RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Friday , 25 September 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

কাংগায়াম গরু কেন পালন করবেন?

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
September 24, 2026 6:01 pm

কাংগায়াম গরু কেন পালন করবেন?

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন

কাংগায়াম (Kangeyam) গরুর প্রধান পরিচয় দুধ বা মাংসের বিপুল উৎপাদন নয়। ভারতের তামিলনাড়ুর শুষ্ক অঞ্চলে এই জাতের কদর গড়ে উঠেছে শক্তি, কৃষিকাজে দক্ষতা, সীমিত খাদ্যে অভিযোজন এবং দীর্ঘদিন কাজ করার ক্ষমতার জন্য। গাভী দুধ দেয়, বাছুর উৎপাদন করে; তবে খামারের লাভের হিসাব করতে হলে জাতটির আসল শক্তি ও সীমা—দুটিই বুঝতে হবে।

একটি সতর্কতা শুরুতেই প্রয়োজন। নিচের উৎপাদন ও প্রজননের পরিসংখ্যান মূলত ভারতের নির্দিষ্ট খামার ও মাঠসমীক্ষা থেকে নেওয়া। বাংলাদেশে একই ফল নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে কাংগায়ামের ক্ষেত্রে ‘একটি গরু থেকে নিশ্চিত এত কেজি মাংস’—এমন নির্ভরযোগ্য জাতনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।

নামকরণ ও ইতিহাস

‘কাংগায়াম’ নামটি এসেছে তামিলনাড়ুর বর্তমান তিরুপুর জেলার কাংগায়াম এলাকা থেকে। জাতটি ‘কাঙ্গানাদ’ বা ‘কোঙ্গু’ নামেও পরিচিত। পুরোনো নথিতে এর উৎসস্থানের সঙ্গে ইরোড ও কোয়েম্বাটুর জেলার নাম পাওয়া যায়, কারণ প্রশাসনিক সীমানা পরে বদলেছে। ভারতের জাতীয় প্রাণী জিনসম্পদ ব্যুরোর নিবন্ধিত জাতের তালিকাতেও কাংগায়াম রয়েছে।

তিরুপুর জেলা প্রশাসনের ইতিহাস অনুযায়ী, পালায়াকোট্টাইয়ের তৎকালীন পাট্টাগার এন. নল্লাথাম্বি সার্কারাই মানরাদিয়ার ও তাঁর পরিবার নির্বাচিত প্রজননের মাধ্যমে জাতটির পরিচিত বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এটি একদিনে সৃষ্টি করা জাত নয়; স্থানীয় গরুর মধ্য থেকে বহু প্রজন্ম ধরে কাঙ্ক্ষিত গঠন ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখার ইতিহাস রয়েছে।

এর মূল প্রজনন এলাকা তামিলনাড়ুর কাংগায়াম, ধারাপুরম, উদুমালপেট, পেরুন্দুরাই, ইরোড ও সংলগ্ন অঞ্চল। একসময় কাংগায়াম বলদ কূপ থেকে পানি তোলা, হালচাষ এবং গাড়ি টানার কাজে ব্যবহৃত হতো। সেচে বিদ্যুৎ ও কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে এসব কাজে বলদের চাহিদা কমেছে।

দেখতে কেমন?

কাংগায়াম মাঝারি আকারের, আঁটসাঁট ও শক্ত গড়নের গরু। বাছুর জন্মের সময় সাধারণত লালচে হয়; বয়স বাড়ার সঙ্গে ধূসর রং ফুটে ওঠে। পূর্ণবয়স্ক ষাঁড়ের মাথা, ঘাড়, কুঁজ, কাঁধ ও পেছনের অংশ গাঢ় ধূসর বা কালচে হতে পারে। গাভী সাধারণত অপেক্ষাকৃত হালকা ধূসর বা সাদাটে। চোখের চারপাশে গাঢ় ঘের, শক্ত বাঁকানো শিং, গভীর বুক, সুগঠিত কুঁজ এবং ছোট শক্ত ক্ষুর এর পরিচিত বৈশিষ্ট্য। গাভীর ওলান সাধারণত উচ্চ দুধ উৎপাদনকারী জাতের মতো বড় নয়।

শুধু রং বা শিং দেখে কোনো প্রাণিকে ‘খাঁটি কাংগায়াম’ বলা যায় না। কেনার সময় মা-বাবার পরিচয়, জন্ম ও প্রজননের নথি এবং প্রাণিটির নিজস্ব উৎপাদনরেকর্ড দেখতে হবে।

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা

বিষয়গবেষণায় পাওয়া তথ্য
প্রধান ব্যবহারকৃষিকাজ, বহন ও প্রজনন; পাশাপাশি সীমিত দুধ
দৈনিক দোহন করা দুধএকটি মাঠসমীক্ষায় গড়ে প্রায় ১.৯৯ কেজি; অন্য গবেষণায় প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৩.৯ লিটার
দুধদানকালএকটি মাঠসমীক্ষায় গড়ে ৯.৩৫ মাস
এক দুধদানকালে দুধএকই মাঠসমীক্ষায় বাছুরের অংশ বাদে প্রায় ৫৪০ কেজি
প্রথম বাচ্চাগড়ে প্রায় ৪০ মাস বয়সে
দুই বাচ্চার ব্যবধানগড়ে প্রায় ১৫.৬২ মাস
জীবনে বাচ্চাএকটি মাঠসমীক্ষায় গড়ে ৯ বার
বাছুরের জন্মওজনএকটি সাম্প্রতিক গবেষণায় গড়ে ২১.০৮ কেজি

এই সংখ্যাগুলো একই গাভীর জীবনভর রেকর্ড নয়। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, দুধের কিছু গবেষণায় বাছুর খাওয়ার পর খামারির হাতে পাওয়া অংশ মাপা হয়েছে—গাভীর উৎপাদিত সম্পূর্ণ দুধ নয়।

মানুষ কাংগায়াম গরু কেন পালন করবে?

১. কাজের শক্তি

কাংগায়ামের ঐতিহাসিক খ্যাতি বলদের কর্মক্ষমতার জন্য। তিরুপুর জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত একটি মাঠসমীক্ষায় ১০০ জোড়া বলদের তথ্য থেকে দেখা যায়, এক জোড়া বলদ গাড়িসহ গড়ে প্রায় ৩,৭৮৭ কেজি বোঝা ১০–২০ কিলোমিটার টেনেছিল। এটি নির্দিষ্ট পরিবেশে পুরোনো পর্যবেক্ষণ; প্রত্যেক বলদকে এমন বোঝা চাপানোর পরামর্শ নয়। বয়স, রাস্তা, তাপমাত্রা, বিশ্রাম ও প্রাণির স্বাস্থ্যের ভিত্তিতে কাজ নির্ধারণ করতে হবে।

২. শুষ্ক পরিবেশে অভিযোজন

এই জাত এমন অঞ্চলে গড়ে উঠেছে যেখানে দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম ও সীমিত চারণ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ঘাস, খড় ও ফসলের শুকনো অবশিষ্ট খাওয়ানোর প্রচলন আছে। তবে ‘কম মানের খাবারেও টিকে থাকে’ আর ‘পর্যাপ্ত খাবার ছাড়াই ভালো দুধ, বাছুর ও বৃদ্ধি দেবে’—এক কথা নয়। লাভজনক পালনের জন্য সুষম খাবার, পানি ও খনিজের প্রয়োজন থেকেই যায়।

৩. একাধিক কাজে ব্যবহার

উপযুক্ত বাজার থাকলে একটি খামার বাছুর, পারিবারিক ব্যবহারের দুধ, প্রজননপ্রাণি, গোবর এবং বলদের কাজ থেকে সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু এই সব উৎস থেকে আয় হবে ধরে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। যে এলাকায় যন্ত্র দিয়ে চাষ বা পরিবহন সস্তা, সেখানে বলদের কাজের বাজার ছোট হতে পারে।

৪. দেশি জিনসম্পদ সংরক্ষণ

তামিলনাড়ুর একটি জাতসমীক্ষায় ২০১২ সালে প্রায় ৮০,৬২০টি খাঁটি কাংগায়ামের হিসাব দেওয়া হয়েছিল। এটি ২০১২ সালের সংখ্যা, বর্তমান গণনা নয়। জাতটি সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য তামিলনাড়ু পশুচিকিৎসা ও প্রাণিবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাকেন্দ্রও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। tanuvas.ac.in

দিনে কত দুধ দেয়?

এ প্রশ্নে একটিমাত্র সংখ্যা বললে ভুল বোঝার আশঙ্কা থাকে। সরকারি মাঠসমীক্ষায় সকাল-বিকেল মিলিয়ে গড়ে দৈনিক ১.৯৮৬ কেজি দোহন করা দুধ পাওয়া গেছে। পর্যবেক্ষিত পরিসর ছিল প্রায় ০.৫–৫.৬৫ কেজি। ওই ব্যবস্থায় বাছুরও দুধ খেত; ফলে সংখ্যাটি গাভীর সম্পূর্ণ উৎপাদন নয়। একই বিবরণে পুরোনো সংগঠিত খামারের তথ্য অনুযায়ী দৈনিক প্রায় ২–৩ কেজি গড়ের কথাও আছে।

অন্যদিকে কারুর জেলার ৬০ মালিকের গাভী নিয়ে গবেষণায় প্রথম মাসে গড়ে প্রায় ৩.৮১ লিটার, দ্বিতীয় মাসে ৪.১১ লিটার, আর প্রথম ছয় মাসে দৈনিক প্রায় ৩.৯ লিটার দোহন করা দুধ পাওয়া গেছে। সেখানেও বাছুর দুধ খেত। অতএব ‘সব কাংগায়াম গাভী প্রতিদিন চার লিটার দেবে’—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। The Indian Journal of Animal Sciences

দুধ কেনার বা উৎপাদনের হিসাব করতে গাভীটি বাচ্চা দেওয়ার কত দিন পর আছে, বাছুর কতটা দুধ খাচ্ছে, সকাল-বিকেলের প্রকৃত দোহন কত, খাবারের মান কেমন এবং ওলান সুস্থ কি না—এসব একসঙ্গে দেখতে হবে।

এক দুধদানকালে কত দুধ পাওয়া যায়?

সরকারি মাঠসমীক্ষায় গড়ে ৯.৩৫ মাস দুধদানকাল এবং বাছুরের অংশ বাদে প্রায় ৫৪০ কেজি দোহন করা দুধের হিসাব দেওয়া হয়েছে। কারুর জেলার ৬০ গাভীর গবেষণায় এক দুধদানকালে সর্বনিম্ন ৩৪২ লিটার ও সর্বোচ্চ ১,৪৫৫ লিটার পাওয়া যায়। আরেক গবেষণাপত্রে আগের তথ্য আলোচনা করতে গিয়ে ৬৪২–৯২১ কেজি গড়ের পরিসর এবং ব্যতিক্রমী ভালো গাভীর আরও উচ্চ উৎপাদনের উল্লেখ রয়েছে। দল, খাদ্য ও দুধ মাপার নিয়ম ভিন্ন বলে সংখ্যাগুলো সরাসরি এক কাতারে তুলনা করা উচিত নয়।

উচ্চ ফলনশীল একটি গাভীর রেকর্ড দিয়ে পুরো জাতের ব্যবসায়িক বাজেট তৈরি করা ঝুঁকিপূর্ণ। খামারে আয়ের হিসাবে বিক্রির জন্য হাতে থাকা দুধ এবং বাছুরের খাওয়া দুধ আলাদা লিখতে হবে।

দুধের গুণাগুণ

৬০ গাভীর প্রকাশিত গবেষণায় দুধের গড় চর্বি প্রায় ৩.৯ শতাংশ এবং চর্বিবিহীন কঠিন উপাদান প্রায় ৮.২ শতাংশ পাওয়া গেছে। খাদ্য, দুধদানকালের পর্যায় ও নমুনা পরীক্ষার পদ্ধতিতে এসব মান বদলাতে পারে। জাতের নাম দেখেই দুধের বিশেষ চিকিৎসাগুণ বা প্রতিটি গাভীর দুধে একই ধরনের প্রোটিন আছে—এমন দাবি করা উচিত নয়; নির্দিষ্ট দাবি যাচাইয়ে পরীক্ষাগারের ফল প্রয়োজন। The Indian Journal of Animal Sciences

ভোক্তার জন্য নিরাপদ দুধ নিশ্চিত করতে পরিষ্কার পাত্র, সুস্থ ওলান, দ্রুত সংরক্ষণ এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের নির্ধারিত বিরতি মানা জরুরি।

প্রথম বাচ্চা কবে দেয়? জীবনে কতবার মা হয়?

সরকারি মাঠসমীক্ষায় প্রথম ঋতুচক্র গড়ে প্রায় ২৯.৪৯ মাসে, প্রথম প্রজনন ২৯.৭৬ মাসে, আর প্রথম বাচ্চা ৩৯.৯৯ মাসে হয়েছে। অন্য প্রকাশিত আলোচনায় প্রথম বাচ্চার বয়স প্রায় ৩৮–৪৫ মাসের পরিসরে দেখানো হয়েছে। তাই কোনো বকনা ঠিক ৪০ মাসেই বাচ্চা দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এক বাচ্চা থেকে পরের বাচ্চার গড় ব্যবধান পাওয়া গেছে ১৫.৬২ মাস। অর্থাৎ বাজেটে প্রতিবছর নিশ্চিত একটি বাচ্চা ধরে নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। প্রজনন শনাক্তে ভুল, অপুষ্টি, রোগ বা গর্ভধারণে সমস্যা হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।

জীবনে কতবার মা হয়? ওই মাঠসমীক্ষায় গড়ে নয়বার বাচ্চা দেওয়ার কথা আছে; ১০–১৫ বার বাচ্চা দেওয়া গাভীর কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কোনো সদ্য কেনা গাভীর ভবিষ্যৎ বাচ্চার নিশ্চয়তা নয়। দাঁত, পা, ওলান, প্রজননস্বাস্থ্য, খাদ্য ও পরিচর্যার ওপর বাস্তব ফল নির্ভর করবে।

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় গর্ভকাল গড়ে প্রায় ২৯০ দিন এবং বাছুরের জন্মওজন গড়ে ২১.০৮ কেজি পাওয়া গেছে। এগুলোও নির্দিষ্ট গবেষণাদলের গড়, প্রতিটি জন্মের স্থির ওজন নয়। The Indian Journal of Animal Sciences

কত কেজি মাংস হয়?

কাংগায়ামের জন্য নির্ভরযোগ্য একটি স্থির মাংসের ফলন শতাংশ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ‘মাংস’ বলতে তিনটি ভিন্ন ওজন বোঝানো হতে পারে:

  1. জবাইয়ের আগে জীবন্ত গরুর ওজন;
  2. মাথা, চামড়া, পা ও নাড়িভুঁড়ি বাদ দেওয়ার পর হাড়সহ ঝুলন্ত দেহের ওজন;
  3. হাড় ছাড়িয়ে পাওয়া বিক্রয়যোগ্য মাংসের ওজন।

হিসাব বোঝাতে একটি কাল্পনিক উদাহরণ দেওয়া যায়: কোনো গরুর জীবন্ত ওজন ৪০০ কেজি হলে এবং উদাহরণ হিসেবে দেহের ফলন ৫০ শতাংশ ধরা হলে ঝুলন্ত দেহ হবে ২০০ কেজি। এর মধ্যে হাড়ও রয়েছে; হাড়ছাড়া মাংস আরও কম হবে। ৫০ শতাংশ কাংগায়ামের গবেষণায় প্রমাণিত গড় নয়। প্রকৃত হিসাব জানতে সংশ্লিষ্ট প্রাণির জবাইপূর্ব ওজন, জবাই-পরবর্তী দেহের ওজন এবং হাড়ছাড়া মাংস আলাদা মাপতে হবে। UNL Beef

কাংগায়াম মূলত কর্মক্ষমতার জন্য পরিচিত। শুধু মাংস উৎপাদনের খামার করতে চাইলে স্থানীয় জাতের সঙ্গে একই খাদ্য ও সময়ে ওজন বৃদ্ধি, খাদ্যখরচ এবং জবাইয়ের ফল তুলনা করা প্রয়োজন।

মাংসের গুণাগুণ

গরুর মাংস সাধারণভাবে আমিষ, লোহা, দস্তা ও ভিটামিন বি১২-এর উৎস। কিন্তু কাংগায়ামের মাংসে এসব অন্য জাতের চেয়ে নিশ্চিতভাবে বেশি—এমন জাতনির্দিষ্ট তুলনামূলক পরীক্ষার ফল ছাড়া দাবি করা যায় না। স্বাদ, কোমলতা ও চর্বি প্রাণির বয়স, খাবার, কাজের ইতিহাস, জবাইয়ের আগে চাপ, সংরক্ষণ এবং কোন অংশের মাংস নেওয়া হয়েছে—এসবের ওপরও নির্ভর করে।

ব্রাজিলে নেলোর গরুর দেহের বৈশিষ্ট্য উন্নয়নের কাজে কাংগায়াম ব্যবহারের ঐতিহাসিক উল্লেখ রয়েছে। তবে সেটি কাংগায়ামের প্রতিটি প্রাণিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস কিংবা বিশেষ স্বাদের প্রমাণ নয়।

খাদ্য ও পরিচর্যা

কাংগায়ামের মূল অঞ্চলে শুষ্ক চারণভূমির ঘাস, খড়, শস্যগাছের অবশিষ্ট এবং প্রয়োজনমতো সম্পূরক খাদ্য ব্যবহারের বিবরণ রয়েছে। বাংলাদেশের খামারে স্থানীয় ঘাস, পর্যাপ্ত আঁশজাত খাবার এবং গর্ভবতী গাভী, দুধ দেওয়া গাভী, বাড়ন্ত বাছুর ও কর্মরত বলদের জন্য আলাদা পুষ্টি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সব বয়সের প্রাণিকে একই খাবার দিলে জাতটির সম্ভাবনা বোঝা যাবে না।

পরিষ্কার পানি নিয়মিত দিতে হবে। চারণভূমি থাকলে পর্যায়ক্রমে চরানো ভালো, যাতে ঘাস আবার বাড়তে পারে। পচা খড়, ছত্রাকযুক্ত খাবার ও কীটনাশকের অবশিষ্ট থাকার আশঙ্কাযুক্ত ফসলের অংশ এড়িয়ে চলতে হবে। ‘দেশি জাত’ বলে শুধু খড় দিয়ে রাখলে গাভীর শরীরের অবস্থা, দুধ, প্রজনন ও বাছুরের বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের দীর্ঘ বর্ষা ও জলাবদ্ধতা তামিলনাড়ুর শুষ্ক পরিবেশ থেকে আলাদা। তাই উঁচু ও শুকনা থাকার জায়গা, পানি নিষ্কাশন, ছায়া এবং বাতাস চলাচল প্রয়োজন। শক্ত ক্ষুর থাকলেও দীর্ঘ সময় কাদায় রাখলে পায়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্থানীয় রোগপ্রতিরোধ ও টিকার সূচির জন্য প্রাণিসম্পদ দপ্তর বা নিবন্ধিত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বাংলাদেশে পালন লাভজনক হবে কি?

লাভের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হিসাবের খাতায় প্রাণি কেনা ও পরিবহন, খাবার, শ্রম, চিকিৎসা, প্রজনন, ঘর, জমি এবং বাজারজাতকরণের খরচ লিখতে হবে। আয়ের পাশে লিখতে হবে বাস্তবে বিক্রিযোগ্য দুধ, বাছুর, গোবর, বলদের কাজ অথবা মাংসের মূল্য। একই ছকে স্থানীয় বিকল্প জাতের হিসাব বসালে সিদ্ধান্ত পরিষ্কার হবে।

যাঁর লক্ষ্য শুধু বেশি দুধ, তাঁর জন্য কাংগায়ামের সীমিত দুধ উৎপাদন বড় বিবেচ্য বিষয়। যাঁর লক্ষ্য শুধু দ্রুত মাংস উৎপাদন, তাঁর ওজন বৃদ্ধির মাপা ফল দরকার। আর যাঁর চারণভূমি, ছোট পরিসরে কাজের প্রয়োজন এবং ভালো বংশের প্রজননপ্রাণির বাজার রয়েছে, তিনি জাতটির একাধিক সুবিধা কাজে লাগাতে পারেন।

পরামর্শ

বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের আগে অল্পসংখ্যক যাচাই করা বংশপরিচয়ের প্রাণি দিয়ে পরীক্ষামূলক পালন করা উচিত। অন্তত একটি সম্পূর্ণ দুধদানকাল, পরের বাচ্চা হওয়ার সময় এবং বাছুরের বৃদ্ধি লিখে রাখুন। দুধের খাতায় বাছুরের অংশ ও খামারির দোহন করা অংশ আলাদা করুন। মাংসের দাবি করলে জীবন্ত ওজন থেকে শুরু করে জবাইয়ের ফল মাপুন।

জাতটির প্রতি আগ্রহ থাকা ভালো, তবে বিজ্ঞাপনের সংখ্যার বদলে খামারের নিজস্ব রেকর্ডকে সিদ্ধান্তের ভিত্তি করতে হবে। কাংগায়াম শক্তি ও অভিযোজনের জন্য মূল্যবান একটি জাত; বাংলাদেশের খামারে তার প্রকৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখাবে স্থানীয় পরিবেশে নিয়মমাফিক সংগ্রহ করা তথ্য।

তথ্যসূত্র

  1. Tiruppur District Administration — Kangayam Breed of Cattle
  2. Tamil Nadu Veterinary and Animal Sciences University — Kangayam Cattle Research Station
  3. ICAR-NBAGR — Cattle Breeds of India
  4. Natarajan et al. — Productivity performance of Kangayam cattle
  5. Manokaran et al. — Estrus and conception in indigenous Kangayam cows
  6. Prabhu — Reproductive and neonatal traits of Kangayam cattle

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

এ বছর ঈদুল আজহাতে যাতায়াত, কোরবানি, কোরবানির মাংসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্য যেকোন বছরের তুলনায় সার্বিকভাবে ভালো ও স্বস্তিদায়ক ছিল

মাছ চাষের জন্য কিছু সাধারণ প্রশ্ন এবং তার উত্তর

কলমী ও মালঞ্চ ঘাস চাষপদ্ধতি, পুষ্টিগুণ এবং গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে গুরুত্ব।।

মৎস্য রপ্তানি প্রসারে ফোয়াবের ই-ট্রেসিবিলিটি প্রকাশনা গ্রন্থ কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর হাতে হস্তান্তর

দুর্বা ও বাকশা ঘাসের ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, চাষপদ্ধতি, রোগবালাই, পুষ্টিমান এবং গবাদিপশুর খাদ্যে গুরুত্ব।।

Fishery farming in rice fields and ...

ধান ক্ষেতে মাছ চাষ এবং…

নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে ঢাকায় ‘৩য় ফিসটেক অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে–২০২৬’ অনুষ্ঠিত

ভুট্টা ঘাস চাষের ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, উৎপাদন প্রযুক্তি, পুষ্টিগুণ ও গবাদিপ্রাণির খাদ্যে গুরুত্ব।।

সাভারের কেন্দ্রবিন্দু নামাবাজারে বিএডিসির বীজ ও সারের গুদামটি এখন বৈদ্যুতিক রিকশা ও ভ্যানের গ্যারেজ

বিফমাস্টার গরুর ইতিহাস