RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
সোমবার , ২২ জুন ২০২৬ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
  

রবি ৬০ টাকা থেকে ৬০ লাখ টাকার মালিক

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ

রবি ৬০ টাকা থেকে ৬০ লাখ টাকার মালিক
ড. বায়েজিদ মোড়ল

পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ২০ প্রজাতির কবুতর রয়েছে। আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে সাধারণত এরা চড়ে বেড়ায়। বাংলাদেশের জলবায়ু এবং বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত্র কবুতর পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এক সময় কবুতরকে সংবাদ বাহক ও খেলার পাখি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এটি পরিবারের পুষ্টি সরবরাহ, সমৃদ্ধি, শোভাবর্ধনকারী এবং বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এদের সুষ্ট পরিচর্যা রক্ষণাবেক্ষন এবং ব্যবস্থাপণার মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রতিপালন করে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা যায়।

রবিউল ইসলাম রবি। মাগুরার এক পল্লীগ্রামে তার জন্ম। খুব ছোট বেলার কিছু বছর কাটে মাগুরাতে। আকাশে কবুতর আর পাখিদের উড়তে দেখতেন তিনি। গায়ের দু একটা ছেলে শালিক খাঁচায় পালতো। যে শালিকটা খাঁচায় পালা হতো সেগুলো আর আকাশে উড়তে পারতো না। কেবল মাত্র কবুতর আকাশে উড়তো আবার খাঁচায় ফিরে আসতো। রাতে খাঁচায় থাকতো। সকালে খাঁচার দরজা খুলে দিলে আকাশে উড়ে বেড়াতো। রবি দেখতেন সাথে সাথে তার ছোট্ট মনটাও কবুতরের পাখায় আকাশে উড়ে বেড়াতো। এই ঘোর থেকেই মনে জাগে কবুতর পালন করবে। ১৯৮৫ সন তখন রবি ক্লাস ট’ুতে পড়তো। সেই বয়সে রবি দুই জোড়া দেশি জাতের কবুতর কিনলেন ৬০ টাকা দিয়ে। রবি নিজের খাবার নিজের হাতে খেতে পারেনা, অথচও সে কবুতরের খাওয়া দাওয়া নিয়ে বেশ সচেতন ও মহাব্যস্ত। প্রথমে বাঁশের চটা দিয়ে তৈরী খাঁচায় পালতে থাকেন সেই কবুতরগুলো। দু জোড়া থেকে ৭/৮ জোড়া, এক বছরের মধ্যেখাঁচা বড় করতে হলো তখন লম্বা করে কাঠের খাঁচা বানাতে হলো। এভাবে ২৫ থেকে ৩০ জোড়া কবুতরের থাকার জায়গা সে করতে পারলো।

এর পর কবুতর বাড়তে থাকে কিন্তু তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে না পেরে রবি কবুতর বিক্রি করতে থাকে। পুরাতন জোড়া বিক্রি করে দেয় নতুন জোড়াকে ঘর দেয়। এভাবে সে পাকা কবুতর পালনকারী হয়ে যায় প্রাইমারী স্কুল শেষ করার আগে। তবে এই সময়ে রবির বাবা রবিকে উৎসাহ দিত আর মা রবি বাসায় না থাকলে কবুতরের দেখাশুনা ও খাবার দিতে। কবুতরের গায়ে পোকা লাগলে রবির মা হাত দিয়ে কবুতরের আটালি পোকা মেরে দিত। রবির মা মনে করতেন রবি কবুতর নিয়ে ব্যস্ত থাকলে পাড়ার দুষ্টু ছেলেদের সাথে মিশবেনা। খারাপ সঙ্গ, অযথা সময় নষ্ট করবেনা। এতে রবির একটা সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন জীবন হবে। হাইস্কুলে পড়–য়া ছেলে মেয়েরা যে রকম দুরন্তপানা ও দুষ্টুমিতে মেতে থাকে রবি সেখানে উল্টা। রবি চলে সময় ধরে। বাড়ীর বাইরে সে খুব কম যায়। সন্ধ্যার পর রাত ১০/১১টা পর্যন্ত বাড়ীর বাইরে কাটিয়েছে রবি, এমন নজির নেই। যেটা এই বয়সের ছেলেরা করে বেড়ায়। রবি তা করেনি। স্কুলে পড়াকালীন রবির হাত খরচের টাকা সেই ছোট বেলা থেকে রবি আয় করা শিখেছে। খাতা কলম বই নিজের উপার্জনের অর্থেই কিনা শুরু করেন ক্লাস সিক্সে উঠে। এই উপার্জনের সুবাদে রবি হাইস্কুলে থেকেই ফ্যাশানাবল হয়ে ওঠেন। গীটার কিনেছেন বাসায় বসে গিটার বাজিয়ে গান করতেন রবি। বন্ধু বান্ধব আতœীয়-স্বজনদের বাসায় কোন অনুষ্ঠানান হলে রবি সেখানে গিয়ে গান করতেন।

রবির পিতা একজন ফার্মাসিস্ট, তিনি সৌদি আরবে থাকতেন। ঢাকার খিলক্ষেতের খা পাড়ায় ৫ কাঠা জমি কিনে সেখানে বাড়ি করেন ১৯৯০ সনে। স্ব পরিবারে তারা ঢাকায় চলে আসে। তার গ্রামে থেকে সেই কবুতর পালা কবুতরের পিছনে ছুটা কবুতরকে হাত তালি দিয়ে আকাশে উড়ানো, সব কিছু তার কাছে মনে হচ্ছিল শেষ হয়ে যাবে। শেষ হয়ে যাবে তার সেই ছোট্ট ইনকামটি! যান্ত্রিক এই ঢাকা শহরে সে কিভাবে কবুতর উড়াবে! আর কবুতর পালা বন্ধ করলে তার হাত খরচের টাকা আসবে কোথ থেকে! তাকেতো অন্যের উপর নির্ভর করতে হবে! ভাবুক প্রকৃতির রবি ভাবতেন যেমন কাজ করতেন তার চেয়ে বেশি। কবুতরগুলো নিয়ে এলেন ঢাকায়। বাড়ির বারান্দার এক কোনে খাঁচাগুলো রেখে কবুতরগুলো পালতে থাকলেন। এরপর ১৯৯৬ সালে এসে তার কাছে মুলধন হয় পনেরো হাজার টাকা আর সেই টাকা দিয়ে দুই জোড়া হলুদ সিরাজী ও প্যারাগুয়ে সপ্টফেজ জাতের বিদেশী কবুতর কেনেন। এই প্রজাতীগুলো আকাশে উড়তে পারেনা। আকাশে উড়ে অনেক কবুতর আর বাসায় ফেরেনা। গ্রামে হলে খুঝে বের করা যায়, ঢাকা শহরেতো আর খুজে বের করা যায় না। এরপর সে ভাবতে লাগলো এই আকাশে না উড়া কবুতর পাললে কেমন হয়? হলুদ সিরাজী ও প্যারাগুয়ে সপ্টফেজ এক বছরে ১০ জোড়া বাচ্চা দিল। শুরু হলো তার আকাশে না উড়া কবুতরের বংশ বিস্তার। বিদেশী জাতের একজোড়া বাচ্চা আসে দেশী জাতের এক জোড়ার ঘর দখল করে। এভাবে বিদেশী জাতের কবুতরগুলো রবির দেশী জাতের সব কবুতরের ঘরগুলো দখল করলো। এরপর নিজের কিছু কবুতর বিক্রি করেন। আবার নতুন প্রজাতীর কিছু নতুন কবুতর ক্রয় করেন এভাবে তার প্রজাতীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়ার সুযোগ পায়। সেই সুবাদে কাঁটাবনের পাখির বাজারে তার যাতায়াত বেড়ে যায় সেখানে যারা এই বিদেশী জাতের কবুতর পালে তাদের সাথে কথা বলে। অনেকের বাসায় যায় তাদের খামার দেখতে আরো বেশি অভিজ্ঞতা সঞ্চার করতে। রবির কোন কবুতরের কিছু হলে ওর নাওয়া খাওয়া ঘুমানো সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। ও পাগলের মতো কবুতরগুলোকে ভালবাসে। রাত-দিন সকাল সন্ধ্যা সব সময়ও কবুতরগুলোর সাথে থাকে।

এরপর ২০০২ সালে এসে রবি ওর পিতার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বাড়ীর ৪ তলায় বড় একটা রুম নিয়ে সেখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদেশী জাতের কবুতর পালন শুরু করেন। এখন তার খামারে মোট ১২০ প্রজাতীর ৫০০ জোড়া কবুতর আছে। তার খামারের একজোড়া কবুতরের সর্ব নি¤œ দাম তিন হাজার টাকা আর সর্বোচ্চ দাম আছে তিন লাখ টাকা।

রবির খামারে কিং সাদা-কালো, হলুদ ও নীল, কারনিউ, মনডেইন সুইস, ফ্রেন্স, আমেরিকান জায়েন্ট হোমার, রান্ট, রেসিং হোমার, হর্স ম্যান, বার্মিংহাম রোলার, ফ্লাইং হোমার, থাম্বলার, কিউমুলেট, হর্সম্যান, মালটেজ, ক্যারিয়ার, হোয়াইট ফাউন্টেল, টিম্বলার, প্লোটারস, নান্সী, ফেন্সি, সিরাজী, জালালী, বাংলা, গিরিবাজ, লোটন, বোম্বাই, গোবিন্দ প্রভৃতি প্রজাতীর কবুতর আছে।

রবি বলেন একটি প্রাপ্ত বয়স্ক কবুতরের দৈহিক গড় ওজন ২৫০-৮০০ গ্রাম। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সময় লাগে ৫-৬ মাস। প্রতিবার ডিম পাড়ে ১ জোড়। বাচ্চা উৎপাদন করতে পারে ৫-৬ বছর যাবৎ। বাচ্চার চোখ ফোটে ৪-৫ দিনে। কবুতর বাচ্চা ফোটার জন্য তা দেয় ১৭-১৯ দিন। পাখা এবং পা শক্ত হয় ১৯-২০ দিনে। ২৮-৩০ দিন বয়স হলে বাজারজাত করা যায়। কবুতর ১৫-২০ বছর পযন্ত বাঁচে। প্রথম ডিম দেয়ার ৪৮ ঘন্টা পর দ্বিতীয় বার ডিম দেয়। এই জিনিসগুলো একজন কবুতর পালনকারীকে মাথায় রাখতে হয়। আর প্রতি মাসে ডিম আর বাচ্চা নেয়া উচিত নয় বছরে ৩-৪ জোড়া বাচ্চা নিলে মা কবুতর ও বাচ্চা সবই ভালো থাকে।

রবির দেখা দেখি খিলক্ষেত ও উত্তরার অনেকে কবুতরের বাণিজ্যিক খামার করেছে। ঢাকাসহ সারা দেশে এই বিদেশী ফেন্সী জাতের কবুতর পালনকারীদের মাঝে একটি বৃহৎ কেন্দ্রীয় সংগঠন আছে। এই কেন্দিয় সংগঠনের অধীন আবার ছোট সংগঠন আছে রবি এই সংগঠনের সদস্য। কাটাবন ছাড়া আর কোথাও কবুতর বিক্রির হাট বা বাজার ছিলনা। তারা সবাই একত্রিত হয়ে মিরপুর ও পুরান ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় সৌখিন কবুতরের হাট সৃষ্টি করেছেন। ঢাকা শহরে এখন প্রতিটা মহল্লায় দু একজন কবুতর পালনকারী বাড়ী পাওয়া যায়। রবি যার কাছে কবুতর বিক্রি করে তাকে সে অনেক ধরনের বৃদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে কোন কবুতরের কিছু হলে রবি সে ব্যাপারেও তাদেরকে পরামর্শ দেয়। রবি হাতুড়ে প্রাণি ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের একজন বিশেষজ্ঞ প্রাণি চিকিৎসকের পরামর্শে তার খামার পরিচালিত করেন।

রবি’র শখের বশে শুরু করা খামার আজ একটি বাণিজ্যিক খামারের রূপ লাভ করেছে। শৈশব থেকেই কবুতর এর প্রতি রবির অদম্য নেশা তাকে নিয়ে এসেছে এখানে বর্তমানে তার খামারে ৫০-৬০ লাখ টাকার কবুতর রয়েছে। প্রতি মাসে খামারের বিভিন্ন ভাবে খরচ করে তার প্রতি মাসে গড় খরচ হয় ৭০-৮০ হাজার টাকা। আর কবুতরের বাচ্চা বিক্রি করেন গড়ে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকার উপরে। রবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় ¯স্নাতকত্তোর পাস করে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের মার্কেটিং ডিরেক্টর হিসেবে আছেন। তিনি কবুতর ভালবাসেন আর গান ভালবাসেন। গত বছর তিনি নিজের লেখা ও সুরে একটি গানের এলবাম বের করেছেন।

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

গ্রামাঞ্চলে মাছের উৎপাদন কমছে, প্রভাব পড়ছে মৎস্যজীবীদের জীবিকায়

৩০% খাদ্য অপচয় হয়, কমাতে পারলে খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে-কৃষিমন্ত্রী

ফরমালিন অপব্যবহারের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়

কৃষকের ঈদ আনন্দ উৎসব, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল

Bengali New Year from the Farmer's Courtyard

কৃষকের দেউড়ি থেকে বিশ্ব বাঙালীর বাংলা নববর্ষ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

ক্যাডেটরা হতে চলছে গভীর সমুদ্রের অকুতোভয় কাণ্ডারী

মাছের প্রজনন রক্ষায় সাগরে আজ থেকে ৫৮ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা

পোল্ট্রি অ্যান্ড সয়া ফুড ফেস্ট ২০২৫

স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রান্তিক খামারিদের অন্তর্ভুক্ত করবে স্মার্ট ফারমার্স কার্ড -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী