মেরিন ফিশারিজ একাডেমিকে বিশ্বমানের দক্ষ মেরিন পেশাজীবী গড়ে তুলতে হবে//মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী।।
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) , শুক্রবার, ১৯ আষাঢ় (৩ জুলাই):

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মেরিন ফিশারিজ একাডেমিকে বিশ্বমানের দক্ষ মেরিন পেশাজীবী গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
মন্ত্রী আজ বিকেলে চট্টগ্রামের মেরিন ফিশারিজ একাডেমি পরিদর্শনকালে একাডেমির কর্মকর্তা, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিশাল সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ, সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেই এ একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একাডেমির বিদ্যমান সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে মেরিন ফিশারিজ একাডেমিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করা হবে, যাতে দেশের ব্লু ইকোনমির বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন ফাইজ উদ্দিন আহমেদ (এন), বিসিজিএম, পিএসসি, বিএন, কর্ণফুলী উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রিদুয়ানুল ইসলাম- সহ মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মেরিন ফিশারিজ একাডেমিতে চার বছর মেয়াদি বিএসসি (অনার্স) ইন নটিক্যাল, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেরিন ফিশারিজ কোর্সে ক্যাডেটদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২,৩৫০ জন ক্যাডেট এখান থেকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশি-বিদেশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন। “লার্ন টু সার্ভ” আদর্শে পরিচালিত মেরিন ফিশারিজ একাডেমি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ নাবিক, মেরিন প্রকৌশলী ও মৎস্য বিশেষজ্ঞ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একাডেমির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্যাডেটরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মৎস্য এবং বাণিজ্যিক জাহাজে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছেন।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী একাডেমির সার্বিক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি একাডেমির উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানে উত্তরণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।


























