বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই প্রযুক্তিতে বুহলারের অগ্রযাত্রা: বাংলাদেশেও আধুনিক ফ্লাওয়ার মিলিং প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে সেমিনার।।
নিজস্ব প্রতিবেদক:ড. বায়েজিদ মোড়ল।।

বিশ্বের প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ প্রতিদিন এমন খাদ্য গ্রহণ করেন, যা বুহলার (Bühler) প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত যন্ত্রপাতিতে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে। একই সঙ্গে এক বিলিয়ন মানুষ প্রতিদিন এমন যানবাহনে চলাচল করেন, যার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বুহলারের প্রযুক্তিতে উৎপাদিত। খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই শিল্পায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বুহলার গ্রুপ।
এই বৈশ্বিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বুহলার বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২ জুলাই রাজধানীর আমারি- ঢাকা, হোটেলের ইডেন গ্র্যান্ড বলরুমে একটি Flour Milling Technical Seminar-এর আয়োজন করে। এতে দেশের ফ্লাওয়ার মিলিং শিল্পের উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ, মিল মালিক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেয়। সেমিনারে বিশ্বখ্যাত বিশেষজ্ঞরা আধুনিক মিলিং প্রযুক্তি, গমের আন্তর্জাতিক বাজার, অটোমেশন, ডিজিটাল সমাধান এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন।

বুহলারের ব্যবসার মূল ভিত্তি দুটি। এর Grains & Food Solutions বিভাগ নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্য এবং পশুখাদ্য উৎপাদনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করে। অন্যদিকে Advanced Materials বিভাগ জ্বালানি-সাশ্রয়ী যানবাহন, ভবন নির্মাণ এবং উন্নত শিল্প উপকরণ উৎপাদনের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উন্নয়ন করে।
প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, উন্নত পুষ্টি, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে তারা সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

বিশ্বব্যাপী খাদ্য শিল্পে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় কমানো এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাকে (Bühler) বুহলার তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে শিল্পখাতে শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্বন নিঃসরণ কমানোর দিকেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বুহলার (Bühler) মনে করে, বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ কোনো একক প্রতিষ্ঠান সমাধান করতে পারে না। এজন্য বিজ্ঞানী, গবেষক, শিল্প উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টার্টআপদের সমন্বয়ে একটি সহযোগিতামূলক উদ্ভাবনী পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। তাদের CUBIC Innovation Campus এই সহযোগিতামূলক গবেষণা ও উদ্ভাবনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বুহলার(Bühler) । প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, চীন, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৬০০ জন শিক্ষানবিশকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মিলিং স্কুল পরিচালনার মাধ্যমে আধুনিক মিলিং প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি করছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের শিল্প বিপ্লবের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, স্মার্ট মনিটরিং ও ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদন আরও নিরাপদ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করা সম্ভব। এ কারণে ডিজিটাল রূপান্তরকে তারা ব্যবসায়িক কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১০০টিরও বেশি সার্ভিস স্টেশন, ৩০টির বেশি উৎপাদন কেন্দ্র এবং ২৫টি অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের মাধ্যমে (Bühler) বুহলার গ্রাহকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে। তাদের মতে, অনলাইন সেবা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে প্রত্যক্ষ উপস্থিতির বিকল্প নেই।

বুহলার (Bühler) বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও সমান সুযোগের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে, বিভিন্ন সংস্কৃতি, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করে এবং প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করে।
বুহলার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশফেক উল্লাহ রফিক এবং বুহলার গ্রুপের মিলিং সলিউশনসের রিজিওনাল ম্যানেজার ক্রিস্টফ গ্র্যাবমার-এর আমন্ত্রণে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোশফেক উল্লাহ রফিক। এছাড়া ক্রিস্টফ গ্র্যাবমার, সন্দীপ কাপুরে, গ্লেন সোরিয়ানো, চুয়া জিন কিট এবং ক্রিস্টোফার এরিয়েল মিলিং শিল্পের চ্যালেঞ্জ, বৈশ্বিক গম বাজার, কালার সোর্টিং, প্রোঅ্যাকটিভ মেইনটেন্যান্স এবং অটোমেশন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য এই সেমিনারে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মিলিং শিল্পের বর্তমান প্রবণতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, বৈশ্বিক গমের বাজার পরিস্থিতি, আধুনিক কালার সোর্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গম পরিষ্কার ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মিলিং দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি থাকে প্রশ্নোত্তর পর্ব, নলেজ কুইজ এবং নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ। ৫জন বিজয়ীকে পুরস্কুত করা হয়।
বুহলারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের মূল ভিত্তি হলো—প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকের সাফল্য নিশ্চিত করা, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখা, উন্নত শিল্প উপকরণ প্রক্রিয়াকরণের জন্য নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং একটি স্বাধীন পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ফ্লাওয়ার মিলিং শিল্প দ্রুত আধুনিকায়নের পথে এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি, অটোমেশন এবং দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বয় ঘটাতে পারলে দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। সেই লক্ষ্যেই (Bühler) বুহলারের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের উদ্যোগ দেশের শিল্পখাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



























