের পেছনে কোনো একটি কারণ নেই। দেশীয় জিনগত সম্পদ, বিশাল গ্রামীণ উৎপাদনভিত্তি, দুধের শক্তিশালী বাজার, গরু-মহিষের সমন্বিত ব্যবহার, প্রজনন গবেষণা এবং প্রাণিসম্পদকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখার দীর্ঘ ঐতিহ্য—সব মিলিয়েই এই অবস্থান তৈরি হয়েছে।
১. প্রথম শক্তি—প্রকৃতি পাকিস্তানকে অসাধারণ গরুর জাত দিয়েছে
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো তাদের নিজস্ব উন্নত গরুর জাত। বিশেষ করে—
- সাহিওয়াল
- রেড সিন্ধি
- থারপারকার
- চোলিস্তানি
- ধান্নি, ভাগনারি, রোজহানসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় জাত
এর মধ্যে সাহিওয়াল ও রেড সিন্ধি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত দুগ্ধজাত গরু।
FAO-এর তথ্য অনুযায়ী সাহিওয়াল বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় জাত এবং উষ্ণ ও উপ-উষ্ণ পরিবেশে দুধ উৎপাদনের জন্য এর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। সাহিওয়ালের জিনগত সম্পদ আফ্রিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে গবাদিপশুর উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তানকে শুরু থেকে পুরোপুরি বিদেশি হলস্টেইন-ফ্রিজিয়ান নির্ভর হতে হয়নি। তাদের হাতে আগে থেকেই ছিল গরম সহ্য করতে সক্ষম দুধেল দেশীয় গরু। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক মূলধন।
২. সাহিওয়াল শুধু পাকিস্তানের গরু নয়—বিশ্বের সম্পদ
সাহিওয়াল নিয়ে যত গবেষণা করেছি, একটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ে—এই জাতটির গুরুত্ব শুধু বেশি দুধ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এর বড় শক্তি হলো—দুধ + তাপ সহনশীলতা + স্থানীয় পরিবেশে অভিযোজন + তুলনামূলক নিম্নমানের খাদ্য ব্যবহারের ক্ষমতা + ক্রসব্রিডিংয়ে কার্যকারিতা।
FAO সাহিওয়ালকে উষ্ণ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেবু দুগ্ধজাত হিসেবে বিবেচনা করেছে। পাকিস্তান থেকে সাহিওয়াল আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন দেশে বিশুদ্ধ জাত ও সংকরায়ন—দুইভাবেই ব্যবহৃত হয়েছে। এখানেই পাকিস্তানের একটি বড় শিক্ষা রয়েছে। তারা এমন একটি জিনগত সম্পদের অধিকারী, যেটি তাদের জলবায়ুর সঙ্গেই তৈরি হয়েছে।
৩. রেড সিন্ধি—আরেকটি বিশ্বমানের জিনগত সম্পদ
সাহিওয়ালের পাশাপাশি রেড সিন্ধি পাকিস্তানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দুগ্ধজাত গরু। FAO-এর বিভিন্ন নথিতে সাহিওয়াল, রেড সিন্ধি ও থারপারকারকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ গবাদিপশুর জিনগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেড সিন্ধির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে অভিযোজন এবং দুধ উৎপাদনের সক্ষমতা। ফলে পাকিস্তানের হাতে একটির পরিবর্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় দুগ্ধজাত জিনভাণ্ডার রয়েছে।
৪. পাকিস্তানের আসল দুগ্ধশক্তি বুঝতে হলে মহিষ দেখতে হবে
বাংলাদেশে দুগ্ধখাতের আলোচনা প্রধানত গরুকেন্দ্রিক। পাকিস্তানে চিত্রটি ভিন্ন। সেখানে মহিষ হচ্ছে দুগ্ধ অর্থনীতির কেন্দ্রীয় শক্তি।
২০২৪ সালের কৃষিশুমারিতে পাকিস্তানে প্রায় ৪ কোটি ৭৭ লাখ মহিষ পাওয়া গেছে।
আর ২০২৫–২৬ সালের সরকারি প্রাক্কলনে—গরুর দুধ: প্রায় ২ কোটি ৮১ লাখ টন, মহিষের দুধ: প্রায় ৪ কোটি ৪৪ লাখ টন। অর্থাৎ পাকিস্তানে গরুর তুলনায় মহিষ থেকেই অনেক বেশি দুধ আসে।
এ কারণে পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদের সাফল্যকে শুধু “গো-সম্পদ উন্নয়ন” বললে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। বরং এটি হচ্ছে—গরু + মহিষ + ছাগল + ভেড়া + বিশাল গ্রামীণ উৎপাদনব্যবস্থার সমন্বিত শক্তি।
৫. নিলি-রাভি—পাকিস্তানের ‘কালো সোনা’
পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের বিখ্যাত নিলি-রাভি মহিষ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুগ্ধজাত মহিষ।
আর সিন্ধ অঞ্চলে রয়েছে কুন্ডি মহিষ।
পাকিস্তানের গবেষণায় নিলি-রাভি ও কুন্ডির দুধ উৎপাদন-সম্পর্কিত জিন নিয়ে কাজ হয়েছে। পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলের গবেষণায় নিলি-রাভি, কুন্ডি এবং সাহিওয়ালের দুধের প্রোটিন ও সংশ্লিষ্ট জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণা হয়েছে।
২০২৬ সালে এই জিনগত সম্পদ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন ক্ষেত্রেও প্রবেশ করেছে।
পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে নিলি-রাভিসহ উন্নত মহিষের ভ্রূণ, বীর্য ও সেক্সড সিমেন রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুন ২০২৬-এর ঘোষণায় এই খাতে বার্ষিক প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের রপ্তানি সম্ভাবনার কথা বলা হয়। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। পাকিস্তান এখন শুধু দুধ বিক্রি করতে চাইছে না, জেনেটিক্সও রপ্তানি করতে চাইছে।
৬. বিশাল সংখ্যক ছোট খামারি পাকিস্তানের দুগ্ধশিল্পের ভিত্তি
অনেকে মনে করেন, পাকিস্তানের দুধ উৎপাদন হয় মূলত বিশাল আধুনিক ডেইরি খামার থেকে। বাস্তবে চিত্রটি অনেক বেশি গ্রামনির্ভর।
FAO-এর পাকিস্তান ডেইরি উন্নয়নসংক্রান্ত গবেষণায় দেখা যায়, গরু-মহিষ পালনকারী পরিবারের বড় অংশই ক্ষুদ্র খামারি। একটি বহুল উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৮৪ শতাংশ পরিবারের গরু-মহিষের সংখ্যা ছিল ১–৪টি। এটি বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
কারণ পাকিস্তান দেখিয়েছে—একটি দেশের দুগ্ধশিল্প বড় করতে প্রত্যেক খামারিকে ১০০–৫০০ গরুর মালিক হতে হয় না। বরং লাখ লাখ পরিবার যদি ২–৫টি উৎপাদনশীল গাভী বা মহিষ পালন করে, সেই ছোট উৎপাদনগুলো একত্র হয়েই জাতীয় পর্যায়ে বিশাল দুধের অর্থনীতি তৈরি করতে পারে।
৭. দুধ পাকিস্তানের খাদ্যসংস্কৃতির অংশ
পাকিস্তানের সাফল্যের আরেকটি বড় কারণ হলো দুধের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার। দুধ সেখানে শুধু শিশুদের খাবার নয়।দুধ থেকে তৈরি—দই, লাচ্ছি, ঘি, মাখন, চা, মিষ্টি ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রতিদিনের খাদ্যব্যবস্থার অংশ। ফলে খামারির উৎপাদিত দুধের জন্য স্বাভাবিকভাবেই একটি বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে। যে দেশে দুধের চাহিদা শক্তিশালী, সেই দেশে গাভী ও মহিষ পালনের অর্থনৈতিক প্রণোদনাও শক্তিশালী থাকে।
৮. পাঞ্জাব পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদের কেন্দ্র
২০২৪ সালের কৃষিশুমারি অনুযায়ী পাকিস্তানের পাঞ্জাবে প্রায়—২ কোটি ৭০ লাখ গরু এবং ২ কোটি ৯৬ লাখ মহিষ রয়েছে। অর্থাৎ শুধু পাঞ্জাবেই প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি গরু-মহিষ রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে—সেচব্যবস্থা, কৃষিজমি, ফসলের উপজাত, সবুজ খাদ্য উৎপাদন, কৃষক পরিবার এবং বড় দুধের বাজার।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক কাজ করে—ফসল → পশুখাদ্য → গরু-মহিষ → দুধ/মাংস → গোবর → আবার কৃষিজমি। এই চক্রটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
৯. পশুখাদ্যের ভিত্তি তাদের বড় সুবিধা
পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধের বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সবুজ পশুখাদ্য ও ফসলের উপজাত পাওয়া যায়। গমের খড়, ভুট্টা, বিভিন্ন ঘাস ও ডালজাতীয় পশুখাদ্যসহ স্থানীয়ভাবে পাওয়া খাদ্যসম্পদ গরু-মহিষ পালনের ভিত্তি তৈরি করেছে।
বাংলাদেশে যেখানে জমির স্বল্পতার কারণে অনেক খামারিকে বাজার থেকে অধিকাংশ খাদ্য কিনতে হয়, পাকিস্তানের বহু অঞ্চলে ফসল উৎপাদন ও প্রাণিসম্পদ পালন একই কৃষি ব্যবস্থার অংশ। ফলে পশুপালন কৃষকের আলাদা ব্যবসা নয়—কৃষিরই সম্প্রসারিত অংশ।
১০. দেশীয় জাতকে ফেলে দিয়ে শুধু বিদেশি জাতের দিকে যায়নি
পাকিস্তানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে স্থানীয় জিনগত সম্পদ নিয়ে গবেষণা। পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিল দেশীয় গরু ও মহিষের জিনগত বৈশিষ্ট্য নির্ণয়, সংরক্ষণ, উন্নত পুরুষ পশু নির্বাচন, কৃত্রিম প্রজনন এবং দুধ-মাংস-রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত জিন নিয়ে গবেষণার কর্মসূচি নিয়েছে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় সাহিওয়াল ও থারপারকার গরুর জিনগত বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে আধুনিক জিনোম বিশ্লেষণও ব্যবহার করা হচ্ছে। PARC-এর ২০২৩–২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সাহিওয়ালসহ দেশীয় জাতের নমুনা সংগ্রহ, উৎপাদন বৈশিষ্ট্যের তথ্য এবং জিনোমভিত্তিক গবেষণার কথা উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ প্রশ্নটি এখন শুধু—“এই গাভী কত লিটার দুধ দেয়?” নয়।
প্রশ্ন হচ্ছে—তার বাবা কে? মা কত দুধ দিয়েছে? কোন জিন বহন করছে? তার বাচ্চা কেমন করছে? রোগ প্রতিরোধ কেমন? পরবর্তী প্রজন্মে কোন ষাঁড় ব্যবহার করা হবে? আধুনিক প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এখানেই।
১১. কৃত্রিম প্রজনন ও উন্নত বীর্যের গুরুত্ব
ভালো গাভী তৈরি হয় ভালো মা এবং ভালো বাবার সমন্বয়ে। একটি উৎকৃষ্ট ষাঁড় প্রাকৃতিকভাবে সীমিতসংখ্যক বাছুরের বাবা হতে পারে। কিন্তু তার বীর্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে হাজার হাজার গাভীতে ব্যবহার করা সম্ভব।
পাকিস্তানের গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে তাই উন্নত ষাঁড় নির্বাচন, বীর্য উৎপাদন কেন্দ্র এবং কৃত্রিম প্রজননের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। PARC-এর পরিকল্পনায় উন্নত বীর্যের মাধ্যমে খামারি পর্যায়ে জিনগত উন্নয়নের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
১২. বংশতালিকা ও উৎপাদন তথ্যের গুরুত্ব তারা অনেক আগে বুঝেছে
সাহিওয়াল সংরক্ষণ ও উন্নয়নের ইতিহাসে পাকিস্তানে সরকারি ও বেসরকারি খামারে দুধের রেকর্ড, বংশতালিকা এবং উৎপাদন তথ্য সংরক্ষণের উদাহরণ বহু পুরোনো।
FAO-এর নথিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন সাহিওয়াল পাল ও গবেষণা খামারে pedigree এবং performance recording-এর ঐতিহাসিক ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। এটি আমাদের জন্য বড় শিক্ষা। কারণ গাভীর গায়ের রং দেখে উন্নত জাত তৈরি করা যায় না।
দরকার—পরিচয় নম্বর → বংশতালিকা → দুধের রেকর্ড → প্রজনন রেকর্ড → রোগের ইতিহাস → বাছুরের বৃদ্ধি → জিনগত মূল্যায়ন।
১৩. গরু-মহিষকে শুধু দুধের প্রাণী হিসেবে দেখা হয়নি
পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদ অর্থনীতিতে একটি পশু থেকে একাধিক অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি হয়। যেমন—দুধ → বাছুর → মাংস → চামড়া → গোবর → প্রজনন উপকরণ। বিশেষ করে দুধ উৎপাদন শেষ হওয়ার পর পশুর মাংসের অর্থনৈতিক মূল্যও রয়েছে।
পাকিস্তান ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫–২৬ অনুযায়ী দেশটির মোট মাংস উৎপাদন প্রায় ৬৩ লাখ ১৪ হাজার টন হিসেবে প্রাক্কলন করা হয়েছে; এর মধ্যে গরু-মহিষজাত বিফ প্রায় ২৬ লাখ ৩৪ হাজার টন। অর্থাৎ তাদের প্রাণিসম্পদ খাত দুধ এবং মাংস—দুই বাজার থেকেই অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করছে।
১৪. প্রাণিসম্পদ পাকিস্তানের জাতীয় অর্থনীতির বড় খাত
পাকিস্তান সরকারের তথ্য অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ দেশটির কৃষি অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপখাতগুলোর একটি। ২০২৫ সালে পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রাণিসম্পদ জাতীয় জিডিপির প্রায় ১৪.৬৩ শতাংশ এবং কৃষির মূল্য সংযোজনের প্রায় ৬০.৮৪ শতাংশে অবদান রাখছে। এই সংখ্যাই বোঝায় কেন পাকিস্তানে পশুপালনকে শুধু “কৃষকের বাড়িতে দুটো গরু” হিসেবে দেখা হয় না। এটি জাতীয় অর্থনীতির কৌশলগত খাত।
১৫. গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা
পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে সরকারি প্রাণিসম্পদ বিভাগ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে—Pakistan Agricultural Research Council (PARC), National Agricultural Research Centre (NARC), University of Agriculture Faisalabad এবং বিভিন্ন প্রাদেশিক গবেষণা ও প্রজনন প্রতিষ্ঠান।
বিশেষ করে—
- প্রাণীর জিনগত বৈশিষ্ট্য নির্ণয়
- সাহিওয়াল উন্নয়ন
- নিলি-রাভি উন্নয়ন
- কৃত্রিম প্রজনন
- বীর্য সংরক্ষণ
- জিনোম গবেষণা
- রোগ শনাক্তকরণ
- পশুখাদ্য
- দুধের গুণমান
নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা হয়েছে।
১৬. এখন লক্ষ্য—জিনগত সম্পদ রপ্তানি
পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের নতুন অধ্যায় সম্ভবত এখানেই। আগে একটি দেশের প্রাণিসম্পদ রপ্তানি বলতে আমরা বুঝতাম—জীবিত পশু, মাংস, চামড়া অথবা দুগ্ধজাত পণ্য।
এখন যুক্ত হয়েছে—ভ্রূণ, বীর্য, সেক্সড সিমেন ও উন্নত জেনেটিক্স।
২০২৬ সালে চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের মহিষের জিনগত উপকরণ রপ্তানির উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে—তারা স্থানীয় জাতকে আন্তর্জাতিক বায়োটেকনোলজি ও বাণিজ্যের সম্পদে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
১৭. তাহলে কি পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদ খাতে কোনো দুর্বলতা নেই?
অবশ্যই আছে। পাকিস্তান প্রাণীর সংখ্যায় ও মোট দুধ উৎপাদনে শক্তিশালী হলেও প্রতি পশুর উৎপাদনশীলতা আরও বাড়ানোর বড় সুযোগ রয়েছে।
ছোট খামারে অপর্যাপ্ত পুষ্টি, অনানুষ্ঠানিক দুধ বিপণন, ঠান্ডা সংরক্ষণ ও পরিবহনে ঘাটতি, রোগব্যবস্থাপনা, সঠিক তথ্য সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার অসম বিস্তার এখনো চ্যালেঞ্জ।
পাকিস্তানের সরকারও ২০২৬ সালে স্বীকার করেছে যে খাতটির বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও আরও সুসংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামো প্রয়োজন, বিশেষত উৎপাদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে।
আর সরকারি হিসাবে গরু ও মহিষের মোট দুধ থেকে মানুষের ব্যবহারের হিসাব করার সময় প্রায় ২০ শতাংশ বাদ দেওয়া হয়, যার মধ্যে পরিবহন ও শীতলীকরণজনিত ক্ষতির অনুমানও রয়েছে। অতএব পাকিস্তানের কাছ থেকে শেখার পাশাপাশি তাদের সমস্যাগুলো থেকেও শিক্ষা নিতে হবে।
১৮. পাকিস্তানের সাফল্যের ১২টি মূল কারণ
আমার গবেষণায় পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদ খাতের শক্তির পেছনে প্রধানত ১২টি বিষয় পাওয়া গেছে—
১. বিশাল গরু-মহিষের জনসংখ্যা।
২. সাহিওয়াল ও রেড সিন্ধির মতো বিশ্বমানের দেশীয় গরু।
৩. নিলি-রাভি ও কুন্ডির মতো উন্নত দুগ্ধজাত মহিষ।
৪. দুধের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার।
৫. লাখ লাখ ক্ষুদ্র খামারি পরিবারের অংশগ্রহণ।
৬. কৃষি ও প্রাণিসম্পদের সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা।
৭. স্থানীয়ভাবে পশুখাদ্য ও ফসলের উপজাতের প্রাপ্যতা।
৮. দেশীয় জাতের নির্বাচন ও সংরক্ষণ।
৯. কৃত্রিম প্রজনন ও উন্নত ষাঁড় ব্যবহারের ব্যবস্থা।
১০. বংশতালিকা ও উৎপাদন রেকর্ডভিত্তিক প্রজননের ঐতিহ্য।
১১. বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা।
১২. বর্তমানে জিনোমিক্স, ভ্রূণ স্থানান্তর, সেক্সড সিমেন ও জিনগত উপকরণ রপ্তানির দিকে অগ্রসর হওয়া।
১৯. বাংলাদেশের সঙ্গে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কোথায়?
আমার পর্যবেক্ষণে পার্থক্যটি শুধু গরুর সংখ্যায় নয়। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো নিজস্ব জিনগত সম্পদকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশেরও রয়েছে—
রেড চিটাগং ক্যাটল,
নর্থ বেঙ্গল গ্রে,
পাবনা অঞ্চলের গবাদিপশু,
মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিম গরুর ঐতিহ্য,
নেত্রকোনা ও হাওরাঞ্চলের স্থানীয় গরু,
এবং বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযোজিত দেশীয় গবাদিপশুর জনগোষ্ঠী।
কিন্তু আমাদের বড় প্রশ্ন হচ্ছে—আমরা কি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় গরুর পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শুমারি করেছি?
আমাদের কি জাতীয় ডিজিটাল Herd Book আছে?
সেরা ১ শতাংশ দেশি গাভী কোথায়—আমরা কি জানি?
কোন ষাঁড়ের মেয়েরা বেশি দুধ দিচ্ছে—তার নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্য আছে?
দেশি গরুর জিনোমিক তথ্যকে বাণিজ্যিক breeding programme-এ কতটা ব্যবহার করছি?
এই জায়গাগুলোতেই আমাদের বড় কাজ বাকি।
২০. বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে কী শিখতে পারে?
বাংলাদেশের জন্য আমি সরাসরি পাকিস্তানের মডেল নকল করার পক্ষে নই। কারণ দুই দেশের ভূমি, পশুখাদ্য, বাজার, জলবায়ু ও কৃষি কাঠামো এক নয়। কিন্তু কিছু নীতি গ্রহণ করা যায়।
প্রথম কাজ হওয়া উচিত বাংলাদেশের দেশীয় গরুর জিনগত মানচিত্র তৈরি করা।
এরপর—জাতীয় গরু নিবন্ধন ব্যবস্থা → ডিজিটাল Herd Book → দুধের রেকর্ড → বংশতালিকা → সেরা গাভী নির্বাচন → সেরা ষাঁড় নির্বাচন → progeny testing → semen production → genomic selection → farmer breeding network।
অর্থাৎ আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—বিদেশ থেকে ভালো গরু খোঁজার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভেতর থেকেই আগামী প্রজন্মের উন্নত গরু তৈরি করা।
২১. বাংলাদেশের জন্য ‘পাকিস্তান থেকে শিক্ষা’—১০টি প্রস্তাব
১. জাতীয় দেশীয় গরু শুমারি ও breed mapping।
২. রেড চিটাগং, নর্থ বেঙ্গল গ্রে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় গরুর পৃথক Herd Book।
৩. প্রতিটি breeding animal-এর স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয়।
৪. সেরা দেশি গাভীর জাতীয় Elite Cow Database।
৫. মায়ের দুধের রেকর্ড ছাড়া breeding bull নির্বাচন না করা।
৬. নির্বাচিত ষাঁড়ের progeny testing বাধ্যতামূলক করা।
৭. দেশীয় জাতের semen, embryo, DNA ও tissue gene bank তৈরি।
৮. মহিষের দুধ উৎপাদন সম্ভাবনা নিয়ে আলাদা জাতীয় কর্মসূচি।
৯. বিশ্ববিদ্যালয়–BLRI–DLS–খামারি সমন্বিত breeding network।
১০. দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নত dairy genetics তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ।
২২. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
পাকিস্তান আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখিয়েছে—প্রাণীর সংখ্যা সম্পদ নয়; সঠিক ব্যবস্থাপনায় সেই প্রাণীকে উৎপাদনশীল জিনগত ও অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করাই আসল উন্নয়ন।
৫ কোটি গরু থাকা এক বিষয়। কিন্তু সেই গরুর মধ্যে কোনটি সেরা, কোন গাভীর দুধ বেশি, কোন ষাঁড়ের জিন ভালো, কোন বংশ গরম সহ্য করে, কোন বংশ রোগ প্রতিরোধী এবং কোন জিন আগামী ২০ বছরের দুগ্ধশিল্পকে এগিয়ে নিতে পারে—সেটি জানা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তান এখন সেই দ্বিতীয় পর্যায়ের দিকে দ্রুত এগোতে চাইছে।
উপসংহার
পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদের শক্তির ভিত্তি এক দিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে শত বছরের স্থানীয় জাত নির্বাচন, সাহিওয়াল ও রেড সিন্ধির মতো মূল্যবান গরু, নিলি-রাভির মতো অসাধারণ দুগ্ধজাত মহিষ, বিশাল গ্রামীণ পশুপালন সংস্কৃতি, শক্তিশালী দুধের বাজার এবং গবেষণা ও প্রজননব্যবস্থার দীর্ঘ ইতিহাস।
তবে পাকিস্তানের মডেল নিখুঁত নয়। প্রাণীপ্রতি উৎপাদনশীলতা, সংগঠিত দুধ সংগ্রহ, ঠান্ডা শৃঙ্খল, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তারে তাদেরও অনেক পথ যেতে হবে।
আমার গবেষণায় সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের ভবিষ্যৎ শুধু বিদেশ থেকে বেশি দুধের গরু আমদানির মধ্যে নেই। আমাদের নিজেদের দেশীয় গরুর মধ্যে যে মূল্যবান জিনগত সম্পদ রয়েছে, সেটি শনাক্ত, সংরক্ষণ, রেকর্ড এবং বৈজ্ঞানিক নির্বাচনের মাধ্যমে উন্নত করতে হবে।
আজ পাকিস্তান নিলি-রাভির ভ্রূণ ও বীর্য বিদেশে রপ্তানির বাজার তৈরির চেষ্টা করছে। আমাদেরও এমন লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন—একদিন বাংলাদেশের কোনো নিজস্ব উন্নত গবাদিপশুর জিনগত সম্পদ আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত হবে।
বাংলাদেশ যদি ‘গরু পালন’ থেকে ‘গরুর জেনেটিক্স উন্নয়ন’-এর দিকে যেতে পারে, তাহলে আগামী ২০ বছরে আমাদের দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদনের চিত্র আমূল বদলে দেওয়া সম্ভব।
—ড. বায়েজিদ মোড়ল
কৃষি সাংবাদিক, গবেষক ও সম্পাদক
AgricultureNews24.com

গবেষণায় যাদের অভিজ্ঞতা ও তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে
এই প্রতিবেদন তৈরির সময় তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে আমরা একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভর করিনি। বরং খামারি, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল—এই পাঁচ স্তরের তথ্য মিলিয়ে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি।
প্রথমত, পাকিস্তানের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বাণিজ্যিক গরু-মহিষ খামারিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত মাঠপর্যায়ের জরিপ ও গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে পশুখাদ্য, দুধ উৎপাদন, প্রজনন, রোগব্যবস্থাপনা, বাজার, শ্রম ও খামারের লাভ-ক্ষতির বাস্তব চিত্র বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ, পশুচিকিৎসক ও প্রজননবিদদের প্রকাশিত মতামত ও গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাহিওয়াল গরু, রেড সিন্ধি, নিলি-রাভি ও কুন্ডি মহিষের জাত উন্নয়ন, কৃত্রিম প্রজনন, উন্নত ষাঁড় নির্বাচন, বংশতালিকা সংরক্ষণ এবং দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে তাদের কাজ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, University of Agriculture Faisalabad, University of Veterinary and Animal Sciences Lahore, Pakistan Agricultural Research Council (PARC), National Agricultural Research Centre (NARC), Livestock Production Research Institute এবং Buffalo Research Institute-এর গবেষণা ও প্রকাশিত তথ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থত, পাকিস্তান সরকারের Pakistan Bureau of Statistics, Ministry of Finance, Ministry of National Food Security & Research এবং প্রাদেশিক Livestock Departments-এর সরকারি তথ্য ব্যবহার করে গরু-মহিষের সংখ্যা, দুধ ও মাংস উৎপাদন, কৃষিতে প্রাণিসম্পদের অবদান এবং সাম্প্রতিক উন্নয়ন কার্যক্রম যাচাই করা হয়েছে।
পঞ্চমত, পাকিস্তানের তথ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণার মিল পরীক্ষা করতে FAO, Journal of Dairy Science, Animal Biotechnology, Frontiers in Animal Science, Italian Journal of Animal Science, Buffalo Bulletin এবং Pakistan Journal of Agricultural Sciences-সহ বিভিন্ন স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বিশেষ করে আমরা তিনটি বিষয় মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি—খামারি মাঠে কী দেখছেন, গবেষক পরীক্ষায় কী ফল পাচ্ছেন এবং সরকারি পরিসংখ্যান কী বলছে।
এই তিন স্তরের তথ্য যেখানে একে অপরকে সমর্থন করেছে, সেখানে সেই তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর যেখানে তথ্যের অমিল পাওয়া গেছে, সেখানে বিষয়টিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই গবেষণার উদ্দেশ্য পাকিস্তানের প্রাণিসম্পদ খাতকে শুধু সফল হিসেবে উপস্থাপন করা নয়; বরং কেন তারা এগিয়েছে, কোথায় তাদের দুর্বলতা আছে এবং সেখান থেকে বাংলাদেশের জন্য কোন শিক্ষা বাস্তবসম্মত হতে পারে—সেটি নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা।
—ড. বায়েজিদ মোড়ল
কৃষি সাংবাদিক, গবেষক ও সম্পাদক
AgricultureNews24.com
তথ্যসূত্র
১. Pakistan Bureau of Statistics (PBS) — Agricultural Census 2024।
২. Pakistan Economic Survey 2025–26 — Ministry of Finance।
৩. FAO — Sahiwal, Red Sindhi, Tharparkar ও Pakistan Dairy Development বিষয়ক প্রতিবেদন।
৪. Pakistan Agricultural Research Council (PARC) — প্রাণিজ জিনসম্পদ, প্রজনন ও জিনগত গবেষণা।
৫. PARC Annual Reports 2020–21 ও 2023–24 — Sahiwal, Nili-Ravi, Kundi ও Tharparkar গবেষণা।
৬. Ministry of National Food Security & Research, Pakistan — প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও জিনগত উপকরণ রপ্তানি তথ্য।






















