RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
সোমবার , ২৩ মার্চ ২০২৬ | ৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

মাছ সংরক্ষণে ফরমালিন, মানব জীবন হরণে ফরমালিন

প্রতিবেদক
Alamin Pradan
আগস্ট ৩১, ২০১৮ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

মাছ সংরক্ষণে ফরমালিন
মানব জীবন হরণে ফরমালিন

ড. বায়েজিদ মোড়ল

মাছ একটি ছোট্ট শব্দ। নাম শুনলেই মনে প্রশ্ন জাগে কি মাছ? রুই কাতল সরপুটি না কই শিং। আমাদের জাতি সত্ত¡াকে বলা হয় মাছে ভাতে বাঙ্গালী। আর এই মাছে ভাতে বাঙ্গালী প্রবাদটির যথার্থতা অনুভব করা যায় বাঙ্গালীর খাবার টেবিলে মাছ না থাকলে। প্রতিদিন বর্ধিত খাদকের সঙ্গে দৌড়ে মাছেরা পড়ে গেছে যোজন যোজন মাইল দুরে। তাই আজকের ১৫ কোটি বাঙ্গালীর রসনায় প্রতিদিন মাছের স্বাদ পৌছে দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারপরও খাবারে মাছ চাই। এই চাওয়াকে পূরণ করতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে আমদানী করা হচ্ছে মাছ।

স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল দৃষ্টি জুড়ে দেশ শিরোনামে বাংলাভিশন এর কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান শ্যামল বাংলা’র প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে মাছের বাজার দর, ভোক্তার চাহিদা, বিক্রেতা ও উৎপাদকের লাভ ক্ষতি ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমার চোখের সামনে বেরিয়ে আসে ফরমালিন নামক বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থটির নাম। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মৃতদেহ সংরক্ষনে ব্যবহৃত এ পদার্থটি কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা মাছের পঁচন রোধে এবং ঔজ্জল্য বৃদ্ধিতে ব্যবহার করছে। মাছ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস। উর্বর মস্তিষ্ক গঠনে মাংসের চেয়ে মাছের ভূমিকা বেশী কিন্তু মাছ যদি মানব শরীরে আমিষের পরিবর্তে বীষ সরবরাহ করে তো মস্তিষ্ক উর্বরের পরিবর্তে জীবন নাশের আশংকাই প্রকট।

ঢাকার কিছু খুচরা ও পাইকারী বাজারের মৎস্য বিক্রেতারা জোর দিয়ে জানায় বার্মা তথা মায়ানমার থেকে আমদানীকৃত মাছে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। ঢাকার এই মৎস্য বিক্রেতাদের অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে আমরা গত ২০০৬ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গিয়েছিলাম কক্সবাজারের টেকনাফ নৌ বন্দরে। বাংলাদেশ ও মায়ানমার মধ্যে আমদানী-রপ্তানী, এ বন্দরের মাধ্যমে হয়। মায়ানমার থেকে আমদানীকৃত পণ্যের মধ্যে মাছ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন প্রায় ৪০ টন রুই, কাতল, পাঙ্গাশ এবং ১০ টন ইলিশ মাছ আসে মায়ানমার থেকে। রুই, কাতল মাছসমূহ কাঠের মেকানাইজড বোটের হ্যাচের মধ্যে বরফ দিয়ে আনা হয়। প্রতিটি রুই মাছের ওজন ৩ থেকে ৮ কেজি এবং কাতল মাছের ওজন ৫ থেকে ১৫ কেজি। প্রতিটি মাছ একক ভাবে একটি পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো থাকে। মেকানাইজড বোটের হ্যাচের মধ্যে এক স্তর মাছ তার ওপর এক স্তর বরফকুচি আবার মাছ আবার বরফ। এভাবে পর্যায়ক্রমে মাছ ও বরফ স্তরিতভাবে সাজিয়ে, হ্যাচে ভরে পাঠানো হয় টেকনাফ বন্দরে। অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত সময় ক্ষেপনে মাছ সংরক্ষনের জন্য বোটে মজুদ রাখা হয় আরো অতিরিক্ত বরফ। ইলিশ মাছগুলি কার্গো জাহাজের হিমায়িত কক্ষে পুরে টেকনাফ বন্দরে আনা হয়।

আমদানীকারকরা জানায় রুই ও কাতল মাছগুলি মায়ানমারের বৃহৎ বৃহৎ মৎস্য খামারে চাষ করা হয়। এজন্য মায়ানমারের মাছের বৃদ্ধি বছরে প্রায় ৩ কেজি। যা বাংলাদেশের তুলনায় ২ থেকে ৩ গুণ বেশী। ইলিশ মাছ গুলি বঙ্গোপসাগরের। এগুলি মায়ানমারের সীমানা থেকে ধরা হয়।

সূত্র মতে মায়ানমারের বন্দর শহর মংডু থেকে মাছগুলি টেকনাফ বন্দরে আসে। মাছ ধরা, প্যাকিং, হ্যাচিং এবং মংডু থেকে টেকনাফ পৌছতে সময় লাগে ৩/৪দিন। অত্যন্ত পরিশ্রমী মায়ানমারের মৎস্যবোট শ্রমিকেরা, বোটের হ্যাচ থেকে মাছ দ্রুত বের করে টেকনাফ বন্দর জেটিতে জড়ো করে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশী শ্রমিকেরা এই মাছ নিয়ে যায় ৫০/৬০ মিটার দীর্ঘ ব্রীজের ওপাশে শুল্ক নির্ধারণী ওজন স্পটে। ওজন শেষে এখানেই অপেক্ষামান কোম্পানীর ইনস্যুলেটেড কাভার্ড ভ্যানে মাছগুলি তুলে দেওয়া হয়। কাভার্ড ভ্যানেও এক স্তর মাছ এবং এক স্তর বরফ পর্যায়ক্রমে সাজিয়ে ভ্যানের দরজা বন্ধ করে সিলগালা করে দেওয়া হয়। কাভার্ড ভ্যানের মধ্যে মাছ ২৪ ঘন্টা থেকে ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত ভাল থাকে। বন্দরের অদুরে বিডিয়ার চেকপোষ্ট। বিডিআর চেকপোষ্টে পরীক্ষা নিরিক্ষনের পর কাভার্ড ভ্যানের দরজায় সিলগালা করে ভ্যান রাতের বেলা রওনা হয়ে যায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার উদ্দেশ্যে। সিলগালা করার কারণ রাস্তার মাঝে গাড়ীর ড্রাইভার কিংবা গাড়ীর কোন ব্যাক্তি যাতে দরজা খুলে মাছ বের করতে না পারে। তার জন্য সতর্কতার ব্যবস্থা নেয় আমদানীকারকরা। মায়ানমারের মৎস্য আমদানীকারকদের একটি হলো মাসুদ ফিশ প্রসেসিং এন্ড আইস কমপ্লেক্স। তারা প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ টন মাছ আমদানী করে বলে জানায় । বন্দরে কোন রূপ দেরি করলে তাদের অনেক ক্ষতি হবে। তাছাড়া তাদের প্রতিদিনের মাছ প্রতিদিন বিক্রি হয়ে যায়। সে কারনে তাদের কোনরূপ ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে হয়না। তাছাড়া কোনভাবে ধরা পড়লে তাদের মাছের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে এবং কোটি কোটি টাকা লোকসান হয়ে যাবে।

মায়ানমার থেকে আমদানীকৃত মাছে ফরমালিন প্রয়োগ প্রসঙ্গে টেকনাফ শুল্কস্টেশনের সুপারিনটেন্ড মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান তিনি নতুন যোগদান করেছেন এই বন্দরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় পড়েছেন টেকনাফ নৌবন্দর দিয়ে মায়ানমার থেকে ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষিত মাছ বাংলাদেশে আসে। তিনি যোগদানের পর খোজ খবর নিয়ে জানতে পারেন যে মায়ানমার থেকে ফরমালিন দিয়ে মাছ সংরক্ষিত করে কোন দেশেই পাঠানো হয় না। উলে­খ্য যে মায়ানমারের মাছ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হয়ে থাকে। তাদের মাছের ব্যবসা অল্পদিনের জন্য নয় যে, ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষণ করে তাদের মাছ ব্যবসাটার ধ্বস নামাবে।

আমদানীকারকদের অনুপস্থিতিতে মায়ানমারের বোট থেকে দৈবচয়িত নমুনায়ন পদ্ধতিতে আমরা মাছ সংগ্রহ করি। এই মাছ যথোপযুক্ত ভাবে সংরক্ষণ করে অর্থাৎ বরফ দিয়ে চলে আসি কক্সবাজার, কক্সবাজার এসে আমরা ডীপফ্রিজে রেখে দিয়ে আবার বরফ দিয়ে আসি চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে এসে পুনরায় বরফ দিয়ে ঢাকায় এনে কাঁঠালবাগানের মাছ বিক্রেতাদের দিয়ে মাছ কাটিয়ে মাছের ভিতরের নাড়িভুড়ি, ফুলকা, নাভিসহ প্রয়োজনীয় মাছের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদে আমরা পৌছে দিই ফরমালিন পরীক্ষার জন্য। প্রফেসর আ ব ম ফারুক, প্রফেসর ড.আবু সারা শামসুর রউফ ও প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড.মো.আফতাবউদ্দিন এর যৌথ পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্টে ফরমালিন অনুপস্থিতি প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ মায়ানমারের বোট থেকে সংগৃহিত মাছে ফরমালিনের উপস্থিতি মেলেনি। তবে ক্লোরিন এর অস্থিত্ব পাওয়া যায়। ক্লোরিন ফরমালিনের ন্যায় ক্ষতি কম। একটু বেশী পরিমানে থাকলে পেটের পীড়াসহ পেট ফাপা দেখা দিতে পারে। তবে মাছগুলি কেটে চা চামচের ২ চামচ লবন অথবা ভেনেগার দিয়ে ১০-১৫ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রেখে কয়েকবার ভাল করে পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে খাওয়ার উপযোগী হবে। তাছাড়া ভেনেগার দিয়ে মাছ ধুয়ে রান্না করলে মাছের স্বাদ বেড়ে যায়। প্রফেসর ড. আ ব ম ফারুক জানান মোবাইলকোর্ট থেকে ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে ১১টি স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পান তার মধ্যে ৯টিতে ফরমালিন ও ৪টিতে ফরমালিনের পাশাপাশী মাছের রং বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের টেক্সটাইল কালার ব্যবহার করা হয়েছিল। মাছগুলি ছিল রুই, কাতল, কাচঁকি, টেংরা, পুটি ইত্যাদি। মায়ানমার থেকে শুধু মাত্র রুই, কাতল, পাঙ্গাশ আর ইলিশ আমদানী করা হয়। কাচঁকি, টেংরা, পুটি আমদানী করা হয় না। এই কাচঁকি, টেংরা ও পুটিতে ফরমালিন দিচ্ছে কারা? নিশ্চই বাংলাদেশের ভিতরের এই খুচরা ও ছোট পাইকার বিক্রেতারা। এ ক্ষেত্রে আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি, আমদানীকৃত মাছে যদি ফরমালিন মিশৃত হয়ে থাকে এবং ঢাকার খুচরা বাজারের মাছে যদি ফরমালিন মিশৃত হয় তাহলে সেটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের পরেই হবে। এককভাবে মায়ানমার কিংবা রপ্তানীকারক দেশকে দায়ী করা ঠিক না। তাছাড়া আমরা যে তিনটি মাছ স্যাম্পল হিসেবে এনেছিলাম উক্ত মাছ তিনটিতে ফরমালিন পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন সময় যেসব মাছ আসছে তাতে ফরমালিন আছে কিনা বা ছিল কিনা এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করছি না।

আমি বাংলাভিশনের শ্যামল বাংলা অনুষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে আমার সাধারন মানুষ ও কৃষকের দোর গোড়ায় গিয়ে জানতে চাই, জানাতে চাই। আমরা ফরমালিন সংক্রান্ত চারটি প্রতিবেদন প্রচার করি বাংলাভিশনে। গত ২৪ শে অক্টোবর ২০০৬ তারিখে আমাদের শ্যামল বাংলার ৫ম পর্বে প্রথম প্রতিবেদন এই পর্বটি প্রচার হওয়ার সাথে সাথে মনে হলো মৌচাকে ঢিল ছুড়া হয়েছে। অসংখ্যা দর্শক আমাদের চিঠি লিখে ফোন করে, এই ফরমালিন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এরপর গত ২৪ শে নভেম্বর ২০০৬ তারিখে আমাদের শ্যামল বাংলার ৮ম পর্বে প্রচার হয় ২য় প্রতিবেদন। ঢাকার বাজারের এই মাছ বিক্রেতাদের কথার সত্যতা খুজে বের করার জন্য আসে অসংখ্য চিঠি ও ফোন। সাধারণ মানুষ জানতে চায় আমরা কি খাচ্ছি? মাছের মধ্যে দেয়া ফরমালিন? ফরমালিনের বিষক্রিয়া আগুনের তাপে নষ্ট হয় না। তাহলে আমাদের অবস্থা কি হবে? এরপর গত ২৬শে জানুয়ারী ২০০৭ তারিখে আমাদের শ্যামল বাংলার ১৪ তম পর্বে প্রচার করি ৩য় প্রতিবেদন এবং গত ০৯ ফেব্র“য়ারী ২০০৭ তারিখে আমাদের শ্যামল বাংলার ১৬ তম পর্বে প্রচার হয় চতুর্থ প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন সপ্তাহের ৫ দিন শুক্র, শনি, রবি, সোম ও মঙ্গলবার প্রচার হওয়ার পর বর্তমান তত্ত¡াবধায়ক সরকারের মাননীয় কৃষি, বন, পরিবেশ, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. চৌধুরী সাজ্জাদুল করিম (সি এস করিম) বাজার থেকে ফরমালিন নির্মুল করার জন্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফ এ ও) এর প্রতিনিধি, এ ডি স্পাইজকার এর সহায়তায় ব্যাংকক থেকে ’কিট ফর ফরমালিন’ নামক একটি মেশিন সংগ্রহ করেন। যা নিয়ে গত ২০ ফেব্র“য়ারী ভ্রাম্যমান আদালতের প্রতিনিধিরা পুরানঢাকার রায় সাহেব বাজারে অভিযান চালান এবং উপযুক্ত প্রমানসহ মাছ আটক ও অপরাধিদের গ্রেফতার করেন। এর পর গত ২৪শে ফেব্র“য়ারী ভ্রাম্যমান আদালতের তারকা খ্যাত ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ-দৌলা ঢাকার সোয়ারী ঘাট মাছের পাইকার বাজারে অভিযান চালিয়ে উপযুক্ত প্রমান স্বরূপ ১৬৪ মণ ২৩ কেজি রুই, কাতলা, চিংড়ী ও চেওয়া প্রভৃতি মাছ আটক করেন। আটককৃত মাছগুলি ঢাকার মাতুয়াইল এলাকায় নিয়ে মাটির নিচে পুতে নষ্ট করা হয়। এককভাবে ঢাকার সব মাছ বিক্রেতারা আমদানীকৃত মাছে ফরমালিনযুক্ত হয়ে আসে একথা বলে নিজেদের সাধু প্রমান করার চেষ্টা করে তখন ভ্রাম্যমান আদালত পুনরায় গত ২ মার্চ ও ৩ মাছ কক্সবাজারের টেকনাফ নৌবন্দর গিয়ে আমদানীকৃত মাছে ফরমালিন মিশৃত আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখতে পায় সেখানেও মাছে ফরমালিনের উপস্থিতি মেলেনি। এখন বলতে চাই মাছে ফরমালিন আমাদের দেশের ভিতরে কেউ না কেউ দিচ্ছে। আমি শুধু ভোক্তাদের একটি কথা বলব সেটা হচ্ছে ফরমালিন মিশৃত পানিতে হাত রাখলে বা বার বার ফরমালিন হাত দিয়ে নাড়া চাড়া করলে হাতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষত বা ঘা তৈরী হয়। যে ক্ষত ঘা সহজে নিরাময় হয় না। আপনারা যারা নিয়োমিত বাজারে যান এবং মাছ ক্রয় করেন আপনারা একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন। যেসব মাছ ব্যবসায়ীরা মাছে ফরমালিন দেন কিংবা ফরমালিন যুক্ত মাছ বিক্রি করেন তাদের হাত সাদা এবং হাতে ঘা হয়ে গেছে। এমন প্রমান পেলে ঐ বিক্রেতাকে সতর্ক করে দিয়ে তার কাছ থেকে মাছ ক্রয় না করাই ভালো।

ফরমালিন দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করে যিনি মাছ বিক্রি করছেন তার জীবনও নিরাপদ নয়। যেমন নিরাপদ নয় আমরা যারা এই ফরমালিন মিশৃত মাছ খাচ্ছি। এখনই এদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাড়াতে হবে। বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাছ কিনতে হবে। ফরমালিনকে না বলতে হবে। বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ফরমালিন থেকে নিজেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে ফরমালিন মুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

খুচরা বাজারে অন্যান্য পণ্যের ন্যায় মূল্য বিক্রেতারা জোটবদ্ধ হয়ে উচ্চ হারে নির্ধারণ করে রাখে। ফলে বাজার শেষে রাতের বেলা অনেক মাছই অবিক্রিত থেকে যায়। তখন প্রয়োজন হয় মাছ সংরক্ষণের, প্রয়োজন হয় বরফের। কিন্তু বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততা, বরফের উচ্চ দাম ( ১২০ থেকে ১৬০ টাকা মণ ) হওয়ায় অধিক মুনাফা লোভী এই বিক্রেতাদের বিবেককে হরণ করে। তখন তাদের হাতে উঠে আসে সুলভে পাওয়া ফরমালিন। ফরমালিনের বিষক্রিয়া সম্পর্কে সামরিক চিকিৎসক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিকুর রহমানের সাথে কথা হয়। তিনি জানান তিনি যখন মেডিকেলের ছাত্র ছিলেন তখন ক্যানসারের রোগীর উপর গবেষণা করবেন ঐ সময় সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান খুজে মাত্র পাঁচ জন রোগী পেয়েছিলেন। আজ ঘরে ঘরে ক্যানসারের রোগী। আজ ফরমালিন মিশৃত মাছ খেলে কালই রোগ ধরা পড়বে না। রোগ ধরা পড়তে পাঁচ বছর থেকে দশ বছর বা এর চেয়েও বেশী সময় লাগবে। শরীরের কোথাওনা কোথাও ক্যান্সার বা আলসার দেখা দিবেই, এর থেকে রক্ষা নেই। ফরমালিনের বিষক্রিয়া সম্পর্কে ঢাকা সিটি কলেজের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর শামছুল হক জানান ফরমালিন বিভিন্ন মাত্রায় পানিতে মিশিয়ে মৃত জীবদেহ সংরক্ষণ করা হয়। ফরমালিনের বোতলে নাক দিয়ে শ্বাস নিলে কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হয় এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যে প্রাণীর মস্তিস্ক অকেজ হয়ে পড়ে এবং ফরমালিন মিশ্রিত মাছ খেলে মানুষের পাকস্থলি অগ্নাশয় অকেজ হয়ে যাবে।

ভেজাল বিরোধী অভিযানে ঢাকার ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট রোকন-উদ-দৌলা আইনের ব্যাখ্যা দেন এভাবে। তিনি বলেন গত ৮ এপ্রিল ২০০৬ তারিখে ঢাকার বিভিন্ন খুচরা মাছবাজারের মাছ বিক্রেতা জনাব আবু তাহের, মিজান, বাবুল, ফুলচান মিয়া, আতাউর ও মিন্টুর কাছ থেকে যে সব মাছের স্যাম্পল নিয়েছিলেন তাদের মাছে ফরমালিন ও টেক্সটাইল কালার ব্যবহার করা হয়েছিল প্রমানিত হয়। তাদের সতর্কতার জন্য লঘুদণ্ড হিসেবে অল্প জরিমানা ও সাজার পরিমান কম রেখেছিলেন পরবর্তীতে তারা যদি পুনরায় এই কাজের সাথে জড়িত হোন তাহলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাদের সর্বচ্চো শাস্তি জাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে মাছে ফরমালিন প্রয়োগ করা হয় এভাবে ফরমালিন মিশৃত পানিতে মাছটি কিছুক্ষনের জন্য ভিজিয়ে রাখা হয় এবং মাছের মুখের ভিতর ও নাভির ভিতর দিয়ে ইনজেকশনের সিরিজ দিয়ে প্রবেশ করানো হয়।

ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের মতে, ফরমালিন মিশৃত মাছ চিনবার উপায়:
১. মাছের গায়ের গন্ধটা ভালনা। স্বাভাবিক গন্ধের চেয়ে ঝাঁঝালো ও বিকট গন্ধ।
২. মাছের গন্ধটা নাকে গেলে নাক জ্বলে উঠবে।
৩. কিছুক্ষনের মধ্যে চোখ দিয়ে পানি চলে আসবে।
৪. মাছের গায়ে লালার পরিমান কম। শরীর পিচ্ছিলের পরিবর্তে অমসৃণ।
৫. মাছের মুখের ভিতর ও ফুলকার ভিতর রক্তের পরিমান কম ফ্যাকাসে দেখায় এবং লালাহীন অমসৃণ।
৬. ডায়রিয়ার রোগীর মত চোখ কোঠরে বসা এবং বর্ণ ঘোলাটে।
৭. মাথার তুলনায় গায়ের মাংসে সংকোচন অনুভব হয়।
৮. মাছের গায়ে আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে আঁশটা শক্ত মনে হবে এবং মাংস পেশী শক্ত।
৯. বড় মাছ কাটার পর অন্ত্র ও পাকস্থলিতে ঝাঁঝালো বিকট গন্ধ।
১০. মাছের আঁশ ছড়ানোর পর মাছের মাংসটা অনেক সময় নরম থাকবে।
১১. মাছ পঁচে নরম হয়ে গেছে অথচ মাছের গায়ে কোন পঁচা গন্ধ বের হবে না ইত্যাদি। এছাড়া
১২. ফরমালিন ব্যবহৃত মাছ ব্যবসায়ীর হাত সাদা এবং হাতে ক্ষত বা ঘা এর নিদর্শন পাওয়া যাবে।
প্রজাতী ভেদে এক একটি মাছের যে স্বাভাবিক সতেজ বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেটা ক্ষুন্ন মনে হলে ঐ মাছ ভোক্তার পরিত্যাগ করাই ভাল। মাছে ফরমালিন ব্যবহারের ফলে একজন বিক্রেতার মুনাফা হয়ত কিছুটা বেশী হবে। কিন্তু এই ফরমালিন অগনিত মানুষের জীবনকে দুর্বীসহ ঠেলে দিবে মৃত্যুর দুয়ারে। সামান্য মুনাফার চেয়ে মানবজীবনের মূল্য অনেক বেশী। এ বিবেকবোধ অসাধুব্যবসায়ীদেরও আছে। তারা শুধু তাদের বিবেকের মুখোমুখি হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে।

মাছে দেওয়া ফরমালিন প্রশ্বাসের সঙ্গে বিক্রেতার ফুসফুসে প্রবেশ করছে এবং মাছের সঙ্গে ভোক্তার পাকস্থলিতে প্রবেশ করছে। একটা কথা সবার মনে রাখতে হবে রান্নার সময় আগুনের তাপে ফরমালিনের বিষক্রিয়া নষ্ট হয় না। তাই রান্নার পরও মাছে মেশানো ফরমালিন অন্ধকারের ঘাতক হিসেবে নিঃশব্দে সক্রিয় থাকে। স্বল্প মাত্রায় এ ফরমালিনের বিষক্রিয়া তাৎক্ষণিক অনুভব হয় না। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে বিন্দু থেকে সিন্ধু সৃষ্টির মত কোন এক অশুভ সন্ধ্যায় ডায়াগনসিস রিপোর্টে বলে দিবে লাঞ্জক্যানসার, লিভার স্টম্যাক, ডিজ অর্ডার, কিডনী ড্যামেজ ইত্যাদি ইত্যাদি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভাবনার সময় এখনই।

সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

বাংলাদেশে যেসব ডিম নকল হিসেবে প্রচার করা হতো, তা আসলেপ্রাকৃতিক নিয়মে কিছু অস্বাভাবিকআকৃতি ও রঙের

Due to the flood, the sale of the Korbani’s cow in advance

বন্যার কারণে কোরবানির গরুর আগাম বিক্রি

কমতে শুরু করেছে পোল্ট্রি ও মাছের খাবারের দাম । প্রস্তাবিত বাজেট পোল্ট্রিবান্ধব জানিয়েছেন বিপিআইসিসি

গরুর দানাদার খাবারের তালিকা

ধনী দেশগুলো প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে

জার্মান সফররত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জার্মানের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ নিয়ে গবেষণা ও বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান

খামার শুরুটা সহজ টিকিয়ে রাখা বড়ই কষ্ট!

প্রধানমন্ত্রীর করোনা তহবিলে এক কোটি টাকা অনুদান দিল বিপিআইসিসি

Kushi rice production technology

কুশি ধান উৎপাদন প্রযুক্তি

কৃত্রিম প্রজননের উপযুক্ত সময়