
রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে ১৮ জুন থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬। তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী। “করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস” প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেলা ২০ জুন পর্যন্ত চলবে এবং প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী।

দেশীয় মৌসুমি ও অপ্রচলিত শত পদের ফলের সমাহার, আধুনিক চাষাবাদ ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির প্রদর্শনী এবং ফল ভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বিপণন তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী। “করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬। দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হ্রাস, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ফল রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্দ্যোগে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
স্থান: কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণ, খামারবাড়ি, ঢাকা।
তারিখ: ১৮ জুন থেকে ২০ জুন তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী।
সময়সূচি: প্রতিদিন সকাল ৯:০০ টা থেকে রাত ৮:০০ টা পর্যন্ত জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী ।

উদ্বোধনের পর তিনি মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকদের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশীয় ফলের উৎপাদন, আধুনিক চাষাবাদ, সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
উদ্বোধন ও স্টল পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে “করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় কৃষি এবং মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জনাব মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ৬. রফিকুল ই মোহামেদ। সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জনাব মো: সেলিম খান, অতিরিক্ত সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়।
মূল প্রবন্ধ (Keynote Paper) উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. হাসনাত মোহাম্মাদ সোলায়মান, চেয়ারম্যান, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম, ডিন, কৃষি অনুষদ ও বিভাগীয় প্রধান, কৃষি বিজ্ঞান বিভাগ ড্যাফেডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ড. মুহাম্মদ রাশীদ আহমদ, সাবেক পরিচালক (গবেষণা), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।

সেমিনারে দেশের ফল খাতের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন বৃদ্ধি, ফলের বহুমুখী ব্যবহার, পুষ্টি নিরাপত্তা, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হ্রাস, আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ফল রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, কৃষির বহুমুখীকরণ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে ফল চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফলভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ সময়ের দাবি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মাননীয় কৃষি এবং মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশে ফল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, আনারস, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বাড়ছে। নিরাপদ ও মানসম্মত ফল উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, ফল মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ফলের অপচয় রোধ ও বছরব্যাপী সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি পরিবারকে ফলের গাছ রোপণ এবং নিয়মিত দেশীয় ফল গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় দেশীয় মৌসুমি ও অপ্রচলিত ফল, ফলভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য, উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং ফল চাষ ও সংরক্ষণ বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য, পুষ্টিগুণ, আধুনিক উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন।



























