RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

দুরন্ত ভালবাসায় একটু চাওয়া

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ৩:১৫ অপরাহ্ণ

দুরন্ত ভালবাসায় একটু চাওয়া
(গল্পটি সত্য বলে পাত্রপাত্রীর ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে)

 

পলাশ আজ মাস্তান গুন্ডা। ও সবার ধন কেড়ে নেয়। ওর কাছে ধনী গরীর কোন ভেদাভেদ নেই। যাকে পায় তাকে ধরে। সারাক্ষন ও মদ গাঁজা খেয়ে মাতলমী করে বেড়ায়। পিতা মাতা আত্মীয় স্বজন কাউেেক পরোয়া করে না। কারো কথাও রাখেনা, কাউকে মানে না। পিতা মাতাকে জন্মদাতা হিসাবে কিছু বলে না। তাহারা কিছু বললে মাথা নিচু করে শুনে, চলে যায়। কোন কথা না বলে।
কিন্তু কেন আজও এমন হল?
কেন আজ মদ গাঁজা খেয়ে মাতলামী করে বেড়ায়?
কেন আজ মাস্তানী করে? লুট পাট করে কেন ও?
কি ধনী কি গরীব, সবার কাছ থেকে ধন সম্পত্তি জোর করে নিয়ে যায়।
কেন আজ ওর কোন বন্ধু-বান্ধব নেই?
আত্মীয় স্বজন কেন আজ পর হয়ে গেল?
কেন আজ ও পিতা মাতা আত্মীয় স্বজনদের পরিচয় দেয় না?
এ রকম হাজারও প্রশ্নের মুখোমুখী আজ ও। ওর সমন্ধ্যে কিছু জানতে হলে, ওর জীবনের একটি ঘটনাকে নাট্ররুপ দিলে জানা যাবে ঘটনাটি। নাটকীয় ভাবেই বর্ননা করা হলঃ

পলাশ তখন অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। ক্যাম্পাসে মোটামুিট পরিচিত। তার পর হোষ্টেলে থাকত ও। হোষ্টেলে থাকলে কম বেশী কিছুটা হলে দল করতে হয়। সেই সাথে দলের কাজ করতে হয়। দলীয় কাজ করতে করতে একদিন হাতে এল একটি মেয়ের ছবিসহ নাম ঠিকানা। অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে এসেছে। পলাশ ভাবল, যে ভাবে হোক, এ মেয়েকে অনার্সে ভর্তি করতে হবে। অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হল। তারপর সারা ক্যাম্পাসে ও ছবি নিয়ে মেয়েটাকে খোজে বেড়ায় অন্য কোন ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হল কিনা! কিন্তু কোন রকম হদিস পেল না। ও একটা সময় নিরাস হয়ে যায়।

একদিন সেমিনারে বসে আছে। টেবিলের ওপর সপোক্লিসের ইডিপাস বইটি নিয়ে পড়ছে। বই থেকে মাথা উঁচু করতেই দেখে সামনে সহযোগি অধ্যাপক শহিদুল­াহ স্যার। স্যারকে টেবিলে দেখে আচমকা উঠে দাড়াতে গিয়ে ধাক্কা লেগে যায়, একটি মেয়ের সাথে। এ মেয়েটি আর কেউ নয়। ওরই খোজ করা সেই মেয়ে। অপলকে তাকিয়ে রইল মেয়েটির চোখের দিকে। মুখের দিকে এবং হারিয়ে গেল অন্য এক জগতে।

কিছুক্ষন পর চৈতন্য ফিরল। মেয়েটার সাথে পরিচয় হলো। মেয়েটা ওর ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হতে এসেছে। ঐ দিনই ভর্তি হয়ে গেল। এখন একই ডিপার্টমেন্টে দুজন পড়ে। শুরু হল ওদের সম্পর্ক। যে কোন ছেলে-মেয়ে কলেজে ভর্তি হয় সিনিয়রদের পকেট হিসাবে ব্যবহার হয়। কিন্তু এ মেয়েটি তা হল না বরং পলাশই মেয়েটার পকেট হয়ে থাকল। মেয়েটার নাম নুরুন নাহার সংক্ষেপে বন্ধু-বান্ধবীরা নুনা বলে ডাকে।

পলাশ নুনাকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগীতা করে যেতে লাগল। এর মধ্যে যেমন কোন কোন লেখকের বই ভাল। কোন স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়লে ভাল সাজেশন পাওয়া যাবে। কোন স্যারের নোট পড়লে ভাল রেজাল্ট করা যাবে। এভাবে প্রতিদিন একবার কথা হয় দুজনার। কারনে অকারনে যে কোন ধরনের কথা। দিন যায় পলাশের মনের মাঝে নুনার আকর্ষন বাড়তে থাকে। পলাশ মনে মনে ভাবে, যেভাবে হোক নুনাকে ওর ভালবাসার কথা, ভাললাগার কথা, ওর মনের কথা, গোপন কথাগুলো জানাতে হবে। আবার মনে ভয়, যদি প্রতাখ্যাত হই, তাহলে তো বর্তমান সম্পর্কটাও নষ্ট হয়ে যাবে। কি করবে সাত পাঁচ নানা ভাবনা ভাবতে ভাবতে একদিন ওর এক বন্ধুর মারফত কথাটা জানালো নুনাকে। নুনা সত্যি সত্যি ওর ভালবাসা ভাল লাগা প্রত্যাখান করল। শুধু প্রত্যাখান করে ক্ষান্ত হল না। পলাশের ভালবাসাকে ছুড়ে মারল ডাস্টবিনে। নামিয়ে নিল ঘৃনার নিম্ম স্তরে। পলাশ নুনার সিনিয়ার হওয়া সত্বেত্ত সব অপমান ও নির্বিকারে সহ্য করল। কারন পলাশতো নুনাকে ভালবাসে। মন প্রাণ দিয়ে নুনার শুভ কামনা করে।

অপমানিত হয়েও পলাশ হাল ছাড়ল না। পাথরেও ফুল ফুটতে পারে এ আশায়। পাহাড় থেকে বরফ গলে যেমন নদী হয় হৃদ হয়। সাগরে যেমন চর পড়ে। মোহনার জন্য নদী গতি পথ পাল্টে যায়, স্রোত পাল্টে যায়। ভালবাসার জন্য, ভাল ব্যবহারের জন্য, শক্র বন্ধু হয়। বাঘ সিংহ ভাল­ুকও পোষ মানে। তেমনি একদিন পলাশের ভালবাসার কাছে নুনা হয়তঃ গলে পলাশকে ভালবাসতে পারে, পোষ মানতে পারে।
পলাশের এ পিছু নেওয়াতে নুনা আরো রেগে যায়। নুনা কলেজ ছেড়ে চলে যাবে বলে স্থির করে। কিন্তু ভাগ্যের লিখন না যায় খন্ডন। কলেজ ছেড়ে যেতে পারে না। অনেক দিন নুনা কলেজে আসেনা, ক্লাস করে না। হঠাৎ একদিন দেখা হল, নুনা এল কলেজে। নুনার ক্ষতি হবে এমন কোন কাজ ও করেনা। নুনার পথের কাঁটা না হয়ে যাতে কোন কাঁটা গাছ জন্ম নিতে না পারে সে কাজ করে। নুনা এখন কলেজে আসে প্রতিদিন তবে যেন কেমন কেমন মনে হল। হঠাৎ নুনা দু-তিন দিন হলো কলেজে আসে না। কারন খুজতে যেয়ে জানতে পারে, নুনা হাসপাতালে। রাত ১২টার দিকে জানতে পারল হাসপাতালে। ও তার পরের দিন ছুটে গেল হাসপাতালে। যেয়ে নুনাকে পেল না, বাসায় চলে গেছে। কেচটা সামান্য দু-ব্রেষ্টেই টিউমার হয়েছে। টিউমার ধরা পড়ার সাথে সাথে অপারেশন করা হয়েছে বলে, ভবিষ্যতের বিরাট একটা সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে গেল বলে ধারনা করলেন ডাক্তার সাহেব।

এ সংবাদ শোনা মাত্রই পলাশের মাথায় ছাদ ভেঙ্গে পড়ার মত। ও আর নুনার বাসায় গেল না। কারন নুনা হয়ত লজ্জা পেতে পারে কিংবা নুনা রাগ করতে পারে। যে কোন প্রকারে নুনার কোন প্রকার ক্ষতি হতে পারে এজন্য। ও রুমে চলে এল। সারাক্ষন ও ভাবে, আর ভাবে এটা কি হল? খোদা তুমি নুনার কেন এমন রোগ দিলে। ডাক্তার নুনাকে দুই বৎসর বিবাহ করা থেকে বিরত থাকতে বললেন।

পলাশ নুনাকে ভুলে যাবে। অবিবাহিত মেয়ের কেন ব্রেষ্ট টিউমার হল? এ ব্রেষ্ট টিউমার হওয়ার জন্য নিশ্চই নুনার দোষ আছে? নিশ্চই নুনার চরিত্র খারাপ। তা না হলে ওর এ বয়সে কেন ব্রেষ্ট টিউমার হবে? না ওকে আর ভালবাসা যায় না! ওকে ভালবেসে বিয়ে করলে ঠকে যাবে ও! মেয়েদের সৌন্দর্য দুটি একটি হচ্ছে মুখ আর একটি বুক। নুনার মুখও ভাল না (কথা বার্তা) আজ বুক তো কেটে ফেলে দিয়েছে। না নুনার সব চিহ্ন মুছে ফেলবে ভায়রী থেকে। পাতা গুলো কেটে ফেলে দিল। সযতেœ আগলে রাখা ছবিটা সিজার দিয়ে কেটে কুচিকুচি করে ফেলল।

কিন্তু ওটা কোন ভালবাসা নয়। এটা কোন ভাল প্রেমিকের কাজ নয়। এতে বোঝা যাচ্ছে পলাশের মনে কোন প্রেম ছিল না। কোন ভালবাসা ছিল না। ছিল কেবল নুনার শরীরের প্রতি লোভ লালসা। নিজের সাথে অনেক যুদ্ধ করে শেষে পলাশ জয়ী হল। আরো বেশী বেশী ভালবেসে ফেলল। যে ভালবাসার কোন তুলনা চলে না।

আবার নুনার ছবি বড় করে সারা রুমে টানিয়ে রাখল। নুনাকে নায়িকা করে উপন্যস লেখা শুরু করল। তারপর তার ও উপন্যাসের নাট্য রুপ দিল। ওর হোস্টেলের রুমের নামকরন করল নূনা। তখন পলাশের সকল কথা বার্তায় নুনা। চাল চলনে নুনা। শয়নে স্বপনে নুনা। অর্থাৎ ওর সারা অস্থিত্ব জুড়ে নিবিড় ভাবে নুনা মিশে গেল। বন্ধু বান্ধবীদের মুখে নুনা এ সব ঘটনা জানতে পেরে কোনরুপ ফিলিংস না দেখিয়ে, ও শুধু বলে, এসব ভাবনার বিষয়। বেশ কিছু দিন হলো কোন বন্ধু বান্ধব নুনার বাসায় আসেনা। ঐ যে সেই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলে এসেছিল। তারপর আর কারো চিহ্ন দেখতে পাইনি কোন বন্ধুর। নুনা এখন বড় একা হয়ে গেছে।

নুনার কোন বন্ধুর সাথে মিশতে মন চায় না। ও নিজেকে গুটিয়ে নেয় কলেজ কাম্পাসে একা একা ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এভাবে তো জীবন চলে না। দু-তিন মাসের মধ্যে নুনার জীবনটা কেমন দুর্বিসহ হয়ে গেল। চারিদিকে কেমন হাহাকার আর নৈরাস্য। কিন্তু না আর এভাবে নয়। নুনার দাম্ভিকতা নিয়ে নুনা কি করবে? সবাই যখন চলে গেছে তখনও পলাশ তার পাশে আসার জন্য ব্যকুল। পলাশকে আর ঠকানো যাবে না। পলাশের কাছে ধরা দিতেই তার কাছে গেল। হয়তঃ একটু শান্তি পাবে। একটু ভালবাসা পাবে। মনের কথা বলতে পারবে। ওর হা-হা কারটা দুর হবে। তাই একদিন মাধবী লতার মত লজ্জা শরম ভয়-ভীতি রেখে পলাশের কাছে ধরা দিল। পলাশ যেন হাতে স্বর্গ পেল। ও ইউরেকা ইউরেকা বলে চিৎকার করল। এভাবে দু’তিন দিন যেতে না যেতেই ওর মাথায় আসল আর এক নতুন চিন্তা। আজ ও নুনাকে পেয়েছে আবার হারাতেও হতে পারে। বহু কষ্টের সম্পদ হারালে ও পাগল হয়ে যাবে। কখনই নুনাকে আর হারানো সম্ভব নহে। তাই যে ভাবা সেই কাজ। কোর্টে গিয়ে দু’জন কোর্ট ম্যারিজ করে ফেলল। যাতে দ’ুজন দ’ুজনকে না হারাতে হয়।

স্বাভাবিক ভাবে দু’জন কলেজে আসে ক্লাস করে মনোযোগ সহকারে পড়াশুনা করে। তখন পলাশের ভাবনা কিভাবে ইষ্টাব্লিষ্ট হওয়া যায়। প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। ওকে যে প্রতিষ্ঠিত হতেই হবে। নুনাকে নিয়ে ছোট্ট সুখের ঘর বাঁধতে হবে ।

ওদের গোপনীয়তা বেশীদিন রক্ষা পেল না। প্রথমেই জেনে গেল পলাশের পিতা-মাতা। পলাশ পিতার বড় সন্তান। পলাশ বড় হয়ে এ রকম ভুল করবে আর তা মেনে নিবে কখনই নয়। তাই মেনে নিল না। এমনকি পিতা পলাশের পড়াশুনা চালানোর জন্য খরচ পাতি দেওয়া বন্ধ করে দিল। পিতা যদি সন্তানের বিপক্ষে যায় তাহলে মা নিশ্চয় পক্ষে থাকে। অর্থাৎ সন্তানের পাশে একজন না একজন থাকেই কিন্তু এক্ষেত্রে কেউ নেই। পিতা যেমন পলাশের নাম গন্ধ শুনতে পারছে না। ওর মা ওর প্রতি আর বেশী কঠিন হয়েছে।

পলাশ অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হল পিতা-মাতাকে বুঝাতে। কি আর করবে টিউশানী যোগাড় করে কোন মতে চলতে লগল।

ওদিকে নুনার পিতা-মাতাও এ ঘটনা জেনে গেল। নুনা ও পিতার বড় মেয়ে। ওরা রেগে আগুন। কোন ভাবেই নুনার খাম-খেয়ালী মেনে নেওয়া সম্ভব নহে। একটা বেকার ছেলের সাথে তাদের বড় মেয়ের বিয়ে হতে পারে না। এতে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। তারপর নুনাকে নানা ভাবে বুঝাতে লাগল, পলাশকে ভুলে যাবার জন্য। পলাশকে যদি ভুলে না যায় তাহলে মেয়েকে ত্যাজ্য করবে। মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিতে লাগল। তারপরও নুনার একটি কথা আমি পলাশকে ভালবেসে বিয়ে করেছি। তাকে ভুলতে পারব না, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। যতক্ষন ওর দেহ শ্বাস প্রশ্বাস চলবে তৎক্ষণ পলাশের জন্য ভালবাসা থাকবে। কোন ভাবে যখন মেয়েকে বুঝাতে পারল না, তখন মেয়েকে ঘরে আটকিয়ে ফেলল। ঘর থেকে আর বের হতে দেয় না। কি আর করবে মেনে নিল বন্ধিত্ব। সারাক্ষন ঘরে বসে বই পড়ে, আর পলাশের চিন্তায় চিন্তায় সময় কাটায়। ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করে না, গোসল করে না। ঘুম পড়ে না, উঠে নড়া চড়া হাটা হাঠি করে না। সর্বদা খাটের উপর শুয়ে থাকে। কখনো আয়নার সামনে বসে না, মাথার চুলগুলো না আচড়ানোর জন্য জড়িয়ে গেছে। কখনো চিরুনী দেয় না, তৈল লাগায় না। অনেক সময় ওর মা আসে মাথার চুলগুলো আচড়িয়ে দেয়, তেল লাগিয়ে দেয়।

ওদিকে পলাশের মাষ্টার্স পরীক্ষা। বাড়ী থেকে কোন টাকা পয়সা আসে না বলে সারাক্ষন নিজের পড়াশুনা ও টিউশানী নিয়ে ব্যস্ত। তারপর নুনা কলেজে আসেনা বলে আবার দুশ্চিন্তা করে। তবে বিশ্বাস আছে ওর নুনা ওকে আর ভুলে যাবে না ।

সহজ সরল পলাশ সব জিনিস সব সময় স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিত। সেদিনও নিয়েছে। ওর পরীক্ষা শুরু হল। দিনরাত পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত। মুখের দাড়ি কাটার সময় ওর নেই। সংবাদ এল নুনা অস্স্থ্যু। ওর পেটের ভিতর নাড়ীতে কি যেন হয়েছে। শুনে এবার দেখতে গেল নুনাদের বাড়ীতে। কিন্তু দেখা করতে পারল না। কারন নুনার সাথে দেখা করতে দেয়নি ওর বাপ-মা। অধীর আগ্রহ নিয়ে ভালবাসার স্ত্রীকে দেখতে গিয়ে, নিরাস হয়ে ফিরে এল হোষ্টেলে। এক্স-রে, আল্টাসনো, রক্ত, কফ, প্রসাব পায়খানা সব কিছু চেক-আপ করে ডাক্তার জানালো ব্রেস্ট টিউমার থেকে ব্রেস্ট ক্যানসারে পরিনত হতে যাচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসা করা না হলে মারা যাবে। বাংলাদেশে একমাত্র ঢাকা ক্যানসার হাসপাতাল ছাড়া আর কোথাও এর চিকিৎসা সম্ভব নহে। তবে সিংগাপুর নিয়ে চিকিৎসা করাতে প্রায় চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ হবে। তারপরও বাঁচার কোন নিশ্চয়তা নেই। এ সংবাদ শোনা মাত্রই পলাশের পায়ের নিচের সব ধুলিকনা মাটি সরে গেল। ওর কাছে মনে হল ও তখন বাতাসের উপর দাড়িয়ে আছে। বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে গেল আবার ঐ বাড়ীতে। আজ আর ফিরিয়ে দিল না। ভিতরে নিয়ে গেল। নুনার চোখের কোনে কালো দাগ পড়েছে। দেখা মাত্রই সকল সব সংকোচ ভুলে নুনা পলাশকে জড়িয়ে ধরল। এভাবে কখনোই নুনা পলাশকে বুকে জড়িয়ে ধরেনি এর আগে।

এতদিন কখনো পলাশকে জামাতা হিসাবে স্বীকার করেননি নুনার পিতা কামাল উদ্দিন নুরু সাহেব। আজ কিন্তু করলেন কারন মেয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। মেয়ে যদি না বাঁচে তাহলে জামাই যাবে কোথায়? কামাল সাহেব পলাশকে সব খুলে বলল, নুনার যা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য এখন অনেক টাকা লাগবে। এত টাকা কামাল সাহেবের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নহে। তাই নুনাকে বাঁচাতে হলে এক সপ্তাহের ভিতর পলাশকে কমপক্ষে পাঁচ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করতে হবে। তা না করতে পারলে হয়তঃ নুনা আর বাঁচবেনা। মেয়ে মৃত্যু মুখে তারপরও কামাল সাহেব ফন্দি আটলেন যেভাবে হোক পলাশ তার পক্ষ থেকে টাকা আনুক। পলাশ যদি টাকা দিতে না পারে তাহলে আর কোন দাবী নিয়ে ও আসতে পারবে না। পলাশ ওর তখনকার পরিস্থিতি সমন্ধ্যে জানাল। কোন কথায় কামাল সাহেব রাজী নন। তার একটি কথা যেভাবে হোক পলাশ তুমি কমপক্ষে পাঁচ লক্ষ টাকা এনে দাও।

পলাশ ছুটে বাড়ী এসে পিতা-মাতাকে সব খুলে বলল। পিতা শুনতে চায়নি। কিন্তু মায়ের কোমল মনে দাগ কাটল পলাশের কাকুতি মিনতি আর্তনাদ। পলাশের পিতার কথা হচ্ছে সে কোন টাকা দিতে পারবেনা। তারপর নুনাকে ছেড়ে চলে এসো। তোমাকে আমরা অন্যত্র আরো সুন্দর ও ধনী ঘরে বিয়ে করাবো। এই যদি হয় তাদের প্লান তাহলে নুনা যদি অসুখে মারা যায় তাহলে তো ভাল হয়। কোন সমস্যা থাকেনা। সব রকম ঝামেলা ঝঞ্জাট দুর হয়ে যায়। পলাশের মা পলাশের পক্ষ্যে যুক্তি দিয়ে বুঝালো -ও ছেলে মানুষ, কম বুদ্ধিতে, ভুল করেছে। ওর এ বিপদে সাহায্য করা উচিত। না হলে নুনা মারা যাবে। পলাশ যখন নুনাকে বিয়ে করেছে তখন নুনা এ বাড়ীর বউ। এ বাড়ীর ইজ্জ্বত। তাকে রক্ষা করা, তাকে বাঁচানো এ বাড়িরই উচিৎ। কিন্তু কোন কথায় মন গললোনা পলাশের পিতার। নাচড় বান্দা লোকটা নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন।

পিতার দিক থেকে কোনরুপ আশা না পেয়ে নেমে গেলেন পলাশ বন্ধু বান্ধবদের মাঝে। অনেক বন্ধু বান্ধবীদের ও সাহয্যে করেছে টাকা পয়সা দিয়ে। আজ ও বিপদে কোন বন্ধু এগিয়ে আসছে না। ওর বন্ধু বান্ধাবীদের মধ্যে অনেকেই ধনী ছিল ইচ্ছে করলে পাঁচ লক্ষ টাকা যে কোন একজন দিয়ে দিতে পারত। দুই তিনজনে শেয়ার করে দিতে পারত। কিন্তু কেউ এগিয়ে এল না। তারপর ও নেমে গেল আতœীয় স্বজনের দ্বারে দ্বারে। সবার কাছে সাহায্যের জন্য হাত বাড়াল। কিন্তু কেউ কোন প্রকার সাহায্য পলাশকে করল না।
পলাশের চিৎকার!
আর্তনাদ!
আমাকে সাহায্য কর!
আমার স্ত্রীকে বাঁচাও!
আমাকে কাজ দাও!
যে কোন কিছুর বিনিময়ে তোমরা আমাকে টাকা দাও। আমার স্ত্রী নুনার চিকিৎসার জন্য।
এ ধ্বনী প্রতি ধ্বনী শুধু আকাশ বাতাস মাটি পাথর সমুদ্র গাছ-পালয় শুনলো। কোন মানুষে শুনতে পাইল না। তারপর পলাশের এ অপারগতা কামাল সাহেব সহ্য করলেন না। অশোভন কথা বার্তা ও অপ্রীতিকর কাজ করলেন। পলাশ অপমানিত হয়ে আবার ছুটে গেল পিতা-মাতার কাছে। পূর্বের ন্যায় এবারও ভাল কোন রায় এলো না পিতার কাছে থেকে। তারপর ও নেমে গেল ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে। ও দিকে নুনার সিংগাপুর যাওয়ার জন্য সব রকম আয়োজন শেষ। আগামী কাল সকাল ৭টায় রওনা করবে।

রাতে পলাশ মার্কেটের দোকান থেকে টাকা চুরি করতে গেলে নৈশ প্রহরীর ধাওয়া খায়। পলায়ন করতে করতে রাস্তায় দৌড়াতে দৌড়াতে সামনে পুলিশের হাতে পড়ে। তারপর পুলিশের গুলি পলাশের পায়ে লাগে। পলাশ পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ওকে অনুস্বরন করতে করতে ধরে থানায় নিয়ে যায়। সকালে পলাশ নুনার সাথে যাবে কিন্তু পলাশের দেরি দেখে কামাল সাহেব নিশ্চিত হল যে, সে আর আসবে না। রওনা হবার সময় হয়ে গেছে ফেরিওয়ালা পত্রিকা দিয়ে গেল। নুনা পত্রিকাটা হাতে নিয়ে একটু চোখ বুলানোর চেষ্টা করছে। তখন পত্রিকার উল্টা পাশে দেখতে পেল পলাশ নিউ মার্কেটের এক দোকান থেকে টাকা চুরি করে পালিয়ে যাবার সময়, পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। এ সংবাদ পাওয়া মাত্রই নুনা বিচলিত হয়ে পড়ল। ও বুঝতে পারলো, ওর টাকা জোগাড় করার জন্য, আজ পলাশ চুরী করতে গিয়ে পুলিশের কাছে এ্যারিস্ট হয়েছে। আবার পলাশের গায়ে গুলি লেগেছে, তাকে দেখার জন্য নুনা উদ্বিগ্ন। ওর মন আর বাইরে যেতে সায় দিচেছনা। শুধু পলাশের কাছে যেতে চায়। কিন্তু কামাল সাহেব দেরি না করে নুনাকে নিয়ে রওনা করল সিংগাপুরের উদ্দেশ্যে। পলাশ শেষ দেখাটা করতে পারল না।

পলাশের পিতা ছুটে এলেন থানায় এবং পলাশকে থানা থেকে বের করে নিয়ে কামাল সাহেবের বাড়ীর দিকে গেলেন। শুনলেন তারা সকাল ৭টার সময় সিংগাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে চলে গেছে। নুনা বিমানের ভিতর দুশ্চিন্তা গ্রস্থ্য। হঠাৎ মাথাটা কেমন ঘুরে উঠল এবং কেমন যেন খারাপ লাগতে লাগল। বিমান সিংগাপুর ল্যান্ড করার আগেই নুনা এই জগৎ ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেল।

ফিরতি ফ্লাইটে আবার দেশে ফিরে এল। পলাশ পাগলের মত ছুটে গিয়ে বিমানের কাষ্টমস থেকে নুনার লাশের কাছে গেল। তখন ওর মনে হচ্ছিল নুনা মাথা উঁচু করে পলাশকে বলছে ‘পলাশ, আমি চেয়ে ছিলাম তোমার হতে, পারলাম না।’ পলাশের হৃদয়টা ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল। সামান্য কয়টা টাকার জন্য প্রাণ প্রিয়া তাকে ছেড়ে গেল। মৃত্যুর সময় তার কাছে পর্যন্ত থাকতে পারল না। তার শেষ ইচ্ছেটা বলতে পারল না। মৃত্যু কলে মুখে এক ফোটা পানিও দিতে পারল না। পলাশ তাই সবার সামনে নুনার লাশটাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে করে আর্তনাদ করতে লাগল। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে ফেলল। তার ভালবাসা প্রিয়তমাকে বাসর ঘরে নেওয়ার আগে কবরে নামিয়ে রাখতে হবে। এমন করে কখনো ভেবে দেখেনি।

যেদিন নুনাক মাটির নিচে রাখল, সে দিন থেকে ও হয়ে গেল মাস্তান, গুন্ডা, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী। যে টাকার জন্য ওর প্রিয়তমা নুনা মারা গেল ও হবে সেই টাকা রোজগারের মেশিন। ও এখন কাউকে চিনতে চায় না। কারন, কোন আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধব পিতা-মাতা কেউ ওকে সাহায্য করে নি। পলাশ এখন কারো পরিচয় দেয় না। ওর পরিচয় এখন ও নিজে। পলাশ সকল বাঁধা বিপত্তি শাসন শোষণ থেকে মুক্ত। এখন ওই শাষন করে, শোষন করে।

**********

সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত