RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Wednesday , 23 September 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

চিয়ানিনা পৃথিবীর বৃহত্তম গরুর জাতগুলোর একটি

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
September 23, 2026 1:16 am

চিয়ানিনা (chianina): পৃথিবীর বৃহত্তম গরুর জাতগুলোর একটির পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি।।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন

সাদা দেহ, কালো ত্বক, অসাধারণ উচ্চতা, দীর্ঘ শরীর, শক্ত পা এবং দ্রুত বৃদ্ধির কারণে চিয়ানিনা গরুকে অনেকেই “সাদা দৈত্য” বলে থাকেন। ইতালির এই প্রাচীন জাতটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে পুরোনো গরুর জাতগুলোর একটি। একসময় লাঙল টানা, ভার বহন ও সামরিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এর প্রধান পরিচয় উচ্চমানের মাংস উৎপাদনকারী জাত হিসেবে। বিখ্যাত ইতালীয় ‘বিস্তেক্কা আল্লা ফিওরেন্তিনা’ বা ফ্লোরেনটাইন টি-বোন স্টেকের সঙ্গে চিয়ানিনার নাম ঐতিহাসিকভাবে জড়িত।

chianina জাতটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দ্রুত বৃদ্ধি, বিশাল কিন্তু তুলনামূলক সূক্ষ্ম কঙ্কাল, বড় পিঠ-কোমর ও পশ্চাৎদেশ, ভালো জবাই-ফলনের হার, কম অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস এবং সূর্যালোক সহ্য করার উপযোগী কালো রঞ্জক। তবে বিশাল দেহ মানে বেশি খাদ্য, বড় শেড, শক্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং বেশি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। এটি দুধ বিক্রির জাত নয়; গাভীর দুধ মূলত বাছুরের জন্য। তাই শুধু সর্বোচ্চ ওজন বা ছবির আকর্ষণ দেখে নয়—প্রজনন, খাদ্য, জলবায়ু, বাজার ও লাভের হিসাব দেখে চিয়ানিনা পালন করতে হবে।

উৎপত্তি ও কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস

চিয়ানিনার জন্মভূমি মধ্য ইতালির তুসকানি ও উমব্রিয়া অঞ্চলের ভ্যাল দি চিয়ানা বা চিয়ানা উপত্যকা। এই উপত্যকার নাম থেকেই “চিয়ানিনা” নামের উৎপত্তি। ইতালির সরকারি জাত-সংস্থা এএনএবিআইসি জানায়, জাতটি সেখানে ২২ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পালিত হচ্ছে। প্রাচীন রোমের লেখক ও কবিদের রচনায় বড় সাদা গরুর উল্লেখ আছে এবং রোমান ভাস্কর্যের গরুর সঙ্গে চিয়ানিনার শারীরিক মিল নিয়ে আলোচনা হয়।

দীর্ঘকাল শক্তিশালী কর্মক্ষম গবাদিপ্রাণি হিসেবে চাষাবাদ ও পরিবহনে জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বড় দেহ, দীর্ঘ পা, শক্ত খুর ও সহনশীলতার কারণে এটি দূরপথে কাজ করতে পারত। উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে পরিকল্পিত নির্বাচন শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কৃষিযন্ত্রের বিস্তারে কর্মক্ষম গরুর প্রয়োজন কমে গেলে নির্বাচনের লক্ষ্য মাংস উৎপাদন-এর দিকে ঘুরে যায়। পা কিছুটা ছোট, দেহের মধ্যভাগ দীর্ঘ, কোমর প্রশস্ত এবং নিতম্ব, উরু ও পশ্চাৎদেশ-এ বেশি পেশি—এই আধুনিক মাংসল ধরন তৈরিতে জোর দেওয়া হয়।

আজ ইতালির বাইরে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে খাঁটি জাত ও সংকরায়নে চিয়ানিনা ব্যবহৃত হয়। অ্যাঙ্গাস-এর সঙ্গে সংকর “চিয়াঙ্গাস” এবং হেয়ারফোর্ড-ভিত্তিক “চিফোর্ড” নামও পরিচিত।

জাত শনাক্ত করার প্রধান বৈশিষ্ট্য

পূর্ণবয়স্ক chianina চিয়ানিনার গায়ের রং চীনামাটির মতো সাদা বা সাদা; ঘাড় ও সামনের অংশে হালকা ইস্পাতের মতো ধূসর ছায়া থাকতে পারে। কিন্তু ত্বক কালো বা ধূসর-কালো এবং চোখের পাতা, চোখের চারপাশ, মুখের ভেতর, নাক, খুর, লেজের অগ্রভাগ, প্রজনন অঙ্গ ও শিংয়ের ডগায় কালো রঞ্জকতা থাকে। সাদা লোমের নিচে কালো ত্বক সূর্যালোকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিছু সুরক্ষা দেয়।

মজার বিষয় হলো, বাছুর জন্মের সময় গমবর্ণ, ফন বা হালকা বাদামি হতে পারে। প্রায় তিন থেকে চার মাসে ধীরে ধীরে প্রাপ্তবয়স্ক জাতের সাদা রং আসে। তাই বাদামি নবজাত বাছুর দেখে জাত ভুল ধরে নেওয়া উচিত নয়।

মাথা দেহের তুলনায় ছোট, হালকা ও অভিব্যক্তিপূর্ণ; মুখের সামনের অংশ প্রশস্ত, চোখ কালো ও সতর্ক। শিং তুলনামূলক ছোট, সূক্ষ্ম এবং পাশ ও সামনের দিকে থাকে; শিং অপসারণ অনুমোদিত। ঘাড় শক্ত ও পেশিবহুল, ষাঁড়ে স্পষ্ট উঁচু পেশি দেখা যায়। গলকম্বল অতিরিক্ত ঢিলা নয়। দেহের মধ্যভাগ দীর্ঘ ও প্রায় নলাকার, বুক গভীর, পিঠ ও কোমর লম্বা-প্রশস্ত, নিতম্ব বড় এবং উরু-পশ্চাৎদেশ গোলাকার ও পেশিবহুল।

কঙ্কাল বিশাল দেহের তুলনায় সূক্ষ্ম হাড়ের বা হালকা—এটি জবাই-ফলন-এর পক্ষে সুবিধাজনক। পা লম্বা, শক্ত ও সোজা; খুর ঘন ও গভীর গোড়ালি-যুক্ত হওয়া কাম্য। অতীতে কাজের জন্য নির্বাচনের ফলে সহনশীলতা ও হাঁটার ক্ষমতা ভালো। স্বভাব সতর্ক কিন্তু আদর্শভাবে শান্ত; অতিরিক্ত ভীতু বা আক্রমণাত্মক গবাদিপ্রাণি জাতমান-এ কাম্য নয়।

উচ্চতা ও পূর্ণবয়স্ক ওজন

chianina চিয়ানিনা “অতি বৃহৎ দৈহিক গঠন”—অস্বাভাবিক বড় দৈহিক কাঠামোর জন্য বিখ্যাত। সাধারণ পূর্ণবয়স্ক গাভীর ওজন প্রায় ৮০০–১,০০০ কেজি; ভালো অবস্থায় ১,০০০ কেজির বেশি হতে পারে। পূর্ণবয়স্ক ষাঁড় সাধারণত ১,২০০–১,৫০০ কেজি; এএনএবিআইসি-এর ভাষ্যে ১,৬০০ কেজির বেশি ষাঁড়ও অস্বাভাবিক নয়। ঐতিহাসিক রেকর্ডে দোনেত্তো নামের একটি ষাঁড়ের ওজন প্রায় ১,৭৪০–১,৭৮০ কেজি বলা হয়। এমন রেকর্ডকে গড় উৎপাদন ধরে ব্যবসায়িক হিসাব করা যাবে না।

পরিণত গাভীর কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ১৫০–১৬৫ সেন্টিমিটার বা বেশি হতে পারে। বড় ষাঁড় প্রায় ১৬০–১৮০ সেন্টিমিটার; ব্যতিক্রমে আরও উঁচু। এএনএবিআইসি-এর দৈহিক পরিমাপের শ্রেণিবিন্যাস-এ একাধিকবার বাচ্চা দেওয়া গাভীর ১৫০–১৫৭ সেন্টিমিটার উচ্চতা মধ্যম শ্রেণি এবং ১৬৫ সেন্টিমিটারের বেশি সর্বোচ্চ শ্রেণিতে পড়ে।

জন্ম-ওজন ও প্রসব

বাছুরের জন্ম-ওজন সাধারণত প্রায় ৪০–৫০ কেজি; লিঙ্গ, পিতা-ষাঁড়, মায়ের প্রসবসংখ্যা, গর্ভকাল ও পুষ্টিতে পার্থক্য হয়। জাত-তথ্যসূত্র-এ ৫০ কেজি পর্যন্ত বাছুরও স্বাভাবিকভাবে জন্মাতে পারে বলা হয়েছে, কারণ বাছুর তুলনামূলক লম্বাটে দেহের এবং গাভীর শ্রোণি প্রশস্ত। এএনএবিআইসি-ও প্রসব-সহজতা-কে জাতের শক্তি বলে।

কিন্তু এই তথ্যের ভুল ব্যবহার বিপজ্জনক। খাঁটি বড় চিয়ানিনা গাভীর সহজ প্রসব মানে ছোট দেশি গাভী বা বকনায় চিয়ানিনা সিমেন দিলেও সহজ প্রসব হবে—এমন নয়। বাছুর জন্ম-ওজন মাতৃগাভীর শ্রোণির আয়তন-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ছোট গাভীতে প্রসবকষ্ট, মৃত বাছুর, জরায়ু ক্ষতি বা গাভীর মৃত্যুও হতে পারে।

কৃত্রিম প্রজননের ষাঁড় নির্বাচনে সরাসরি প্রসব-সহজতা, জন্ম-ওজনের আনুমানিক প্রজননমান, গর্ভকাল, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং কন্যার প্রসব-সহজতা দেখতে হবে। প্রথমবার বাচ্চা দেবে এমন বকনায় কেবল পরীক্ষিত কম জন্ম-ওজন ও সহজ প্রসবের ষাঁড়; বড় দ্রুত বৃদ্ধির ষাঁড় পরিণত, প্রশস্ত শ্রোণি এবং পূর্বে সহজে বাচ্চা দেওয়া গাভীর জন্য।

বৃদ্ধি ও দৈনিক ওজন বাড়া

চিয়ানিনা chianina বিশ্বের দ্রুতবর্ধনশীল মাংসল জাত-এর অন্যতম। এএনএবিআইসি জানায়, নির্বাচিত তরুণ ষাঁড়ের দৈনিক ওজন বৃদ্ধি ২ কেজি/দিন ছাড়াতে পারে। সাম্প্রতিক জিনভিত্তিক গবেষণায় কর্মদক্ষতা পরীক্ষিত চিয়ানিনা দলে-এ প্রায় ১.৭৩ কেজি/দিন গড় দৈনিক ওজন বৃদ্ধি-এর উদাহরণ পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলীয় চিয়ানিনা সমিতি-এর আদর্শ মান অনুযায়ী ১৬–১৮ মাসে ৬৫০–৭০০ কেজি জীবন্ত ওজন আদর্শ জবাইয়ের লক্ষ্য হতে পারে।

এগুলো উচ্চ বংশগত মান, সুষম উচ্চশক্তির খাদ্যতালিকা, পর্যাপ্ত আমিষ, আরামদায়ক পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ফল। বাংলাদেশের বাস্তবতায় ১.০–১.৪ কেজি/দিন ধারাবাহিক দৈনিক ওজন বৃদ্ধি-ও ভালো; উন্নত নিবিড় ব্যবস্থায় ১.৫ কেজি বা বেশি সম্ভব হতে পারে। স্থানীয় পরীক্ষা ছাড়া ২ কেজি ধরে বাজেট করা উচিত নয়।

চিয়ানিনা তুলনামূলক দেরিতে পূর্ণতা পাওয়া বড় দৈহিক কাঠামো-এর জাত; দীর্ঘ সময় চর্বিহীন মাংসের বৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে এবং খুব অল্প বয়সে অতিরিক্ত চর্বি জমে না। কিন্তু বয়স বাড়লে দেহ রক্ষণাবেক্ষণ ও খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা খারাপ হয়। সর্বোচ্চ ওজন নয়—প্রতি কেজি ওজন বৃদ্ধির খাদ্যখরচ এবং বাজারের লক্ষ্যমাত্রার জবাই-পরবর্তী দেহ বিবেচ্য।

দিনে কত দুধ দেয়?

চিয়ানিনা দুগ্ধজাত নয়। গাভীকে সাধারণত নিয়মিত দোহন না করে বাছুরসহ রাখা হয়। এএনএবিআইসি-এর জাতমান-এ ওলান ভালোভাবে বিকশিত ও বাঁট বাছুরের উপযোগী হওয়া চাই এবং গাভীর মাতৃক্ষমতা বিচার করা হয়—কারণ তাকে দুধ ছাড়ানোর সময় পর্যন্ত ভারী বাছুর তুলতে হবে। কিন্তু মানসম্মত বাণিজ্যিক ৩০৫-দিনের দুধের হিসাব প্রকাশ করা হয় না।

গবেষণাভিত্তিক সরাসরি দৈনিক দুধের তথ্য সীমিত এবং পদ্ধতিভেদে ফল বদলায়। ব্যবহারিকভাবে পরিণত, ভালো পুষ্টির বাছুর-পালনকারী চিয়ানিনা গাভীর সর্বোচ্চ মাতৃদুগ্ধ আনুমানিক ৫–৮ কেজি/দিন হতে পারে; প্রথম বাচ্চার বা কম পুষ্টির গাভীতে ৩–৫ কেজি, ভালো মাতৃবংশ-এ সাময়িকভাবে ৮–১০ কেজির কাছাকাছি হতে পারে। এটি বাছুর পান করা মোট দুধের সতর্ক নির্দেশক—বিক্রিযোগ্য উদ্বৃত্ত নয়।

দিনে ১৫–২০ লিটার দুধের দাবি সাধারণ চিয়ানিনার ক্ষেত্রে সন্দেহের সঙ্গে যাচাই করতে হবে। দুগ্ধজাত সংকর বংশ, পরিমাপের পদ্ধতি, দুধ দেওয়ার পর্যায় এবং বাছুরের অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে হবে।

ল্যাকটেশনে কত দুধ দেয়?

ইউরোপীয় পিজিআই উৎপাদনবিধি অনুযায়ী চিয়ানিনা, মারকিজানা ও রোমানিওলা বাছুর সাধারণত ছয়–সাত মাস পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে থেকে দুধ পান করে। অর্থাৎ কার্যকর বাছুরের দুধ পানকাল দুধ দেওয়ার সময়কাল প্রায় ১৮০–২১০ দিন বা ব্যবস্থাপনাভেদে ২৪০ দিন হতে পারে।

একটি ২১০ দিনের উদাহরণ ধরা যাক: দুধ দেওয়ার সময়কাল গড় ৫ কেজি হলে মোট ১,০৫০ কেজি; ৬ কেজি হলে ১,২৬০ কেজি; ৭ কেজি হলে ১,৪৭০ কেজি। তাই প্রায় ৯০০–১,৫০০ কেজি মাতৃদুগ্ধের সমপরিমাণ একটি সতর্ক ব্যবহারিক পরিসর হতে পারে। কিন্তু এটি স্বীকৃত জাতগত গড় নয়। সর্বোচ্চ উৎপাদন দিয়ে পুরো দুধ দেওয়ার সময়কাল গুণ করলে ভুল হবে, কারণ প্রসব-এর পর ফলন বাড়ে, সর্বোচ্চ পর্যায় হয়, পরে কমে।

জাতটির দুধের আসল মূল্য হলো বাছুর বেঁচে থাকা, ৬–৭ মাসের দুধ ছাড়ানোর সময় ওজন এবং গাভীর শরীর নষ্ট না করে পুনরায় গর্ভধারণ। বাছুরের দুধ দোহন করলে বৃদ্ধি কমে যেতে পারে। দুধ বিক্রির লক্ষ্য হলে দুগ্ধজাত বা পরীক্ষিত দ্বৈত-উদ্দেশ্যের জাত উপযুক্ত।

দুধের গুণাগুণ

চিয়ানিনার ব্যাপক স্বীকৃত চর্বি, আমিষ ও দেহকোষ গণনার নথি নেই। বাছুর-পালনকারী মাংসল গাভীর দুধের সাধারণ নির্দেশক হিসেবে চর্বি প্রায় ৩.৫–৪.৫% এবং আমিষ প্রায় ৩.২–৩.৮% হতে পারে; প্রতিটি গাভী, খাদ্য ও দুধ দেওয়ার পর্যায়ভেদে বড় পার্থক্য হয়। এই পরিসরকে চিয়ানিনার স্বীকৃত গড় বলা যাবে না। মানুষের খাদ্যের জন্য দুধ ব্যবহার করতে হলে পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ, ওলান প্রদাহ পরীক্ষা, দেহকোষের সংখ্যা, স্বাস্থ্যসম্মত দোহন ও শীতল সরবরাহব্যবস্থা প্রয়োজন।

বয়ঃসন্ধি, প্রথম প্রজনন ও প্রথম বাচ্চা

চিয়ানিনা বড় দৈহিক কাঠামো-এর হওয়ায় বয়স-এর চেয়ে লক্ষ্যমাত্রার ওজন গুরুত্বপূর্ণ। ভালো পুষ্টিতে বকনা প্রায় ১২–১৮ মাসে বয়ঃসন্ধি-তে পৌঁছাতে পারে, তবে প্রজনন-এর সময় পূর্ণবয়স্ক ওজন-এর প্রায় ৬০–৬৫% হওয়া উচিত। উন্নত নিবিড় ব্যবস্থায় ১৫–১৮ মাসে প্রজনন এবং ২৪–২৮ মাসে প্রথম প্রসব সম্ভব। উন্মুক্ত বা কম পুষ্টিতে প্রথম প্রসব ৩০–৩৬ মাস বা পরে হতে পারে।

গর্ভকাল সাধারণত প্রায় ২৮৫–২৯৫ দিন; ষাঁড় বাছুর বা বড় পিতৃবংশ-এ কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। তাড়াহুড়ো করে কম ওজনের বকনা প্রজনন করলে প্রসবকষ্ট, কম দুধ, দৈহিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত ও পরবর্তী গর্ভধারণে বিলম্ব হয়। আবার অযথা তিন বছরের বেশি অপেক্ষা করলে অনুৎপাদনশীল খাদ্যখরচ বাড়ে।

দুই প্রসবের ব্যবধান ও জীবনে কতবার মা হয়?

লক্ষ্য বছরে একটি বাছুর—৩৬৫ দিনের দুই প্রসবের ব্যবধান। বাস্তবে মাংসল গরুর পালে ৩৬৫–৪০০ দিন ভালো। তাপ-চাপ, দুর্বল শারীরিক অবস্থা, প্রসব-পরবর্তী রোগ, খনিজের ঘাটতি, ষাঁড়ের বন্ধ্যাত্ব বা দুর্বল ঋতুচক্র শনাক্তকরণ-এ ব্যবধান ৪২০–৫০০ দিন হতে পারে।

পা-খুর শক্ত, মাতৃক্ষমতা ভালো এবং রোগ কম হলে চিয়ানিনা গাভী দীর্ঘ উৎপাদনশীল জীবন দিতে পারে। সাধারণভাবে ৮–১২ বছর পর্যন্ত পালে থাকা সম্ভব; উৎকৃষ্ট গাভী ১৩–১৫ বছর বা বেশি থাকতে পারে। প্রথম প্রসব ২–৩ বছরে এবং ব্যবধান প্রায় এক বছর হলে জীবনে ৬–১০টি বাছুর বাস্তবসম্মত। খুব ভালো গাভী ১০–১২টি বা বেশি দিতে পারে; বন্ধ্যাত্ব, প্রসবকষ্ট, দাঁত, খুর, ওলান বা রোগের কারণে ৩–৫টির পরও বাদ পড়তে পারে।

সুতরাং “চিয়ানিনা জীবনে ঠিক ১০ বার মা হয়” বলা বৈজ্ঞানিক নয়। জীবনকালের বাছুরসংখ্যা নির্ভর করে প্রথম প্রসবের বয়স, গর্ভধারণ, বাছুর বেঁচে থাকা, দীর্ঘায়ু ও বাদ দেওয়ার নীতির ওপর।

কত কেজি মাংস পাওয়া যায়?

জীবন্ত ওজন, জবাই-পরবর্তী দেহের ওজন ও হাড়ছাড়া মাংস আলাদা। আদর্শ তরুণ ষাঁড় জবাই আদর্শ মান প্রায় ৬৫০–৭০০ কেজি জীবন্ত ওজন এবং ৬৪–৬৫% জবাই-ফলন। খামার ও বাজারভেদে ৬০০–৮০০ কেজিতে জবাই হতে পারে। বাস্তব ব্যবহারিক জবাই-ফলন পরিসর প্রায় ৬০–৬৫%; খুব ভালো সঠিকভাবে মোটাতাজা গবাদিপ্রাণি-এ বেশি হতে পারে।

উদাহরণ:

  • ৬০০ কেজি × ৬০% = ৩৬০ কেজি জবাই-পরবর্তী দেহ।
  • ৬৫০ কেজি × ৬৪% = ৪১৬ কেজি জবাই-পরবর্তী দেহ।
  • ৭০০ কেজি × ৬৫% = ৪৫৫ কেজি জবাই-পরবর্তী দেহ।
  • ৮০০ কেজি × ৬৪% = ৫১২ কেজি জবাই-পরবর্তী দেহ।

জবাই-পরবর্তী দেহে হাড় ও চর্বি ছাঁটাই থাকে। হাড় ও বাড়তি চর্বি ছাঁটা বিক্রয়যোগ্য মাংস জবাই-পরবর্তী দেহের প্রায় ৬৮–৭৬% হতে পারে। ৭০০ কেজি গবাদিপ্রাণির ৪৫৫ কেজি জবাই-পরবর্তী দেহ থেকে ৭২% ধরলে প্রায় ৩২৮ কেজি হাড়ছাড়া বিক্রয়যোগ্য মাংস। খাদ্যযোগ্য নাড়িভুঁড়ি ও অঙ্গ আলাদা। ৭০০ কেজির গরু থেকে ৪৫৫ কেজি “বিশুদ্ধ মাংস” বলা ভুল—৪৫৫ কেজি জবাই-পরবর্তী দেহ, হাড়ছাড়া মাংস নয়।

পূর্ণবয়স্ক ১,৪০০ কেজির প্রজনন ষাঁড় থেকে অবশ্যই বেশি জবাই-পরবর্তী দেহ হবে, কিন্তু এত বয়স ও ওজন পর্যন্ত খাদ্য করা সাধারণ মাংসের ব্যবসা-এ লাভজনক নাও হতে পারে; কোমলতা ও খাদ্য দক্ষতা কমতে পারে।

মাংসের গুণাগুণ

চিয়ানিনার মাংস সাধারণত চর্বিহীন, সূক্ষ্ম আঁশযুক্ত, তুলনামূলক কম বাহ্যিক চর্বি এবং ভালো আমিষের পরিমাণের জন্য পরিচিত। দীর্ঘ পিঠ ও কোমর, প্রশস্ত নিতম্ব এবং গোলাকার উরু থেকে বড় উচ্চমূল্যের মাংসের অংশ পাওয়া যায়। হালকা কঙ্কালের কারণে মাংস ও হাড়ের অনুপাত ভালো হতে পারে।

জাতটির মাংস সবচেয়ে বিখ্যাত ‘বিস্তেক্কা আল্লা ফিওরেন্তিনা’-র জন্য—একটি বড়, মোটা টি-বোন মাংসের অংশ যেখানে নরম কটি-মাংস ও পিঠের কোমল মাংস উভয় অংশ থাকে। তবে “ফিওরেন্তিনা” শুধু জাত নয়; গবাদিপ্রাণির বয়স, কাটার পদ্ধতি, পুরুত্ব, মাংস পরিপক্বকরণ এবং রান্নার ঐতিহ্যও এর পরিচয়ের অংশ।

চিয়ানিনার মাংস সাধারণত অ্যাঙ্গাস-এর চেয়ে কম চর্বির সূক্ষ্ম রেখাযুক্ত হতে পারে। তাই অতি বেশি মাংসের ভেতরের সূক্ষ্ম চর্বি বাজার-এর বদলে চর্বিহীন, বড় মাংসের অংশ ও স্বচ্ছ স্বাদ-এর বাজারে সুবিধা। কম মাংসের ভেতরের চর্বি হলে ভুল মাংস পরিপক্বকরণ বা অতিরিক্ত রান্না-এ মাংস শুকনো লাগতে পারে। বংশগতি, লিঙ্গ, খাসিকরণ, শেষ পর্যায়ের খাদ্যতালিকা, জবাইয়ের বয়স ও জবাই-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা কোমলতা বদলায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা চর্বিহীন গরুর মাংসে সাধারণত ২৫–৩০ গ্রাম পূর্ণমানের আমিষ এবং লোহা, দস্তা, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন বি১২ থাকে। ক্যালরি ও চর্বি মাংসের অংশ/চর্বি ছাঁটাই-নির্ভর। “চামড়াহীন মুরগির চেয়েও কম ক্যালরি” ধরনের প্রচারণা নির্দিষ্ট মাংসের অংশ ও রান্নার পদ্ধতি ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়।

জবাই-পূর্ব মানসিক ও শারীরিক চাপ কমানো, মানবিক ব্যবস্থাপনা, দ্রুত কিন্তু অতিরিক্ত ঠান্ডায় মাংস শক্ত হওয়া এড়ানো শীতলীকরণ এবং ৭–২১ দিনের নিয়ন্ত্রিতভাবে মাংস পরিপক্ব করা মাংসের কোমলতা বাড়ায়। উচ্চ তাপমাত্রায় দীর্ঘ পরিবহন অস্বাভাবিক গাঢ় মাংস-এর ঝুঁকি বাড়ায়।

পিজিআই সুরক্ষা ও ইতালির বিশেষ-মূল্যের বাজার

চিয়ানিনা, মারকিজানা ও রোমানিওলা—এই তিন খাঁটি জাতের নির্দিষ্ট অঞ্চলে জন্মানো ও পালিত ১২–২৪ মাস বয়সী গবাদিপ্রাণির মাংস “Vitellone Bianco dell’Appennino Centrale” পিজিআই সুরক্ষা পেতে পারে। এতে গবাদিপ্রাণির পরিচয়, জন্ম-খামার, পালন ও মোটাতাজাকরণ খামার, স্থানান্তর, জবাই, জবাই-পরবর্তী দেহের ওজন, দৈহিক গঠন, চর্বির শ্রেণি ও মাংস কাটার প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত উৎস শনাক্তযোগ্যতা থাকে।

বাংলাদেশে চিয়ানিনা পালন করলেই ইতালির পিজিআই নাম ব্যবহার করা যাবে না; এটি অঞ্চল ও বিধিমালা-নির্ভর আইনগত স্বীকৃতি। তবে উৎস শনাক্তযোগ্যতা, জাত যাচাই, বয়স, খাদ্য এবং জবাই-পরবর্তী দেহ নথির মডেলটি বাংলাদেশের বিশেষ-মূল্যের মাংস সরবরাহব্যবস্থার জন্য শিক্ষণীয়।

মানুষ কেন চিয়ানিনা পালন করবে?

প্রথমত, দ্রুত চর্বিহীন মাংসের বৃদ্ধি—ভালো ব্যবস্থাপনায় কম বয়সে ভারী বাজারযোগ্য গবাদিপ্রাণি। দ্বিতীয়ত, বড় দৈহিক কাঠামো দীর্ঘ সময় পেশি বৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে। তৃতীয়ত, সূক্ষ্ম হাড় ও উন্নত পেশির বিকাশ ভালো জবাই-ফলন দেয়। চতুর্থত, কোমর, নিতম্ব ও উরু থেকে বড় মূল্যবান মাংসের অংশ পাওয়া যায়। পঞ্চমত, কালো রঞ্জকযুক্ত ত্বক ও সাদা লোম সূর্যালোক সহ্য করতে সহায়ক। ষষ্ঠত, শক্ত পা-খুর ও চারণভূমিতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আছে। সপ্তমত, চূড়ান্ত সংকরায়নের পিতৃজাত সংকরায়নে বংশধরের বৃদ্ধি, উচ্চতা ও জবাই-পরবর্তী দেহের আকার বাড়াতে পারে। অষ্টমত, চিয়ানিনার মাংস-এর আন্তর্জাতিক রন্ধনশৈলীর পরিচিতি বিশেষ-মূল্যের পরিচিতি গড়তে-এ কাজে লাগতে পারে।

তবে লাভ তখনই হবে যখন সস্তা আঁশজাতীয় খাদ্য, সুষম খাদ্যতালিকা, বড় জায়গা, দক্ষ প্রজনন, জবাই-পরবর্তী দেহভিত্তিক বাজার ও নথি সংরক্ষণ থাকবে। শুধু বিশাল গরু প্রদর্শন করে নিয়মিত ব্যবসা টিকবে না।

খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা

বড় মাংসল গবাদিপ্রাণির খাদ্যতালিকা-এর ভিত্তি মানসম্পন্ন ঘাস, শুকনা ঘাস ও সাইলেজ। বর্ধনশীল ও মোটাতাজাকরণাধীন গবাদিপ্রাণি সাধারণত জীবন্ত ওজনের প্রায় ২.০–২.৫% শুষ্ক পদার্থ খেতে পারে। ৬৫০ কেজির গবাদিপ্রাণির ১৩–১৬ কেজি শুষ্ক পদার্থ প্রয়োজন হতে পারে। ২০% শুষ্ক পদার্থ তাজা ঘাস হলে ১৩ কেজি শুষ্ক পদার্থ পেতে ৬৫ কেজি তাজা ঘাস লাগে; দানাদার খাদ্য, সাইলেজ ও শুকনা ঘাস যুক্ত হলে হিসাব বদলায়।

রেশনে শক্তি, আমিষ, কার্যকর আঁশ, লবণ, ক্যালসিয়াম-ফসফরাস, অণুখনিজ ও ভিটামিনের ভারসাম্য করতে হবে। আঁশজাতীয় খাদ্য পরীক্ষা-এ শুষ্ক পদার্থ, অপরিশোধিত আমিষ, নিরপেক্ষ আঁশ, অম্লীয় আঁশ, খনিজ ছাই, নাইট্রেট ও ছত্রাকের বিষ দেখা ভালো। ১৪–২১ দিনে দানাদার খাদ্য ধীরে বাড়াতে হবে; হঠাৎ শস্য দিলে অম্লতা, পেট ফাঁপা, খুরের প্রদাহ ও যকৃতের ফোঁড়া হয়।

প্রজনন গাভীর শারীরিক অবস্থার মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অতিরিক্ত মোটা হলে প্রসবকষ্ট, রোগা হলে কম দুধ ও গর্ভধারণে বিলম্ব। ষাঁড়কে প্রজনন মৌসুম-এর আগে প্রজনন সক্ষমতা, বীর্য, পরীক্ষাicle, পা ও শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে।

শেড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা

চিয়ানিনার উচ্চতা ও ওজনের জন্য সাধারণ ছোট দুগ্ধজাত গরুর সাধারণ শেড যথেষ্ট নাও হতে পারে। উঁচু ছাদ, বড় প্রবেশপথ, চওড়া ও পিচ্ছিলতামুক্ত চলাচলপথ, শক্ত বেড়া, মজবুত আটকানোর খাঁচা, মাথা আটকানোর ফটক, ওঠানামার ঢালু পথ এবং জরুরি বের হওয়ার পথ প্রয়োজন। মেঝে শুষ্ক কিন্তু অতিরিক্ত শক্ত নয়; বিছানা আরামদায়ক। খাবারের পাত্র-এ পর্যাপ্ত জায়গা এবং পানির প্রবাহ বেশি হতে হবে।

শিংযুক্ত গবাদিপ্রাণি-এ আঘাতের ঝুঁকি থাকে; শিং অপসারণ ছোট বয়সে ব্যথানাশক প্রয়োগ ও পশুচিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। বড় ষাঁড় কখনো একা অনিরাপদভাবে পরিচালনা করা যাবে না। শান্ত জাত হলেও ওজনের কারণে সামান্য ধাক্কা মারাত্মক হতে পারে।

তাপ সহনশীলতা ও বাংলাদেশ

এএনএবিআইসি সাদা লোম, কালো রঞ্জকযুক্ত ত্বক ও পাতলা ত্বক-কে সূর্যরশ্মি ও দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ-এর সহায়ক বলে। চিয়ানিনা অনেক ইউরোপীয় মাংসল জাত-এর তুলনায় গরম ও সূর্যালোক ভালো সহ্য করতে পারে। কিন্তু এটি বস টরাস; বাংলাদেশের উচ্চ আর্দ্রতা ও গরম রাতে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শীতল হওয়া বাধাগ্রস্ত হয়। তাই “তাপসহনশীল” মানে ছায়া বা পাখা লাগবে না—এমন নয়।

পূর্ব-পশ্চিমমুখী উঁচু ছাদের শেড, আড়াআড়ি বায়ু চলাচল, পাখা, প্রয়োজনমতো পানি ছিটানোর ব্যবস্থা, পরিষ্কার পানি, কম পালনের ঘনত্ব এবং দিনের ঠান্ডা সময়ে খাদ্য দিতে হবে। গরমে বড় গবাদিপ্রাণি ৬০–১০০ লিটার বা বেশি পানি পান করতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাসের হার, হাঁপানো, লালা ঝরা, খাদ্য গ্রহণ ও পায়ুপথের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ জরুরি।

বাংলাদেশে খাঁটি জাত পালের আগে কয়েক বছরের নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা দরকার: জন্ম-ওজন, প্রসবকষ্ট, বাছুরের মৃত্যুহার, তাপ-চাপের সূচক, আঁটুলি/রোগ, ২০০/৩৬৫ দিনের ওজন, খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা, জবাই-পরবর্তী দেহ, উর্বরতা ও জীবনকালের মোট লাভ।

রোগ ও বায়োসিকিউরিটি

চিয়ানিনা খুরা রোগ, লাম্পি স্কিন রোগ, গলাফুলা রোগ, তড়কা, বাদলা, ব্রুসেলোসিস, যক্ষ্মা, ওলান প্রদাহ, পরজীবী ও আঁটুলিবাহিত রোগ থেকে মুক্ত নয়। সরকারি কর্মসূচি ও নিবন্ধিত পশুচিকিৎসকের পরামর্শে টিকা, সঙ্গনিরোধ, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা, কৃমিনাশক প্রয়োগ ও বাহক নিয়ন্ত্রণ দরকার। নতুন গবাদিপ্রাণি ২১–৩০ দিন পৃথক রাখা এবং স্বাস্থ্যসনদ যাচাই করতে হবে।

খুর শক্ত হলেও অতিরিক্ত ওজন ও ভেজা মেঝে-এ খোঁড়াভাব হতে পারে। প্রতিদিন রুচি, জাবর কাটা, গোবর, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হাঁটার ভঙ্গি দেখতে হবে; নিয়মিত খুর পরীক্ষা এবং আরামদায়ক শোয়ার জায়গা রাখতে হবে।

সংকরায়নে ব্যবহার

চিয়ানিনা চূড়ান্ত সংকরায়নের পিতৃজাত হিসেবে বৃদ্ধি, দৈহিক কাঠামো, চর্বিহীন ফলন ও জবাই-পরবর্তী দেহের ওজন বাড়াতে পারে। অ্যাঙ্গাস সংকর বা চিয়াঙ্গাস-এ চিয়ানিনা বৃদ্ধি/চর্বিহীন ফলন এবং অ্যাঙ্গাস-এর মাংসের ভেতরের সূক্ষ্ম চর্বি, দ্রুত পূর্ণতা ও জন্মগত শিংবিহীন বৈশিষ্ট্য একত্র করার লক্ষ্য থাকে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে অভিযোজিত জেবু-বংশোদ্ভূত গাভীর সঙ্গে সীমিত পরিকল্পিত সংকরায়ন তাপ সহনশীলতা ও meat বৃদ্ধি মিলাতে পারে।

কিন্তু ছোট দেশি বকনায় নয়। proven low-birth-ওজন ষাঁড়, পরিণত বড় গাভী এবং পশুচিকিৎসকের প্রসবকালীন সহায়তা প্রয়োজন। প্রথম সংকর প্রজন্মের ফল ভালো হলেই অনিয়ন্ত্রিত পুনঃসংকরায়ন ভালো নয়; চিয়ানিনা রক্তের অনুপাত বাড়লে পূর্ণবয়স্ক আকার, দেহ রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রসবের ঝুঁকি বাড়বে।

সিমেনের স্বীকৃত পরিচয় নম্বর, বংশলতিকা, নিবন্ধন, প্রসব-সহজতা, জন্ম-ওজন, ২০০/৪০০ দিনের ওজন, খাদ্য দক্ষতা, পেশি, পূর্ণবয়স্ক আকার, শান্ত স্বভাব, বংশগত ত্রুটি ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করুন। প্রথমে ২০–৫০টি উপযুক্ত গাভীর পরীক্ষা এবং তুলনামূলক দল রাখুন।

অর্থনৈতিক হিসাব

বড় জীবন্ত ওজন দেখে নয়, প্রতি কেজি দৈনিক ওজন বৃদ্ধি-এর প্রকৃত ব্যয় দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনীয় সূচক: গর্ভধারণ হার, প্রসব হার, সহায়তাপ্রাপ্ত প্রসব, বাছুরের মৃত্যুহার, দুধ ছাড়ানোর সময় প্রজননের আওতাভুক্ত প্রতি গাভীতে দুধছাড়া বাছুরের কেজি, দৈনিক ওজন বৃদ্ধি, শুষ্ক পদার্থ গ্রহণ, খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা, স্বাস্থ্য ও শ্রম ব্যয়, বিক্রির বয়স, জবাই-ফলন, বিক্রয়যোগ্য মাংসের ফলন ও অতিরিক্ত মূল্য।

নিজস্ব আঁশজাতীয় খাদ্য, সাইলেজ এবং ভারী জবাই-পরবর্তী দেহের অতিরিক্ত মূল্য থাকলে চিয়ানিনা লাভজনক হতে পারে। সব খাদ্য কিনতে হলে এবং বাজার যদি মাথাপিছু বা শুধু জীবন্ত ওজনে দাম দেয়, সূক্ষ্ম হাড় ও বিক্রয়যোগ্য মাংসের ফলন-এর সম্পূর্ণ সুবিধা খামারি পাবেন না। পূর্ণবয়স্ক গাভী-এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় খুব বেশি; বছরে বাছুর না দিলে দ্রুত ক্ষতি হয়।

সুবিধা

  • পৃথিবীর অন্যতম বড় ও দ্রুতবর্ধনশীল মাংসল জাত।
  • উন্নত তরুণ ষাঁড়-এ ২ কেজি/দিন ছাড়ানোর সম্ভাবনা।
  • দীর্ঘ কোমর, বড় নিতম্ব ও শক্তিশালী পশ্চাৎদেশ।
  • সূক্ষ্ম হাড়, চর্বিহীন জবাই-পরবর্তী দেহ ও ভালো জবাই-ফলন ফলন।
  • কালো ত্বক রঞ্জকতা ও সাদা লোম-এর কারণে সূর্যালোক সহনশীলতা।
  • শক্ত পা-খুর ও চারণভূমিতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।
  • গাভীর মাতৃক্ষমতা ও প্রশস্ত শ্রোণি।
  • চূড়ান্ত সংকরায়নের পিতৃজাত সংকরায়নে বৃদ্ধি ও জবাই-পরবর্তী দেহের আকার বাড়ানোর ক্ষমতা।
  • আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত বিশেষ-মূল্যের beef identity।

সীমাবদ্ধতা

  • বিশাল পূর্ণবয়স্ক আকার-এর কারণে খাদ্য ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশি।
  • দুধ বিক্রির জাত নয়।
  • ছোট গাভীতে ভারী বাছুর মারাত্মক প্রসবকষ্ট ঘটাতে পারে।
  • বড় শেড, শক্ত বেড়া ও নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম দরকার।
  • উচ্চ বৃদ্ধির জন্য উন্নতমানের খাদ্যতালিকা প্রয়োজন।
  • চর্বিহীন মাংস ভুল মোটাতাজাকরণ বা অতিরিক্ত রান্নায় কম রসালো হতে পারে।
  • বাংলাদেশের আর্দ্রতা ও রোগচাপের বিষয়ে স্থানীয় তথ্য সীমিত।
  • বিশেষ-মূল্যের জবাই-পরবর্তী দেহ বাজার না থাকলে বংশগতি-এর পূর্ণ মূল্য পাওয়া যায় না।

গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা এক নজরে

  • গাভীর পূর্ণবয়স্ক ওজন: প্রায় ৮০০–১,০০০ কেজি।
  • ষাঁড়ের পূর্ণবয়স্ক ওজন: প্রায় ১,২০০–১,৫০০ কেজি; উৎকৃষ্ট গবাদিপ্রাণি ১,৬০০ কেজির বেশি।
  • গাভীর উচ্চতা: প্রায় ১৫০–১৬৫ সেন্টিমিটার।
  • জন্ম-ওজন: প্রায় ৪০–৫০ কেজি।
  • উন্নত দৈনিক ওজন বৃদ্ধি: প্রায় ১.৫–২.০ কেজি; সেরা গবাদিপ্রাণি ২ কেজির বেশি।
  • সর্বোচ্চ মাতৃদুগ্ধ: আনুমানিক ৫–৮ কেজি/দিন; দুগ্ধ উৎপাদনের নিশ্চয়তা নয়।
  • দুধ দেওয়ার সময়কাল: আনুমানিক ১৮০–২৪০ দিন; স্বীকৃত ৩০৫ দিনের দুগ্ধজাত গড় নেই।
  • মাতৃদুগ্ধের সমপরিমাণ: সতর্কভাবে প্রায় ৯০০–১,৫০০ কেজি প্রতি দুধ দেওয়ার সময়ে।
  • প্রথম প্রসব: ভালো ব্যবস্থাপনায় প্রায় ২৪–২৮ মাস; উন্মুক্ত ব্যবস্থাপনা-এ পরে।
  • দুই প্রসবের ব্যবধান লক্ষ্য: ৩৬৫ দিন; ৩৬৫–৪০০ দিন ভালো।
  • জীবনকালের বাছুরসংখ্যা: সাধারণত ৬–১০টি; ব্যবস্থাপনাভেদে কমবেশি।
  • জবাইয়ের লক্ষ্য: প্রায় ৬৫০–৭০০ কেজি ১৬–১৮ মাস বয়সে উন্নত আদর্শ মান।
  • জবাই-ফলন: প্রায় ৬০–৬৫%; উন্নত গবাদিপ্রাণি-এ ৬৪–৬৫% বা বেশি।
  • ৭০০ কেজি গবাদিপ্রাণির উদাহরণ: প্রায় ৪৫৫ কেজি জবাই-পরবর্তী দেহ, প্রায় ৩২৮ কেজি হাড় ও বাড়তি চর্বি ছাঁটা মাংস।

ড. বায়েজিদ মোড়লের পরামর্শ

চিয়ানিনা নিঃসন্দেহে অসাধারণ জাত, কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যেক খামারের জন্য নয়। দুধের গরু হিসেবে প্রচার সম্পূর্ণ ভুল। এর মূল সম্পদ হলো দ্রুত চর্বিহীন মাংসের বৃদ্ধি, বিশাল জবাই-পরবর্তী দেহ ও বিশেষ-মূল্যের মাংস। খামারিকে আগে নিশ্চিত করতে হবে পর্যাপ্ত ঘাস-সাইলেজ, সুষম খাদ্যতালিকা, বড় শেড, তাপ নিয়ন্ত্রণ, প্রসবকালীন সহায়তা এবং ভারী জবাই-পরবর্তী দেহের বাজার আছে কি না।

সরাসরি বড় খাঁটি জাত পাল আমদানির বদলে পরীক্ষিত বড় ও পরিণত গাভীতে low-birth-ওজন, high-প্রসব-ease বীর্য দিয়ে সীমিত গবেষণামূলক পরীক্ষা নিরাপদ। ছোট দেশি বকনায় ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিটি বংশধরের পিতা-ষাঁড়, মা-গাভী, জন্ম-ওজন, প্রসবের নম্বরমান, বাছুর বেঁচে থাকা, ২০০/৩৬৫ দিনের ওজন, খাদ্য গ্রহণ, রোগ, জবাই ওজন, জবাই-ফলন ও লাভ নথিভুক্ত করতে হবে। একই পরিবেশে দেশি বা প্রচলিত সংকর তুলনামূলক দল রাখলে প্রকৃত ফল জানা যাবে।

সবচেয়ে বড় গরুই সবচেয়ে লাভজনক নয়। যে বংশগত ধরন বাংলাদেশের গরম-আর্দ্র পরিবেশে নিয়মিত বাচ্চা দেয়, কম অসুস্থ হয়, কম খরচে দ্রুত ওজন বাড়ে এবং বাজারে সর্বোচ্চ নিট লাভ দেয়—সেটিই আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ। চিয়ানিনার সম্ভাবনা মূল্যবান, তবে সিদ্ধান্ত হতে হবে প্রচারণা নয়, স্থানীয় পরীক্ষার তথ্যের ওপর।

তথ্যসূত্র

১. এএনএবিআইসি—চিয়ানিনা জাতমান, history, selection goal ও biometric data।
২. chianina Society of Australia—বৃদ্ধি, জবাই ওজন, জবাই-ফলন এবং জাত history।
৩. ইউরোপীয় Commission/EUR-Lex—Vitellone Bianco dell’Appennino Centrale পিজিআই বিধিমালা।
৪. Consorzio di Tutela Vitellone Bianco dell’Appennino Centrale—production, উৎস শনাক্তযোগ্যতা ও quality system।
৫. Scientific Reports (Italian মাংসল জাতs performance dataset)—চিয়ানিনা গড় দৈনিক ওজন বৃদ্ধি।
৬. Oklahoma State University—chianina history ও international জাত profile।
৭. Visit Tuscany—chianina ও Bistecca alla ফিওরেন্তিনা-এর সাংস্কৃতিক পরিচিতি।

সম্পাদকীয় সতর্কতা: সব ওজন, দুধ, বৃদ্ধি, প্রজনন ও জবাই-পরবর্তী দেহের সংখ্যা নির্দেশক পরিসর; individual গবাদিপ্রাণির নিশ্চয়তা নয়। বংশগতি, লিঙ্গ, বয়স, খাদ্য, স্বাস্থ্য, জলবায়ু, পরিমাপ ও ব্যবস্থাপনা-এ ফল বদলায়। সিমেন, প্রাণি আমদানি, খাদ্য প্রস্তুতকরণ ও চিকিৎসায় সরকারি বিধি এবং নিবন্ধিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

প্রাণিজ পুষ্টিতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নারীরা অপরিহার্য

আগামীকাল ঢাকায় দুই দিনব্যাপী পোল্ট্রি এন্ড সয়া ফুড ফেস্ট শুরু হবে

ডিগ্রি শুধু চাকরির জন্য নয়, দেশ ও প্রকৃতির দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার

মহিষ পালনের জন্য যা যা জানা দরকার

মৎস্যসম্পদ আমাদের সামগ্রিক জীবনবোধের অংশ

কুকুর-কুমির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

জাতীয় হাওর সংলাপ ২০২৪

জাতিসংঘের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের ইস্যু – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সম্প্রসারণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে//মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী