লালশাক চাষ পদ্ধতি

লাল রঙ- এর শাক দেখতে সুন্দর এবং খেতেও সুস্বাদু। লালশাক সারাবছর ধরেই উৎপন্ন করা যায় এবং এ শাকটি খুবই পুষ্টিকর এবং ক্যারটিন সমৃদ্ধ সবজি। সাধারণত লাল শাকের পাতাই সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
চাষ উপযোগী জমি ও মাটি
লালশাক বেলে দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ মাটি যেখানে পানি জমে না সেসব মাটিতে ভালো জন্মে।
জাত
এদেশে সাধারণত লালশাকের স্থানীয় জাতের আবাদ হয়ে থাকে। লালশাকের জীবনকাল বীজ থেকে বীজ ১২৫-১৪০ দিন।
বীজ বোনার সময়
আমাদের দেশে এখন সারাবছর ধরেই লালশাকের আবাদ করা যায়। এছাড়া অধুনা বারি লালশাক-১ জাতের লালশাক আবাদ হয়ে আসছে।
বীজের পরিমাণ
সারিতে বীজ বোনা হলে-
প্রতি শতকে পরিমাণ-৬ তোলা
প্রতি হেক্টরে পরিমাণ-১.০-১.৫ তোলা
ছিটিয়ে বোনা হলে-
প্রতিশতকে পরিমাণ- ১২ তোলা
প্রতি হেক্টরে পরিমাণ- ২.০-২.৫
বীজ বপন
বীজ বোনার আগে জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে। লালশাকের বীজ আকারে ছোট বলে, বপনের আগে এসব বীজের সাথে শুকনো ছাই মিশিয়ে নিতে হয়। এ ছাই মিশানোর নিয়ম হচ্ছে-১ ভাগ বীজরে সাথে ৯ ভাগ ছাই। বীজ সারি বা লাইনে বপন হলে সারি থেকে সারির দূরত্ব রাখতে হবে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার। এছাড়া প্রতি সারিতে ২০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে কাঠি দিয়ে ১.৫-২.০ সেন্টিমিটার গভীর করে লাল শাকের বীজ বপন করতে হয়।
সার প্রয়োগ
লালশাকের জন্য যে হারে সার প্রয়োগ করতে হয়, তাহলো- প্রতি শতকে গোবর-২০ কেজি, ইউরিয়া-৯০০ গ্রাম, টিএসপি-৩০০ গ্রাম ও এমপি ২৫০ গ্রাম। এ ফসলটি স্বল্পমেয়াদী, সেজন্য সবটুকু সারই জমি তৈরির সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। তবে শহরের আবাদকারীরা অল্প জায়গায় শুধুমাত্র গোবর সার প্রয়োগ করেই লালশাকের আবাদ করতে পারেন।
সেচ প্রয়োগ
লালশাক আবাদের জন্য জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকা আবশ্যক। তবে জমিতে অতিরিক্ত পানি হলে সাথে সাথে তা নিকাশের ব্যবস্থা নিতে হবে।
আগাছা দমন ও গাছ পাতলা করা
সাধারণত বৃষ্টি বা সেচের পর জমির উপরি ভাগের মাটিতে চাপ ধরে যায়। সে জন্য বৃষ্টি বা সেচের পর জমির মাটি ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। ভালো ফসল পেতে হলে জমি থেকে গাছ পাতলা করে ফেলতে হয়। এজন্য ছিটিয়ে বোনা হলে প্রতি বর্গমিটারে ১০০-১৪০ টি গাছ রাখতে হবে। সারিতে বপনকারীদের জন্য প্রতি লাইন ৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে গাছ রাখতে হবে।
রোগ দমন
মরিচা রোগ দ্বারা লাল শাক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। তবে আক্রান্ত বীজ পরিহার করে সুস্থ জমির বীজ দিয়ে ফসল আবাদ করা হলে রোগের আক্রমণ কমানো যায়।
পোকা মাকড় দমন
লালশাক শুয়ো পোকা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। সমম্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ পোকার হাত থেকে ফসলকে রক্ষা করা যায়।
ফলন
লালশাকের জমিতে যে ফলন পাওয়া যায়, তাহলো-
প্রতি শতকে ফলন হয়- ২০-৩০ কেজি
প্রতি হেক্টরে ফলন হয়- ৫-৬ টন।
উপাত্ত সংগ্রহ-কৃষি তথ্য সার্ভিস
























