ধান চাষের মূল সমস্যা
আগাছা

হলদে মুথা (সাইপেরাস ডাইফরমিস এল)
ইহা একটি ২০-৭০ সে মি লম্বা, মসৃণ, ঘন গুচ্ছযুক্ত এবং এক বর্ষজীবি বিরুৎ (সেজ) জাতীয় আগাছা। কাণ্ড মসৃণ, উপরের দিকে ত্রিকোণাকার এবং ১-৪ মিমি পুরু। পাতার খোল নলের মত এবং গোড়ার দিকে যুক্ত থাকে। নীচের দিকের খোলগুলো খড় থেকে বাদামী রঙের হয়। গোড়ার দিকে খোল গুলো খড় থেকে বাদামী রঙের হয়। গোড়ার দিকে ৩-৪টি ঢলঢলে এবং সারি সারি পাতা ১০-৪০ সে.মি. লম্বা ও ২-৩ মি. মি. চওড়া হয়ে থাকে।
পুষ্পবিন্যাস ঘন, গোলাকার সরল বা যৌগিক আম্বেল জাতীয় (ছাতাকৃতি) যা ৫-১৫ মিমি ব্যাস বিশিষ্ট। তার সংগে ২-৪ টি, সচরাচর ৩টি ১৫-৩৫ সেমি লম্বা ও ৬ মিমি চওড়া পাতার মত বৃতি বিপরীত দিকে অবস্থান করে পুষ্পবিন্যাসের প্রাথমিক পুষ্পপ্রান্তগুলো ১ সে মি লম্বা। কতকগুলো বোঁটা ছাড়া এবং কতকগুলোর লম্বা বোঁটা আছে। পুষ্পপ্রান্তগুলো গুচ্ছভুতও ৬ মিমি ব্যাসযুক্ত ডিম্বাকৃতি বা গোলাকার। গুচ্ছগুলো ১০-৩০টি ফুল সম্বলিত ২-৫ মিমি লম্বা ও ১.০-১.৫ মিমি চওড়া সবুজ রঙের রৈখিক বা চক্র কীলক মঞ্জরী দ্বারা গঠিত।
ফল ০.৬ মি মি লম্বা ও কিছুটা চ্যাপটা বৃত্তাকার থেকে ডিম্বাকৃতি বাদামী রঙের ‘একিন’। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়ে থাকে।
প্রতিকার
ক্স জৈবসার ও ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সাথে আগাছার বংশ বিস্তারে সক্ষম বীজ ও কন্দ যেন মিশে বা রেগে না থাকে সেদিকে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।
ক্স আগাছা পরিস্কারের সময় কন্দসহ হাত, নিড়ানী বা কাঁচি দিয়ে তুলে হলদে মুথা দমন করা যায়।
ক্স কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এ আগাছা দমন করা যায়।
ক্স একই জমিতে বিভিন্ন জাতের ফসল পর্যায়ক্রমে উৎপন্ন করেও এ আগাছা দমন করা যায়।
ক্স বীজ পাকার আগেই এ আগাছা তুলে ফেলা উচিৎ।
বড়–চুচা (সাইপেরাস ইরিয়া এল)
ইহা মসৃণ, গুচ্ছযুক্ত, ত্রিকোণাকৃতির কাণ্ড বিশিষ্ট, ২০-৬০ সিমি লম্বা একবর্ষ জীবি বিরুৎ (সেজ) জাতীয় আগাছা। শিকড়গুলো হলদে লাল এবং আঁশযুক্ত। পাতার খোল পাতলা এবং কাণ্ডের গোড়ার দিকে আবৃত রাখে। পাতার ফলক সোজা তলোয়ারের মত, পুষ্পকাণ্ড থেকে খাটো এবং প্রায় ৫মি মি চওড়া।
পুষ্পবিন্যাসটি যৌগিক আম্বেল (ছাতাকৃতি)। প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের পুষ্পপ্রান্তগুলো যথাক্রমে প্রায় ১০ সে.মি. ও ২ সেমি লম্বা। বিপরীতভাবে অবস্থানরত ৩-৫টি, কখনো কখনো ৭টি মঞ্জুরী পত্র সংযুক্ত থাকে । সবচেয়ে নীচের মঞ্জুরীর পত্রটি পুষ্পবিন্যাস অপেক্ষা লম্বা। ২-৩ সেমি লম্বা শস্য মঞ্জুরীর (স্পাইক) শাখার অগ্রভাগ লম্বা ও ছড়ানো। হলদে বাদামী থেকে সবুজ রঙের অষংখ্য কলীক মঞ্জরী (স্পাইকলেট) খাড়াভাবে ছড়ানো। ইহা দৈর্ঘ্যে ৩-১০ মিমি এবং প্রস্থে ১.৫-২.০ মিমি। গোলাকার বর্ম পত্রিকা ১-২ মি মি লম্বা হয়।
প্রতিকার
ক্স বড়চুঁচ দমনের নিয়মাবলী মোটামুটি হলদে মুথার মতনই, যেমন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও একই জমিতে পর্য্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফসলের চাষ করা ইত্যাদি।
ক্স অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যার মধ্যে উঁচু জমিতে হালকা লাঙল ও আঁচড়া দিয়ে মাটি আলোড়িত করেও এ আগাছা দমন করা যায়। এছাড়া কাণ্ডসহ হাত বা নিড়ানী দিয়ে তুলেও উহার দমন করা হয়।
ক্স বীজ পাকার আগেই আগাছা দমন করা উচিৎ।
ভাদাইল
ভাদাইল বা মুতা (সাইপেরাস রটানডাস এল) ।
একটি খাড়া, মূল ভুগর্ভস্থ কাণ্ড (রাইজোম), কন্দে (টিউবার) রূপান্তরিত এবং ২০ সে.মি. উঁচ বহুবর্ষ জীব বিরুৎ (সেজ)। গোড়ার স্ফীত কন্দসহ কাণ্ড গুলো খাড়া , শাখাবিহীন, মসৃণ ও ত্রিকোণাকৃতি। মূল শায়িত কাণ্ড ছড়ানো, লম্বাটে, সাদা এবং শাসালো। কচি অবস্থায় সেগুলো পাতলা খোসা দ্বারা আবৃত থাকে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে আঁশযুক্ত হয়। কন্দের আকৃতি অনিয়মিত এবং দৈর্ঘ্য ১.০-২.৫ সে.মি.। কচি অবস্থায় কন্দ সাদা ও রসালো থাকে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে আঁশযুক্ত হয়ে বাদামী বা প্রায় কালো বর্ণের হয়। পাতা ঘন সবুজ সোজা ও কিছুটা মোড়ানো, ৫-১৫ সেমি লম্বা ও ৫ মি.মি. চওড়া।
পুষ্পবিন্যাস সরল বা যৌগিক আম্বেল (ছাতাকৃতি) যার বিপরীত দিকে ২-৪ টি মঞ্জুরীপত্র রয়েছে । লালচে বাদামী রঙের ফলের কীলক মঞ্জুরী আম্বেরের শেষ প্রান্তে সাজানো থাকে। সংখ্যায় ৩-৮টি প্রাথমিক পুষ্প প্রান্তের দৈর্ঘ্য ২-৫ সে.মি. যার অগ্রভাগে ছোট ছড়ায় ৩-১০ টি কীলক মঞ্জুরী রয়েছে। এগুলো কখনো কখনো ছোট শাখায়, আবার কখনো কখনো ছড়ার গোড়ায় ১-২টি খাট দ্বিতীয় পর্য্যায়ের পুষ্প প্রান্তে অবস্থান কর্ েকীলক মঞ্জুরী ১.০-২.৫ সে.মি. লম্বা ও ১.৫-২.০ মি মি চওড়া, অগ্রভাগ চ্যাপ্টা ও সুঁচালো। পরিণত অবস্থায় সেগুলোতে ১০-৪০ টি লালচে বাদামী রঙের ফল একের পর এক ঘন ভাবে সাজানো থাকে। বাইরের থোকাগুলো ৩-৪ মি মি লম্বা ও এদের অগ্রভাগ ভোঁতা হয়।
ফল ডিম্বাকৃতি ১.৫ মি মি লম্বা। পাকা ফরের রঙ কালো। ভূমিজ কাণ্ড, কন্দ ও বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।
প্রতিকার
ক্স কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও একই জমিতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফসলের চাষ ।
ক্স হালকা লাংগল ও আঁচড়া দেয়া এবং মূল কন্দসহ সম্পূর্ণ গাছ হাত, নিড়ানী বা খুরপির সাহায্যে উপড়িয়ে ফেলা।
আংগুলী ঘাস
ডিজিটারিয়া কিলাইরিস (রেটজ) কোল (প্রতিশব্দ ডি এ্যাডশেনডেনস্ (এইচ বি কে) হেনর ।
ইহা ২০-৬০ সে মি দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ভুমিতে শায়িত একবর্ষী বা অল্প জীবনকালের বহুবর্ষী আগাছা। ইহা মুক্তভাবে শাখা-প্রশাখা দেয় এবং নীচের গীরা থেকে শেকড় ছাড়ে। পাতার খোল সাধারণতঃ লোমযুক্ত। পাতার ফলকগুলো চওড়া চওড়া এবং সরল, ৫-১৫ সে.মি. লম্বা এবং ৩-৪ মি.মি. চওড়া। পাতাগুলো সাধারণতঃ লোমবিহীন এবং অমসৃণ কিনার ঢেউ খোলানো। লিগিউল পাতলা ঝিলির মত, ১-৩ মি.মি. লম্বা এবং প্রান্ত ভাগে ছেটে ফেলার মত দেখায়।
পুষ্পবিন্যাসটি ৩-৮টা রেসিম বিশিষ্ট একটি ছড়া। ইহা ৫-১৫ সে.মি. লম্বা । ছড়াগুলো প্রায়ই মাঝের বোটার উপরের চারিদিকে চক্রাকারে অবস্থান করে, কিন্তু কখনো কখনো ২ সে.মি. দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ক্ষুদ্র সাধারণ দণ্ড বরাবর সাজানোও থাকে। রেসিম লম্বা পাখাযুক্ত ও লোমবিহীন। প্রায় ৩ মি.মি. লম্বা তীলক মুঞ্জুরীগুলো দণ্ডের একধার বরাবর দুই সারিতে ঠাসা অবস্থায় থাকে। নীচের ত্রিকোণাকৃতির তুষ (গ্লুম) প্রায় ৩ মিমি লম্বা, তলোয়ারাকৃতির উপরের বর্মপত্রিকা কীলক মঞ্জুরীর অর্ধেক থেকে পাঁচ ভাগের চার ভাগ অংশের সমান। নীচের বড় তুষ (লেমা) মোটামুটি তলোয়ারাকৃতির ৫-৭ টি শিরা এবং বিভিন্ন পরিমাণ লোমযুক্ত। ফল বিভিন্ন পরিমাণ লোমযুক্ত। ফল বিভিন্ন প্রকার ডিম্বাকৃতির ক্যারিওপ্সিস্। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়ে থাকে।
প্রতিকার
ক্স নিড়ানী, কোদাল, হালকা লাংগল ও আঁচড়া দিয়ে চারা অবস্থায় আংগুলী ঘাস দমন করা সহজ।
ক্স গাছ বড় হয়ে গেলেও ফুল আসা বা ফল পাকার আগেই তুলে ফেলা উচিৎ।
ডি সেটিজেরা রুথ ইক্স আর এবং এস
ইহা মোটামুটি আংগুলী ঘাস-এর মত, কিন্তু সাধারণতঃ আরো বেশী লম্বা (১মি. বা বেশী) হয়। পাতার খোল সাধারণতঃ লোমবিহীন একটি সাধারণ দণ্ডের ৬ সে.মি. পর্যন্ত ৫-৬টি রেসিম (অনিয়ত) চক্রাকারে সাজানো থাকে। নীচের বর্মপত্রিকা নেই বা থাকরেও অতি ক্ষুদ্র শিরাবিহীন পাতলা ঝিলীর মত।
প্রতিকার
ক্স ইহার দমনের নিয়মাবলী আংগুলী ঘাসের মত।
ক্ষুদে শ্যামাঘাস বা ইকাইনাক্লোয়া কোলোনা (এল) লিংক
মসৃণ, ৭০-৭৫ সে মি লম্বা গুচ্ছযুক্ত এক বর্ষজীবি ঘাস। ইহা সাধারণতঃ মাটির উপর ছড়িয়ে থাকে এবং নীচের গীটে শেকড় গজায়। কাণ্ড চ্যাপ্টা, গোড়ার দিকে সচরাচর লাল বেগুনী রঙের এবং গীট সাধারণতঃ মোটা থাকে। পাতার খোল মসৃণ এবং মাঝে মধ্যে চ্যাপ্টা হয়। পাতার খোলের কিনারগুলোর উপরিভাগ মুক্ত থাকে এবং গোড়ার অংশ কখনো লালচে হয়। পাতার ফলক মসৃণ, চওড়া, সরল তলোয়ারাকৃতি এবং নরম। ইহা ২৫ সে মি পর্যন্ত লম্বা এবং ৩-৭ মি মি চওড়া হয়। ইহাতে কখনো কখনো বেগুনী রঙের তীর্যক ডোরা রেখা থাকে।
সবুজ থেকে বেগুনী রঙের পুষ্পবিন্যাস ৬-১২ সে.মি. লম্বা এবং ৪-৮ টা খাটো, ১-৩ সে.মি. লম্বা ও ৩-৪ মি.মি. চওড়া ঘন শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট উর্ধমুখী ছড়া (ছবি-১০৪)। শাখাগুলো বড় থেকে ক্রমশঃ ছোট ছড়াগুলো প্রধান শাখায় একটির পর আরেকটি সাজানো থাকে। কীলক মঞ্জুরীগুলো গোলাকার থেকে ডিম্বাকৃতি সুঁচালো ২-৩ মি মি লম্বা এবং শাখার এক প্রান্ত বরাবর চার সারিতে ঘনভাবে সাজানো থাকে। এরা প্রায় বোঁটাহীন, কখনো কখনো প্রায় ১ মি মি লম্বা শুংযুক্ত। ফল গোলাকৃতির ক্যারিওপ্সিস্ । বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার করে থাকে।
প্রতিকার
ক্স বীজ ও কৃষি যন্ত্রপাতির সাথে এ আগাছা যেন না মিশে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ক্স কাঁচি বা নিড়ানীর সাহায্যে উপড়িয়ে দমন করা দরকার।
ক্স ধানের জমিতে পানি জমা রাখা এবং ধান পাকার আগেই ক্ষুদে শ্যামা দমন করা যায়।
শ্যামাঘাস
শ্যামা ঘাস বা ইকাইনোক্লোয়া ক্রাসগেলি (এল) বেভ এস এস পি হিসপিডুলা (রেটজ) হোণ্ডা।
একটি খাড়া ২ মি পর্যন্ত লম্বা এক বর্ষজীবী ঘাস যার শিকড় ঘন এবং কাণ্ড শক্ত ও ছিদ্র বহুল। কাণ্ডের গোড়ার দিকে কখনো কখনো চাপা থাকে। পাতা সরল ৪০ সে.মি. লম্বা এবং ৫-১৫ মি.মি. চওড়া।
পাটল থেকে বেগুনী, মাঝে মধ্যে সবুজ বর্ণের পুষ্পবিন্যাস ১০-২৫ সে.মি. নরম এবং ঘন কীলক মঞ্জুরী বিশিষ্ট হেলে পড়া ছড়া। সর্বনিম্ন শাখা-প্রশাখাগুলো সবচেয়ে বড়, মাঝে মধ্যে ১০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়। পাকার সময় ছড়াগুলো পুনরায় শাখা ছাড়ে এবং ছড়িয়ে থাকে। সাধারণতঃ প্রধান শাখার গীটগুলো লোমযুক্ত হয়। কীলক মঞ্জুরীগুলো ডিম্বাকৃতি এবং সুঁচালো, ৩.০-৩.৫ মি মি লম্বা এবং প্রায়শই কিছুটা লোমশ। পাকার সময় তারা সহজেই ঝরে পড়ে। নীচের বর্ম পত্রিকা কীলক মঞ্জুরীর তিন ভাগের এক থেকে পাঁচ ভাগের তিন ভাগ অংশের সমান। শুংগুলো প্রধানতঃ লাল বা বেগুনী রঙের এবং ২.৫ সে মি লম্বা। প্রথম ক্ষুদ্র পুষ্পিকার বড় তুষ বা ‘লেম’ সমতল বা কিছুটা উত্তল ও বিবর্ণ। ফল ২ মি মি লম্বা একটি ক্যারিওপ্সিস্। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়ে থাকে।
প্রতিকার
ক্স শ্যামা ঘাস দমনের নিয়মাবলী ক্ষুদে শ্যামার মতনই, তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিৎ। যেমন আউশ ধান ও শ্যামা ঘাসের বীজ একই সময়ে পাকে বলে বীজধানের সাথে শ্যামার বীজ মিশে পুনরায় জমিতে জন্মানোর সুযোগ পায়। সেজন্য শ্যামার বীজ পাকার আগেই দমন করা গেলে উহার বংশ বিস্তার রোধ করা যায়।
শ্যামাঘাস
শ্যামাঘাস বা ই গ্লাব্রিসেনস্ মুনরো এক্স হুক এফ। ইহা ই ক্রাসগেলির মত, তবে কেবল ০.৫-১ মি উঁচু হয়। পাতার ফলক সুঁচালো। পাতার খোলগুলো প্রায় বন্ধ এবং মাঝে মধ্যে ছড়ানো থাকে। কীলক মঞ্জুরীগুলো ডিম্বাকৃতি এবং প্রায় ৩ মি মি লম্বা হয়। প্রথম ক্ষুদ্র পুষ্পিকার বড় তুষ ব ‘লেমা’ বাহিরের দিকে বাঁকা এবং উজ্জ্বল। শুং থাকলে প্রায় ১ সে.মি. লম্বা হয়।
প্রতিকার
ক্স শ্যামাঘাস দমনের জন্য শ্যামা বা ক্ষুদে শ্যামার মত প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা ছাড়াও হাত, নিড়ানী বা কাঁচির সাহয্যে তুলে দমন করা যায়।
চাপড়াঘাস
চাপড়া বা ইলিউসাইন ইনডিকা (এল) গেয়ারটন
একটি মসৃণ, বা কিছুটা লোমশ গুচ্ছযুক্ত ঘাস। ভুমিতে শায়িত থেকে খাড়া, ৩০-৯০ সে মি লম্বা এক বর্ষজীবি ঘাস। সাদা বা ধূসর বর্ণের কাণ্ডটি পার্শ্বে চওড়া, মসৃণ বা ধার বরাবর কিছু লম্বা লোমযুক্ত। পাতার খোল ৬ – ৯ সে মি লম্বা, পার্শ্বে চওড়া, এবং ফলক সন্ধিতে কয়েকটি লম্বা লোম আছে। পাতার ফলক সমতল বা ভাজ করা রৈখিক তলোয়ারকৃতি ১০-৩০ সেমি লম্বা এবং ৩-৬ মি মি চওড়া। কিনার সমান্তরাল প্রায় এবং অগ্রভাগ অপেক্ষাকৃত ভোতা। ইহার উপরিভাগে কিছু ছড়ানো লোম আছে। লিগিউল পাতলা ঝিলির মত, অগ্রভাগ খাজকাটা পাতার খোল ও ফলকের সন্ধিস্থলের ধার বরাবর লম্বা লোম আছে।
পুষ্পবিন্যাসের গোড়ার দিকে বহু শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত থাকে । মাঝে মাঝে নীচের গীটগুলো থেকে শিকড় গজায়। আগার দিকের ৩-৬ টি ছড়া ৪-৮ সে মি লম্বা এবং ৩-৬ মি মি চওড়া হয়। মাঝে মাঝে এগুলোর ঠিক নীচে ১-২ টি অতিরিক্ত ছড়াও থাকে। অসংখ্য কীলক মঞ্জুরী বোঁটাশূন্য, শূংবিহীন, ৪-৫ মি মি লম্বা, পার্শ্বে চাপা এবং চওড়া যা প্রধান শাখার নীচ বরাবর দু’সারিতে ঘন ভাবে সাজানো থাকে।
প্রতিকার
ক্স আউশ ও চাপড়ার বীজ এক সংগে গজায়। সেজন্য আউশ ধানের বীজের সাথে চাপড়ার বীজ থাকরে তা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে বপন করা উচিৎ।
ক্স নিড়ানী বা কাঁচির সাহায্যে শিকড় সহ চারাগাছ ভাল করে তুলে দিলে পরবর্তী মৌসুমে চাপড়ার আক্রমন কমে যায়।
ক্স এছাড়া চাপড়া ঘাস দমনের জন্য গাছ ফুল বা ফল আসার আগেই চাষ ও মই দিয়ে অথবা হালকা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে দমন করা যায়।
ফিমব্রিসটাইলিস মিলিয়েসি (এল) ভাল (প্রতিশব্দ এফ লিট্টোরারিস
খাড়া, গুচ্ছভুক্ত, ২০-৭০ সে.মি. লম্বা একবর্ষজীবী বিরুৎ (সেজ)। কাণ্ড নরম , গোড়ার দিকে চ্যাপটা এবং উপরে ৪-৫টা শক্ত কোনা আছে। পুষ্পকাণ্ড ০.৫-১.৫ মি.মি. মোটা এবং পুষ্পবিন্যাসের চেয়ে খঅটো ২-৪টি অসমান মঞ্জুরীপত্র রয়েছে। গোড়ার পাতাগুলো ৩৫ মিমি লম্বা, ১.০-২.৫ মি.মি. চওড়া এবং পাতার খোল মোটামুটিভাবে একে অপরের উপর অবস্থান করে। কাণ্ডের পাতাগুলোর ফলক খুবই ছোট।
পুষ্পবিন্যাস শিথিলভাবে ছাড়ানো পূর্ণযৌগিক আম্বেল (ছাতাকৃতি), ৬-১০ সে.মি. লম্বা এবং ২.৫-৪.০ সে.মি. চওড়া। ইহার অসংখ্য একক কীলক মঞ্জুরী গোলাকার, বাগামী বা খড় বর্ণের এবং ২.০-২.৫ মি মি চওড়া ব্যাস বিশিষ্ট।
ফ্যাকাশে সাদা থেকে বাদামী বর্ণের ফল ত্রিকোনী একিন যা ০.৫-১.০ মি.মি. লম্বা এবং ০.৭৫ মি.মি. চওড়া হয় এবং প্রত্যক ধারে তিনটি শিরা রয়েছে। বীজদ্বারা বংশ বিস্তার করে।
প্রতিকার
ক্স নিড়ানী বা কাঁচি দিয়ে চারাগাছ তুলে ইহা দমন করা যায়।
ক্স বীজ পাকার আগেই দমন করলে উহার বংশ বিস্তার রোধ করা যায়।
ক্স আগাছায় বীজ নেই এমন ধানের বীজ বপন করা দরকার।
কলমিলতা
কলমিলতা বা আইপোমোয়ি আকুয়াটিকা ফরস্ক
একটি মসৃণ, ব্যাপকভাবে ছড়ানো বহুবর্ষজীবি লতা। ইহার কাণ্ডগুলো লতিয়ে চলে অথবা কখনো কখনো কাদার উপর কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে, কিন্তু যখন পানিতে ভাসে তখন ফাপা নলের মত। কলমিলতার গীটসমূহ থেকে শেকড় গজায়। পাতাগুলো সরল ৭-১৫ সে মি লম্বা ও প্রায় ৩.৫ সে মি চওড়া এবং সূচালো আগাসহ আয়তাকার থেকে গোলাকার। পাতার কিনারগুলো সমান বা কিছুটা খাছকাটা। বোঁটাগুলো ২.৫-১৫.০ সে মি লম্বা। সাদা থেকে ঘিয়া বা বেগুনী বর্ণে মাত্র একটি ফুল পাতার গোড়ায় জন্মে এবং ফুলটি ৫-১৫ সে মি লম্বা বোটাযুক্ত হয়
ফুল গোলাকার, খোসা দিয়ে ঢাকা এবং প্রায় ১ সে.মি. লম্বা হয়। ইহার দুটা কক্ষে চারটা বীজ থাকে। হালকা বাদামী বর্ণের বীজ প্রায় ৪ মি মি লম্বা এবং ৫-৭ মি মি চওড়া, মসৃণ অথবা খাটো, ঘন ও ধূসর বর্ণের লোমযুক্ত হয়। বীজ বা গাছ থেকে বংশ বিস্তার হয়ে থাকে।
প্রতিকার
ক্স কলমিলতা দমনের জন্য সাধারণতঃ হাত দিয়ে ছিড়ে বা কাঁচি দিয়ে কেটে গাছ তুলে ফেলা হয়।
ক্স প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে কলমিলতা পরিস্কারের সময় উহার কাটা খণ্ড টুকরা যাতে জমিতে না পড়ে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার।
ক্স বীজ পাকার আগেই কলমিলতা দমন করা উচিৎ।
ইসকায়েমাম রুগোসাম সেলিস
ইহা একটি আগ্রাসী খাড়া বা ছড়ানো গুচ্ছভুক্ত এক বর্ষজীবী ঘাস। ইহা ০.৬-১.২ মি লম্বা এবং ইহার দুটি লম্বা শুংযুক্ত রেসিম ও শিরাযুক্ত কীলক মঞ্জুরী রয়েছে। লোমযুক্ত গীটসহ কাণ্ডগুলো বেগুনী বর্ণের। ফুল হওয়া কাণ্ডগুলোর গীটে লম্বা লোম আছে। পাতার ফলকগুলো সরল তলোয়ারাকৃতি ১০-৩০ সে.মি. লম্বা ও ৫-১৩ মি.মি. চওড়া এবং উভয় পার্শ্বে ছড়ানো লোম আছে। লোমশ কিনারসহ সবুজ বা বেগুনী রঙের পাতার খোল টিলা থাকে।
পাকার সময় পুষ্পবিন্যাস ৫-১০ সে মি লম্বা দুটি রেসিমে বিভক্ত হয় । হলদে সবুজ কীলক মঞ্জরীগুলো ৬ মি.মি. লম্বা জোড় হিসেবে থাকে যার একটি বোঁটাবিহীন ও অন্যটি ৬ মি.মি. লম্বা বোঁটাযুক্ত হয়। শুংগুলো ১.৫-২.৫ সে.মি লম্বা, সরু এবং গোড়ার দিকে কোঁকড়ানো। নীচের বর্মপত্রিকাগুলোর ৩-৬ টা সুস্পষ্ট শিরা রয়েছে।
ফল লালচে বাদামী বর্ণের কেরিওপ্সিস্, আয়ত তলোয়ারাকৃতি, আগা সুঁচালো এবং ১.৫-২.৫মি.মি. লম্বা। বীজ দ্বারা বিস্তার করে।
প্রতিকার
ক্স কাঁচি বা নিড়ানী দিয়ে উপড়িয়ে এ ঘাস দমন করা যায়।
ক্স বীজ পাকার আগেই দমন করতে পারলে উহার বংশ বিস্তার রোধ করা যায।
ক্স আগাছার বীজশূণ্য উন্নত জাতের ধানের বীজ ব্যবহার করেও উহার দমন করা যায়।
লিপ্টোক্লোয়া চাইনেন্সিস এল নিচ
ইহা একটি দৃঢ়ভাবে গুচ্ছভুত জলজ বা আধাজলজ একবর্ষ বা স্বল্পজীবী ৩০ সে.মি. ১.০ মি উচু ঘাস। ইহা সাধারণতঃ পূর্ব দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা যায়। দুর্বল থেকে শক্ত কাণ্ডগুলো কখনো কখনো লালচে থেকে বেগুনী বর্ণের হয়। পাতার ফলক চওড়া এবং আগার দিকে সূচালো সরল, ১০-৩০ সে.মি. লম্বা এবং ০.৩-১.০ সে.মি. চওড়া। লিগিউল ১-২ মি.মি. লম্বা এবং অগভীরভাবে লোমের মত অংশে বিভক্ত। পুষ্পবিন্যাসটি একটি ছড়া যার প্রধান শাখা ১০-৪০ সে.মি. লম্বা হয়। ইহার ৫-১৫ সে.মি. লম্বা অসংখ্য শাখা-প্রশাখাগুলো সোজা এবং ছড়ানো। কীলক মঞ্জুরীগুলো ২.৫-৩.৫ মি.মি. লম্বা যার ৪-৬টি, সচরাচর ৫টি ফুল এবং ০.৫-০.৭ মি.মি. লম্বা ছোট বোঁটা আছে। মঞ্জুরী ধূসর সবুজ বা লাল বর্ণের হয়ে থাকে।
ফুল প্রায় ০.৮ মি.মি. লম্বা গোলাকৃতির কেরিওপ্সিস। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার করে।
প্রতিকার
ক্স লিপ্টোক্লোয়া চাইনেন্সিস দমনের জন্য গাছে ফুল বা ফল আসার আগেই চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
ক্স বীজ পাকার আগেই দমন করতে পারলে উহার বংশ বিস্তার রোধ সম্ভব হয়।
পানিকচু বা মনোকোরিয়া ভেজাইনালিস (বার্ম এফ) প্রেসল্
পানিকচু বা নখা একটি এক বর্ষজীবি, আধাজলজ ৪০-৫০ সে মি লম্বা এবং চওড়া পাতা বিশিষ্ট আগাছা। এই এক বীজপত্রী আগাছার খাটো, মাংসল কাণ্ড এবং খুবই ছোট শেকড় আছে। পাতাগুলো উজ্জ্বল গাঢ় সবুজ, আয়তাকার থেকে ডিম্বাকৃতি এবং ইহার আগা খুবই তীক্ষè। গোলাকৃতি গোড়ার দিক ১০-১৫ সে মি লম্বা এবং ৩.৫ সে মি চওড়া। বোটাগুলো ১০-১২ সেমি লম্বা নরম, ফাঁপা এবং লম্বালম্বি শিরা-উপশিরাযুক্ত। পুষ্পবিন্যাসটি ১ সে.মি. লম্বা ফুল থাকে যা পাতার মত একটা আবরণী থেকে বের হয়। ফুলের বোঁটাগুলো লম্বায় ১ সে.মি এর চেয়েও কম
খোসাযুক্ত ঢাকা ফল প্রায় ১ সেমি লম্বা এবং তিন ভাগ বিস্তার করে থাকে।
প্রতিকার
ক্স হাত দিয়ে তুলে বা হাল চাষ দিয়ে পানিকচু দমন করা যায়।
ক্স বীজ পাকার আগেই আগাছা দমন করলে বংশ বিস্তার রোধ করা যায়।
ঝরাধান বা লালধান (অরাইজা সেটাইভা এল)
ঝরা বা লালধানকে জংলী ধানও বলা হয় ।
এ ধান চাষাবাদ যোগ্য ধানের মতই এবং এর সংগে প্রাকৃতিকভাবে প্রজনন ঘটে থাকে। কিন্তু চাষযোগ্য ধানের সংগে বৈসাদৃশ্য এই যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধানগুলো পুরোপুরি পাকার আগেই ঝরে পড়ে এবং ছড়া খাড়া থাকে। অবশ্য যেগুলোতে ধান ঝরে পড়ে না সেগুলোর ছড়া নুয়ে পড়ে। কীলক মঞ্জুরীগুলো শুংযুক্ত বা শুংবিহীন হতে পারে এবং শুংয়ের দৈর্ঘ্যের ব্যাপক হেরফের ঘটে। পাকা ধানে খোসাগুলো খড়ের রং কালচে হয়। চালের বহিরাবরন রঙীন। ইহা পাকার সময় ও বীজের বয়স অনুযায়ী ধুসর থেকে লাল বর্ণে রূপান্তরিত হয়। বীজগুলো মাটিতে বহুদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকে, কিন্তু যদি চাষাবাদযোগ্য ধানের মত কাটা ও ব্যবহার করা যায় তাহলে সুপ্ত অবস্থা ভেংগে দেয়া সম্ভব।
প্রতিকার
ক্স কোদলানো, নিড়ানো বা হাল চাষ দিয়ে ঝরাধান দমন করা যায়।
স্ফীনোক্লিয়া জিলেনিকা গেয়ারটন
ইহা মসৃণ, শক্ত, মাংসল, বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট ও ০.৩-১.৫ মি উঁচু কাণ্ডসহ একটি খাড়া ও এক বর্ষজীবি চওড়া পাতা আগাছা। পাকমেরে সাজানো পাতাগুলো সাধারণ গোলাকার থেকে তলোয়ারকৃতির, ১০ সেমি লম্বা এবং ৩ সে মি চওড়া। পাতাগুলোর আগা চিকন থেকে সূচাকৃতির। তাদের ছোট বোঁটা এবং নিখাঁজ কিনার রয়েছে।
সবুজ রঙের পুষ্পবিন্যাস ৮ সে.মি. লম্বা বোঁটার উপর অবস্থিত। ইহা ৭.৫ সে.মি. লম্বা এবং ১২ মি.মি. চওড়া একটি গিজানো ছড়া। গাঢ় সাদা থেকে সবুজ বর্ণের ফুলগুলো প্রায় ২.৫ মি.মি. লম্বা এবং ২.৫ মি.মি. চওড়া হয়ে থাকে ।
ফল একটি গোলাকার বীজকোষ, ৪-৫মি.মি চওড়া ও খাড়াভাবে বিভক্ত। ইহার হলদে বাদামী বর্ণের অসংখ্য বীজগুলো ০.৫ মি.মি. লম্বা। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার করে।
প্রতিকার
ক্স হাত বা কাঁচি দিয়ে উপড়ে এ আগাছা দমন করা যায়।
ক্স বীজ পাকার আগে দমন করলে বংশ বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।
নাইট্রোজেনের অভাবজনিত লক্ষণ
ধানগাছের বাড়-বাড়তির বিভিন্ন ধাপে যখন জমিতে নাইট্রোজেন সীমিত হয়ে পড়ে তখন তার পার্থক্য চোখে ধরা পড়ে। গাছের প্রথম বয়সে নাইট্রোজেনের অভাব হলে পাতা হলুদ বা হলদে সবুজ রং ধারণ করে এবং গাছের বাড়-বাড়তি ও কুশীর সংখ্যা কম হয় । এ অভাব যদি শেষ সময় পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে, তবে প্রতি ছড়ায় ধানের সংখ্যা কমে যায়। গাছ প্রথম বয়সে যদি পর্যাপ্ত কিন্তু শেষ বয়সে কম নাইট্রোজেন পায়, তবে পুরাতন পাতা প্রথমে হলদে হয়ে যায় এবং নতুন পাতা স্বাভাবিক রঙের হয়ে থাকে। অবশেষে সম্পূর্ণ মাঠের ফসল সমানভাবে হলদে দেখা দেখায়।
অতিরিক্ত নাইট্রোজেনের দরুন গাছ নুয়ে পড়ে এবং রোগবালাই আক্রমণের প্রবণতা বাড়ে।.
প্রতিকার
ক্স অভাবের তীব্রতা লক্ষ্য করে এবং ধানের জাত ভেদে বিঘা প্রতি ১৫-৩০ সের ইউরিয়া সার দুই-তিন কিস্তিতে ব্যবহার করুন।
ক্স জমিতে রোপা লাগানো ১৫-২০ দিন পূর্বে প্রচুর পরিমাণ গোবর সার বা সবুজ সার প্রয়োগ করুন।
ফসফরাসের অভাবজনিত লক্ষণ
এ উপাদানের অভাবে ধানগাছে কুশীর সংখ্যা কম ও গাছ খাটো হয় এবং ধান কম পুষ্ট হয়। ফসফরাসের অভাবে পাতা খাড়া হয় এবং গাঢ় সবুজ বর্ণের রং ধারণ করে যা গাছের স্বাভাবিক পাতা হতে সম্পূর্ণ আলাদা। কোন কোন জাতের ধানগাছের পুরাতন পাতা কমলা রং ধারণ করে ।
ফসফরাসের অভাবে সচরাচর অত্যাধিক অম্ল, অম্লগন্ধক, জৈব (পিট) এবং ক্ষার জাতীয় মাটিতে দেখা যায়। এ উপাদান সাধারণতঃ শুকনো মাটি থেকে ভেজা বা প্লাবিত মাটিতে সহজলভ্য।
প্রতিকার
ক্স জমি শেষ চাষের সময় বা গাছের প্রথম অবস্থায় বিঘা প্রতি ২০-২৫ কেজি টিএসপি সার ব্যবহার করুন।
ক্স মাটি বেশী অম্লময় বা ক্ষার জাতীয় হলে সারের পরিমাণ কিছু বাড়িয়ে দিন এবং সার গাছের গোড়ার কাছে ব্যবহার করুন।
পটাশিয়ামের অভাবজনিত লক্ষণ
পটাশিয়ামের সামান্য অভাবে ধানগাছের পাতার রং গাঢ় সবুজ, কুশীর সংখ্যা কম এবং গাছ খাটো হয়। অভাব খুব প্রকট হলে প্রথমে বয়স্ক পাতার আগার দিকে হলদে কমলা বা হলদে বাদামী বিবর্ণ রং ধারণ করে। পরে এই রং আস্তে আস্তে পাতার গোড়ার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পটাশিয়ামের অভাবে পাতার ওপর মরা দাগ পড়ে, ধানের আকার ছোট হয় এবং ওজন কমে যায়।
পটাশিয়ামের অভাবে সাধারণতঃ হালকা বেলে বা জৈব মাটিতে বেশী দেখা দেয়। তাছাড়া যে সব মাটির পটাশ শোষণ ক্ষমতা খুব বেশী, সে সব মাটিতেও পটাশিয়ামের অভাব হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে।
প্রতিকার
ক্স বিঘাপ্রতি ১০-১২ সের পটাশ সার অর্থাৎ এমপি ব্যবহার করে এ অভাব দুর করা যায়।
ক্স হালকা মাটিতে পটাশ সার দুই কিস্তিতে ব্যবহার করুন।
ক্স চুলার ছাই এবং কচুরীপানা ব্যবহার করে পটাশিয়ামের অভাব অনেকাংশে মেটানো যায়।
গন্ধকের অভাবজনিত লক্ষণ
গন্ধকের অভাবে ধানগাছের নতুন পাতা হলদে বা ফ্যাকাশে বিবর্ণ রং ধারণ করে এবং ধীরে ধীরে পুরাতন পাতাও হলদে হয়ে যায়। কালক্রমে সম্পূর্ণ গাছই হলদে রং ধারন করে। অপরপক্ষে নাইট্রোজেনের অভাবে প্রাথমিকভাবে শুধু পুরাতন পাতা হলদে বিবর্ণ হয়ে যায়। গন্ধকের অভাবে গাছ খাটো এবং কুশীর সংখ্যা কম হয়।
যে সব মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ কম সে সব মাটিতেই সাধারণতঃ গন্ধকের অভাব হয়ে থাকে। জমি অনেকদিন ডুবে থাকলে দ্রবীভুত গন্ধক অদ্রাব্য গন্ধকে পরিবর্তিত হয়ে গন্ধকের অভাবকে আরো তীব্রতর করে তোলে।
প্রতিকার
ক্স প্লাবিত বা ভেজা মাটি মাঝে মধ্যে ভালভাবে শুকিয়ে দিন।
ক্স প্রচুর পরিমণ গোবর ও সবুজ সার ব্যবহার করুন।
ক্স বিঘাপ্রতি ২০-২৫ কেজি জিপসাম বা ১০-১২ কেজি এ্যামোনিয়াম সলফেট সার ব্যবহার করুন।
সিলিকনের অভাবজনিত লক্ষণ
এ উপাদানের অভাবে ধানগাছের পাতা সাধারণতঃ নুয়ে পড়ে। এতে পাতা কম পরিমাণ সূর্যের আলো গ্রহণ করতে পারে এবং ফলন কম হয়। গাছ অধিক পরিমাণ সিলিকা গ্রহণ করলে পাতা অধিকতর সোজা ও খাড়া হয়ে থাকে এবং এতে সূর্যের আলো বেশী পায়। পরিমিত সিলিকা থাকলে গাছে কোন কোন রোগ ও পোকার উপদ্রব কম হয়। গড়ে শতকরা ৫ ভাগের কম সিলিকা হলেই এ উপাদানের অভাব হয়েছে বলে বুঝতে হবে।
প্রতিকার
ক্স পর্যাপ্ত পরিমাণ তুষ, খড় ও কমপোস্ট সার ব্যবহার করে সিলিকনের অভাব দুর করা যায়।
দস্তার অভাবজনিত লক্ষণ
ধান বোনা বা রোপণের ২-৪ সপ্তাহের মধ্যেই এ উপাদানের অভাব জনিত লক্ষণ দেখা যায়। এ সময় কচি পাতার মধ্য শিরা বিশেষ করে গোড়ার দিকে সাদা হয়ে যায়। পুরাতন পাতায় মরিচা পড়ার মত ছোট ছোট দাগ দেখা দেয়। দাগগুলো আস্তে আস্তে বড় হয়ে এক সাথে মিশে সম্পূর্ণ পাতাকে বাদামী রঙের করে তোলে। এ উপাদানের অভাবে গাছ খাটো এবং কুশীর সংখ্যা কম হয়। অভাব খুব বেশী হলে সম্পূর্ণ গাছই মারা যায়। অভাব মাঝারি ধরণের হলে ধান পাকতে সময় বেশী নেয় এবং ফলন কম হয়।
সে সব মাটিতে ক্যালশিযাম কার্বনেট এবং ক্ষারের পরিমাণ বেশী সে সব মাটিতেই সাধারণতঃ দস্তার অভাব হয়ে থাকে। জৈব (পিট) ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতজনিত মাটি এবং যে সব মাটি বৎসরের সব সময়ই ভেজা থাকে সে সব মাটিতেও দস্তার অভাব হতে পারে। অত্যাধিক নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস সার ব্যবহারে দস্তার অভাব তীব্রতর হয়।
প্রতিকার
ক্স জমি সাময়িকভাবে শুকিয়ে নিন।
ক্স বিঘাপ্রতি ২-৩ কেজি দস্তা (জিংক) সালফেট সার ব্যবহার করুন।
ক্স রোপণের পূর্বে জিংক অক্সাইড পাউডার মিশ্রিত পানিতে চারার গোড়া ৫ মিনিটের জন্য চুবিয়ে নিন। প্রতিসের পানিতে আধা ছটাক পাউডার মিশ্রণ তৈয়ার করুন।
ক্স ক্ষার জাতীয় মাটিতে জিংক সালফেট পানির সাথে মিশিয়ে ¯েপ্র- মেশিনের সাহায্যে রোপা লাগানোর ১০-১১ দিনের মধ্যে প্রথম বার এবং ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বার ধানগাছের পাতার উপর ছিটিয়ে দিন। বিঘাপ্রতি দেড় পোয়া পরিমাণ জিংক সালফেট ১৫-২০ গ্যালন পরিস্কার পানির সাথে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈয়ার করুন।
লবনাক্ততাজনিত লক্ষণ
বেশি লোনার জন্য উপরের অর্র্থাৎ নূতন পাতা সাদাটে বিবর্ণ হয় এবং মুড়িয়ে যায়। পুরাতন পাতা বাদামী রং ধারণ করে এবং গাছের বাড়-বাড়তি অসমান, গাছ খাটো ও কুশী কম হয় । লবনাক্ততাজনিত সমস্যা সাধারণতঃ শুষ্ক অঞ্চলীয় জমিতেই বেশী দেখা যায়। সেখানে পানি নিষ্কাশন খুব কম হয় এবং বৃষ্টির চেয়ে বাষ্পীয়-ভবন বেশী হয়ে থাকে। আদ্র অঞ্চলের উপকুলবর্তী এলাকার পলিমাটি যা সমুদ্রের পানিতে প্লাবিত হয় সেখানেও এ সমস্যা দেখা যায়।
প্রতিকার
ক্স ধান চাষের সময় জমিতে সব সময় কিছু পানি ধরে রাখুন।
ক্স বৃষ্টি বা মিষ্টি পানির সাহায্যে সেচ দিন।
ক্স অধিক লবণ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতের ধান রোপন করুন।
ক্ষারত্বজনিত লক্ষণ
অধিক ক্ষারত্বের জন্যে পাতার রং সাদা বা লালচে বাদামী বিবর্ণ হয়। এ লক্ষণ প্রথমে পাতার অগ্রভাগ হতে শুরু হয়। যে সব জাত অতি সহজে আক্রান্ত হয় তাদের বিবর্ণতা গোড়ার দিকে ছড়িয়ে পড়ে যা পরবর্তীতে সম্পূর্ণ গাছকে পড়ে যাওয়ার মত দেখায়। গাছ খাটো ও কুশী কম হয়। ক্ষারত্বজনিত সমস্যা সাধারণতঃ আধা-শুষ্ক অঞ্চলীয় মাটিতে দেখা যায় এবং লবণাক্ততার সাথে জড়িত থাকে। খুব বেশী ক্ষার জাতীয় মাটিতে দস্তা, তামা এবং ফসফরাসের অভাবও হতে পারে।
প্রতিকার
ক্স পর্যাপ্ত জিপসাম এবং সেচ-নিষ্কাষণ ব্যবহার করে ক্ষারত্বের পরিমাণ কমিয়ে নিন।
ক্স অধিক ক্ষার প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতের ধান চাষ করুন।
লোহার আধিক্যজনিত বিষক্রিয়া
অধিক লোহার জন্য নীচের অর্থাৎ পুরাতন পাতার আগার দিকে বাগামী রঙের ছোট ছোট দাগ হয়। পরবর্তীকালে সমস্ত পাতা বাদামী হলদে বা কমলা লেবুর রং ধারণ করে। বিষক্রিয়া প্রকট হলে পাতা বাদামী রঙের দেখায় এবং নীচের পাতা মরে যায়। গাছের বাড়-বাড়তি ও কুশী কম হয়। এ উপাদানের বিষক্রিয়ার দরুন শেকড় কম, মোটা ও গাঢ় বাদামী রঙের হয়।
অম্লজাতীয় মাটিতে বেশী পরিমাণে লোহা থাকলে এ বিষক্রিয়া হতে পারে। লোহার বিষক্রিয়ার দরুন অক্সিছল, আলটিছল, কিছু হিসটোছল এবং অম্লগন্ধক জাতীয় মাটিতে ফলন কম হয়।
প্রতিকার
ক্স প্রচুর পরিমাণ চুন ব্যবহার করে অম্লত্বের পরিমাণকমিয়ে ফেললে লোহার আধিক্যজনিত বিষক্রিয়া কমে যাবে।
ক্স লোহার বিষক্রিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন জাতের ধান চাষ করুন।
জৈব (পিট) মাটি
জৈব মাটিতে গাছ খাটো এবং কুশী কম হয়, পাতা হলদে বা বাদামী রঙের হয়ে থাকে এবং ধানের সংখ্যা ও পুষ্টিতা কমে যায়।
পিট মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ খুব বেশী এবং সামান্য অম্লতা থাকে। এ ধরনের মাটিতে দস্তা ও তামার অভাব হয়ে থাকে।
প্রতিকার
ক্স এই জাতীয় মাটিতে দস্তা ও তামা ¯েপ্র হিসাবে ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
ক্স সম্ভব হলে মাঝে মধ্যে মাটি ভাল করে শুকিয়ে নিন।
বোরণের আধক্যজনিত বিষক্রিয়া
এ উপাদানের বিষক্রিয়ায় প্রথমে পাতার আগার দিকে হলদে বিবর্ণ দেখায় এবং পরে তা পাতার কিনারা ঘিরে নীচের দিকে ছড়াতে থাকে। তাছাড়া চোখের মত বাদামী রঙের বড় দাগও পাতার কিনারায় দেখা যায়। আক্রান্ত অংশ বাদামী রঙের হয়ে শুকিয়ে যায়। বিষক্রিয়া খুব প্রকট না হলে গাছের বাড়-বাড়তি স্বাভাবিকই হয়ে থাকে।
বোরণের বিষক্রিয়া সাধারণতঃ উপকূলবর্তী এবং শুষ্ক অঞ্চলের মাটিতে দেখা যায়। তাছাড়া সেচের পানিতে অধিক পরিমাণ বোরন থাকলে এ উপাদানের বিষক্রিয়া দেখা দিয়ে থাকে।
প্রতিকার
ক্স বোরনমুক্ত সেচের পানি ব্যবহার করুন।
ক্স বোরন বিষক্রিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতের ধান চাষ করুন।
এ্যালুমিনিয়ামের আধিক্যজনিত বিষক্রিয়া
এ উপাদানের বিষক্রিয়ার দরুন পাতার দু’শিরার মাঝখানে সাদা বা হলুদ রঙের দাগ হয়। পাতা প্রথমে শুকিয়ে পড়ে এবং মরে যায় । গাছ খাটো, শেকড় কম ও ছোট হয়।
পানিতে দ্রবীভুত এর্ব বিনিময়যোগ্য অতিরিক্ত এ্যাণুমিনিয়াম থাকলে এর বিষক্রিয়া হয়ে থাকে। এ বিষক্রিয়া অম্লগন্ধক জাতীয় মাটিতে রোপা ধানের এবং খুব বেশী অম্লজাতীয় মাটিতে বোনা ধানের বাড়-বাড়তি ও ফলনকে কমিয়ে দেয়।
ম্যাংগানিজের আধিক্যজনিত বিষক্রিয়া
পুরাতন পাতার উপর বাদামী রঙের দাগ, পাতার অগ্রভাগ শুকিয়ে যাওয়া এবং ধানে খুব বেশী চিট হওয়া এ বিষক্রিয়ার প্রধান লক্ষণ। এ বিষক্রিয়ার দরুন গাছের বাড়-বাড়তির তেমন উলেখযোগ্য কোন ক্ষতি হয় না। অম্লজাতীয় মাটিতে বোনা ধানে সাধারণতঃ এ উপাদানের বিষক্রিয়া দেখা যায়।
প্রতিকার
ক্স পর্যাপ্ত চুন ব্যবহার করে মাটির অম্লতা কমিয়ে ফেলুন। এতে উভযের বিষক্রিয়া অনেক কমে যাবে।
ক্স অধিক প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতের ধান চাষ করুন।
ধানের প্রধান প্রধান পোক-মাকড় দমনের জন্য কীটনাশকের নাম ও প্রয়োগ মাত্রা।
কীটনাশকের সাধারণ নাম কীটনাশকের বাণিজ্যিক নাম প্রযোগমাত্রা প্রতি হেক্টর
মাজরাপোকা ও গলমাছি
ডাইক্রোটোফস বাইড্রিন ৮৫ তরল ৮৪০ মি লি
ফসফামিডন ডাইমেক্রন ১০০ তরল ৮৪০ মি লি
ডায়াজিনন ডায়াজিনন ৬০ তরল
ডায়াজিনন ১৪ দানাদার
বাসুডিন ১০ দানাদার ১.৬৮ লিটার
১৩.৫ কেজি
১৬.৮ কেজি
ফেনথোয়েট এলসান ৫০ তরল ১.৬৮ লিটার
ফেনথিয়ন লিবেসিড ৫০ তরল ১.১২ লিটার
ফেনিট্রোথিয়ন সুমিথিয়ন ৫০ তরল ১.১২ লিটার
কারট্যাপ পাদান ৫০ গুড়া
পাদান ১০ দানাদার ১.৪ কেজি
১৬.৮ কেজি
মনোক্রটোফস এজেড্রিন ৪০ তরল ১.৬৮ কেজি
কারবোফুরান ফুরাডান ৩ দানাদার
কিউরেটার ৩ দানাদার ১৬.৮ কেজি
১৬.৮ কেজি
কুইনালফস ইকালাক্স ৫ দানাদার ১৬.৮ কেজি
বাদামী গাছফড়িং ও সাদা-পিঠ গাছফড়িং
কীটনাশকের সাধারণ নাম কীটনাশকের বাণিজ্যিক নাম প্রয়োগ মাত্রা প্রতি হেক্টর
ডায়াজিনন ডায়াজিনন ১৪ দানাদার
বাসুডিন ১০ দানাদার
ডায়াজিনন ৬০ তরল ১৫ কেজি
২০ কেজি
২ লিটার
কারবোফুরান ফুরাডান ৩ দানাদার ২০ কেজি
ফসফামিডন ডাইমেক্রন ১০০ তরল ১ লিটার
ফেনথিয়ন লিবেসিড ৫০ তরল ২ লিটার
ফেনিট্রোথিয়ন সুমিথিয়ন ৫০ তরল ২ লিটার
ডাইক্লোরভস নাগোস ১০০ তরল ১ লিটার
ডাইক্রোটফস বাইড্রিন ২৪ তরল
কারবিক্রন ৫০ তরল ১.২ লিটার
১.৬৮ লিটার
মনোক্রটোফস এজোড্রিন ৪০ তরল ১.৬৮ লিটার
সাইপারমেথ্রিন রিপকর্ড ১০ তরল ৫৬০ মি লি
আইসোপ্রকার্ব মিপসিন ৭৫ পাউডার ১.৬৮ কেজি
শীষকাটা লেদা ও লেদাপোকা
ডাইক্লোরভস ডিডিভিপি ১০০ তরল ডাইক্লোরভস ১০০ তরল
নগোস ১০০ তরল
ভেপোনা ১০০ তরল ৫৬০ মি লি
৫৬০ মি লি
৫৬০ মি লি
৫৬০ মি লি
পাতামাছি, পামরী, পাতা মোড়ান, চুংগী, সবুজ পাতফড়িং,
ঘাষফড়িং, স্কীপার, গান্ধী এবং অন্যান্য পোকা
ম্যালাথিয়ন ম্যালাথিয়ন ৫৭ তরল
যিথিয়ল ৫৭ তরল
ফাইফেনন ৫৭ তরল
এরুমেল ৫৭ তরল ১.১২ লিটার
১.১২ লিটার
১.১২ লিটার
১.১২ লিটার
ফেনিট্রোথিয়ন সুমিথিয়ন ৫০ তরল ১.১২ লিটার
অক্সিডিমিটন মিথাইল রগোর ৪০ তরল
পারফেকথিয়ন ৪০ তরল
রকসিয়ন ৪০ তরল ১.১২ লিটার
১.১২ লিটার
১.১২ লিটার
ব্রমোফস নেকসিয়ন ২৫ তরল ১.৬৮ কেজি
কারবারিল সেভিন ৮৫ পাউডার
নাফটিল ৮৫ পাউডার ১.৬৮ কেজি
১.৬৮ কেজি
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ তরল ও পাউডার জাতীয় কীটনাশকগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী ৬০০ থেকে ১২০০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ভালভাবে ¯েপ্র মেশিন দিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। বাদামী গাছফড়িং এর জন্য গাছের গোড়ার দিকে ¯েপ্র করতে হবে। দানাদার কীটনাশক সারের মত ছিটিয়ে দিতে হবে। দানাদার কীটনাশক ব্যবহার করতে হলে জমিতে ২-৪’’ পানি ৫-৭ দিন আটকে রাখতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে ক্ষেতের পানি যেন উপচে চলে না যায়।
ক্স এক হেকটর- প্রায় ৭.৫ বিঘা (২৪৭ শতাংশ)। এক পূর্ণ চা চামচ= ৫ মিলি লিটার (মিলি)।























