জীবন সাথী
(কিছু বাস্তব আর কিছু অতি রঞ্জিত কল্পনা)

একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে দুই বন্ধু, দুই ভ্রাতার পরিচয় দেয়। দরিদ্র বাহার চাকরীর সন্ধান করে। আর সেই সাথে ধনী বন্ধু মহাসিনের ব্যবসা বানিজ্য কিছুটা দেখা শুনা করছে। দুই বন্ধুর এই নিবিঢ় ভালবাসা ও মিল প্রতিবেশী অনেকেই সহ্য করিতে পারেনা। বাহারের মেধার জন্য দিন দিন ব্যবসা বাণিজ্যে লাভবান হচ্ছে মহসিন। মহসিনের এই অর্থ দাফট সহ্য করতে পারছেনা মহসিনের আর এক বন্ধু খান বাহাদুর নাসিরউদ্দিন। সুযোগের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
একদিন দু বন্ধু (মহসিন আর বাহার) বাগানের পথ দিয়ে হেটে যাচ্ছে একটি সাপ এসে মহসিনকে ছোবল মারল। দেখতে দেখতে সাপের বিষাক্ত লালায় মহসিন নীল বর্ণ ধারন করল। অজ্ঞান ও অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল কিংকর্তব্যবিমঢ় বাহার কি করবে ভেবে পায় না। মহসিন সাপের বিষে মারা যাবে? কাছে কোথাও ডাক্তার কিংবা হাসপাতাল নেই। দুই মাইল দুরে যেতে হবে ডাক্তার ডাকতে। ডাক্তার নিয়ে ফিরে আশার আগেই মহসিন মারা যেতে পারে। নানা দু-চিন্তায় বাহার হতাশ হয়ে মহসিনকে নিয়ে ভাবছে। তারপর হঠাৎ ওর মাথায় একটা বুদ্ধি এল। ও যখন কলেজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের ক্যাডেট ছিল, তখন সাপে কাটা রুগীর প্রাথমিক চিকিৎসা সমন্ধ্যে শিক্ষা নিয়ে ছিল। কাছে যদি ডাক্তার পাওয়া না যায়। সেক্ষেত্রে মুখ দিয়ে ক্ষত স্থান থেকে চুষে দুষিত রক্ত বের করে ফেলতে হবে। তাই শিক্ষাটা কাজে লাগালো। মহসিনের সাপে কাঁটা ক্ষত স্থানে মুখ লাগিয়ে দুষিত রক্ত চুষে বের করে ফেলল। এতে মহসিন শরীরে কিছুটা আরাম বোধ করল। সাপের বিষে মারা যাবার সম্ভাবনা থেকে রক্ষা পেল। এখন ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে পারলে সব ভয় দুর হয়ে যাবে।
বাহারের মুখের ভিতর ক্ষত ছিল। ও যখন মহসিনের শরীর থেকে সাপের বিষযুক্ত রক্ত চুষে বের কর ছিল, তখন কিছুটা বিষক্রিয়া বাহারের শরীরে ঢুকে যায়। সেই বিষ ক্রিয়ার বাহার আক্রান্ত হয়। চোখে ঝাপসা দেখতে পায়। বাহারের অবস্থা আশংকা জনক হয়ে যায়, ডাক্তার ডাকা হয়, ডাক্তারের চিকিৎসায় বাহার সুস্থ হয়ে উঠে বিষমুক্ত হয়।
কোমলমতি মেয়ে পারভিন বাহারের অবদানের কথা শুনে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে মনের দিকে। বাহারের জন্য তার ভাই মহসিন বেঁচে গেছে। জীবনের ঝুকি নিয়ে মানুষ এমন কিছু করে নজির রাখতে পারে ওর জীবনে এই প্রথম দেখা। তাই একদিন বাহারকে বলছে-তোমার জন্য আমার ভাই বেঁচে গেল, তোমর এ ঋন আমরা কোনদিন শোধ করতে পারব না। বল, তুমি তোমার এ কাজের বিনিময়ে কি চাও? উত্তরে বাহার বলেছিল-এত পাকামি করে কথা বলতে হবে না। এই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলো। আমি তোমার ভাইকে বাঁচিয়েছি, তাই সিন্ধান্ত নিয়েছি দুলালীকে বিয়ে করে ঋন পরিশোধ করার সুযোগ করে দেবো। কি রাজি? আমাকে বিয়ে করবে দুলালী? গাল বড় করে হেসে ফেলল বাহার। পারভিন তখন বলল-তোমার মত মানুষের স্ত্রী হবার যোগতা কি আমার আছে? তোমার মত ব্যক্তি কি আমাকে গ্রহন করবে?
নাটক উপন্যসের মত কথাবার্তার ভিতর দিয়ে দুজন দুজনাকে ভালবাসে তাহা বলা হয়ে গেল। পারভিনের সাথে মহসিনের আরেক বন্ধু নাসিরের বিয়ের কথা অনেক আগেই হয়েছে। শুধু পারভিনের অমতের জন্য এতদিন দেরী হয়েছে। নাসির আবার পারভিনের পিছনে লেগে থাকে। ওদের ঘনিষ্ঠতার সংবাদটা যথা সময়ে নাসির মহসিনের কানে দেয়। মহসিন কি করিবে! এত বড় বন্ধু বাহার, সে আমার কাছে শুধু মাত্র আমার বোনটা চায়! এতো তার চাওয়ার অধিকার আছে। ওদিকে নাসির পারভিনকে বিয়ে করবে বলে অনেক টাকা পয়সার ঋনে মহসিনকে বেঁধে ফেলেছে। নাসির লোক সুবিধার না। এখন নাসির আবার কি চাল মারে বোঝা কষ্টকর। তাই মহসিন, বাহার ও পারভিনের ভালবাসা প্রত্যাখান করে। জেদি মেয়ে পারভিন মহসিনের এ অকৃতজ্ঞতার মত কথা ও কাজ দেখে, বাহারকে জোর করে কোর্ট থেকে বিয়ে করে ফেলে। এতে মহসিন ক্রুদ্ধ হয় এবং নাসিরের চক্রান্ত ওদের বাড়ী থেকে বের করে দেয়। তার পর বাহারকে মেরে ফেলার জন্য লোক নিয়োগ করে। কিন্তু চক্রান্ত ব্যর্থ হয় দুজন পালিয়ে যায়।
নতুন ঘর বাধে দুজন। একে একে ছয়টি বৎসর কেটে যায়। ওদের এক সন্তান হয় যার নাম জীবন। বাহারের নাম ছড়িয়ে পড়ে, টেলিভিশনের একটি প্রচারে। এ ছাড়া উপন্যাস, ছোটগল্প ও গানে বেশ সুনাম অর্জন করে। জীবনের জম্মদিন অনুষ্ঠানে অনেক অতীথিদের মধ্যে ছদ্ধবেশ ধারন করে নাসিরও আসে। এদের সুখী সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবন দেখে সহ্য করিতে পারে না। অন্তর্জ¡ালায় ফেটে পড়ে। আবার এক নতুন চক্রান্ত চালায়। মহসিন নাসিরের হাতের পুতুলের মত কাজ করছে এখন। মহসিন ও নাসির রাতের আধারে লোক জন নিয়ে বাহারের সাজানো সংসারে আবার হানা দেয়। বাহারকে গুলি করে মৃত মনে করে ফেলে রেখে, পারভিনকে তুলে নিয়ে যায়। জীবন গুলি শুনে পালিয়ে যায়। তারপর আশ পাশের লোকজন খোজ করে ওকে পায়। বাহার হাসপাতালে মুর্মুষ অস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে। কি হবে এই জীবনের? জীবনের তো আর কেউ রইল না। জীবন ছোট ছেলে ও তো মারা যাবে। সংবাদ পত্র থেকে রিপোর্টার আসে তাদের সামনে মুখ খোলে না বাহার। পুলিশ আসে মামলা হয়েছে কিনা জানতে, তখন ঘটনার মোড় ঘোরে। বাহারের আরেক বন্ধু রাশেদ হাসান চৌধুরী পুলিশ অফিসার। বন্ধুর সব কথা শুনে রাশেদ জীবনকে নিতে রাজী হয়। নিঃসন্তান রাশেদ একটি শর্ত আরোপ করে, তাহলো বাহার আর কোনদিন জীবনকে সন্তান বলে দাবী করতে পারবে না। তার জন্য কোরান শরীফ সাফায়েত করে। বাহার সব কিছু বলে শুধু বলে না কে বা কারা তাদের আক্রমন করেছে, তাকে গুলি করেছে। পারভিনকে তুলে নিয়ে গেছে।
নিঃসন্তান কামনা জীবনকে পেয়ে মহাখুুশী হল। কামনার স্নেহ, মমতা ভালবাসায় জীবন ওর পিতা মাতার কথা ভুুলে গেল। হাসি খুশীর মধ্যে দিয়ে পড়াশুনা করে চলেছে। ও দিক সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হয় বাহার হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে। রাশেদ একটা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হল। কামনার মুখের হাসি আর কোনদিন বিলিন হবে না। কামনাকে আর কেহ নিঃসন্তান বলবে না, তাদের ঘরে সুখ থাকবে।
জীবন পালিত পিতা-মাতার সংসারে বড় হতে লাগল। ভার্সিটিতে পড়াশুনার সাথে, খেলাধুলা সংস্কৃতিক বিষয়ে কেউ জুড়ি রইল না। তারপর সাথী নামের একটি মেয়ের সাথে ওর পরিচয় হয়। দিনে দিনে সম্পর্ক ঘনিষ্ট থেকে ঘনিষ্টতর রূপ ধারন করে। একজন আর একজনকে না দেখলে থাকতে পারে না। এসপি রাশেদ জানতে পারে এদের সম্পর্কের কথা। তাই কামনাকে বলে জীবনের কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক করা তার পছন্দ নয়। এমনকি এসপি সাহেব তা সহ্যও করিবে না, মেনে নেওয়াতো দুরে থাক।
দীর্ঘ বিশ বছর পর আবার টেবিল ঘুরতে ঘুরতে বাহারের মামলটা এসে রাশেদ এর হাতে পড়ল। রাশেদ তার পুরানো সফল স্মৃতি অনুধাবন করিতে পারল। মহসিনদের বাড়ীতে গেল মামলা সমন্ধ্যে জানতে। মহসিন পুলিশ অফিসারকে বিভিন্ন ভাবে কটাক্ষ বানে জর্জরিত করে। লাঞ্চিত হয়ে রাশেদ ফিরে আসে। কিন্তু গভীর রাতে পথিমধ্যে নাসির ও তার লোকজন পুলিশ অফিসারকে আক্রমন করে বলে ‘আমাকে তুমি চিনবে না। আমি আজরাইল। মানুষের জান কবজ করি। শুনে রাখ পারভিন বেঁচে আছে এবং থাকবে তার হারিয়ে যাওয়া নামে যেসব ফাইল আছে তুমি সেগুলি পুড়িয়ে ফেল। তাহালে তোমার আয়ু বৃদ্ধি পাবে। না হলে আমি নিজের হাতে তোমার জান কবজ করব। এসপি সাহেব আর কোন দিন কোন ভাল মানুষকে জ্বালাতন করিবেন না, করলে আপনার বিপদ চারিদিক থেকে বেড়ে যাবে।’ দানবের মত হাসতে হাসতে চলে গেল।
বর্তমান যুগতো ভুত প্রেত দৈত্য দানবের যুগ নহে। বর্তমান আধুনিক যুগ সে যুগে এই সামান্য হুমকি ভয় ভীতি কি বিশ্বাস যোগ্য! তাও পুলিশের কাছে। রাশেদ ছুঠে গেল মহসিনের বাড়ীতে, যেয়ে দেখে মহসিন নাসির সবাই রাতে খাওয়া দাওয়া নিয়ে ব্যস্ত। তার মানে এ কার সাজি মহসিনের নয় বলে রাশেদ ধারনা করল।
জীবন এম এ পাস করে রেজাল্ট সিট হাতে নিয়ে আনন্দে উলাসে পিতা-মাতাকে ডেকে, সারা বাড়ী মাথায় করে ফেলেছে। ওর এ আনন্দে সকলেই খুশী। সাথী এল জীবনকে উইশ করতে। সাথীকে পরিচয় করে দেয় জীবন ওর পিতা-মাতার সহিত। মা কামনা সাথীকে দেখে পছন্দ করে বলে ওদের ছেলের পছন্দ আছে। কিন্তু রাশেদ সাথীকে মেনে নিতে পারছে না। জীবনের জীবনে যে কোন মেয়ে আসবে প্রেমের সম্পর্ক এটা সে চায় না।
জীবন মা কামনার কাছে সব খুলে বলে, সে সাথীকে ভালবাসে। সে সাথীকে নিয়ে ঘর বাঁধবে। সাথীকে জীবন সাথী করবে। একই গাছে দুটি ফুল জীবন আর সাথী। সাথী ছাড়া জীবন চলতে পারবে না। জীবনের জীবনে সাথীর অনেক প্রয়োজন। তাদের দীর্ঘদিনের মেলামেশা চেনা জানা কোনদিনও ভুলে যেতে পারবে না। ভুলতে গেলে প্রান বিসর্জন দিতে হবে। তারা এক অপরের হাত ধরেছে, চোখে চোখ রেখেছে, মনের সাথে মন বেঁধেছে। কথার সাথে কথা মিলিয়ে বলেছে ভালবাসী ভালবাসী। এ সম্পর্ক অনন্ত অসীম। যা ছিন্ন করিতে পারবেনা কেউ।
রাশেদ কামনার মুখে সব শুনতে পারে। ছেলের এ সংবাদ শুনে কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়ে। কারন জীবন বাহারের ছেলে আর সাথী মহসিনের মেয়ে। একদিন বাহার মহসিনের বোনকে ভালবেসে ছিল। বিয়ে করেছিল বলে তার অবস্থা আজ খারাপ। তাছাড়া মহসিনের মেয়ের সাথে জীবনের বিয়ে হতে পারে না। এটা কখনোই সম্ভব নয়। আর এর চিন্তা ভাবনা করাও সম্ভব হচ্ছে না জীবনের জন্য। তাই জীবনকে চাকরী বাকরীর ঝামেলায় থাকলে কিছুটা সাথীর কথা ভুলে থাকতে পারবে। নতুন কোন চিন্তা ভাবনা এসে যাবে। স্থির করে জীবনকে চাকরী করার জন্য বলে। জীবন আবার পুলিশের চাকরী করবে বলে মনস্থির করে। একটা ইন্টারভিউ দেয় তাতে ভাল করে কিছুটা আশাবাদী হয়ে চাকরী পাবে।
সাথী জীবনকে মহসিনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে বলে বাসায় নিয়ে যায়। মহসিনের সাথে সালাম বিনিময় তারপর পরিচয় করে সাথী ভিতরে যায় নাস্তা আনার জন্য। মহসিন জীবনকে সহ্য করিতে পারছেনা। কারন জীবনের পিতা এসপি রাশেদ বর্তমান মহসিনকে খুব জ্বালাতন করছে বোন পারভিনকে নিয়ে। তার ছেলের সাথে একমাত্র মেয়ে সাথীর বিয়ে হবে তা কখনোই সম্ভব নয়। তাই মনে মনে স্থির করল যেভাবে হোক ওদের সম্পর্ক নষ্ট করতে হবে। জীবনকে মহসিন ওর পিতাকে ঘুষখোর, নীচ চরিত্র বলে কটাক্ষ করে। আরো বলে নীতিবান পুলিশ অফিসারের ছেলের পায়ে আড়াই হাজার টাকা দামের জুতা উঠল কিভাবে? তুমি আমার মেয়ের সাথে প্রেম করেছ। আজ বাদে কাল তুমি জামাতা হবে। কিন্তু কিভাবে ভাবলে তিন টাকা বেতন ভুক্ত পুলিশ অফিসারের ছেলের সহিত খান বাহাদুর মহসিনের একমাত্র মেয়েকে সোপর্দ করিবে।
অনেক কথার মাঝে জীবন শুধু এটুকু বলে খান সাহেব পিতা সমন্ধ্যে কোন বাজে কথা বলবেন না। আর আমি আপনার কোটি টাকার আশায় সাথীর সাথে মিশি নাই। আমি সাথীকে ভালবাসী। সাথী আমার জীবন সাথী। সাথী নাস্তা নিয়ে এসে দেখে জীবন নেই চলে গেছে। বাবার কাছে জিজ্ঞেস করলে বলে সাথী তুমি কখনো ঐ ছোট লোকের বাচ্চার সাথে মিশবেনা। জানো ও কে? কি তার পরিচয়? ও একটা লম্পট, চরিত্রহীন, বদমায়েশ। ও তোমার যোগ্য নয়।
এমন সময় পাগলী বেশ ধারনী পারভিন চিৎকার দিতে দিতে চলে আসে আর বলে এই মহসিন তুই কাকে বদমায়েশ বলছিস? কাকে চরিত্রহীন বলছিস? ও নিষ্পাপ ও ভাল ছেলে। খারাপ তুই আর তোর …। আর বলতে পারে না।
এসপি রাশেদ পুত্রের পুলিশের চাকরী পছন্দ করে না। তেমনি করে না কামনা। কিন্তু জীবন আজ পুলিশ অফিসার হয়েছে। তাই পিতা পুত্রের দোষ গুলি ভুলে গিয়ে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কিছু নীতি বাক্য প্রদান করে। জীবন অফিসে যায় যেখানে কোন লোকের চিহ্ন নেই। চেয়ার টেবিল গুলো খুব সুন্দর করে সাজানো টেবিলের উপর একটি ফাইল। ফাইলটার উপর হাত রাখতেই অদৃশ্য থেকে ভেসে আসে কিছু কথা ‘ইয়াংম্যান, আজ থেকে তোমার প্রতিটা মুহুর্তই একটি করে ক্রাইমেক্স। তোমার পিতা নীতিবান পুলিশ অফিসার জেনে তোমাকে চাকরীতে নিয়োগ করিনি। তোমার যোগ্যতার জন্য করেছি। তোমার সামনে টেবিলের উপর একটা ফাইল পড়ে আছে। অনেক পুলিশ অফিসারের চোখ ঐ ফাইলে পড়েছে। এমনকি তোমার পিতাও ব্যর্থ হয়েছে। কোন সুফল আসেনি। আমি তোমার কাজে মুগ্ধ হতে চাই।’
জীবন ফাইলটা হাতে নিয়ে ফিরে যায় নিজ অফিসে। খোলা মাত্রই চোখে পড়ে ওর পিতার নাম- নাট্যকার বাহারকে গুলি করে তার স্ত্রী পারভিনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা। তাদের একমাত্র সন্তান জীবন তার এক বন্ধুর কাছে মানুষ হচ্ছে। আরো লেখা আছে পারভিন, খান বাহাদুর মহসিনের বোন। জীবনের মাথায় চিন্তা ঢুকে গেল তারপর ওর ছেলে বেলার সব কথা মনে পড়ল। এসপি রাশেদ ওর সত্যিকারের পিতা নহে। কামনা ওর গর্ভধারিনী মা নয়। ওর পিতা বাহার মা পারভিন। আর মামার নাম মহসিন। সাথীর পিতা মহসিন খান কি তার মামা? আর মহসিন যদি মামা হয় তাহলে সাথী যাকে মা বলে ডাকে তিনি নিশ্চই আমার মা না হয় খালা হবে। যা হোক মহসিনের বাড়ীতে গেলে সব জানা যাবে। যে ভাবা সেই কাজ। সিভিল পোশাকে মহসিনের বাড়ীতে যেয়ে দেখে সাথীর শুভ জন্মদিন পালিত হচ্ছে। মোমবাতী নিভিয়ে কেক কাঁটা হল।
জীবনকে দেখে সাথী রাগ ধরে রাখাতে পারছেনা । গায়ের চামড়া মাথার চুল ছিড়ে ফেলতে মন চাইছে। বিনা দাওয়াতে নাকী কুকুরে খেতে চায় না, আসতে চায়না। জীবন আসলো কি করে। নিশ্চয় জীবন কুকুরের চেয়ে অধম।
জীবন সাথীর অপমান সহ্য করছিল। কিন্তু মহাসিন চাবুক নিয়ে এল জীবনকে প্রহর করার জন্য। কয়েকটি বাড়ী মারার পর চাবুক ধরে পুলিশের পরিচয় টুকু দেখিয়ে দিল। মহসিনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেল থানায়। সারা বাড়ী হৈ চৈ হুলস্থুল পড়ে গেল। পারভিনও এলো। শুনে খুব খুশী হল যে আজ মহসিনকে কোন পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারল। তারপর সাথীকে শান্তানা দিয়ে বলল সাথী তুমি কোর্টে যাও। তোমার বাবা খালাশ হয়ে আসবে। মহসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের উপযুক্ত প্রমান দেখাতে পারল না । বরং জীবন ছেলে মানুষী কাজ করেছে, মানী লোকের মান ক্ষুন্ন করার দায়ে দোষী হল। চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত হল।
জীবনের এ কার্যকলাপে এসপি মনিরের মাথা হেট হয়ে গেল সকলের সামনে। আজ ওর উচু মাথা নিচু করে দিল জীবন। বার বার রাশেদকে ছোট করে ফেলছে। রাশেদ কামনার উপর এসে কিছু আক্ষেপ স্বরুপ ঝগড়া করল। তারপর জীবনের পথ চেয়ে দুজন বসে রইল কিন্তু জীবন আর বাড়ী ফিরল না। জীবনের বাসার চারপাশে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল নাসিরের লোকজন। সকালে পত্রিকায় প্রকাশিত হয় পুলিশ অফিসার জীবন চৌধুরীর বাসায় অগ্নিসংযোগ করে আতœহত্যা করেছে। এ সংবাদ শুনে রাশেদ ও কামনা শোকে ভেংগে পড়ল। সাথে সাথীও। সাথীর এই চাপা ক্রন্দন পারভিন বুঝতে পেরে শান্তনা দিচ্ছিল। ‘মা-রে জীবন মরতে পারে না। জীবন যদি আমার সন্তান হয়। তাহলে ও মরবেনা । ও আমাকে মুক্ত না করে মরতে পারেনা।’
ওদিকে জীবন কোনমতে জানে বেচে আছে এবং পালিয়ে গেল । ওর স্যারের রুমে আবার সেই অদূশ্য শক্তি ওকে বলছে। তুমি যে অন্যয় করেছ তাতে তোমাকে চাকরী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, কিন্তু আমি তাহা মঞ্জুর করি নাই ।
স্যার এই মুহুর্তে আমার মন চায় আমি চাকরী ছেড়ে দিই । কিন্তু ইয়াংম্যান চাকরী ছাড়তে চাইলেই চাকরী ছাড়া যায় না। পুলিশের চাকরীতে ভর্তির চেয়ে ছেড়ে দেওয়া কঠিন। তোমার সাহস দেখে আমি সন্তুষ্ট ও মুগ্ধ হয়েছি। তোমার প্রমোশন হয়েছে। এখন থেকে তোমার নতুন নাম হবে মাস্তান। আমি চাই এই নাম নিয়ে তুমি বিদ্যুৎ বেগে এগিয়ে যাবে। শোন ইয়াংম্যান যাবতীয় সংবাদ তুমি গোপন রাখবে।
স্যার আমার ভিতরের সমস্ত ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিতে যখন আগ্নুৎপাত ঘটবে তখন সে আগুনে সবাইকে পুড়াবই। আপনি শুধু দোয়া করেন স্যার। চলে যাও। তবে মনে রেখ যতই তোমার বিপর্যয় ততই তোমার চাকরীতে প্রমোশন।
সারা শহরে মাস্তান নামে জীবন অরাজকতা করেই চলেছে। যেখানে মদের আড্ডা সেখানে হানা দেয়। সেখানে জুয়ার আড্ডা সেখানে জীবন। যেখানে নারীদের উপর নির্যাতন, ব্যাভিচার সেখানে জীবন। তারপর মারামারী কাট কাটি সারা শহরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ও পুলিশের ধরা ছোয়ার বাইরে। বর্তমান জীবনকে গ্রেপ্তার করার দায়িত এসপি রাশেদের। তাই মনির সাহেব সারাক্ষন ওসিদের অর্ডার করে চলছে জীবনের পিছনে।
ওদিকে রোজী সিংগাপুর থেকে সাথীর কাছে চিঠি লিখেছে যে সাথীর চোখে জীবনকে ছোট করে ঘৃনা ধরানোর জন্য। চিঠি পেয়ে সাথী ওর ভুল বুঝতে পারল। সেই সাথে নিজে অনুতপ্ত হতে লাগল। ও জীবনের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। জীবন করেছে আত্মহত্যা। একদিন দুজন জীবন সাথী হতে চেয়েছিল। আজ সাথীর ভুলেন জন্য জীবনকে হারালো। ওদের জীবন সাথী হওয়ার আর সম্ভব হল না। ওদের সকল কল্পনা স্বপ্ন নিমিষেই ভেংগে গেল ।
জীবনের এক বন্ধু বসির। সাথীদের বাসায় গেল সাথীকে দেখতে। কিন্তু সেখানে যেয়ে ও খুজে পেল ওর পিতাকে। ওর পিতা নাসিরউদ্দিন। নাসিরউদ্দিন এক হোটেল ড্যান্সারকে মিথ্য প্রলোভন দেখিয়ে ছোট একটা কাবিন নামার মাঝে স্বাক্ষর করে বিয়ে করে তাতে জন্ম নেয় বসিরউদ্দিন। বসির জন্মের কিছু দিন পর মা মারা যেয়ে এতিম হয়ে যায়। রাস্তায় রাস্তায় লাথি পিটা খেয়ে বড় হয়েছে। বসিরের চেহারা নাসিরের মতই হয়েছে আর এ প্রমান টুকুতেই পিতা পুত্রের চেনা জানা হয়ে গেল ।
মহসিন নাসিরের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গেল। নাসিরের ওপর মহসিনের সকল বিশ্বাস ভেংগে গুড়ো হয়ে গেল। মহসিন একদিন ভালবেসে নাসিরের সাথে ওর একমাত্র বোনের বিয়ে দিবে বলে কতনা খুন খারাবী, কত আজে বাজে কাজ করে চলেছে। আজ মহসিনের সামনে নাসিরউদ্দিনের মুখশ খুলে গেল। মহসিন নাসিরকে মারতে উদ্যাত হল সাথে সাথে নাসির মহসিনকে বেধে ফেলল এবং পিতা পুত্র এক হয়ে মহসিনকে মারতে গেল । মহসিনের করার কিছুই নেই তাই আত্ম-সমার্পন করল।
এই খান বংশের সমস্ত স্বয়-সম্পত্তির মালিক হচ্ছে পারভিন। তাই পারভিনকে ঘিরেই ওদের সব কল্পনা। নাসির জোর করে পারভিনের কাছ থেকে সকল সম্পত্তি লিখে নিতে গেল পারভিন চিৎকার করছে। এমন সময় বাহার এলো। বাহার এসে সিনেমাটিক ভঙ্গিতে অস্ত্র তুলে সকলকে পাথর বানিয়ে পারভিনকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সকলে অবাক আজও কি বাহার বেঁচে আছে। কি করা মহসিন নাসির দ্বিধা দন্দ ভুলে এক হয়ে গেল।
ওদিকে রাশেদ অফিসে যায়। কিন্ত কোন কাজে আজ মন বসে না। পুত্রের শোকে শোকাহত বাসায় ফিরলে দেখা যায় কামনা না খেয়ে না ঘুমিয়ে বিছানার উপর পড়ে আছে। একেবারে সহ্যাশায়ী অবস্থা কামনার। সেদিন রাশেদ ও কামনা ড্রয়ইং রুমে বসে এ্যালবাম থেকে জীবনের ছবি গুলি উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখছিল। তখন কে যেন দরজায় শব্দ করল। দরজা খোলা মাত্রই অবাক। বাহার আর পারভিন। এসপি সাহেব ওদেরকে চিনতে পারছিল না। তার পর এসপি রাশেদের মনে ভয় জাগ্রত হল। বাহার নিশ্চই জীবনকে নিতে এসেছে। তাই বাহারকে জা-না তাই বলে ঝগড়া করতে লাগল। বাহার বলল জীবনকে সে কোরান শরীফ সাফায়েত করে দিয়েছে। তাই তার দাবী নিয়ে আসিনি। এসেছে সবাইকে একবার দেখতে। জীবনকে আর্শিবাদ করতে তখন এসপি সাহেব সব খুলে বলল। যে জীবন বেঁচে নেই। একথা শোনা মাত্রই পারভিন আবেগে ভেংগে পড়ে। কিন্তু বাহারের মনে সংশয় জন্ম নেয় যে, জীবন মরতে পারেনা। মারা গেলে তার কোন চিহ্ন নিশ্চয় পাওয়া যেত। যেহেতু কোন প্রকার চিহ্ন পাওয়া যায়নি তদরূপ বেছে আছে।
ওদিকে নাসিরউদ্দিন সাথীর সহিত বসিরের বিয়ের জন্য প্রস্তাব করে। মহসিন এই আধা পাগল ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার রাজী হয়না। তাই ওকে বেঁধে মেরে ফেলাবার জন্য নিয়ে যায়। এমন সময় সাথী ঘরে তালা বদ্ধ থাকে এবং ছদ্দবেশ ধারন করে জীবন আসে। সাথীকে জীবন দেখা মাত্রই পুরনো প্রেম উদ্বেলিত হয়। প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভুলে গিয়ে। সাথীর চোখের পানি মুছে দেয় জিজ্ঞাসা করে সে কাঁদছে কেন? তখন সাথী কাঁদতে কাঁদতে বলে জীবনকে ভাল বাসত। ওর বাবা আর নাসির চক্রান্ত করে তাকে পুিড়য়ে মেরে ফেলেছে। সাথী আরো বলে সে জীবনকে ভুল বুঝে তার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছে। জীবনের মুখে থু থু নিক্ষেপ করেছে। তাইতো ও আজ জীবনের জন্য শেষ হতে চলেছে। ও এখনো জীবনকে ভালবাসে। মরার আগ পর্যন্ত ভালবাসবে। জীবনকে যখন পাইনি তখন আর কাউকে বিয়ে করবে না। নাসিরউদ্দিন মহসিনকে ধরে নিয়ে গেছে হত্যা করার জন্য। সাথী তার ভুল বুঝতে পেরেছে। অর্থাৎ তার ভলবাসা সার্থক। তার আগে মহসিনকে বাচাঁতে হবে। সে জীবনের জীবনে বড় শক্র, জানের শক্র। মহসিনকে বুঝিয়ে দিতে হবে জীবন কি জিনিস। তড়িৎ গতিতে বেরিয়ে গেল।
নদীর ধারে নিয়ে মহসিনকে গুলি করে মারবে। ঠিক এমন সময় পিছন থেকে জীবন আক্রমন করে। নাসিরউদ্দিন মহসিনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। জীবন গিয়ে মহসিনকে ধরে বসে। দেখে বাহুতে গুলি লেগেছে। তাড়াতাড়ি পকেট থেকে রুমাল বের করে বেঁধে নেয়। এমন সময় বাহার ওখানে হাজির। তখন পিতা পুত্রের ভিতর তর্ক যুদ্ধ শুরু হল। মহসিনকে বলছে
আপনার কোন ভয় নেই আপনি আমার সাথে চলুন।
বাহার : না মহসিন আমার সাথে যাবে।
জীবন: না মহসিন খান আমার শত্র“ আমার সাথে যাবে ।
বাহার : না খান বাহাদুর মহসিন আমার তিন পূরুষের শক্র। মহসিনকে আমি নিজের হাতে শাস্তি দিব। আমি ওকে নিয়েই যাব।
জীবন: হে বৃদ্ধ এতটা জোর আপনি কোথায় পেলেন, আমার শিকার কেড়ে নিতে চান।
বাহার : হে যুবক, তুমি জোরের কি দেখেছ? তুমি আমার ছেলের বয়সী। তাই তোমাকে জোর দেখাতে চাই না। না হলে দেখাতাম।
জীবন: হে বৃদ্ধ আপনি আমার পিতার বয়সী তাই আপনাকে কিছু বলতে চাই না। আপনি বাড়ী ফিরে যান। বিনয়ী ভাবে বলে।
বাহার : হে যুবক আমি মহসিনকে নিতে এসেছি। মহসিনকে ছাড়া যাবনা তুমি কি আমার সাথে শক্তি পরীক্ষা করতে চাও। তাহলে এস।
জীবন: হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি শক্তি পরীক্ষা করিতে চাই। শক্তির জোরে মহসিনকে কেড়ে নিয়েছি। আবার মহসিনকে কেড়ে নিয়ে যাব। ক্ষিপ্ত হয়ে বলে ।
বাহার : হে যুবক মায়ের কোলে ফিরে যাও। মায়ের আর্শিবাদ নিয়ে লড়তে এসো। তা না হলে পারবে না। বল কে তুমি? কি তোমার পরিচয় যে মহসিনকে ধরতে এসেছো।
জীবন: সেটা পরে। আগে বলুন আপনি কে? কেন আমার শক্রকে তুলে নিতে এসেছেন।
বাহার : আমি বাহার। বাহার আমার নাম। আমার জীবনের একমাত্র শক্র সে হলো খান বাহাদুর মহসিন।
জীবন: বাহার কেমন যেন একটা খটকা লাগল ওর পিতার নামওতো বাহার। তাই আর কথা বাড়াতে মন সাড়া দিল না। এমন সময় পুলিশের গাড়ীর শব্দ শোনা গেল। টহল পুলিশের গাড়ী এসে কাছেই থামে জীবন পালিয়ে গেল। পুলিশ মাস্তান রুপী জীবনকে এবারও ধরতে পারলনা। বাহার মহসিনকে নিয়ে চলে গেল। টহল পুলিশ সাহেব বোকার মত ফিরে গেল ।
মহসিনকে ধরে বাহার ওর নিজের আস্তানায় নিয়ে গেল। মহসিন এখন অসুস্থ অসহায়। একজন অসহায় মানুষকে মারা উচিৎ নয়। এখন মহসিনের সেবা যতেœর প্রয়োজন। শুধু একথা গুলি বলল মহসিন তোর জন্য আমার সুখের সংসার ভেংগে গেছে। হারিয়ে গেছে জীবনের ২০টি বৎসর। হারিয়ে গেছে আমাদের একমাত্র সন্তান জীবন। হয়েছে আন্ডার গ্রাউন্ড কিং। ওব জন্যই জীবন স্নেহ ভালবাসা আদর যতœ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর সেই জীবনকে মহাসিন পুড়িয়ে মেরে ফেলেছে ।
মহসিন আজ অনুতপ্ত লজ্জিত। মহসিন সমস্ত ভুল স্বীকার করে আজ ক্ষমা প্রার্থী। আজ ওদের কাছে নিজ প্রাণ ভিক্ষা চায়। একদিন সোনার সন্তান জীবন যার সাথে ওর একমাত্র মেয়ের বিয়ে হলে মেয়ে হত সুখী। ওরা একে অপরকে ভালবেসেছিল জীবনসাথী হতে চেয়েছিল। আর সেই মসজিদ ভেংগে দিয়েছে এই পাপীষ্ট আর এক পাপিষ্টের পরামর্শে।
এসপি রাশেদ আসে বাহারের বাসায়। এসে দেখে মহসিন সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। সেদিন রাতে নাসিরউদ্দিন মহসিনকে মেরে ফেলতে গেলে মাস্তান এসে ওকে বাঁচায় তার প্রমান রুমালে লেখা আছে নাম। একে একে বের করে দেখে অনেকগুলি রুমাল।
কাঁদতে কাঁদতে সাথী শয্যাশায়ী হয়েছে। কিন্তু পিতা পুত্রের পরিকল্পনা চলছে আজ সাথীকে বিয়ে করবে জোর করে। সাথী কোন ক্রমেই রাজী হচ্ছেনা বিয়েতে। শাড়ী চুড়ি উড়না সাথী সব ছিড়ে ফেলে দিয়েছে। বলছে আমার বাপ মারা গেছে যাক। আমার সব কিছু চলে যাক। আমি মরে যাব তুবুও আমার ভালবাসা আমার প্রেম আমার সাধনা, আমার আরাধনা, আমার জীবনের জায়গায় কাউকে আনতে পারব না। এমন সময় নাসিরের লোক জন পারভিন ও মহসিনকে ধরে নিয়ে এসেছে। তখন জীবন বাহার এলো রক্ষা করল ওদের। পুলিশের হাতে ধরা পড়ল নাসির-বসির পিতা-পুত্র সহ তার লোকজন। মহসিন মৃত্যুর যন্ত্রনায় তবুও ভাল লাগছে ওর এক মাত্র মেয়েকে রক্ষা করতে পেরেছে। তার ভালবাসা জীবনের হাতে তাকে তুলে দিতে পারছে। জীবন বেঁেচ আছে সবাই হতবাক হল। জীবনের হাতে সাথীর হাত ধরে দিল। বলল বাহার তোমর বন্ধুর যোগ্য আমি নই। আজ আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইনা তুমি আমার মেয়েটাকে তোমার ছেলের বউ করে আগলে রেখ। পঁচিশ বৎসর পর মহসিন বাহার ও পারভিনকে স্বীকার করল। তাদের মঙ্গল কামনা করে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করল।
এসপি রাশেদ কোরআন সাফায়েত করে নেওয়া শিশুটিকে বিশ বছর পর বাহারকে ফিরিয়ে দিল। কিন্তু বাহার ছেলেকে আর্শিবাদ করে, ছেলেকে সাথীর সহিত বিয়ে দিয়ে স্ত্রী পারভিনকে নিয়ে দুবাই ফিরে চলে যাবে। বিশ বছর পর দুজন মিলিত হতে পেরে সুখ অনুভব করল এবং শেষ জীবনের আমরন সাথী হল। ভুলে গেল অতীত। জীবনকে ঘিরে এসপি রাশেদ ও বাহার দুই বন্ধু এক হাতে হাত রাখল।
**********
























