RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

কোহিনুর

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ৩:১০ অপরাহ্ণ

কোহিনুর
(কোহি ও নুরের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থী)

 

 

 

পাশাপাশী দুটি গ্রাম, মধুপুর আর পাটগাতি। দুটি গ্রামের মাঝখানে একটি খাল আর খালের ওপর কালভার্ট দিয়ে গ্রাম দুটি বিভক্ত। আর এই দুই গ্রামের দুটি প্রভাবশালী বংশ মধুপুরের মির্জা বংশ ও পাটগাতির চৌধুরী বংশ। মির্জা মনিরের পুত্র নুরুল ইসলাম নুর আর চৌধুরী মুজিবুর রহমানের কন্যা চৌধুরী খায়রুন নাহার কোহি। মধুপুর হাইস্কুলের নবম শ্রেনীতে ভর্তি হয়। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় ৬ বিষয়ে নুর হায়েষ্ট মার্ক পায় আর কোহি ৪ বিষয়ে হায়েষ্ট মার্ক পায়। নুর অংকে একটু কাঁচা। তাই তিন মার্কের ব্যবধানে নুর ফার্ষ্ট হয়। তখন থেকে দুজনের মাঝে প্রতিযোগিতা প্রতিদ্বন্দিতা শুরু হয়। ক্লাসে প্রায় দুজনার মাঝে খুনসুটি হতে থাকে।

ম্যাট্রিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থী ব্যাচ নিয়ে একদিন স্কুল থেকে পিকনিকে যায় খুলনার নেভি ক্যাম্পে। ট্রলারে যাবার সময় ট্রলারে বসা নিয়ে দুজনার মাঝে একটু মনোমালিন্য হয়। নেভি ক্যাম্প ঘুরে দেখতে দেখতে দুজন দুটি দলে হাজির হয় জোড়া গেটের প্রেমকাননে। ওদের আরেক ক্লাস মেট আসলাম ব্যাপারটা মিমাংসা করার জন্য রাধাকৃষ্ণের ছায়ার কাছে গিয়ে তাদের ডেকে দুজনের মনমালিন্য ভেঙ্গে দেয়। ঐ সময় দুজনে দুজনার হাত ধরে হ্যান্ডসেক করে এবং বিবাদ ভুলে বন্ধু হওয়ার প্রতিজ্ঞা করে। এরপর দুজন দুজনার ভাল বন্ধু হয়ে যায়। দুজনই প্রথম বিভাগ নিয়ে ম্যাট্রিক পাস করে। এর পর নুর ভর্তি হয় খুলনার সরকারী আযমখান কমার্স কলেজে আর কোহি ভর্তি হয় বয়রার সরকারী মহিলা কলেজে।

তিন চার মাস দুজনার দেখা নেই। হঠাৎ দেখা হয়ে যায় খুলনার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্টের বনবিলাস চিড়িয়াখানায়। দুজন দুজনকে দেখে খুব খুশি হয়। চিড়িয়াখানা দুজন এক সাথে ঘুরে। চিড়িয়াখানা সংলগ্ন লেকে দুজনে বোট নিয়েও ঘুরে। লেকের পাশ দিয়ে প্রেমিক প্রেমিকা জুটি বেঁধে বসে থাকতে দেখে দুজনেরই মনের মাঝে প্রেম উদয় হয়। কারণ এখানে প্রেমিক প্রেমিকার কোলের উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকে প্রেমিকা প্রেমিকের মাথায় হাত বুলাতে থাকে। আবর আলতো করে হাতে মুখে কিস খাওয়ারও দৃশ্য চোখে পড়ে। এই বনবিলাসটা হচ্ছে প্রেমিক প্রেমিকাদের বসার জন্য খুলনার সবচেয়ে ভাল জায়গা। কারণ কোন প্রকার দুষ্ট ছেলেরা এখানে এসে কাউকেই ডিস্টার্ভ করতে পারেনা। এলাকাটা পুরোপুরি আর্মিদের নিয়ন্ত্রণে। নুর থাকে শহরের বাবুখান রোডে একটি ছাত্রাবাসে আর কোহি বয়রা মহিলা কলেজের হোস্টেলে। বনবিলাসের স্পর্শকাতর দৃশ্য দেখে দুজনই দুজনার চোখের দিকে তাকাতে পারছেনা কেমন যেন একটা লজ্জ্বা লজ্জ্বা ভাব। বনবিলাস থেকে বের হয়ে হেটে এসে বাসের অপেক্ষায় দাড়ায়। ফুলতলা টু রূপসা সার্ভিসে প্রচন্ড ভিঢ় দুজনে উঠতে পারলোনা। পরে বেবিট্যাক্সিতে ওঠে দুজন। বেবিতে আগে একজন পুরুষ ছেলে থাকায় মাঝখানে বসতে হয় নুরের বামপাশে কোহি বসে। চাপাচাপিতে নুরের বাম হাতটি কোথায় রাখবে কোহির ঘাঢ়ের উপর দিয়ে পাশের ছিক ধরে বসে। বাদামতলার ট্রেইন সিগনালে গিয়ে বেবিট্যাক্সি জোরে ব্রেক করলে নুর ছিক ছেড়ে দিয়ে কোহির বাম পাশের বাহু চেপে ধরে। তখন দুজনারই মনের মাঝে একটা শির শির করে শিহরণ জেগে ওঠে। এরপর নুর খুব দ্রুত হাত সরিয়ে পুনরায় ছিক ধরে, বেবিট্যাক্সি বয়রা চলে আসে, কোহি নেমে যায়। আর নুর চলে যায় শহরের বাবুখান রোডের ছাত্রাবাসে।

রাতে কোহির ঘুম আসেনা। অনেকদিন পরে নুরের সাথে দেখা। বনবিলাসে ঘুরা। একসাথে বেবিট্যাক্সিতে ওঠা। বেবিট্যাক্সি ব্রেক করায় বাহু চেপে ধরা। কোহির মন চায় নুরের সাথে দেখা করতে। নুরের পাশে বসে থাকতে। নুরের সাথে কথা বলতে। সারা রাত এপাশ ওপাশ করে করে কাটায় কোহি। ভাল করে ঘুম হলোনা রাতে। চোখ বন্ধ করলেই সে নুরকে দেখতে পায়।

পরের দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে প্রাত:কালের কাজ শেষ করে বই পড়তে বসে কিন্তু বই পড়তে পারেনা। বইয়ের পাতায় দেখে নুরের ছবি। অক্ষরগুলো সব নুর নুর লেখা মনে হচ্ছে ওর। ও বই নিয়ে খাটের উপর শুয়ে পড়ার চেষ্টা করে তখন ওর চোখে ঘুম এসে যায়।

ঘুম থেকে জেগে দেখে এগারোটা বেজে গেছে ঘড়িতে। ও তাড়াহুড়া করে বেরিয়ে পড়ে ক্লাস করতে। ক্লাসেও আজ মন বসেনা। একটা ক্লাস শেষ করে বারান্দায় বের হলে রুমমেট নাসিমার সাথে দেখা হয়। ওর কাছে হাতের নোট বুকটা দিয়ে ও বেরিয়ে পড়ে বাবুখান শহরের রোডের নুরের ছাত্রাবাসের খোজে। বেবিট্যাক্সিতে করে ডাক বাংলা এসে সেখান থেকে হেটেই রওনা করে বাবুখান রোডে। দু তিন জনের কাছে জিজ্ঞেস করার পর নুরের ছাত্রাবাস খুজে পায়। নুর কোহিকে রুমের জানালা দিয়ে আসতে দেখে অবাক হলো। দ্রুত বের হয়ে আসে কোহিকে রুমে নিয়ে যায়। নুরের রুমমেট তখনও ফেরে নি। সে ক্লাস শেষ করে প্রাইভেট পড়ে তারপর রুমে ফেরে। তার ফিরতে দেড় দুই ঘন্টা লাগবে। কোহি নুরের রুমে গিয়ে দেখে রুমটা বেশ অগোচালো। নুর রুমে গিয়ে গায়ে শার্ট পরছে। কোহি গিয়ে চেয়ারের উপর বসে। এই সুযোগে নুর কাটের উপরের অগোছালো কাপড় চোপড় ও বই খাতাগুলো গুচিয়ে রাখলো। কোহি বলে তুমি এতো অগোছালো থাক। নুর খাটের উপর বসে চেয়ারসহ কোহিকে টেনে কাছে নেয়। বলে কেমন আছো? কোহি বলে ভাল। দেখতে এলাম, তুমি কেমন আছো? সুযোগ বুঝে নুর কোহির হাত দুটি দুহাত দিয়ে ধরে বলে খুব ভালো আছি।

দুজনের এমন বযস যে হাত ধরলে দু জনের বুকের ভিতর কেমন যেন প্যাচ খায়। দুজন দুজনার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। কেউ আর চোখ সরাতে পারেনা। দুজন দুজনার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। এক পর্যায়ে দুজনেরই চোখে পানি আসে। এরপর দুজনই কাছাকাছি চলে আসে আসতে আসতে নুর কোহির কানের কাছে হাত দিয়ে মুখটা ধরে বসে কোহিও নুরের মুখটা ধরে এগিয়ে ঠোটে ঠোট লাগিয়ে চুমা খায়। মনে হয় দুজনই তাদের মনের সব কথা বলে ফেলেছে। দুজন দুজনার হয়ে গেছে।

ভবিষৎ জীবন সঙ্গী ভেবে ভালবাসার প্রনয়ে বন্ধনে বন্ধি হয়। উভয় বংশে এটা জানা জানি হয়ে যায়। সেই সাথে কোহিকে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। তারপর বিভিন্ন জায়গায় পাত্রের সন্ধান করে কোহিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য। দুই বংশের কেহই মেনে নিতে পারে না এ সম্পর্ক। কারন নূর এর ফুফুর সাথে প্রেম হয় কোহির চাচার। চৌধুরীরা সেদিন নুরের ফুফুকে বধু হিসাবে গ্রহন করেনি এবং এমন ভাবে উত্ত্যাক্ত করেছে যে, তার আত্মহত্যা ছাড়া কোন গতি না পেয়ে আত্মহত্যাই করেছিল। আর সে জন্য মির্জারা চক্রান্ত করে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে কোহির চাচাকে বর্শা মেরে হত্যা করে। এ নিয়ে দুই বংশের বিরোধ এবং দীর্ঘদিন মামলা মোকদ্দমা লেগে থাকে। বর্তমান একটু শান্ত ছিল তার ভিতর দিয়ে নতুন করে আবার সেই ঘটনার পূনরাবৃত্তি।

নুরকেও বিভিন্ন ভাবে বাঁধা দিচ্ছে কোহির সাথে না মেশার জন্য। কিন্তু প্রেম ভালবাসাতো তা বোঝে না। মন কোন শাসন বাঁধা মানতে চায় না। তাই কোহির চিঠি পেয়ে নুর তার বন্ধু আসলামকে সাথে নিয়ে রাতে আসে কোহির সাথে দেখা করতে। ঐ দিন কোহির বাপ মা কেউই বাড়ী ছিল না। সুযোগটা ছিল সুবর্ণ। আসলামের পিতা মধুপুর ইউনিয়নের দফাদারের চাকরী করে তাই ওর পিতার পুরানো ইউনিফর্ম পরে আসে আসলাম।

কোহিদের বড় ঘরের পাশে একটি ছোট্্র ঘর। এই ঘরে শুধু মাত্র রান্নাবান্নার কাজ হয়। ঘরের এক পাশে একটি চৌকি খাট আছে, এখানে অনেক সময় বসে খাওয়া দাওয়া করে। এই ঘরের ভিতর কোহি আর নুর কথা বলে আর দরজার কাছে দাড়িয়ে আসলাম পাহারা দিচছিল।

বাতরুমে যাবে বলে রাতে বাইরে বের হয় কোহির মেঝ চাচা। এই রান্না ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহ হয় এবং দরজার কাছে এলে আসলাম দানবের মত কোহির মেঝ চাচার দিকে রামদা নিয়ে ধাওয়া করে। নিজের বাড়ীতে অন্য কেউ এসে ধাওয়া করলো ওর সন্দেহ হলো। মনে করল বাড়ীতে ডাকাত পড়েছে। ও চুপিচুপি বংশের ভিতর সবাইকে খবর দেয়। বাড়ীর সবাই চুপি চুপি ঘুম থেকে উঠে দা বটি যার ঘরে যা হাতিয়ার আছে আতœরক্ষার। সে তাই নিয়ে আতœ রক্ষা ও ডাকাত ধরার জন্য প্রস্তুত হয়। সেই সাথে বাড়ীর চার পাশ ঘিরে ফেলে। সবার হাতে দা লাঠি সড়কী আর টর্চলাইট। আসলাম পজিশন বুঝতে পেরে নুরকে সর্তক না করেই পালিয়ে যায়। বাইরে শব্দ শুনে কোহি ঘর থেকে বের হয়ে দেখে অবস্থা খারাপ। ও অবস্থা সামাল দেবার জন্য চাচার কাছে আসে। চাচাকে কিছু বলতে গেলে, চাচা কোহির কোন কথা শোনার গুরুত্ব আছে বলে মনে করলো না। চাচা বুঝতে পারলো ঘরে নুর আছে। আর চৌধুরীদের টার্গেট থাকে নুর, তাই আসলাম চলে গেলেও তার দিকে বেশী খেয়াল না করে। কোহির চাচা এসে ঘরের দরজায় বাইরে থেকে ছিকল দিয়ে, ছনের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাঁশ ও চনের ঘর ধাউ ধাউ করে জ্বলে ওঠে। কোহি এসে বাঁধা দেবার চেষ্টা করে। কিন্তু কোন বাঁধায় কাজ হয় না। এক পর্যায়ে নুর বাঁশের চাটাইয়ের বেড়া ভেংগে ঘর থেকে বের হয়। তখনই ধাওয়া করে পিছন থেকে। নুর কিছু দুর যাওয়ার পর রাস্তার পাশে কুচুরীপানা ভর্তি ডোবার মধ্যে লাফিয়ে পড়ে। লাফিয়ে পড়লে কি হবে তাকে ধরতে হবে হুকুম করলো কোহির চাচা নজিবর চৌধুরী। নজিবর চৌধুরী একটু বাকা ও গ্যাঞ্জামে প্রকৃতির। সবাই তখন নৌকা এনে ডোবার কুচুরিপানা পরিস্কার করা শুরু করে। কুচুরীপানা পরিস্কার করতে করতে এক সময় ছোট্র একটি ধাপ থাকে ঐ মাঝ ডোবার মাঝে ওরা বাঁশের লগি দিয়ে কয়েকবার খোচা-টোচা মেরে ভাবে এর ভিতর নেই। তাই আবার কচুরীপানাগুলো এই ছোট ধাপের উপর ফেলে রাখে। ওর ভিতর নাক ভাসিয়ে কোন মতে বেঁচে ছিল নুর। বাঁশের লগির খোচায় পরা লুঙ্গি কয়েক জায়গায় ছিড়ে যায়। আর গায়ের জামাতো আরো অনেক আগেই ছিড়ে গেছে। গায়েরও কয়েক জায়গায় ক্ষত হয়েছে। ওদিকে নুরকে না পেয়ে ওরা সারা রাস্তায় পাহারা লাগিয়েছে।

শরতের পুর্নিমার রাত। স্বচ্ছ পানিতে জোসনার আলো পড়েছে, দিনের মত মনে হচ্ছে। নুর কিছুক্ষন ওর ভিতর থেকে উঠে আসে ডাঙ্গায় কিংর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাড়িয়ে থেকে চিন্তা ভাবনা করে, কোন পথ দিয়ে বাড়ী যাবে। দুই গ্রামের মাঝে একটি বড় খালের উপর একটি মাত্র বড় কালভার্ট ছাড়া অন্য কোন সাঁকো বা কিছুই নেই পার হয়ে যাওয়ার মত। তাই সাত পাঁচ অনেক ভেবে এক সময় রওনা করল রাস্তা থেকে নেমে বিলের মধ্য দিয়ে। মনে মনে ভাবে যদি বিলের মধ্য দিয়ে যাই তাহলে হয়ত ওরা আমাকে ধরতে পারবে না। তারপর একবার কালভার্টের কাছাকাছী পৌছালে আমাদের লোক পাব তখন ওরা আর কিছু করতে পারবে না। আর হয়ত বিলের মধ্যে ওরা নেই। কিছুদুর যেতে না যেতেই নৌকা নিয়ে এসে হাজির তিনজন। সড়কী উচু করে কোপ মারতে যাচ্ছে এবং চোর-চোর ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার করছে। নুর তখন হাত উঁচু করে বলছে ‘আমি নুর’ বলে দাড়িয়ে গেল। ওরা তখন বলছে আমরা তোকেই চাচছি নুর। তারপর নুরকে ওরা ধরে নিয়ে গেল কোহিদের বাড়ীতে। রাত তখন শেষ হতে চলেছে। ওরা নুরকে ডাকাত সম্বোধন করে থানায় লোক পাঠায় পুলিশ আনবার জন্য।

তখনো ফজরের আজান হয়নি। বাড়ী নিয়ে চৌধুরীরা নুরকে প্রহর শুরু করল। নুর প্রথমে মা-বাবা, আল­া তার পর শুধু কোহি কোহি বলে চিৎকার শুরু করে। মনে মনে ভাবে এরা হয়তো তাকে মেরে ফেলবে। তখন তার মনে পড়ছে লাইলি-মজনু, শিরি-ফরহাদ এর প্রেমের কাহিনী। তারা প্রেম করে পৃথিবীতে অমর হয়েছে। তখন নুরের মন চায় সেও প্রেম করে অমরত্ব লাভ করবে। নুরের গায়ে নজিবর চৌধুরী কাঁচা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরী লাঠি দিয়ে মারে আঘাত আর নুর চিৎকার করে ‘কোহি’ বলে। আর ঘরের ভিতর বন্ধি কোহি নুরের চিৎকার শুনে চিৎকার করে ‘নুর’ বলে। ওদের দুজনের চিৎকারে যেন আকাশ বাতাস সব কিছু ফেড়ে যাচ্ছিল। এমন সময় আশে পাশের সবাই ঘুম থেকে জেগে গেছে সারা বাড়ীতে প্রায় শ’খানেক মানুষ। দু জনের ‘কোহি’ আর ‘নুর’ বলে চিৎকার আর আহাজারিতে ভারি হয়ে যাচ্ছে আকাশ। জড়ো হচ্ছে মানুষ।

পুব আকাশে তখন সূর্য উঠছে চৌধুরী বাড়ীর উঠোন ভর্তি হয়ে গেছে মানুষে। প্রথমে চৌধুরীর বাড়ীর সকলে হাসছিল তারপর দুজনের হৃদয়ের টান, ভালবাসার চিৎকার ধ্বনী শুনে সকলের মন কেঁদে উঠল।

এর মধ্যে কোহির বাপ মা খবর পেয়ে বাড়ীতে চলে এসেছে। কোহির বাপ মুজিবর রহমানও ক্ষিপ্ত হয়ে গেল নুরের উপর। উঠানের মাঝে নুরকে চড় লাথি কিল ঘুষি যে যা পারছে সেই তাই মারছে।

কোহি মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে আর চিৎকার করছে নুর নুর বলে। এই ছাড়া যে ওর আর কিছুই করার নেই। ওর কথা কেহই শুনছে না। ওর প্রলাপ কেহই শুনছে না। ওর যে একটি মন আছে যেটা ওর যাকে খুশি তাকে দেবার অধিকার আছে, সেটা কেহই বুঝতে চাচ্ছেনা। বরঞ্চ ওকে সবাই তিরষ্কার করছে। অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করছে। ও শুধু ঘরের ভিতর বন্ধি হয়ে নুর নুর বলে চিৎকার করে যাচ্ছে। মার খেয়ে একটা সময় নুরের দেহ শিতল হয়ে যাচ্ছে। ওর মুখ দিয়ে ক্ষিন স্বরে শুধু কোহি কোহি শব্দ বের হচ্ছে। শরীর নড়ছেনা। একদম মাটিরে সাথে মিশে গেছে। গায়ের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হয়েছে রক্ত ঝরছে। একটা সময় পরে কোহি আর নুরের চিৎকার আর আর্ত্মনাদ শুনে নজিবর চৌধুরীর স্ত্রী কোহির চাচি সহ্য করতে না পেরে কাঁদতে কাঁদতে এসে স্বামীর হাতের লাঠি ধরে বসল। যেটা কেহই সাহস পায়নি নজিবরের লাঠি ধরার বা মারতে নিষেধ করার।

ওদের সকলের সামনে কোহি আর নুরের ভালবাসার জয় হল। সিন্ধান্ত হলো নুরকে পাঠিয়ে দিবে মধুপুর গ্রামে। সেজন্য মির্জা বাড়ীর উদ্দ্যেশে লোক পাঠাচ্ছে, ঠিক সেই মুর্হুতে থানা থেকে পুলিশ এসে হাজির হল। তখন নুরকে পুলিশের হাতে তুলে দিল চোর বলে। বলা হলো চৌধুরী বাড়ীতে রাতের আঁধারে চুরি করতে এসেছে।

পুলিশ যথারীতি নূরকে হাত কড়া পরিয়ে পানশী নৌকায় করে তেরখাদা থানার উদ্দেশ্যে রওনা করল। ঘাটে সারা পাটগাতির পূরুষ মহিলা দাড়িয়ে রইল। অনেকে বিদ্রুপ করে বলেছে প্রেম ভালবাসা করো ? ঠিক হয়েছে। আর অনেকে কোহি ও নুরের যন্ত্রনা, ও ওদের মনে ভালবাসার মাহাত্ম বুঝতে পেরে বলছে প্রেম ভালবাসা এমনি হয়। অনেকে কোহি আর নুরের আর্তনাদ ও চিৎকার ধনীতে চোখের পানি ঝরিয়েছে। চোখের জল ঝরিয়েছে কোহির মা ও চাচি। নৌকা পাটগাতি-মধুপুরের খাল দিয়ে তেরখাদা থানার দিকে চলছে। নৌকার ওপর শুয়ে আছে হাতকড়া লাগিয়ে নুর। নৌকার উপর একজন পুলিশ নুরকে বলছে -এই বেটা, তুই কি চুরি করতে গিয়েছিলির? তখন আরেকজন পুলিশ বলছে -ও চুরি করতে যায়নি। ও গিয়েছিল মুজিবর চৌধুরির মেয়েকে চুরি করতে। দু জন একসাথে পড়ে একটু প্রেম ভালবাসা হয়েছে দু জনের মধ্যে। তখন ঐ পুলিশটি বলছে-দেখেছিস ভালবাসা করলে কি হয়? তখন নুর গায়ের সমস্থ জোর খাটিয়ে উঠে দাড়িয়ে দুহাত উঁচু করে সবার সামনে গান ধরছে-
সবাইতো ভালবাসা চায়, কেউ পায়, আর কেউবা হারায় তাতে, প্রেমিকের কি আসে যায়…

এদিকে কোহি বার বার ছটপট করছিল। পিতা-মাতা চাচা-চাচি সবার হাত পা ধরছিল এবং নুরের জীবন ভিক্ষা চাচ্ছিল। তারা ওকে শান্তনা না দিয়ে বরং বলছিল ঐ নুরের নাম না নিয়ে আত্মহত্যা করে মর। আবেগি মেয়ে তাই হল। এক সময় কোহি হাতের কাছে পেল মাছ কাটা বটি এবং তাই দিয়ে গলার নালিতে বাধিয়ে টান দিল, সাথে সাথে নলি কেটে ফাঁকা হয়ে গেল এবং নলীর ফাঁকা দিয়ে বাতাস ডুকতে ও বেরুতে লাগল। তাড়িৎ গতিতে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার জন্য পানশী নৌকা করে খুলনা সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হল। কিছু দুর আসতে না আসতে কোহি এই জগৎ ত্যাগ করল। ওর মায়ের কাছে ওর শেষ অনুরোধ ছিল ওকে যেন একটিবার নুরের কাছে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু জীবন্ত অবস্থায় তা আর সম্ভব হল না।

এ সংবাদ যথারীতি তেরখাদা থানায় নুরের কানে চলে আসে এবং নুর প্রথম কোহি বলে চিৎকার করে পাগলের মত মাথা ঠুকতে থাকে থানার লোহার সিকে। নুরের মাথা নাক মুখ রক্তাক্ত দেখে পুলিশ যায় ওকে থামাতে। সুযোগ পেয়ে ও পুলিশকে রাইফেলের ব্যয়োনেট ঢুকিয়ে আহত করে থানা থেকে পালাতে যায়। তখন পুুলিশের গুলিতে নুর থানার ভিতরে গুলিবিদ্ধ হয়।

কিছুক্ষনের মধ্যে মধুপুর থেকে নুরের বাপ মা ও আতœীয় স্বজন এসে হাজির হয়। কিন্তু নুর তখন মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তের খিচুনী খাচ্ছে। নুর মায়ের কোলে মাথা রেখে শেষ অনুরোধ করে যাচ্ছে। মা আমার মরার পর লাশটা যেন কোহির পাশে কবর দেয়া হয়। মা কোহি আমাকে বড় ভালবাসে ও আমার জন্য আত্মহত্যা করেছে। দেখতে দেখতে কোহির মৃত লাশ নিয়ে হাজির হল থানার ঘাটে। দুটি মন দুটি প্রাণ এক হয়ে হলো কোহিনুর। ভালবাসার নিকুঞ্জ শিখা, ভালবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভালবাসার অগ্নিস্বাক্ষি জীবন জলাঞ্জলী দিয়ে দুজন দুজনের হাত, চোখ, নাক, মুখ, কান, অধর সব এক হয়ে গেল। দুই বংশের ভিতর বিবাধ ভয়ংকর মূর্তি নিল। তখন থানার ওসি, টিএনও, ম্যাজিষ্ট্রেটসহ উচ্চ পদস্থ সকল কর্মকর্তারা দুটি বংশকেই থামিয়ে দুটি লাশ উদ্ধার করে এবং কোহি নুরের লাশ নিয়ে থানার পাশে সরকারী গোরস্তানে পাশাপাশি দুজনের সমাধি তৈরী করে। পবরর্তীতে একই সাথে দু’জনের কবরের সৃতিসৌধ নির্মাণ করে এবং তার নামকরণ করে ‘কোহিনুর’।

**********

সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

ডিমের খোসার মান উন্নয়নে খাদ্যের গুরুত্ব

অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশের কৃষিজমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে — মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

বাংলাদেশ – চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়িয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

নতুন খামারীদের ফার্ম করার আগে কি কি জানতে ও বুঝতে হবে?

ভ্রাম্যমান ডিম, দুধ ও মুরগি বিক্রয়কেন্দ্র : কুমিল্লা মডেল

নদী দখলবাজদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫: দেশব্যাপী নেয়া হচ্ছে অভিযান ও আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আগামী ১৮ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫

গরুর ভিটামিন মিনারেল পুষ্টি জনিত অভাবের কারণে যে সমস্যা দেখা দেয়

চীন থেকে পাওয়া পদক