RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

কুশি ধান উৎপাদন প্রযুক্তি

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
মে ২৮, ২০১৯ ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
Kushi rice production technology

Kushi rice production technology

ড. মো. বায়েজিদ মোড়ল: ‘কুশি ধান’ বলতে একই মৌসুমে দ্বিতীয়বার ধান উৎপাদন পদ্ধতিকে বোঝায়। সারা বিশ্বে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন সহ বিভিন্ন কারনে খাদ্যশস্যের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশেও খাদদ্রব্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বের এই বিরূপ পরিস্থিতিতে খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নাই। বাংলাদেশ সরকারও খাদ্য শস্য বিশেষ বিশেষ করে ধান উৎপাদন বাড়িয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

এই অপ্রত্যাশিত বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে এবং বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যশস্য তথা ধান উৎপদন বৃদ্ধির এই প্রয়াসকে সার্থক করার লক্ষ্যে কুশি ধান উৎপাদন প্রযুক্তি কৃষক গ্রহনযোগ্য করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউট এর প্রাক্তন মহাপরিচালক ডঃ এম. এ. হামিদ মিয়ার পরামর্শে আরডিআরএস গত তিন বছর ধরে গবেষণা করে আসছে। পূর্বে কৃষকরা রেটুন বা মুড়ি ফসলের মাধ্যমে একই ধান গাছ থেকে দ্বিতীয়বার ধান সংগ্রহ করত। সেই দৃষ্টিকোন থেকে কুশি ধান প্রযুক্তি নতুন কিছু নয়। দেশে-বিদেশের অনেক বিজ্ঞানীসহ ব্রির কয়েকজন বিজ্ঞানীও এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করেছেন। আরডিআরএস গবেষণাকালে দেখতে পায়, কুশিধান প্রযুক্তির তুলনায় আমন মৌসুমে প্রচলিত ধান উৎপাদন পদ্ধতিতেই কৃষকদের প্রকৃত আয় বেশি হয়। সম্ভবত সেই জন্যই মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় না।

আরডিআরএস পরবর্তীতে তার গবেষণাকে বিস্তৃত করে কুশিধানকে একটি অতিরিক্ত ফসল হিসেবে গবেষণা করতে থাকে। দেখা যায়, মে মাসের মাঝামাঝিতে বোরো ধান কাটার পর দুই মাস পর্যন্ত জমি পতিত থাকে। জুলাই মাসের শেষ দিকে এই জমিতে কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপণ করে। মাঝের এই দুই মাস পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে কুশিধান প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করে আরডিআরএস বছরে তিনবার ধান উৎপাদন করতে আগ্রহী এবং লাভবান হবেন এবং দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে।

গত তিন বছরের অবিরাম গবেষণায় এই প্রযুক্তিকে পরিশীলিত করে এ বছর কৃষকের মাঠে সম্প্রসারন করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের ৬টি জেলায় ৪২ জন কৃষকের জমিতে এ বছর এই প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে এই প্রযুক্তির সার্থক বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়বে, যা আগামী বছরে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সাধারণত মে মাসের প্রথম দিকে বা মাঝামাঝি সময়ে কৃষক বোরো মৌসুমের ধান কাটা শেষ করেন। পরবর্তীতে জুলাই মাসের শেষ দিকে এই জমিতে কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপণ করেন। মাঝের এই দুই মাস জমি ফাঁকা পড়ে থাকে। বোরো এবং আমনের মধ্যবর্তী এই ফাঁকা সময়ের মধ্যে কৃষকরা কুশিধান প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করে বছরে দুইবারের পরিবর্তে তিনবার ধান উৎপাদন করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারবে। বোরো ধান কেটে নেয়ার পর ৪-৫ দিনের মধ্যে মাটিতে থেকে যাওয়া ধান গাছের গোড়া থেকে নতুন কুশি বের হয়। ধান কাটার ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে এই কুশিগুলো প্রায় ৬ ইঞ্চির মতো লম্বা হয়ে যায়। গিট সহ এই কুশিগুলোকে ছোট অবস্থায় (ধানকাটার ১৫ দিনের মধ্যে) ভেঙ্গে নিয়ে ধানের চারার মতো করে জমিতে রোপন করলেই একই মৌসুমে দ্বিতীয়বার ধান উৎপাদন সম্ভব হবে।

যে সমস্ত জমিতে কৃষক আমন ধান করে এবং বর্ষায় যে সমস্ত জমি ডুবে যায় না, সেই জমিতে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব। সাধারণত মে মাসের শেষ থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে কুশি ধান রোপন করা যায়। এরপরে রোপণ করলে কুশির বয়স বেশি হয়ে যাবে বিধায় ফলন কম হবে। এই কুশি রোপন করার আগে জমিকে ভালভাবে চাষ করে একর প্রতি নিম্নোক্ত পরিমাণ সার প্রয়োগ করে জমিকে কাঁদা করে নিতে হবে।

১।                            টিএসপি      ২০ কেজি

২।                           পটাশ          ৩২ কেজি

৩।                           জিপসাম     ১৮ কেজি

৪।                           জিংক         ২ কেজি এবং

৫।                           গোবর সার   ১০০০ কেজি

প্রতি গোছায় ৩-৪টি কুশি রোপণ করা যাবে। লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব হবে ৮ ইঞ্চি এবং চারা থেকে দূরত্ব হবে ৬ ইঞ্চি। কুশি রোপণের ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতি কুশি থেকে ১টি করে ধানের ছড়া বের হবে। এটি অনাকাংখিত ছড়া। ধারালো কাঁচি দিয়ে এই ছড়া কেঁটে দিতে হবে।

অনাকাংখিত ছড়া কেঁটে দেয়ার পাশাপাশি একর প্রতি ৩৫ কেজি ইউরিয়া সার প্রথমবারের মতো উপরি প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপণের ৩০ দিনের মধ্যে একর প্রতি আরো ৩৫ কেজি ইউরিয়া দ্বিতীয়বার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। আগাছানাশক প্রয়োগ করে আগাছা দমন করতে চাইলে অনাকাংখিত ছড়া কেটে ইউরিয়া প্রতম উপরি প্রয়োগের পর রনষ্টার বা কন্ট্রা বা এই জাতীয় আগাছানাশক ২০ এম এল ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, আগাছানাশক স্প্রে করার সময় জমিতে যেন ছিপছিপে পানি থাকে। স্প্রে করার পর জমিতে ৫-৬ দিন ছিপছিপে পানি নিশ্চিত করতে হবে। এভাবে আগাছানাশক ব্যবহার করলে সাধারণত আর আগাছা হয় না। আগাছানাশক ব্যবহার না কররে উইডার বা নিড়ানী দিয়ে আগাছা পরিস্কার করতে হবে। চারা রোপনের প্রথম ৪৫ থেকে ৫০ দিন পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। এরপর আর আগাছা পরিস্কার করার প্রয়োজন নেই।

সাধারণত এই সময় বৃষ্টিপাত হয় বিধায় জমিতে সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয় না। যদি প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হয়, তাহলে সেচের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে ধানের কুশি পর্যায়ে এবং দুধ ধান পর্যায়ে পানি নিশ্চিত করতে হবে। ধান গাছের অনাকাংখিত ছড়া কেটে দেয়ার পর এবং সেই সাথে প্রথম ইউরিয়া উপরি প্রয়োগের পর ধান গাছের গোড়া থেকে কুশি বের হতে শুরু করবে। এই সময়ে যেন জমিতে বেশি পানি না থাকে। বেশি পানি থাকলে কুশি কম বের হবে। আবার জমি যেন শুকিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

চারা রোপনের ৩০-৩৫ দিন পর কাংখিত ছড়া বের হতে শুরু করবে। খেয়াল রাখতে হবে এই সময়ে যেন জমি শুকিয়ে না যায়। চারা রোপনের ৪৫-৫০ দিনের মধ্যে সমস্ত ধানের ছড়া বের হয়ে যাবে।

পোকামাকড় রোগবালাই দমনঃ

যেহেতু এই প্রযুক্তি প্রথমবারের মতো মাঠ পর্যায়ে যাচ্ছে এবং যেহেতু মাত্র নির্দিষ্ট সংখ্যক কৃষক এই প্রযুক্তিতে ধান উৎপাদন করছে, তাই এই সময় বেশির ভাগ জমিই ফাঁকা থাকবে, সেজন্য পাখি, পোকা-মাকড়ের উপদ্রব বেশি হতে পারে। পোকা-মাকড় দমনের জন্য জমিতে প্রথম ইউরিয়া উপরি প্রয়োগের সময় একর প্রতি ৪ কেজি কার্বোফুরান ৫ কেজি দানাদার জাতীয় কীটনাশক ছিটানো দরকার। দুধ ধান পর্যায়ে গান্ধী বা মাজরা পোকার সময় একর প্রতি ৪ কেজি কার্বোফুরান ৫ কেজি দানাদার জাতীয় কীটনাশক ছিটানো দরকার। দুধ ধান পর্যায়ে গান্ধী বা মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা গেলে উপযুক্ত কীটনাশক স্প্রে  করতে হবে।

পরবর্তী আমন মৌসুমের জন্য ধানের বীজ বপনঃ

 মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কুশি ধান রোপন করলে আগষ্ট মাসের মাঝামাঝিতে ধান কাটতে হবে। সেজন্য ধান কাটার সাথে সাথে পরবর্তী আমন মৌসুমের চারা লাগানোর জন্য ব্রি ধান-৪৬ বা নাবীতে হয় এমন জাতের আমন ধানের বীজ জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে বীজতলায় বীজ ফেলতে হবে। যাতে করে কৃষক আগষ্ট মাসে কুশি ধান কেটে নেয়ার সাথে সাথে ২০-২৫ দিন বয়সের আমন মৌসুমের ধানের চারা জমিতে লাগাতে পারে।

ধান কাটাঃ

চারা রোপনের মাত্র ৭৫ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে এই ধান কাটার উপযুক্ত হবে। জুন মাসের এক তারিখে চারা লাগালে আগষ্টের মাঝামাঝিতে কৃষক ধান কাটতে পারবে।

ফলনঃ

উপরে উল্লেখিত প্রযুক্তি যথাযথভাবে অনুসরন করলে কৃষক হেক্টর প্রতি ৪ টন (একর প্রতি ১,৬০০ কেজি) ধান পাবেন।

মনে রাখা দরকারঃ

যেহেতু এই প্রযুক্তিতে একই জমিতে এক বৎসরে পরপর তিনবার ধান উৎপাদন করা হবে, তাই পোকা-মাকড়, রোগ-জীবানুর পোষককে ধ্বংস করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় বছর এক মৌসুমে ধানের পরিবর্তে আলু বা অন্য যে কোন রবি ফসল করা দরকার।

উপাত্ত সংগ্রহ: এম জি নিয়োগী, এগ্রিকালচার কোঅর্ডিনেটর, আরডিআরএস বাংলাদেশ।

সর্বশেষ - গরু পালন