খামারে কৃমির নিয়ন্ত্রণ

মুরগীরখামারে কৃমির আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যা করণীয় তা হচ্ছে:-
* লিটার সব সময় শুকনো রাখতে হবে।
* ভিজা স্যাত-স্যাতে লিটার কৃমির বংশ বিস্তারে সহায়ক। তাই পানির পাত্র থেকে পানি পড়ে যাতে লিটার ভিজতে না পারে বে ব্যবস্থার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।
* মুরগীর খাবার যাতে লিটারে না পড়ে সে দিকে নজর রাখতে হবে। কারণ লিটারে খাবার থাকলে মুরগীর লিটার ঠোকরানোর অভ্যাস গড়ে উঠে। ফলে কৃমির সংক্রমন দ্রুত হয়।
* একটি ঝাক বিদায় হবার পর লিটার বদল করতে হবে। পরিত্যাক্ত লিটারে কখনই নতুন ঝাক তোলা যাবে না। কৃমির প্রাথমিক পোষক যথা: মাছি, গোবরে পোকা, তেলাপোকা, শামুক, কোঁচো ইত্যাদি দমন করতে হবে।
* শেডে কবুতর, চড়–ই ইত্যাদি পাখিকে বাসা বাধতে দেওয়া যাবে না। কারণ এরা বাইরে থেকে রোগ জীবানু বহন করে আনতে পারে।
* সময়মত ঝাকের সমস্ত মোরগ মুরগীকে কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে। কৃমিনাশক ঔষধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান প্রধান ক্ষতিকারক কৃমি সমূহের উপর কার্যকর, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন অর্থবা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন ঔষধ বেছো নেওয়া একজন সচেতন খামারীর কর্তব্য। মোরগ মুরগীর কৃমি দমনের জন্য এতদিন বাজারে মুলত পাইপোরেজিন যৌগের কয়েকটি ঔষধ পাওয়া যেতো যেগুলোর কার্যক্ষমতা যেমনি সীমিত তেমনি দীর্ঘদিন একই প্রকার কৃমিনাশক ব্যবহারের ফলে এসব ঔষধের প্রতি কৃমির সহিষ্ণুতাও অনেক বেড়ে যাচ্ছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে মুরগীর খামার পোলনেকস নামে নেভামিসল যৌগের একটি কৃমিনাশক বাজারে এসেছে, যেটি পাইপোরোনুজিন যৌগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরী। মোরগ মুরগীর কৃমি দমনে লেভামিল যৌগের কার্যকারিতা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এটি অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করে মোরগ মুরগীর ক্ষতিকর কৃমি সমূহকে কার্যকর ভাবে বিনাশ করা সম্ভব। উপরোক্ত পোলনেকস নামের এই ঔষধটিতে রয়েছে ৭০% সুকরোজ (গ্লুকোজ) যা পানিতে মিশিয়ে খাওয়ানোর পর মোরগ মুরগীকে বাড়তি শক্তির যোগান দেয়। সম্পুর্ণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন এই কৃমিনাশক প্রয়োগে ডিমের উৎপাদন হারেও কোন তারতম্য ঘটে না। মুরগীর খামারে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সমুন্নত রেখে নিয়মিত কৃমি নাশক ব্যবহার করে কৃমি মুক্ত খামার স্থাপনে সচেষ্ট হতে হবে প্রতিটি খামারীকে। লিটার পদ্ধতির পরিবর্তে কেইজ পদ্ধতিতে মুরগী পালন করলে খামারে কৃমি সংক্রমনের সম্ভবনা অনেক কমে যায়।
























