RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Monday , 7 September 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

বাংলাদেশে রেড পাকচুং ঘাস: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, চাষপদ্ধতি, রোগব্যাধি ও নিরাপদ ব্যবহার।।

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
September 6, 2026 6:42 pm

বাংলাদেশে রেড পাকচুং ঘাস: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, চাষপদ্ধতি, রোগব্যাধি ও নিরাপদ ব্যবহার।।

উচ্চ ফলনশীল ঘাসটি নিয়ে সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক জাত শনাক্তকরণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা।।

দেশে গবাদিপশুর খামার বাড়লেও প্রাকৃতিক চারণভূমি ও আবাদযোগ্য জমি ক্রমে কমছে। ফলে অল্প জমি থেকে বেশি পরিমাণ পুষ্টিকর সবুজ ঘাস উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নেপিয়ার, পাকচুং, জারা, জাম্বু ও রেড পাকচুংসহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ঘাস খামারিদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। তবে ‘রেড পাকচুং’ নামটি নিয়ে বাজারে বিভ্রান্তি রয়েছে। তাই কাটিং কেনার আগে বিশ্বস্ত উৎস, ঘাসের বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভব হলে পরীক্ষাগারের পুষ্টিমান যাচাই করা জরুরি।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।


রেড পাকচুং ঘাস কী?

রেড পাকচুং মূলত নেপিয়ার বা এলিফ্যান্ট ঘাসগোষ্ঠীর একটি লালচে-বেগুনি রঙের উচ্চ ফলনশীল জার্মপ্লাজম বা চাষোপযোগী ধরন হিসেবে বাংলাদেশে পরিচিত। এর কাণ্ড, পাতার মধ্যশিরা, পাতার কিনারা অথবা গাছের গোড়ায় কম-বেশি লালচে বা বেগুনি রং দেখা যেতে পারে।

বর্তমান শ্রেণিবিন্যাসে সাধারণ নেপিয়ার ঘাসের বৈজ্ঞানিক নাম Cenchrus purpureus; পুরোনো ও এখনো বহুল ব্যবহৃত নাম Pennisetum purpureum। তবে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া প্রত্যেক ‘রেড পাকচুং’ কাটিংয়ের জেনেটিক পরিচয় একই—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।

অন্যদিকে বহুল পরিচিত Pakchong-1 বা Super Napier সাধারণত নেপিয়ার ঘাস ও পার্ল মিলেটের সংকর হিসেবে বর্ণিত। কিন্তু শুধু গাছের লাল রং দেখে কোনো কাটিংকে আসল Pakchong-1 কিংবা নির্দিষ্ট সংকর জাত বলা বৈজ্ঞানিকভাবে নিরাপদ নয়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

‘রেড পাকচুং’ নামটি অনেক ক্ষেত্রে কৃষক, নার্সারি বা কাটিং বিক্রেতাদের ব্যবহৃত বাণিজ্যিক নাম। এটি BLRI উদ্ভাবিত স্বতন্ত্র অবমুক্ত জাত—এমন দাবি নির্ভরযোগ্য সরকারি দলিল ছাড়া করা উচিত নয়। তবে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত নেপিয়ার জার্মপ্লাজমের তালিকায় Red Pakchong নামটি পাওয়া যায়।


বাংলাদেশে রেড পাকচুং চাষের ইতিহাস

বাংলাদেশে রেড পাকচুং ঠিক কোন সালে, কোন দেশ থেকে এবং কার মাধ্যমে প্রথম এসেছে—এ বিষয়ে প্রকাশিত ও যাচাইযোগ্য সরকারি দলিল খুব সীমিত। সুতরাং নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সালকে এর প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখ করতে হলে আমদানি, কোয়ারেন্টাইন, গবেষণা বা সরকারি বিতরণের নথি থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাসের বিস্তার নব্বইয়ের দশক থেকে দ্রুত বাড়তে থাকে। একটি প্রকাশিত প্রতিবেদনে BLRI সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে ভারত থেকে নেপিয়ার ঘাস এনে প্রথম দিকে মিল্ক ভিটাকে চাষের জন্য দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে BLRI ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ঘাস মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীকালে বেসরকারি খামারি, কাটিং উৎপাদনকারী, অনলাইন কৃষি প্ল্যাটফর্ম ও উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে পাকচুং, রেড পাকচুংসহ বিভিন্ন নেপিয়ার ঘাস দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যায়। ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে বাগেরহাটের ফকিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় রেড পাকচুং চাষের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে ঘাস উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

BLRI-এর পশুখাদ্য তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, পাচুটিয়া ফডার জার্মপ্লাজম ব্যাংকে সংরক্ষিত নেপিয়ার ধরনগুলোর মধ্যে পাকচুং, রেড পাকচুং, জারা এবং BLRI Napier-1 থেকে 4-সহ একাধিক জার্মপ্লাজম রয়েছে। অর্থাৎ রেড পাকচুং এখন শুধু বাজারের নাম নয়; গবেষণা ও সংরক্ষণ পর্যায়েও এর উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে। তবে এর বাংলাদেশের প্রথম আগমনের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এখনো গবেষণার দাবি রাখে।


রেড পাকচুং ঘাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য

১. লালচে বা বেগুনি আভা

অনুকূল আলো ও পরিবেশে কাণ্ড, গিঁট, পাতার মধ্যশিরা বা পাতায় লালচে-বেগুনি রঞ্জকতা দেখা যায়। তবে রং মাটি, তাপমাত্রা, গাছের বয়স ও জাতের বিশুদ্ধতার কারণে পরিবর্তিত হতে পারে।

২. দ্রুত বৃদ্ধি ও কুশি উৎপাদন

সঠিক পরিচর্যায় গোড়া থেকে একাধিক কুশি বের হয়। প্রতিবার কাটার পর গাছ দ্রুত পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে।

৩. বহুবর্ষজীবী প্রকৃতি

একবার ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে কয়েক বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে সময়ের সঙ্গে গোছা ঘন হয়ে যাওয়া, রোগের বিস্তার ও ফলন কমে যাওয়ার কারণে ক্ষেত নবায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

৪. অধিক সবুজ জৈবভর

উন্নত ব্যবস্থাপনায় সাধারণ দেশীয় ঘাসের তুলনায় বেশি সবুজ ঘাস পাওয়া যেতে পারে। তবে ফলন নির্ভর করে—

  • জাতের বিশুদ্ধতা;
  • জমির উর্বরতা;
  • গাছের ঘনত্ব;
  • পানি ও নিষ্কাশন;
  • সার ব্যবস্থাপনা;
  • কাটার বয়স;
  • মৌসুম ও পরিচর্যার ওপর।

৫. পশুর গ্রহণযোগ্যতা

কচি অবস্থায় কেটে কুচি করে দিলে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া সাধারণত ভালোভাবে গ্রহণ করে। বেশি বয়সী ঘাসের কাণ্ড শক্ত এবং আঁশ বেশি হওয়ায় গ্রহণযোগ্যতা ও হজমযোগ্যতা কমে যায়।

৬. সাইলেজ তৈরির উপযোগিতা

অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় ঘাস কুচি করে সাইলেজ বানানো যায়। তবে নেপিয়ারে অনেক সময় আর্দ্রতা বেশি ও দ্রবণীয় শর্করা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। তাই কয়েক ঘণ্টা ছায়ায় ঝরিয়ে নিয়ে ভুট্টা, গুড় বা মোলাসেসের মতো উপযুক্ত উপাদান বিশেষজ্ঞের পরামর্শে মেশালে গাঁজন ভালো হতে পারে।


পুষ্টিমান: প্রচারণা ও বাস্তবতা

রেড পাকচুং নিয়ে অনলাইনে কখনো ১৮–২০ শতাংশ বা তারও বেশি প্রোটিনের দাবি করা হয়। কিন্তু নমুনার বয়স, পাতার অনুপাত, সার প্রয়োগ, মৌসুম, পরীক্ষাপদ্ধতি এবং ফলাফল fresh basis না dry-matter basis—এসব উল্লেখ না থাকলে এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। BLRI-এর সাধারণ নেপিয়ার ঘাসের তথ্যভান্ডারে গড় পুষ্টিমান হিসেবে প্রায়—

পুষ্টি উপাদানগড় পরিমাণ
শুষ্ক পদার্থ বা Dry Matterতাজা ঘাসে প্রায় ১৯.৫৪%
অপরিশোধিত প্রোটিনশুষ্ক পদার্থে প্রায় ১০.৬৩%
NDFশুষ্ক পদার্থে প্রায় ৬৫.২৩%
ADFশুষ্ক পদার্থে প্রায় ৪৩.২৭%
খনিজ ছাইশুষ্ক পদার্থে প্রায় ১২.৯৪%

এগুলো সাধারণ নেপিয়ার নমুনার গড়; রেড পাকচুংয়ের নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কচি পাতাবহুল ঘাসে প্রোটিন ও হজমযোগ্যতা সাধারণত বেশি থাকে। ঘাসের বয়স বাড়লে শুষ্ক পদার্থ ও আঁশ বাড়ে, আর প্রোটিন ও হজমযোগ্যতা কমতে থাকে। অতএব, রেড পাকচুংয়ের প্রকৃত পুষ্টিমান জানতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেতের নমুনা স্বীকৃত পশুখাদ্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।


রেড পাকচুং ঘাসের চাষপদ্ধতি

১. জমি ও আবহাওয়া নির্বাচন

উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া এ ঘাসের জন্য উপযোগী। পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়—এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি নির্বাচন করা ভালো। বেলে-দোআঁশ থেকে এঁটেল-দোআঁশ মাটিতে চাষ করা যায়। তবে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে শিকড় পচা, কুশি নষ্ট ও ফলন কমার আশঙ্কা থাকে। জমিতে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

প্রায় pH ৫.৫–৭.৫-এর মধ্যে ভালো ফলন পাওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত অম্লীয় মাটিতে মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে চুন প্রয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।

২. রোপণের সময়

বাংলাদেশে সাধারণত—

  • ফেব্রুয়ারি–এপ্রিল;
  • বর্ষার শুরুতে;
  • অথবা সেচসুবিধা থাকলে বর্ষার শেষভাগেও

রোপণ করা যায়। প্রচণ্ড শীত, জলাবদ্ধতা এবং অতিবৃষ্টির মধ্যে কাটিং বসানো ঝুঁকিপূর্ণ।

৩. জমি প্রস্তুতি

জমি কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে আগাছামুক্ত এবং ঝুরঝুরে করতে হবে। শেষ চাষের সময় ভালোভাবে পচানো গোবর বা কম্পোস্ট মিশিয়ে দেওয়া উত্তম। জমির চারপাশ ও প্রয়োজনমতো ভেতরে নিষ্কাশন নালা রাখতে হবে।

৪. কাটিং নির্বাচন

সুস্থ, রোগমুক্ত ও পরিপক্ব গাছ থেকে কাটিং সংগ্রহ করতে হবে। একটি কাটিংয়ে সাধারণত ২–৩টি জীবন্ত গিঁট থাকা ভালো। কাটিং নেওয়ার সময় দেখতে হবে—

  • কাণ্ডে কালো দাগ বা পচন নেই;
  • গিঁট শুকিয়ে যায়নি;
  • রোগাক্রান্ত ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা হয়নি;
  • জাতের উৎস ও পরিচয় জানা আছে;
  • দীর্ঘ সময় রোদে ফেলে রাখা হয়নি।

৫. রোপণ পদ্ধতি ও দূরত্ব

সারি থেকে সারি প্রায় ৭০–৭৫ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছ ২৫–৩০ সেন্টিমিটার দূরত্বে রোপণ একটি প্রচলিত পদ্ধতি। তবে জমির উর্বরতা, যান্ত্রিক পরিচর্যা ও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন অনুসারে দূরত্ব কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

কাটিং প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে বসিয়ে অন্তত একটি গিঁট মাটির নিচে এবং একটি গিঁট মাটির ওপরে রাখতে হবে। শিকড়যুক্ত কুশিও রোপণ করা যায়। রোপণের পর মাটির সঙ্গে কাটিংয়ের ভালো সংযোগ নিশ্চিত করে হালকা সেচ দিতে হবে।

৬. সার ব্যবস্থাপনা

সারের পরিমাণ মাটির পরীক্ষা, আগের ফসল, প্রত্যাশিত ফলন ও জমির উর্বরতা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। সাধারণভাবে—

  • জমি তৈরির সময় পচা গোবর বা কম্পোস্ট;
  • প্রয়োজন অনুযায়ী ফসফরাস, পটাশ, সালফার ও অন্যান্য পুষ্টি;
  • প্রতিবার কাটার পর ভাগ করে নাইট্রোজেন সার

প্রয়োগ করা হয়।

একবারে অতিরিক্ত ইউরিয়া দেওয়া উচিত নয়। এতে গাছ নরম হয়ে পড়ে যেতে পারে, রোগ বাড়তে পারে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘাসে নাইট্রেট জমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সারের স্থানীয় মাত্রা উপজেলা প্রাণিসম্পদ বা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে নির্ধারণ করতে হবে।

৭. সেচ ও পানি নিষ্কাশন

রোপণের পরপরই হালকা সেচ প্রয়োজন। শুষ্ক মৌসুমে মাটির আর্দ্রতা দেখে সেচ দিতে হবে। প্রতিবার ঘাস কাটার পর সার প্রয়োগ করে সেচ দিলে নতুন কুশি দ্রুত বের হয়। বর্ষায় সেচ নয়—দ্রুত পানি নিষ্কাশনই প্রধান কাজ। গোড়ায় স্থায়ীভাবে পানি জমে থাকলে কাণ্ড ও শিকড় পচে যেতে পারে।

৮. আগাছা দমন

রোপণের প্রথম ৩০–৪৫ দিন আগাছা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিকে এক বা দুইবার নিড়ানি দিতে হতে পারে। গাছ ভালোভাবে ঝোপ তৈরি করলে আগাছার চাপ কমে আসে।

৯. ঘাস কাটার সময়

প্রথম কাটাই সাধারণত রোপণের প্রায় ৬০–৭০ দিন পর করা যায়। পরবর্তী কাটাই মৌসুম ও বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে প্রায় ৩৫–৪৫ দিন অন্তর করা যেতে পারে।

মাটি থেকে প্রায় ১০–১৫ সেন্টিমিটার ওপরে কাটা ভালো। একেবারে মাটির সমান করে কাটলে নতুন কুশি ও গাছের স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গাছের উচ্চতা নয়, কাণ্ডের কোমলতা, পাতা-কাণ্ডের অনুপাত ও বয়স দেখে কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।


পশুকে খাওয়ানোর নিয়ম ও সতর্কতা

রেড পাকচুং কোনো পূর্ণাঙ্গ রেশন নয়। এটি মূলত আঁশসমৃদ্ধ সবুজ খাদ্যের উৎস। শুধু এই ঘাস খাইয়ে উচ্চ দুধ উৎপাদন, দ্রুত মোটাতাজাকরণ বা সব ধরনের পুষ্টিচাহিদা পূরণ হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। নিরাপদ ব্যবহারের জন্য—

  • প্রথমবার অল্প পরিমাণে দিয়ে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করুন;
  • সাধারণত ২–৫ সেন্টিমিটার করে কুচি করে দিন;
  • বয়স, ওজন ও উৎপাদন অনুযায়ী খড়, অন্যান্য ঘাস, দানাদার খাদ্য, খনিজ ও লবণের সঙ্গে ভারসাম্য রাখুন;
  • কাদাযুক্ত, দুর্গন্ধযুক্ত, পচা বা ছত্রাকাক্রান্ত ঘাস দেবেন না;
  • কীটনাশক ছিটানোর পর অপেক্ষাকাল শেষ হওয়ার আগে কাটবেন না;
  • অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ, দীর্ঘ খরার পর হঠাৎ বৃদ্ধি বা অপরিণত অবস্থায় কাটা ঘাসে নাইট্রেটের ঝুঁকি থাকলে পরীক্ষা করুন;
  • পশুকে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি দিন;
  • দৈনিক পরিমাণ নির্ধারণে প্রাণীর ওজন, দুধ উৎপাদন ও মোট রেশনের শুষ্ক পদার্থ হিসাব করুন।

খাদ্যাভ্যাস হঠাৎ পরিবর্তন করলে পাতলা পায়খানা, পেট ফাঁপা বা খাদ্যগ্রহণ কমে যেতে পারে।


রোগব্যাধি, পোকামাকড় ও প্রতিকার

রেড পাকচুং নিয়ে বাংলাদেশভিত্তিক পৃথক রোগতাত্ত্বিক গবেষণা সীমিত। তাই নেপিয়ার ঘাসে পরিচিত সমস্যাগুলোর আলোকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

১. পাতার দাগ বা ব্লাইট

লক্ষণ: পাতায় বাদামি, কালচে বা ধূসর দাগ; পরে দাগ বড় হয়ে পাতা শুকিয়ে যেতে পারে।

অনুকূল পরিবেশ: অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ঘন রোপণ, দীর্ঘসময় পাতা ভেজা থাকা এবং আক্রান্ত অবশিষ্টাংশ।

প্রতিকার:

  • আক্রান্ত পাতা ও গোছা সরিয়ে ফেলুন;
  • পানি নিষ্কাশন ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন;
  • রোগাক্রান্ত ক্ষেত থেকে কাটিং নেবেন না;
  • একই যন্ত্র সুস্থ ক্ষেতে ব্যবহারের আগে পরিষ্কার করুন;
  • রোগ শনাক্ত না করে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করবেন না।

২. কাণ্ড ও গোড়া পচা

লক্ষণ: গোড়া নরম বা কালো হওয়া, দুর্গন্ধ, কুশি হলুদ হয়ে যাওয়া এবং গাছ সহজে উপড়ে আসা।

প্রতিকার:

  • দ্রুত জমির পানি সরান;
  • আক্রান্ত গোছা তুলে নিরাপদে নষ্ট করুন;
  • কাঁচা গোবর সরাসরি গোড়ায় দেবেন না;
  • পরবর্তী রোপণে সুস্থ কাটিং ও উঁচু বেড ব্যবহার করুন।

৩. নেপিয়ার স্টান্ট রোগ

এটি ফাইটোপ্লাজমা-সংশ্লিষ্ট রোগ হিসেবে পরিচিত এবং আক্রান্ত কাটিং ও কিছু রসচোষা পোকার মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

লক্ষণ:

  • গাছ খাটো হয়ে যাওয়া;
  • পাতার আকার ছোট হওয়া;
  • অতিরিক্ত চিকন কুশি;
  • পাতা হলুদ বা ফ্যাকাশে হওয়া;
  • ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।

প্রতিকার:

  • আক্রান্ত গোছা শিকড়সহ তুলে ধ্বংস করুন;
  • আক্রান্ত ক্ষেত থেকে কাটিং বিক্রি বা স্থানান্তর করবেন না;
  • কাটিং উৎপাদনের জন্য আলাদা রোগমুক্ত মাতৃক্ষেত রাখুন;
  • মারাত্মক আক্রান্ত ক্ষেত নতুন করে প্রতিষ্ঠা করুন।

৪. হেড স্মাট বা শীষের কালো ছত্রাক

লক্ষণ: শীষের স্থানে কালো গুঁড়ার মতো ছত্রাকের স্পোর, বৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং কুশি দুর্বল হওয়া।

প্রতিকার:

  • শীষ বের হওয়ার আগেই নিয়মিত ঘাস কাটুন;
  • আক্রান্ত অংশ ব্যাগে ভরে ক্ষেতের বাইরে নিয়ে ধ্বংস করুন;
  • আক্রান্ত কাটিং দিয়ে নতুন ক্ষেত করবেন না;
  • কাটার যন্ত্র পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন;
  • রোগ সহনশীল জার্মপ্লাজম নির্বাচন করুন।

৫. পাতা মোড়ানো পোকা, শুঁয়োপোকা ও ঘাসফড়িং

লক্ষণ: পাতায় ছিদ্র, কিনারা খাওয়া, পাতা মুড়িয়ে যাওয়া বা পাতার সবুজ অংশ নষ্ট হওয়া।

প্রতিকার:

  • নিয়মিত ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করুন;
  • ডিম ও আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে নষ্ট করুন;
  • আগাছা পরিষ্কার রাখুন;
  • আলো বা ফেরোমন ফাঁদ প্রযোজ্য হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যবহার করুন;
  • প্রয়োজন ছাড়া রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ করবেন না।

৬. উইপোকা ও কাটিং পচা

শুষ্ক জমিতে উইপোকা কাটিংয়ের ক্ষতি করতে পারে। আবার অতিরিক্ত ভেজা জমিতে কাটিং পচে যায়।

প্রতিকার: সতেজ কাটিং, সঠিক মাটির আর্দ্রতা, পচা জৈবসার এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।


রোগের “চিকিৎসা” নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

ঘাস সরাসরি পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই রোগের নাম নিশ্চিত না হয়ে কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক প্রয়োগ বিপজ্জনক। ওষুধের অবশিষ্টাংশ পশুর শরীরের পাশাপাশি দুধ ও মাংসের নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে। ওষুধ প্রয়োজন হলে—

  • আক্রান্ত নমুনা উপজেলা কৃষি বা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে দেখান;
  • কেবল অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার করুন;
  • লেবেলে নির্দেশিত মাত্রা অনুসরণ করুন;
  • ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করুন;
  • প্রয়োগের তারিখ ও ওষুধের নাম লিখে রাখুন;
  • অপেক্ষাকাল শেষ হওয়ার আগে ঘাস কাটবেন না;
  • স্প্রে করা ঘাস বিক্রি করলে ক্রেতাকে অবহিত করুন।

রেড পাকচুং চাষে সম্ভাব্য সমস্যা

১. একই নামে ভিন্ন ঘাস বা ভেজাল কাটিং বিক্রি।
২. শতকরা ১৮–২০ ভাগ প্রোটিন বা অস্বাভাবিক উচ্চ ফলনের প্রমাণহীন প্রচারণা।
৩. কাটিংয়ের সঙ্গে রোগ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ছড়িয়ে পড়া।
৪. বেশি বয়সে কাটায় ঘাস শক্ত ও কম হজমযোগ্য হওয়া।
৫. অতিরিক্ত ইউরিয়া দিয়ে দ্রুত ফলন বাড়ানোর চেষ্টা।
৬. শুধু ঘাস দিয়ে সম্পূর্ণ রেশন তৈরির ভুল ধারণা।
৭. জলাবদ্ধ জমিতে গোড়া পচা।
৮. খরচ, ফলন ও বাজার যাচাই না করে বড় আকারে বাণিজ্যিক চাষ।

দুধের গাভী ও ষাঁড় মোটাতাজাকরণে রেড পাকচুং ঘাসের গুরুত্ব

রেড পাকচুং ঘাস দুধের গাভী ও মোটাতাজাকরণে থাকা ষাঁড়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সবুজ আঁশজাতীয় খাদ্য। এটি রুমেন সচল রাখা, জাবর কাটা, হজমশক্তি বজায় রাখা এবং খাদ্যের মোট খরচ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি একা সম্পূর্ণ খাদ্য নয়; সুষম রেশনের অংশ হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে।

দুধের গাভীর জন্য গুরুত্ব

  • কচি ও পাতাবহুল ঘাস গাভী সাধারণত আগ্রহের সঙ্গে খায়।
  • পর্যাপ্ত কার্যকর আঁশ রুমেনের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জাবর কাটায় সহায়তা করে।
  • পানি ও সবুজ খাদ্যের যোগান বাড়ায়।
  • সঠিক সময়ে কাটা ঘাস প্রয়োজনীয় প্রোটিন, শক্তি, খনিজ ও ভিটামিনের কিছু অংশ সরবরাহ করে।
  • খড়ের ওপর নির্ভরতা এবং দানাদার খাদ্যের কিছু খরচ কমাতে পারে।
  • সুষম রেশনের সঙ্গে ব্যবহার করলে দুধ উৎপাদন ও গাভীর শারীরিক অবস্থা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তবে শুধু রেড পাকচুং বেশি দিলেই দুধ বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। দুধ উৎপাদনের জন্য ঘাসের পাশাপাশি মানসম্মত দানাদার খাদ্য, প্রোটিন, প্রয়োজনীয় খনিজ-ভিটামিন, লবণ এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি দিতে হবে। বেশি বয়সী শক্ত ঘাস দিলে পেট ভরলেও প্রয়োজনীয় শক্তি ও প্রোটিনের ঘাটতি হতে পারে।

ষাঁড় মোটাতাজাকরণে গুরুত্ব

  • রুমেন সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আঁশ সরবরাহ করে।
  • খাদ্য গ্রহণ ও জাবর কাটার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রাখে।
  • অতিরিক্ত দানাদার খাদ্যের কারণে অম্লতা বা অ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
  • শরীরের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির একটি অংশ দেয়।
  • খামারে উৎপাদন করলে মোটাতাজাকরণের খাদ্য ব্যয় কমতে পারে।
  • সঠিকভাবে কুচি করে দানাদার খাদ্যের সঙ্গে মেশালে খাদ্যের অপচয় কমে।

তবে ষাঁড়ের দ্রুত ও স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বৃদ্ধির জন্য শুধু ঘাস যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত শক্তি ও আমিষসমৃদ্ধ দানাদার খাদ্য, খনিজ মিশ্রণ, লবণ এবং পরিষ্কার পানি প্রয়োজন।

কতটা খাওয়ানো যাবে?

পরিমাণ নির্ভর করবে পশুর ওজন, ঘাসের শুষ্ক পদার্থ, দুধ উৎপাদন, বয়স এবং অন্য খাদ্যের ওপর। সাধারণ সূচনা নির্দেশনা হিসেবে—

পশুর ধরনদৈনিক তাজা রেড পাকচুং ঘাসের আনুমানিক পরিমাণ
১৫০–২০০ কেজি ষাঁড়১২–১৮ কেজি
২৫০–৩৫০ কেজি ষাঁড়১৮–২৫ কেজি
মাঝারি আকারের দুধের গাভী১৫–২৫ কেজি
বড় ও বেশি দুধ দেওয়া গাভী২০–৩০ কেজি বা রেশন অনুযায়ী

এগুলো স্থির ব্যবস্থাপত্র নয়। তাজা ঘাসে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় রেশন তৈরি করতে শুষ্ক পদার্থের হিসাব করতে হবে। হঠাৎ বেশি না দিয়ে ৭–১০ দিনে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো উচিত।

ভালো ফলের জন্য করণীয়

  • সাধারণত ৩৫–৪৫ দিনের কচি, পাতাবহুল ঘাস ব্যবহার করুন।
  • ঘাস ২–৫ সেন্টিমিটার করে কুচি করে দিন।
  • শুধু রেড পাকচুং নয়—খড়, অন্য ঘাস, দানাদার খাদ্য ও খনিজের সমন্বয় রাখুন।
  • পচা, দুর্গন্ধযুক্ত, কাদাযুক্ত বা ছত্রাক আক্রান্ত ঘাস দেবেন না।
  • অতিরিক্ত ইউরিয়া প্রয়োগের পরপরই ঘাস কাটবেন না।
  • ঘাসের প্রকৃত পুষ্টিমান জানতে সম্ভব হলে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করুন।
  • দুধ বা ওজন নিয়মিত মেপে খাদ্যের কার্যকারিতা যাচাই করুন।

রেড পাকচুং ঘাসকে দুধ বা মাংস উৎপাদনের একমাত্র খাদ্য নয়, সাশ্রয়ী সবুজ খাদ্যের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কচি অবস্থায় কাটলে এর পুষ্টিমান ও হজমযোগ্যতা তুলনামূলক ভালো থাকে। কিন্তু বেশি ফলনের আশায় ঘাসকে অতিরিক্ত বড় হতে দিলে কাণ্ড শক্ত, আঁশ বেশি এবং পুষ্টির ব্যবহার কমে যায়।

গাভীর দুধের পরিমাণ কিংবা ষাঁড়ের দৈনিক ওজন বৃদ্ধি নির্ভর করে সম্পূর্ণ রেশনের শক্তি, প্রোটিন, আঁশ ও খনিজের ভারসাম্যের ওপর। তাই পশুর ওজন ও উৎপাদন অনুসারে প্রাণিপুষ্টিবিদের মাধ্যমে রেশন তৈরি করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক পদ্ধতি।


ড. বায়েজিদ মোড়লের পরামর্শ

রেড পাকচুং ঘাস বাংলাদেশের খামারিদের জন্য সম্ভাবনাময় সবুজ খাদ্য হতে পারে। তবে শুধু ‘লাল রং’, ‘বিদেশি জাত’ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত উচ্চ ফলনের দাবি দেখে বড় বিনিয়োগ করা ঠিক হবে না।

খামারিদের প্রতি আমার পরামর্শ—

প্রথমে ছোট একটি জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কাটিং লাগান। কাটিংয়ের উৎস, সংগ্রহের তারিখ, ক্ষেতের ঠিকানা ও বিক্রেতার তথ্য সংরক্ষণ করুন। পাশাপাশি সাধারণ পাকচুং, BLRI Napier বা স্থানীয়ভাবে পরীক্ষিত অন্য ঘাসের সঙ্গে একই জমি ও ব্যবস্থাপনায় ফলন তুলনা করুন। প্রতিবার কাটার সময় জমির পরিমাণ, ঘাসের বয়স ও মোট ওজন লিখে রাখুন। শুধু তাজা ঘাসের ওজন নয়, সম্ভব হলে শুষ্ক পদার্থের ফলন এবং ল্যাবরেটরিতে প্রোটিন ও আঁশ পরীক্ষা করুন। কারণ বেশি পানি থাকা ঘাস ও বেশি পুষ্টিকর ঘাস এক বিষয় নয়।

ঘাসকে একমাত্র খাদ্য না ধরে পশুর বয়স, ওজন, দুধ উৎপাদন এবং শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে সুষম রেশন তৈরি করতে হবে। কচি, পরিষ্কার ও রোগমুক্ত ঘাস কুচি করে অন্যান্য খাদ্যের সঙ্গে দিন। অতিরিক্ত উৎপাদন হলে বর্ষাকালের জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে সাইলেজ তৈরি করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোগমুক্ত মাতৃক্ষেত। একটি আক্রান্ত কাটিং থেকে পুরো ক্ষেত এবং পরে অন্য খামারেও রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সন্দেহজনক গাছ থেকে কখনো কাটিং বিক্রি বা বিতরণ করা উচিত নয়।

আমার মতে, রেড পাকচুংকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি BLRI, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এর জেনেটিক পরিচয়, অঞ্চলভিত্তিক ফলন, পুষ্টিমান, রোগসহনশীলতা এবং পশুর উৎপাদনের ওপর প্রভাব নিয়ে তুলনামূলক গবেষণা প্রয়োজন। যাচাইযোগ্য গবেষণা ছাড়া অস্বাভাবিক ফলন, প্রোটিন বা দুধ বৃদ্ধির দাবি প্রচার করা খামারিদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।


শেষ কথা

রেড পাকচুং অল্প জমিতে অধিক সবুজ খাদ্য উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় নেপিয়ার ঘাস। দ্রুত পুনঃবৃদ্ধি, বহুবর্ষজীবী প্রকৃতি ও পশুর গ্রহণযোগ্যতা এর প্রধান সুবিধা। তবে জাতের পরিচয়, নির্দিষ্ট পুষ্টিমান এবং বাংলাদেশে প্রথম আগমনের ইতিহাস সম্পর্কে এখনো তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। তাই ছোট পরিসরে পরীক্ষা, রোগমুক্ত কাটিং, মাটি পরীক্ষাভিত্তিক সার প্রয়োগ, সঠিক বয়সে কাটাই এবং সুষম রেশনে ব্যবহার—এই পাঁচটি বিষয় অনুসরণ করলেই খামারি তুলনামূলক নিরাপদভাবে এর সুফল পেতে পারেন।

তথ্যসূত্র

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

বাংলাদেশের মাছ চাষের ইতিহাস ও বিবর্তন

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন//পৃথিবীতে কৃষি কাজের ইতিহাস//মানবসভ্যতার সূচনা থেকে আধুনিক কৃষির বিবর্তন (A to Z গবেষণাধর্মী পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন)

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে—মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় পোল্ট্রি খামারিদের করণীয়//ড. বায়েজিদ মোড়ল

কৃত্রিম প্রজননের উপযুক্ত সময়

বাংলাদেশে আপেল চাষ সম্ভব? বাগান করতে যা জানা জরুরি

এক বছরেই সরিষার উৎপাদন বেড়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার

দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম প্রধান কার্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে দেশব্যাপী বিস্তৃত করতে হবে।

বার্ষিক কৃষি এ্যাওয়ার্ড-২০১১

গবাদি প্রাণীতে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি