বন্যাদুর্গত কৃষকদের সহায়তায় বীজ ও ভ্যাকসিন বিতরণে অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি টিকার আওতায় আনার নির্দেশ।।
— মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: ড. বায়েজিদ মোড়ল
AgricultureNews24.com

চট্টগ্রাম, ১৮ জুলাই ২০২৬: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বন্যাদুর্গত কৃষকদের মধ্যে বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিনসহ সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারের পক্ষে একবারে সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নতমানের বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিন এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ।
তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের হাতে পৌঁছে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।
প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছাতে হবে সরকারি সহায়তা
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনেই দুঃসময় আসে। সেই সময়ে রাষ্ট্র ও সমাজ যদি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পায়। সরকার সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বন্যাদুর্গত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। অতীতের মতো কোনো ধরনের অনিয়ম আর বরদাশত করা হবে না।
১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি টিকার আওতায় আনার নির্দেশ
গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকার শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি (ক্ষুরা রোগ) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব গবাদিপশুকে ছয় মাস আগে টিকা দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদের পুনরায় টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, একটি গবাদিপশু মারা গেলে একজন খামারির যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয়, তা সরকার উপলব্ধি করে। তাই রোগ প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর ভ্যাকসিন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনিয়মের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিটি সহায়তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং কেউ যেন বাদ না পড়েন—এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারি সহায়তা বিতরণে কোথাও কোনো অনিয়ম, অবহেলা বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি
সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
AgricultureNews24.com-এর পর্যবেক্ষণ
বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাত পুনরুদ্ধারে সরকারের সহায়তা কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বীজ, সার ও গবাদিপশুর ভ্যাকসিন সঠিক সময়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের হাতে পৌঁছানো এবং বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে বন্যাকবলিত অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও প্রাণিসম্পদ খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন কৃষক-খামারিদের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু।



























