
ড. বায়েজিদ মোড়ল, এই দিনে খুলনা জেলার তৎকালীন দৌলতপুর থানা বর্তমান দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।। তার পিতার নাম হাজী মোঃ বদিয়ার রহমান মোড়ল, মাতার নাম ফরিদা রহমান। তারা ৬ ভাই বোন। এর মধ্যে বায়েজিদ সবার বড়।
বায়েজিদ গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়াশুনা শেষ করে। তখন তাদের গ্রামের লাখোহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নবম-দশম শ্রেণী চালু হয়নি। তাই পাশের মাঝিরগাতি গ্রামের এ. কে. এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে যশোর বোর্ড থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে খুলনার ঐতিহ্যবাহী সরকারী ব্রজলাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিন একই কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন ২০০১ সালে । তবে তিনি ১৯৯৮ সালের ব্যাচ ছিলেন।

এরপর ২০০০ সালে এম এ অধ্যানরত অবস্থায় একুশে টেলিভিশনে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তখন একুশে টেলিভিশনের চারিদিকে নামক একটি ডকুমেন্টরী অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন পারভেজ চৌধুরী ও মোহাম্মাদ আলী হায়দার সাহেব তাদের সহকারী ছিলেন। তাদের মাধ্যমেই বায়েজিদের মিডিয়ার হাতে খড়ি। পরে গ্রামগঞ্জভিত্তিক অনুষ্ঠান দেশজুড়ে অনুষ্ঠানে কাজ করেন, এই অনুষ্ঠানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়।
২০০২ সালে একুশে টেলিভিশন বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৩ সালে চ্যানেল আই’তে যোগদান করে শাইখ সিরাজ সাহেবের হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের একজন গবেষনাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। চ্যানেল আই’তে বায়েজিদ “চ্যানেল আই দর্শক ফোরাম” নামে একটি অনুষ্ঠান পরিচালনাও করতেন। কিছু দিনের জন্য নিউজ প্রডিউচার হিসেবেও কাজ করেছেন।

২০০৫ সালে বাংলাভিশনে যোগদান করে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান শ্যামল বাংলা ও নদী ও জীবন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। ২০০৯ সালে বৈশাখী টেলিভিশনে যোগদান করে কৃষি ও জীবন অনুষ্ঠানের পরিকল্পণা, তথ্য সংগ্রহ, গবেষনা ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে তিনি গাজী টিভিতে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যোগদান করেন।। বর্তমানে জিটিভিতে সবুজ বাংলা নামক কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান ও হ্যালো ডাক্তার নামক স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
তার পরিচালিত শ্যামল বাংলা, নদী ও জীবন, কৃষি ও জীবন, সবুজ বাংলা অনুষ্ঠানের জন্য তিনি বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা সনদসহ ২২টি পদক ও ক্রেষ্ট পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এফএও এর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল জার্নালিষ্ট ফেডারেশন (IFAJ) ২০১৭ টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে ২য় স্থানের পুরস্কার হিসেবে ১০০০ ইউরো পাই। (এশিয়া মহাদেশের একমাত্র )২০১৬ সালে পোল্ট্রি মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থানের পুরস্কার পান পঞ্চাশ হাজার টাকা।

কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ কৃষি মন্ত্রনালয় থেকে ৩ বার পদক পেয়েছেন।অর্থ বাণিজ্যি অর্থনৈতিক পারফরমেন্স এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২ বার। বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটির এ্যাওয়ার্ড, মেরিল প্রথম আলো এ্যাওয়ার্ড। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ বার এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। খুলনা বিভাগীয় তারকা মঞ্চ এ্যাওয়ার্ড, ষ্টার মাল্টিমিডিয়া এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২ বার। এছাড়াও সিলেট চেম্বার অব কমার্স থেকে এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন । মেসেজ অব বাংলাদেশ ও এগ্রিভিশন থেকে এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
মাছে ও ফল মুলে যে ফরমালিন ব্যবহার হতো এটা প্রথম বায়েজিদ বাংলাভিশনের শ্যামল বাংলা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরেন। তাঁর নদী ও জীবন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পাবনা-সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরের উপর রিপোর্ট করে ২০০৮ সালে ১৫৯টি ঘরহীন মানুষকে ঘর করে দিতে পেরেছেন। সিডর পরবর্তি অবস্থার উপর রিপোর্ট করে বরগুনাতেও ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রচুর মানুষকে ঘর করে দিতে পেরেছেন। আর এগুলোর ব্যবস্থা করেছিলেন তাঁর অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ডঃ আতিউর রহমান স্যার।

বায়েজিদ টেলিভিশনে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, মানুষকে আনন্দ-বিনোদন দেওয়ার জন্য নয়, মানুষের মনের মাঝে উন্নত জীবনের স্বপ্ন তৈরী করে, তার বাস্তবায়নের জন্য।তাঁর পরিচালিত অনুষ্ঠান বিশেষ করে করে শ্যামল বাংলা ও সবুজ বাংলা অনুষ্ঠানের জন্য দেশ ও বিদেশ থেকে প্রতিদিন ৫শর অধিন ফোন কল পান। এর ভিতর ১০% ফোন রিসিভ করতে পারেন। প্রতিদিন ৪০-৫০টি মোবাইল এসএমএস, ইমেইল মেসেজের উত্তর দেন।
আমাদের প্রবাসীভাইরা দেশে এসে কি করবেন, তাদের জন্য ও দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্টির জন্য গাজীপুরে তাঁর বন্ধু ও বড় ভাই ডাঃ জহিরুল ইসলামের মাধ্যমে গাজীপুর রেসিডেন্সিয়াল ক্যাডেট কলেজের ভিতরে খামারের মধ্যে ৪রাত ৫দিন অবস্থান করে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন। ইতিমধ্যে ১৩ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষন শেষ করেছেন। যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডেইরি পোল্ট্রি ছাগল হাঁস খামার গড়ে তুলেছেন । অনেকের আগে থেকেই খামার ছিলো, প্রশিক্ষনের পরে অনেক ভালো করছে। এই ট্রেনিং সেন্টারে দেশের উচ্চশিক্ষিত, কম শিক্ষিত, প্রবাসী, ভারতীয় নাগরিক, দেশের স্বনামধন্য ব্যাক্তিবর্গ, বড় বড় ব্যাবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগনও আছেন।
বায়েজিদ মনে করেন তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার এটি। তিনি এই বাংলার মানুষের সেবক। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। অসহায়-নিপিড়ত-গ্রামের খেটে খাওয়া পরিশ্রমী কৃষকদের পাশে থেকে তাদের পরামর্শ দিতে পেরেছেন, এখনো দিচ্ছেন, যতদিন কথা বলার মতো ক্ষমতা আল্লাহ রাখবে ততদিন তিনি চেষ্টা করে যাবেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডঃ এম এ রহিম স্যারের সুপারভিশনে “বাংলাদেশ এগ্রিকালচার সেক্টর ডেভেলোপমেন্ট রোল অব ইলেকট্রনিক মিডিয়া” টপিক্স এর উপর ফিলোসপি অব ডক্টরেট (পিএইচ ডি) ডিগ্রি অর্জন করেন ২০১২ সালে। তিনি খুলনার বিএল কলেজে পড়াশুনার সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম। ও বিএল কলেজ শাখার কমিটিতে সাহিত্য সম্পাদক ও আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বাংলা সেমিনারের সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন ৩ বছর । বর্তমানে আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের খুলনা জেলার সহ-সভাপতি। বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউটিউবার এসোসিয়েশনের সভাপতি। বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল জার্নালিষ্ট ফোরামের উপদেষ্টা । বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সার্জেন্ট ছিলেন তিনি।
বিভিন্ন জার্নালে বিষয়ভিত্তিক লেখালেখির পাশাপাশী বায়েজিদের লেখা ৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে। ভালবাসিনি তবে (উপন্যাস), প্রিয়তমার উপহার (ছোট গল্প), ওরে বাঁধি কিছু গান কিছু কবিতায় (গীতি কবিতা)। ২০০৫ সালে খুলনার দিঘলিয়া গ্রামের কন্ঠশিল্পী শেখ আবুল বাশারের কন্যা মনিমালা খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। তাঁর এক কন্যা মোবাশশিরা তাসনিম নবম শ্রেনীতে পড়ে ও এক পুত্র আরহাম তাহমিদ দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ে। বায়েজিদ ২০১৮ সালে ওমরাহ পালন করেন। তিনি ঢাকাতে বসবাস করেন। সবাই ড. বায়েজিদ ও তাঁর পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।
























