পালংশাক চাষ পদ্ধতি

পালংশাক একটি জনপ্রিয় ও সুস্বাদু শীতকালীন সবজি। এছাড়া এ সবজিটি ভিটামিন সমৃদ্ধ।
চাষ উপযোগী জমি ও মাটি
পালংশাক সব ধরনের দো-আঁশ মাটিতে ভালো ফলন দিয়ে থাকে।
জাত
দেশি পালংশাকের কোনো উন্নত জাত নেই। এ জন্য এদেশে স্থানীয় জাতের পালংশাকের আবাদ হয়ে থাকে। এছাড়া এদেশে বেশ কিছু বিদেশি জাতেরও আবাদ হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে নবেল জায়েন্ট, ব্যানার্জি জায়েন্ট, অলগ্রীন, পুষ্প জ্যোতি। এসব পালংশাকের জীবনকাল ৪৫-৫০ দিন।
বীজ বোনার সময়
ভাদ্র-পৌষ মাস পালংশাকের বীজ বোনার বোনার উপযুক্ত সময়।
বীজের পরিমাণ
প্রতি শতকে বীজের পরিমাণ- ১০০-১৫০ গ্রাম
প্রতি হেক্টরে বীজের পরিমাণ- ৩০-৪০ কেজি
বীজ বপন
পালংশাকের আবাদের জন্য মাটি ঝুরঝুরে করতে হয়। বীজ জমিতে বোনার আগে ২-১ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। বপনের সময় ২০-২৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে সারি করতে হবে। এরপর প্রতি সারিতে ৪-৫ সেন্টিমিটার দূরে করে বীজ বপন করেত হবে। এছাড়া বীজ বপনের সময় জমির গভীরতা রাখতে হবে ২-৩ সেন্টিমিটার।
সার প্রয়োগ
পালংশাক আমাদের জন্য প্রতি শতকে যে হারে সার প্রয়োগ করতে হবে, তাহলো- গোবর-২০ কেজি, ইউরিয়া-৮০০ গ্রাম, টিএসপি-৩০০ গ্রাম ও এমপি ৩০০ গ্রাম। জমিতে রস থাকলে সব সার একত্রে প্রয়োগ করা যায়। তবে অন্য সময় হলে ইউরিয়া অর্ধেক রেখে দিয়ে বীজ বোনার ১০-১৫ দিন পর তা উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
সেচ প্রয়োগ
জমিতে রস থাকলে পানি সেচের প্রয়োজন হয় না। তবে রসের অভাব হলে জমিতে পানি সেচ দিতে হয়। এসময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন জমিতে অতিরিক্ত পানি না জমে।
গাছ পাতলা করা
চারা গজানোর ২-৩ সপ্তাহ পর থেকে কচি চারা জমি থেকে তুলে ফেলতে হয়। এসব চারা পাতলা করে দিলে এসব উঠানো চারা শাস হিসেবে খাওয়া যায় এবং সে সাথে এসব জমির ফসলও ভালো হয়।
ফলন
পালংশাকের জমিতে যে ফলন পাওয়া যায়, তাহলো-
শতক প্রতি ফলন হয়- ২০-৩০ কেজি
হেক্টর প্রতি ফলন হয়- ৬-৮ টন
উপাত্ত সংগ্রহ-কৃষি তথ্য সার্ভিস























