RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
Tuesday , 14 July 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
  

অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় পোল্ট্রি খামারিদের করণীয়//ড. বায়েজিদ মোড়ল

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
July 13, 2026 4:11 pm

অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় পোল্ট্রি খামারিদের করণীয়//ড. বায়েজিদ মোড়ল।।

খামার বাঁচান, পাখি বাঁচান, লোকসান কমান।।

বাংলাদেশে বর্ষাকাল এলেই অনেক অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যা পোল্ট্রি খামারিদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ব্রয়লার, লেয়ার, সোনালি, ব্রিডার এবং হাঁস-মুরগির বাণিজ্যিক খামারগুলোতে পানি জমে যাওয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য সংকট, রোগবালাই বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণে সমস্যা দেখা দেয়। মাত্র কয়েক দিনের বন্যায় হাজার হাজার পাখি মারা যেতে পারে, ডিম উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং খামারির কয়েক বছরের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তবে আগাম প্রস্তুতি এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে এই ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। নিচে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় একজন পোল্ট্রি খামারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ করণীয় বিষয়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।


১. খামারকে উঁচু ও নিরাপদ রাখুন

বন্যার সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো খামারে পানি প্রবেশ করা।

তাই—

  • খামারের চারপাশে উঁচু বাঁধ তৈরি করুন।
  • পানি দ্রুত বের হওয়ার জন্য ড্রেন পরিষ্কার রাখুন।
  • প্রয়োজনে বালুর বস্তা ব্যবহার করুন।
  • খাঁচা বা ফ্লোরকে মাটি থেকে আরও উঁচু রাখুন।

যদি খামারে পানি ঢুকে যায়, তাহলে দ্রুত পাখিকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা রাখতে হবে।


২. খামার শুকনো ও পরিচ্ছন্ন রাখুন

আর্দ্রতা বেড়ে গেলে রোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

তাই—

  • ভেজা লিটার সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন করুন।
  • করাতের গুঁড়া বা ধানের তুষ ব্যবহার করুন।
  • জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলুন।
  • নিয়মিত জীবাণুনাশক স্প্রে করুন।

মনে রাখতে হবে, ভেজা লিটার থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়, যা মুরগির শ্বাসতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে।


৩. নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ করুন

বন্যার সময় অনেক খামারে খাদ্য নষ্ট হয়ে যায়।

তাই—

  • অন্তত ১৫–২০ দিনের খাবার মজুত রাখুন।
  • খাবার প্লাস্টিক ড্রাম বা উঁচু র‍্যাকে সংরক্ষণ করুন।
  • ভেজা বা ছত্রাকযুক্ত খাদ্য ব্যবহার করবেন না।
  • ইঁদুর ও পোকামাকড় থেকে খাদ্য রক্ষা করুন।

ছত্রাকযুক্ত খাদ্যে আফলাটক্সিন তৈরি হয়, যা মুরগির লিভার ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মৃত্যুও ঘটাতে পারে।


৪. বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন

বন্যার পানি কখনোই মুরগিকে খাওয়ানো যাবে না।

পানিতে থাকতে পারে—

  • ই-কোলাই
  • সালমোনেলা
  • কলেরা জীবাণু
  • বিভিন্ন ভাইরাস

প্রয়োজনে—

  • টিউবওয়েলের পানি
  • সংরক্ষিত বিশুদ্ধ পানি
  • ক্লোরিন বা অনুমোদিত জীবাণুনাশক দিয়ে বিশুদ্ধ করা পানি ব্যবহার করুন।

প্রতিদিন পানির পাত্র পরিষ্কার করুন।


৫. খামারের তাপমাত্রা ও বায়ু চলাচল ঠিক রাখুন

অতিবৃষ্টিতে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যায়।

ফলে—

  • হিট স্ট্রেস
  • শ্বাসকষ্ট
  • রোগ সংক্রমণ

বাড়তে পারে।

তাই—

  • পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করুন।
  • প্রয়োজনে এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন।
  • বৃষ্টির পানি যাতে খামারে ঢুকতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • কিন্তু বাতাস চলাচল বন্ধ করবেন না।

৬. রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা নিন

বর্ষাকালে রোগ দ্রুত ছড়ায়।

বিশেষ করে—

  • রানীক্ষেত
  • গাম্বোরো
  • কলেরা
  • কক্সিডিওসিস
  • CRD
  • ইনফেকশাস কোরাইজা
  • এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা

এসব রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রতিদিন খামার পর্যবেক্ষণ করুন।

অসুস্থ পাখি দ্রুত আলাদা করুন।


৭. টিকা ও বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করুন

বন্যার সময় বাইরের মানুষের যাতায়াত যত কম হবে তত ভালো।

নিয়মিত—

  • ফুটবাথ ব্যবহার করুন।
  • গাড়ি জীবাণুমুক্ত করুন।
  • দর্শনার্থী প্রবেশ সীমিত করুন।
  • কর্মীদের আলাদা জুতা ও পোশাক ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

টিকাদান সময়মতো সম্পন্ন করুন।


৮. বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

বন্যার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তাই—

  • নিচু বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখুন।
  • জেনারেটর প্রস্তুত রাখুন।
  • ব্যাকআপ ইনভার্টার ব্যবহার করুন।
  • পানির সংস্পর্শে থাকা বৈদ্যুতিক তার সরিয়ে ফেলুন।

৯. বাচ্চা মুরগির বিশেষ যত্ন নিন

ডে-ওল্ড চিক ও ছোট বাচ্চা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

তাই—

  • ব্রুডিং তাপমাত্রা ঠিক রাখুন।
  • ভেজা লিটার ব্যবহার করবেন না।
  • ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে দেবেন না।
  • পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি দিন।

১০. ডিম উৎপাদনকারী খামারে অতিরিক্ত সতর্কতা

লেয়ার খামারে অতিবৃষ্টির সময়—

  • ডিম সংগ্রহের সময় কমিয়ে আনুন।
  • ভেজা ডিম আলাদা করুন।
  • পরিষ্কার ট্রেতে সংরক্ষণ করুন।
  • দ্রুত বাজারজাত করুন।

ভেজা পরিবেশে ডিমে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।


১১. মৃত পাখি দ্রুত অপসারণ করুন

মৃত পাখি কখনো খামারে ফেলে রাখা যাবে না।

সঠিক পদ্ধতি—

  • গভীর গর্তে পুঁতে ফেলুন।
  • অথবা অনুমোদিত পদ্ধতিতে ধ্বংস করুন।
  • খালি হাতে ধরবেন না।
  • পরে হাত ও সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করুন।

১২. জরুরি ওষুধ ও সরঞ্জাম সংরক্ষণ করুন

খামারে সবসময় প্রস্তুত রাখুন—

  • ইলেক্ট্রোলাইট
  • ভিটামিন
  • গ্লুকোজ
  • জীবাণুনাশক
  • ORS
  • সিরিঞ্জ
  • গ্লাভস
  • থার্মোমিটার
  • প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম

তবে অ্যান্টিবায়োটিক অবশ্যই পশুচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করবেন।


১৩. জরুরি যোগাযোগের তালিকা রাখুন

মোবাইলে সংরক্ষণ করুন—

  • উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
  • ভেটেরিনারি সার্জন
  • ফিড কোম্পানির প্রতিনিধি
  • ওষুধ সরবরাহকারী
  • বিদ্যুৎ অফিস
  • স্থানীয় প্রশাসন

জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ করলে ক্ষতি অনেক কমানো যায়।


১৪. বাজারজাতকরণের বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন

বন্যার সময় রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তাই—

  • আগে থেকেই ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।
  • ডিম সংগ্রহ কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করুন।
  • বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখুন।
  • অতিরিক্ত ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা করুন।

১৫. কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

শুধু পাখি নয়, কর্মীদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই—

  • রাবারের বুট ব্যবহার করুন।
  • গ্লাভস ব্যবহার করুন।
  • পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা রাখুন।
  • বিদ্যুৎ লাইনের কাছে কাজ না করতে বলুন।
  • প্রয়োজনে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন।

১৬. বন্যা শেষে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করুন

পানি নেমে যাওয়ার পর—

  • পুরো খামার ধুয়ে ফেলুন।
  • জীবাণুনাশক স্প্রে করুন।
  • ভেজা লিটার ফেলে দিন।
  • নতুন লিটার ব্যবহার করুন।
  • পানির লাইন পরিষ্কার করুন।
  • ফিডার ও ড্রিংকার জীবাণুমুক্ত করুন।

এটি রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি।


১৭. ক্ষয়ক্ষতির হিসাব সংরক্ষণ করুন

বন্যা শেষে লিখিতভাবে হিসাব রাখুন—

  • কত পাখি মারা গেছে
  • কত ডিম নষ্ট হয়েছে
  • কত ফিড নষ্ট হয়েছে
  • কত ওষুধ নষ্ট হয়েছে
  • মোট আর্থিক ক্ষতি

এই তথ্য ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা, বীমা দাবি বা ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে কাজে আসবে।


১৮. ভবিষ্যতের জন্য দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা করুন

প্রতিটি পোল্ট্রি খামারে একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (Disaster Preparedness Plan) থাকা উচিত।

এর মধ্যে থাকবে—

  • নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা
  • খাদ্য মজুত পরিকল্পনা
  • জরুরি বিদ্যুৎ
  • পানির বিকল্প উৎস
  • চিকিৎসা সরঞ্জাম
  • কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন
  • জরুরি ফোন নম্বরের তালিকা

যে খামার আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়, সেই খামার দুর্যোগের সময় তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির সম্মুখীন হয়।


উপসংহার

অতিবৃষ্টি ও বন্যা বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে। তাই পোল্ট্রি খামার পরিচালনায় এখন শুধু উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা করলেই হবে না; দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

নিরাপদ খামার, শুকনো পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানি, মানসম্মত খাদ্য, সময়মতো টিকাদান, কঠোর বায়োসিকিউরিটি, বিদ্যুতের নিরাপদ ব্যবহার এবং দ্রুত চিকিৎসা—এই কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময়ও পোল্ট্রি খামারকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

একজন সফল পোল্ট্রি খামারির পরিচয় শুধু বেশি উৎপাদনে নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও খামারকে সচল রাখার দক্ষতায়।

সবার জন্য বার্তা

“আগাম প্রস্তুতি নিন, খামারকে নিরাপদ রাখুন, রোগ প্রতিরোধ করুন—তবেই অতিবৃষ্টি ও বন্যার মধ্যেও টিকে থাকবে আপনার পোল্ট্রি খামার, সুরক্ষিত থাকবে আপনার বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ।”

ড. এম বায়েজিদ মোড়ল – নির্বাহী সম্পাদক, এগ্রিকালচারনিউজ২৪.কম

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর সাথে এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর এর সাক্ষাৎ

প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত জলাশয়ে অবাধ মাছ আহরণ নিশ্চিত করবে সরকার

দেশে ১৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদন করতে হবে-কৃষিমন্ত্রী

দেশ গঠনে অবদান রাখলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যায়ন করবে সরকার।।খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

মহিলারা মাছ চাষ করে সফলতা পাবেন যেভাবে

কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার থাকা প্রয়োজন

বাজারে কিভাবে কমবে মাংস ও দুধের দাম…

বাণিজ্যিক মুরগি খামার পরিকল্পনা করতে হয় যেভাবে

গাভীর দুধ বৃদ্ধিতে যেসব বিষয়ে দৃষ্টি রাখা জরুরী

বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রনালয় থেকে পাওয়া পদক