RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Monday , 7 September 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

বাংলাদেশে নেপিয়ার ঘাস: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, চাষাবাদ ও গবাদিপশুর খাদ্যে গুরুত্ব।।

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
September 6, 2026 6:58 pm

বাংলাদেশে নেপিয়ার ঘাস: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, চাষাবাদ ও গবাদিপশুর খাদ্যে গুরুত্ব।।

উচ্চফলনশীল সবুজ ঘাস—তবে এককভাবে সম্পূর্ণ খাদ্য নয়।।

দেশে দুধ ও মাংস উৎপাদনের অন্যতম প্রধান বাধা হলো সারা বছর মানসম্মত সবুজ ঘাসের অভাব। অল্প জমিতে বেশি জৈবভর উৎপাদন, বারবার কাটার সুবিধা এবং গরু-মহিষের গ্রহণযোগ্যতার কারণে নেপিয়ার ঘাস বাংলাদেশের খামারিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শুধু নেপিয়ার ঘাস খাইয়ে অধিক দুধ উৎপাদন বা দ্রুত ষাঁড় মোটাতাজা করা সম্ভব নয়। সুষম রেশনে ঘাসের সঙ্গে খড়, দানাদার খাদ্য, প্রোটিন, খনিজ ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করতে হবে।

ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন।।


নেপিয়ার ঘাসের পরিচয়

নেপিয়ার ঘাসের বর্তমান বৈজ্ঞানিক নাম Cenchrus purpureus। দীর্ঘদিন এটি Pennisetum purpureum নামে পরিচিত ছিল। বিশ্বজুড়ে একে Elephant grass, Uganda grass বা Napier grass বলা হয়।

এটি উষ্ণমণ্ডলীয়, বহুবর্ষজীবী এবং গুচ্ছাকারে বেড়ে ওঠা একধরনের ঘাস। অনুকূল পরিবেশে গাছ প্রায় ২–৪ মিটার বা তারও বেশি লম্বা হতে পারে। এর শিকড় মাটির গভীরে বিস্তার লাভ করে এবং গোড়া থেকে একাধিক কুশি বের হয়।

নেপিয়ার ঘাস সাধারণত বীজের পরিবর্তে কাণ্ডের কাটিং বা গোড়ার চারা দিয়ে বংশবিস্তার করা হয়। ভালো পরিচর্যায় একবার রোপণের পর কয়েক বছর পর্যন্ত একই জমি থেকে ঘাস সংগ্রহ করা সম্ভব। তবে সময়ের সঙ্গে ফলন কমে গেলে ক্ষেত নবায়ন করতে হয়।


উৎপত্তি ও বাংলাদেশে চাষের ইতিহাস

নেপিয়ার ঘাসের আদি উৎপত্তিস্থল সাব-সাহারান আফ্রিকা। বিশেষ করে পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে এটি প্রাকৃতিকভাবে জন্মাত। পরে উচ্চ জৈবভর উৎপাদন এবং রোমন্থক পশুর খাদ্য হিসেবে উপযোগিতার কারণে এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও অন্যান্য উষ্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন উন্নত পশুখাদ্য ঘাসের সঙ্গে নেপিয়ারও পরিচিত হয় বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি পশুপালন খামার, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং দুগ্ধ উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এর চাষ বিস্তার লাভ করে।

বাংলাদেশে ঠিক কোন বছর এবং কার মাধ্যমে প্রথম নেপিয়ার ঘাস আনা হয়েছিল—এ বিষয়ে সহজলভ্য নির্ভরযোগ্য নথি খুব সীমিত। তাই নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সালকে প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ হবে না। তবে স্বাধীনতার পর সরকারি প্রাণিসম্পদ খামার, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বেসরকারি দুগ্ধ উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে নেপিয়ার ও নেপিয়ারভিত্তিক বিভিন্ন সংকর জাতের চাষ ক্রমে জনপ্রিয় হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে সাধারণ নেপিয়ারের পাশাপাশি পাকচং, বাজরা-নেপিয়ার হাইব্রিড, রেড নেপিয়ার, স্মার্ট নেপিয়ার ইত্যাদি নামে বিভিন্ন ঘাস চাষ করা হচ্ছে। তবে বাজারের সব নাম বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত আলাদা জাত নয়। বিশ্বস্ত উৎস থেকে পরিচয় নিশ্চিত করে চারা সংগ্রহ করা জরুরি।


নেপিয়ার ঘাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য

  • উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
  • একবার লাগালে বারবার ঘাস কাটা যায়।
  • গোড়া থেকে প্রচুর কুশি বের হয়।
  • সঠিক সার ও সেচ ব্যবস্থাপনায় অল্প জমিতে তুলনামূলক বেশি সবুজ ঘাস পাওয়া যায়।
  • কচি অবস্থায় গরু-মহিষ সহজে খায় এবং হজমও তুলনামূলক ভালো হয়।
  • সরাসরি কেটে খাওয়ানো, কুচি করে পরিবেশন এবং সাইলেজ তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।
  • খরা কিছুটা সহ্য করতে পারলেও দীর্ঘদিন পানির অভাবে ফলন কমে যায়।
  • পানি জমে থাকলে শিকড় ও গোড়া পচে যেতে পারে।
  • গাছ বেশি পরিপক্ব হলে কাণ্ড শক্ত, আঁশযুক্ত ও কম সুস্বাদু হয়ে যায়।

পুষ্টিমান কেমন?

নেপিয়ার ঘাসের পুষ্টিমান জাত, মাটি, সার, মৌসুম এবং কাটার বয়সের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। গবেষণায় এর শুষ্ক পদার্থের ভিত্তিতে ক্রুড প্রোটিনে বিস্তর পার্থক্য দেখা গেছে। কচি ও সঠিকভাবে সার দেওয়া ঘাসে প্রোটিন তুলনামূলক বেশি থাকে; বয়স বাড়ার সঙ্গে আঁশ বাড়ে এবং প্রোটিন ও হজমযোগ্যতা কমে।

প্রকাশিত পর্যালোচনায় নেপিয়ার ঘাসের ক্রুড প্রোটিন প্রায় ৪–২০ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে; গড় প্রায় ১২ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিস্তৃত পার্থক্য প্রমাণ করে, কোনো পরীক্ষাগার প্রতিবেদন ছাড়া সব নেপিয়ার ঘাসে নির্দিষ্ট উচ্চ প্রোটিন থাকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। Livestock Research for Rural Development

নেপিয়ার প্রধানত সরবরাহ করে—

  • আঁশ;
  • কিছু প্রোটিন;
  • হজমযোগ্য শর্করা;
  • ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ;
  • ক্যারোটিন ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদান।

তবে এটি এককভাবে উচ্চ উৎপাদনশীল গাভী বা মোটাতাজাকরণে থাকা ষাঁড়ের প্রয়োজনীয় শক্তি, প্রোটিন ও খনিজ পূরণ করতে পারে না।


নেপিয়ার ঘাস চাষের পদ্ধতি

জমি ও মাটি নির্বাচন

উঁচু বা মাঝারি উঁচু, পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত জমি নেপিয়ার চাষের জন্য ভালো। দোআঁশ, বেলে দোআঁশ ও উর্বর এঁটেল দোআঁশ মাটিতে ভালো জন্মে। জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে গাছের গোড়া পচে এবং উৎপাদন কমে যেতে পারে।

সম্ভব হলে রোপণের আগে মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগের পরিকল্পনা করা উচিত।

রোপণের সময়

বাংলাদেশে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বা সেচের ব্যবস্থা থাকলে বছরের বিভিন্ন সময়ে রোপণ করা যায়। তবে সাধারণভাবে—

  • ফেব্রুয়ারি–এপ্রিল;
  • বর্ষার শুরুতে মে–জুলাই—

রোপণের উপযোগী সময়। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পানি জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে রোপণ বিলম্বিত করা ভালো।

জমি প্রস্তুতি

জমি কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে আগাছামুক্ত এবং ঝুরঝুরে করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা রাখতে হবে। নিচু এলাকায় উঁচু বেড বা সারিতে রোপণ করলে গোড়া পচা কমে।

শেষ চাষের সময় ভালোভাবে পচানো গোবর বা কম্পোস্ট মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যায়। অপরিপক্ব গোবর সরাসরি গোড়ায় ব্যবহার করা ঠিক নয়।

চারা বা কাটিং নির্বাচন

সুস্থ, রোগমুক্ত ও পরিণত কাণ্ড থেকে কাটিং সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণভাবে প্রতিটি কাটিংয়ে ২–৩টি কার্যকর গিঁট রাখা হয়। একটি বা দুটি গিঁট মাটির নিচে এবং অন্তত একটি গিঁট মাটির কাছাকাছি রাখলে সেখান থেকে শিকড় ও নতুন কুশি বের হতে পারে।

পুরোনো ক্ষেত থেকে গোড়াসহ কুশি আলাদা করেও লাগানো যায়। রোগাক্রান্ত ক্ষেতের কাটিং নতুন জমিতে ব্যবহার করা যাবে না।

রোপণ দূরত্ব

জাত, জমির উর্বরতা ও পরিচর্যার পদ্ধতি অনুযায়ী দূরত্ব পরিবর্তিত হয়। সাধারণ ব্যবস্থাপনায়—

  • সারি থেকে সারি প্রায় ৬০–৯০ সেন্টিমিটার;
  • গাছ থেকে গাছ প্রায় ৪৫–৬০ সেন্টিমিটার—

দূরত্ব রাখা যেতে পারে। নিবিড় ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী দূরত্ব নির্ধারণ করা ভালো।

সার ব্যবস্থাপনা

নেপিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল এবং নাইট্রোজেনসহ মাটির পুষ্টি প্রচুর গ্রহণ করে। তাই প্রতিবার কাটার পর জৈবসার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলে পুনরায় বৃদ্ধি ভালো হয়।

তবে সবার জমিতে একই মাত্রার সার ব্যবহার বৈজ্ঞানিক নয়। প্রয়োজন নির্ভর করে—

  • মাটির পরীক্ষার ফল;
  • ঘাসের জাত;
  • প্রত্যাশিত ফলন;
  • কাটার ব্যবধান;
  • সেচ ও বৃষ্টিপাতের ওপর।

অতিরিক্ত ইউরিয়া প্রয়োগ করলে খরচ ও পরিবেশদূষণ বাড়ার পাশাপাশি ঘাসে নাইট্রেট জমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে খরার পর প্রচুর নাইট্রোজেন দিয়ে জন্মানো কচি ঘাস পশুকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। Feedipedia

সেচ ও পানি নিষ্কাশন

রোপণের পর মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা রাখতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে মাটি ও আবহাওয়া অনুযায়ী নিয়মিত সেচ প্রয়োজন। আবার বর্ষায় জমে থাকা পানি দ্রুত বের করে দিতে হবে।

আগাছা দমন

রোপণের প্রথম দিকে আগাছা নেপিয়ারের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে। প্রথম এক থেকে দুই মাস নিয়মিত নিড়ানি দিতে হবে। পরে গাছ ঘন হয়ে গেলে আগাছার চাপ কমে যায়। প্রতিবার ঘাস কাটার পর জমি পরিষ্কার করলে নতুন কুশি দ্রুত বাড়ে।


প্রথম ও পরবর্তী কাটাই

জাত ও মৌসুমভেদে প্রথম কাটাই সাধারণত রোপণের প্রায় ৭০–৯০ দিন পর করা যায়। পরবর্তী কাটাই প্রায় ৪০–৬০ দিন পরপর হতে পারে। তবে ক্যালেন্ডারের দিনের পাশাপাশি গাছের কোমলতা, উচ্চতা এবং পশুর চাহিদা দেখতে হবে।

মাটি থেকে কিছুটা ওপরে রেখে পরিষ্কার ও ধারালো যন্ত্র দিয়ে কাটলে গোড়ার কুশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। একেবারে গোড়ার নিচে কেটে দিলে পরবর্তী বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কাটার সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য হলো—

  • খুব কম বয়সে কাটলে পুষ্টিমান ভালো, কিন্তু মোট ফলন কম;
  • বেশি বয়সে কাটলে ওজন বাড়ে, কিন্তু কাণ্ড শক্ত হয় এবং পুষ্টিমান ও হজমযোগ্যতা কমে।

ফলন সম্পর্কে সতর্কতা

নেপিয়ার ঘাসের ফলন নিয়ে বাজারে অনেক অতিরঞ্জিত দাবি প্রচারিত হয়। প্রকৃত ফলন নির্ভর করে জাত, মাটি, আবহাওয়া, সার, সেচ, কাটার ব্যবধান ও ব্যবস্থাপনার ওপর। আন্তর্জাতিক গবেষণায় অঞ্চলভেদে ফলনের বড় পার্থক্য পাওয়া গেছে।

অতএব, “প্রতি শতকে নিশ্চিত এত টন” বা “একবার লাগিয়ে আজীবন ফলন”—এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় পরিবেশে ছোট প্লটে পরীক্ষা করে বাস্তব ফলন নির্ধারণ করা উচিত।


রোগবালাই ও প্রতিকার

বাংলাদেশের সব এলাকায় নেপিয়ারের রোগের প্রকোপ সমান নয়। রোগের লক্ষণ দেখে অনুমানভিত্তিক ওষুধ ব্যবহার না করে সম্ভব হলে নমুনা নিয়ে কৃষি বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে।

১. পাতার দাগ ও ঝলসানো রোগ

লক্ষণ: পাতায় বাদামি, কালচে বা হলুদ দাগ; দাগ বড় হয়ে পাতা শুকিয়ে যাওয়া।

ব্যবস্থাপনা:

  • আক্রান্ত পাতা ও কাণ্ড সরিয়ে নষ্ট করা;
  • জমিতে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা;
  • অতিরিক্ত ঘন করে চারা না লাগানো;
  • উপর দিয়ে অপ্রয়োজনীয় সেচ না দেওয়া;
  • একই রোগাক্রান্ত ক্ষেত থেকে কাটিং না নেওয়া;
  • রোগ নিশ্চিত না হয়ে ছত্রাকনাশক ব্যবহার না করা।

২. গোড়া বা শিকড় পচা

লক্ষণ: গাছ হলুদ হওয়া, গোড়া নরম বা কালচে হওয়া, দুর্গন্ধ এবং গাছ সহজে উপড়ে আসা।

প্রধান কারণ: পানি জমে থাকা, দূষিত চারা এবং দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থা।

ব্যবস্থাপনা:

  • নালা কেটে পানি বের করা;
  • মারাত্মক আক্রান্ত গোড়া তুলে নিরাপদে নষ্ট করা;
  • জমিতে পচানো জৈবসার ব্যবহার করা;
  • পরবর্তী রোপণে সুস্থ কাটিং ও উঁচু বেড নির্বাচন করা।

৩. নেপিয়ার স্টান্টিং বা খর্বাকৃতি রোগ

এটি ফাইটোপ্লাজমাজনিত গুরুত্বপূর্ণ রোগ হিসেবে কয়েকটি দেশে শনাক্ত হয়েছে।

লক্ষণ:

  • গাছের বৃদ্ধি থেমে যাওয়া;
  • ছোট ও সরু পাতা;
  • অতিরিক্ত ক্ষুদ্র কুশি;
  • পাতা হলুদ বা ফ্যাকাশে হওয়া;
  • ফলন দ্রুত কমে যাওয়া।

ব্যবস্থাপনা:

  • আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ তুলে নষ্ট করা;
  • ওই ক্ষেতের কাটিং অন্য জমিতে না নেওয়া;
  • কেবল সুস্থ ও বিশ্বস্ত উৎসের চারা রোপণ করা;
  • কাটার যন্ত্র পরিষ্কার করা;
  • আক্রান্ত ক্ষেত পর্যবেক্ষণে রাখা।

এই রোগের আক্রান্ত গাছকে ওষুধ দিয়ে আবার স্বাভাবিক করার নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা নেই; প্রতিরোধ ও আক্রান্ত গাছ অপসারণই প্রধান কৌশল। PlantwisePlus Knowledge Bank

৪. হেড স্মাট

লক্ষণ: ফুল বা শিষের স্থানে কালো গুঁড়াজাতীয় ছত্রাকের স্তর তৈরি হতে পারে।

ব্যবস্থাপনা:

  • রোগমুক্ত কাটিং ব্যবহার;
  • আক্রান্ত গাছ শিষ আসার আগেই তুলে নষ্ট করা;
  • আক্রান্ত জমির উপকরণ সুস্থ ক্ষেতে না নেওয়া;
  • সহনশীল জাত থাকলে তা নির্বাচন করা।

৫. পোকামাকড়

কাণ্ডছিদ্রকারী পোকা, জাবপোকা, মিলিবাগ, উইপোকা বা পাতাখেকো পোকার আক্রমণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে।

সমন্বিত দমনব্যবস্থা:

  • নিয়মিত ক্ষেত পর্যবেক্ষণ;
  • আক্রান্ত অংশ অপসারণ;
  • আগাছা ও পুরোনো শুকনো কাণ্ড পরিষ্কার;
  • সুষম সার ব্যবহার;
  • উপকারী পোকা সংরক্ষণ;
  • পোকা শনাক্ত করার পরেই অনুমোদিত বালাইনাশক বিবেচনা।

খাদ্যঘাসে ওষুধ ব্যবহারের বিশেষ সতর্কতা

নেপিয়ার ঘাস সরাসরি পশুকে খাওয়ানো হয়। তাই এতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ পশুর দেহের পাশাপাশি দুধ ও মাংসে পৌঁছাতে পারে।

অতএব—

  • রোগ বা পোকা শনাক্ত না করে ওষুধ প্রয়োগ নয়;
  • অনুমোদনহীন বালাইনাশক ব্যবহার নয়;
  • কৃষি কর্মকর্তার সুপারিশ ছাড়া মাত্রা নির্ধারণ নয়;
  • স্প্রে করার পর লেবেলে উল্লেখিত অপেক্ষাকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘাস কাটা নয়;
  • কোন জমিতে, কবে, কোন ওষুধ প্রয়োগ হয়েছে—রেকর্ড রাখতে হবে;
  • অপেক্ষাকাল জানা না থাকলে সেই ঘাস পশুকে না খাওয়ানোই নিরাপদ।

দুধের গাভীর জন্য নেপিয়ার কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

নেপিয়ার দুধের গাভীর রেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঁশ ও সবুজ খাদ্যের উৎস। এটি রুমেনের স্বাভাবিক কার্যক্রম, জাবর কাটা এবং লালা উৎপাদনে সহায়তা করে। ভালো মানের সবুজ ঘাস খড়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করতে পারে।

তবে নেপিয়ার নিজে কোনো “দুধ বাড়ানোর ওষুধ” নয়। দুধের উৎপাদন নির্ভর করে—

  • গাভীর জাত ও জেনেটিক সামর্থ্য;
  • প্রসবের পর সময়;
  • ঘাসের শুষ্ক পদার্থ ও পুষ্টিমান;
  • দানাদার খাদ্যের পরিমাণ ও গুণমান;
  • প্রোটিন, খনিজ ও ভিটামিন;
  • পানি;
  • স্বাস্থ্য, আরাম ও তাপমাত্রার ওপর।

কেবল পেট ভরে নেপিয়ার খাওয়ালে গাভীর পেট ভরতে পারে, কিন্তু উচ্চ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও প্রোটিনের ঘাটতি থেকে যেতে পারে। ফলে দুধ কমা, শরীরের ওজন কমা বা প্রজনন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দুধের গাভীর রেশনে করণীয়

  • নেপিয়ার কুচি করে খাওয়ানো;
  • ঘাসের সঙ্গে মানসম্মত শুকনা খড় রাখা;
  • দুধের পরিমাণ ও দেহের ওজন অনুযায়ী সুষম দানাদার খাদ্য দেওয়া;
  • ডালজাতীয় ঘাস বা অন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য যুক্ত করা;
  • খনিজ মিশ্রণ ও লবণ দেওয়া;
  • সবসময় পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি রাখা;
  • হঠাৎ খাদ্য পরিবর্তন না করে ৭–১৪ দিনে ধীরে পরিবর্তন করা।

গাভী প্রতিদিন কত কেজি নেপিয়ার খাবে—তা শুধু সংখ্যা ধরে নির্ধারণ করা ঠিক নয়। কারণ ২০ কেজি কচি রসালো ঘাস এবং ২০ কেজি পরিণত শক্ত ঘাসের শুষ্ক পদার্থ ও পুষ্টিমান সমান নয়। রেশন তৈরির সময় শুষ্ক পদার্থের হিসাব করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


ষাঁড় মোটাতাজাকরণে নেপিয়ারের গুরুত্ব

ষাঁড় মোটাতাজাকরণে নেপিয়ার ঘাস প্রয়োজনীয় আঁশ সরবরাহ করে এবং রুমেনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে খাদ্য ব্যয় কমাতে পারে এবং অতিরিক্ত দানাদার খাদ্যের কারণে সৃষ্ট অ্যাসিডোসিস, পেট ফাঁপা ও হজমের গোলযোগের ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

কিন্তু শুধু নেপিয়ার খাইয়ে দ্রুত মোটাতাজা করা সম্ভব নয়। পেশি ও ওজন বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত শক্তি, প্রোটিন, খনিজ এবং সঠিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দরকার।

মোটাতাজাকরণের রেশনে করণীয়

  • নেপিয়ারকে রেশনের আঁশযুক্ত অংশ হিসেবে ব্যবহার করা;
  • কুচি করে খাওয়ালে অপচয় কমানো;
  • শরীরের ওজন অনুযায়ী সুষম কনসেনট্রেট দেওয়া;
  • দানাদার খাদ্য হঠাৎ বেশি না দেওয়া;
  • খাদ্য ধীরে ধীরে বাড়ানো;
  • বিশুদ্ধ পানি ও খনিজ নিশ্চিত করা;
  • কৃমি, পরজীবী ও অন্যান্য রোগের চিকিৎসা পশুচিকিৎসকের পরামর্শে করা;
  • স্টেরয়েড, হরমোন বা ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে মোটাতাজাকরণ না করা।

দ্রুত ওজন বাড়লেই লাভ হবে এমন নয়। খাদ্য রূপান্তর, দৈনিক ওজন বৃদ্ধি, খাদ্য খরচ, পশুর স্বাস্থ্য এবং বিক্রয়মূল্য—সব মিলিয়ে লাভ হিসাব করতে হবে।


নিরাপদভাবে নেপিয়ার খাওয়ানোর নিয়ম

ঘাস কুচি করা

ঘাস প্রায় ২–৫ সেন্টিমিটার আকারে কুচি করলে পশু বেছে বেছে খেতে পারে না এবং কাণ্ডের অপচয় কমে। খুব সূক্ষ্মভাবে গুঁড়া করলে কার্যকর আঁশের সুবিধা কমে যেতে পারে।

কাটা ঘাস কিছুক্ষণ ছায়ায় রাখা

অতিরিক্ত ভেজা বা শিশিরযুক্ত ঘাস সরাসরি বেশি পরিমাণে না দিয়ে পানি ঝরিয়ে নেওয়া যায়। তবে রোদে দীর্ঘ সময় রেখে পুষ্টিমান নষ্ট করা উচিত নয়।

অতিরিক্ত সার দেওয়া ঘাস

খরা, দীর্ঘ মেঘলা আবহাওয়া বা অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের পর ঘাসে নাইট্রেট জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সন্দেহ হলে ঘাস পরীক্ষা ছাড়া বেশি পরিমাণে না খাওয়ানো ভালো।

অক্সালেটের ঝুঁকি

কিছু নেপিয়ার জাত ও নির্দিষ্ট পরিবেশে অক্সালেট তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। দীর্ঘদিন খুব বেশি কচি নেপিয়ার এককভাবে খাওয়ালে ক্যালসিয়াম ব্যবহারে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অন্য ঘাস, খড়, ডালজাতীয় খাদ্য এবং সুষম খনিজের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো নিরাপদ।

পচা বা ছত্রাকযুক্ত ঘাস নয়

দুর্গন্ধযুক্ত, পচা, কাদামাখা বা ছত্রাকযুক্ত ঘাস গরুকে দেওয়া যাবে না। এতে হজমের গোলযোগ ও বিষক্রিয়া হতে পারে।


নেপিয়ার ঘাসের সাইলেজ

বর্ষা বা অনুকূল মৌসুমে অতিরিক্ত ঘাস সংরক্ষণের জন্য সাইলেজ তৈরি করা যায়। কিন্তু নেপিয়ার খুব ভেজা অবস্থায় সাইলেজ করলে রস বেরিয়ে পুষ্টি নষ্ট, দুর্গন্ধ এবং নিম্নমানের গাঁজন হতে পারে।

সাইলেজ তৈরির আগে—

  • উপযুক্ত বয়সে ঘাস কাটতে হবে;
  • প্রয়োজন হলে কিছুক্ষণ ছায়ায় শুকিয়ে অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমাতে হবে;
  • সমানভাবে কুচি করতে হবে;
  • দ্রুত বায়ুরোধীভাবে চাপ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে;
  • মাটি, গোবর ও পচা অংশ মিশতে দেওয়া যাবে না।

সাইলেজে দুর্গন্ধ, কালো পচন বা দৃশ্যমান ছত্রাক থাকলে তা পশুকে খাওয়ানো উচিত নয়।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব

নেপিয়ার ঘাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, খামারের পাশে উৎপাদন করা গেলে নিয়মিত সবুজ খাদ্য কেনা ও পরিবহনের খরচ কমানো যায়। তবে লাভজনকতার জন্য শুধু সবুজ ওজন নয়, হিসাব করতে হবে—

  • জমির মূল্য বা ভাড়া;
  • চারা;
  • শ্রম;
  • সেচ;
  • সার;
  • প্রতিবার কাটার খরচ;
  • পরিবহন ও কুচি করার ব্যয়;
  • উৎপাদিত শুষ্ক পদার্থ;
  • অপচয়ের পর পশুর প্রকৃত গ্রহণ।

ঘাসের জমি খামার থেকে অনেক দূরে হলে পরিবহনের খরচ বেড়ে লাভ কমে যেতে পারে, কারণ তাজা নেপিয়ারে পানির পরিমাণ অনেক বেশি।


পরামর্শ

১. অপরিচিত নামে চারা কিনবেন না: বিক্রেতার প্রচারণা নয়, ঘাসের পরিচয় ও স্থানীয় ফলন যাচাই করুন।

২. প্রথমে ছোট জমিতে পরীক্ষা করুন: নিজের এলাকার মাটি, পানি ও আবহাওয়ায় ফলন দেখে পরে বড় পরিসরে যান।

৩. শুধু সবুজ ওজন দেখে বিচার করবেন না: পুষ্টিমান, শুষ্ক পদার্থ, কোমলতা এবং পশুর গ্রহণক্ষমতা বিবেচনা করুন।

৪. কচি কিন্তু অপরিণত নয়—সঠিক সময়ে কাটুন: বেশি বয়সী ঘাসে ওজন বাড়লেও পুষ্টিমান ও হজমযোগ্যতা কমে।

৫. মাটি পরীক্ষা করে সার দিন: অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার অর্থের অপচয় ও পশুর জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

৬. একক খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করবেন না: নেপিয়ারকে খড়, ডালজাতীয় ঘাস, দানাদার খাদ্য ও খনিজের সঙ্গে সমন্বয় করুন।

৭. রেশন পশুভেদে নির্ধারণ করুন: বাছুর, গর্ভবতী গাভী, দুধেল গাভী ও মোটাতাজাকরণের ষাঁড়ের পুষ্টিচাহিদা এক নয়।

৮. খাদ্য পরিবর্তন ধীরে করুন: হঠাৎ বেশি কচি ঘাস বা দানাদার খাদ্য দিলে হজমের সমস্যা হতে পারে।

৯. রোগাক্রান্ত কাটিং ছড়াবেন না: একটি আক্রান্ত ক্ষেত থেকে নেওয়া চারা পুরো এলাকায় রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে।

১০. রেকর্ড রাখুন: রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ, ওষুধ, কাটাই, ফলন ও পশুর উৎপাদন লিখে রাখলে প্রকৃত লাভ বোঝা যায়।


শেষ কথা

নেপিয়ার বাংলাদেশের দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদন ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উচ্চফলনশীল পশুখাদ্য ঘাস। অল্প জমিতে বারবার উৎপাদন, কেটে খাওয়ানোর সুবিধা এবং গরু-মহিষের গ্রহণযোগ্যতা এটিকে ছোট-বড় সব খামারের জন্য মূল্যবান করে তুলেছে।

তবে নেপিয়ার কোনো অলৌকিক বা সম্পূর্ণ খাদ্য নয়। ভুল জাত, অতিরিক্ত সার, বিলম্বে কাটাই, রোগাক্রান্ত চারা এবং এককভাবে খাওয়ানো হলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাবে না। বিজ্ঞানসম্মত চাষ, উপযুক্ত সময়ে কাটাই এবং সুষম রেশনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করলে নেপিয়ার ঘাস দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং খামারকে টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

গরুর টিকা দেওয়ার সময়সূচি

বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্যের রপ্তানি প্রসারে হর্টেক্স ফাউন্ডেশন এর ৫(পাঁচ) বছর মেয়াদী কৌশল

ফকির লালন শাহ ছিলেন বৈষম্যবিরোধী :মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

সুলভ’ মূল্যে দুধ-ডিম-মাংস বিক্রি শুরু বাজারে যারা অহেতুক দাম বাড়ায়, তাদের ছাড় দেওয়া যাবে না -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

বন্যাদুর্গত কৃষকদের সহায়তায় বীজ ও ভ্যাকসিন বিতরণে অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’

মাছ শুধু বাণিজ্যিক পণ্য নয়-এটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার সাথে সম্পৃক্ত

পোল্ট্রি খামারে ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা

উপকূল ও গভীর সমুদ্রকে কেন্দ্র করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি

বিশ্ব ব্যাঙ দিবস “সময় এসেছে ব্যাঙের ফার্ম করার”

তোতাপুরি ছাগল পালনের ইতিহাস ও বর্তমানে বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা