সবার মুখে একই কথা দুর্নীতি থামানো যাচ্ছে না !
————————————————————
মোহাম্মদ নুরুজ্জামান । সম্পাদক ও প্রকাশক, “ সাপ্তাহিক কৃষি আমিষ “

দুর্নীতি হচ্ছে একটি রাস্ট্রের উইপোকা । এই উই পোকাকে নির্মুল করতে না পারলে বর্তমান অন্তরবর্তিকালীন সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হবে । দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু উপদেস্টা ইতিমধ্যে ফিতা কাটা প্রধান অতিথী হয়ে গতানুগতিক ভাষন দেওয়া শুরু করেছেন , এই ভাষনে মনোযোগী না হয় সংস্কারে মনোযোগী হতে হবে । এখনো সরকারী প্রতিষ্টানে ঘুষ বানিজ্য চলছে এবং দাপটের সাথে । এসব উইপোকাকে পিষিয়ে দিতে হবে তা না হলে আবার বংশ বিস্তার হবে ।
আমাদের মনে রাখতে হবে অতিতের সরকার দেশকে একটি সুন্দর কাগজের ঠোংগা বানিয়ে ছেড়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে । আরো একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় । মনে আছে , সাবেক প্রধান মন্ত্রীর পিওন চারশত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন । নিশ্চয় প্রতিটি উপদেস্টাদের এরকম পিওন , এপিএস , পিএস নিয়োজিত আছেন । এরাই কিন্তু উইপোকাদের বসের ভুমিকা পালন করে থাকেন। দুর্নীতির খবর উপদেস্টাদের টেবিলে এদের অনেকেই পৌঁছাতে দেয় না, প্রকাশিত দুর্নীতি খবরের ঠিকানা বের করে এরাই তখন দফারফা করে থাকে ।
আমি উপদেস্টাদের অনুরোধ করব এ ব্যাপারে আপনাদের অধিনে এসব নিয়োগকৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি সচেতন হবেন । দেখেন পাছে এরাই যেন আপনাদের ইমেজ নস্ট না করে , ডুবিয়ে না দেন ।

আমি একজন ২৭ বছরের প্রবীন কৃষি সাংবাদিক হিসেবে অভিজ্ঞতার আলোকে বলব, বর্তমান মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় উপদেস্টা ফরিদা আখতার যে ভদ্রচিত ভাবে মন্ত্রনালয় চালাচ্ছেন তাতে খুব অল্পদিনের মধ্যেই মন্ত্রনালয়সহ অধিদপ্তরগুলোতে প্রানচান্চল্য ফিরে আসবে এবং সেটি উন্নয়নের নয় দুর্নীতির ।
আমারা জানি Livestock dairy development projects (LDDP) এর মেগা প্রকল্পের নারি নক্ষত্র টান দিলেই বেরিয়ে আসবে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি । এই প্রকল্পের দুর্নীতি সম্পর্কিত নানা খবর এবং নোট ও নানা পেপার উপদেস্টা মহোদয়ের নিকট পাঠানোর পরেও আজ অব্দি প্রকল্পের তদন্ত বা প্রকাশিত খবরের সত্যতা যাচাই করার কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না বা গেল না ।
সাবেক মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিমের বিদেশ যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা যখন চাওয়া হলো তার পুর্বেই মন্ত্রী অবোলা পশু পাখি হাঁস-মুরগি ও গরু ছাগলের শত শত কোটি টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেলেন । আমি হলফ করে বলতে পারি প্রানিসম্পদ ও মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতি আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের কোথায় যেন একটি সুপ্ত দুর্বলতা আছে ।
কারন আওয়ামী সককারের আমলে এই সেক্টরগুলো নিয়ে বিশেষ করে প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের LDDP এর সাড়ে পাঁচহাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে দেশের প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্রে দুর্নীতির খবর হয়, এমন কি শ. ম. রেজাউল করিমেরও দুর্নীতির খবর আসে পত্রিকায় , তখন দুদক বেশ নড়েচড়ে বসলো, তারপর নিভু নিভু হয়ে গেল দুদক , শেষমেষ নিভেই গেল ।
দেশের সাধারন জনগন আর কোনো প্রতিষ্ঠানে ঘুষ বানিজ্য দেখতে চান না , বরং যেসব সুবিধাভোগী জনগন নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য ঘুষ প্রদানে সচেষ্ট হবেন তাঁদেরও শাস্তির ব্যবস্হা করতে হবে ।
আমাদের পুনরায় চতুর্দিক থেকে বিদেশী অর্থ আসছে ভেংগে যাওয়া অবকাঠামোর পুননির্মানের জন্য । বিশেষ করে আমাদের অর্থনৈতিক খাত ভংগুর হয়ে পড়েছে । এখন আবার এই অর্থ যদি দুর্নীতির গ্রাসে পড়ে, উইপোকা বাসা বাঁধে, এরপর আমরা যাব কোথায় ? কি জবাব থাকবে তাদের মুখে, যারা দেশ পরিবর্তনের জন্য আমাদের আশার আলো দেখিয়েছেন ?
























