RRP
agriculture news24.com
Health Care
Agriculture News
diamond egg
renata-ltd.com
Space for Add
Agriculture News
Spech for Promotion
avonah
Saturday , 3 October 2026 |
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি

হাঁসের সুষম খাদ্য: বয়স অনুযায়ী কী খাবার, কতটুকু প্রয়োজন?

প্রতিবেদক
Dr. Bayezid Moral
October 2, 2026 5:19 pm


হাঁসের সুষম খাদ্য: বয়স অনুযায়ী কী খাবার, কতটুকু প্রয়োজন?

কৃষি সাংবাদিক ড. বায়েজিদ মোড়লের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন

হাঁসকে প্রতিদিন খাবার দেওয়া হচ্ছে, অথচ বাচ্চার বৃদ্ধি কম, বড় হাঁসের শরীর দুর্বল কিংবা ডিমের উৎপাদন প্রত্যাশার নিচে—এমন অবস্থায় খাবারের পরিমাণের পাশাপাশি তার পুষ্টিমানও দেখতে হবে। পেট ভরে খাওয়া আর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া এক বিষয় নয়।

এক দিনের বাচ্চা, বেড়ে ওঠা হাঁস এবং ডিমপাড়া হাঁসের খাদ্যের চাহিদা আলাদা। বাচ্চার জন্য দরকার শরীর ও হাড় গঠনের উপযোগী খাদ্য; বাড়ন্ত হাঁসের জন্য নিয়ন্ত্রিত ও সুষম বৃদ্ধি; আর ডিমপাড়া হাঁসের জন্য শরীরের চাহিদা মিটিয়ে ডিম তৈরির বাড়তি পুষ্টি।

এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক কৃষি সম্প্রসারণ নির্দেশিকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাঁস পুষ্টিবিষয়ক তথ্য এবং প্রকাশিত গবেষণার ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। খাদ্যের পরিমাণ নির্ধারণে বয়সের সঙ্গে জাত, শরীরের ওজন, ডিম উৎপাদন, আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক খাবারের প্রাপ্যতা বিবেচনা করতে হবে।

সুষম খাদ্য বলতে কী বোঝায়?

সুষম খাদ্য হলো এমন খাবার, যাতে হাঁসের প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি, আমিষ, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, চর্বি, খনিজ ও ভিটামিন থাকে। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানিও অপরিহার্য।

শুধু ধান, চালের কুঁড়া কিংবা ভাত দিয়ে হাঁসের সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় না। আবার খাদ্যে আমিষের শতাংশ ঠিক থাকলেই সেটি সম্পূর্ণ সুষম হয়ে যায় না। আমিষের গুণমান, ক্যালসিয়াম-ফসফরাসের ভারসাম্য এবং ভিটামিনের সরবরাহও ঠিক থাকতে হবে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাঁস যেভাবেই খাবার সংগ্রহ করুক, তার মোট খাদ্যে দেহ রক্ষণাবেক্ষণ, বৃদ্ধি ও প্রজননের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি থাকতে হবে।

বয়স অনুযায়ী প্রতিদিন কতটুকু খাদ্য প্রয়োজন?

নিচের ছকটি খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের নিবিড় পালনব্যবস্থায় খাদ্য পরিকল্পনার একটি নির্দেশক হিসাব। সংখ্যাগুলো এফএওর নির্দেশিকা থেকে সহজভাবে পূর্ণসংখ্যায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো সব জাতের জন্য নির্দিষ্ট সীমা নয়; বিশেষ করে দ্রুত বাড়তে থাকা মাংসের হাঁসে এই হিসাব সরাসরি প্রয়োগ করা যাবে না।

বয়স বা উৎপাদনের পর্যায়উপযুক্ত খাদ্যের ধরনপ্রতি হাঁসে দৈনিক নির্দেশক পরিমাণ১০০ হাঁসের দৈনিক খাদ্য
প্রথম সপ্তাহবাচ্চার প্রারম্ভিক খাদ্যপ্রায় ১৬ গ্রাম১.৬ কেজি
দ্বিতীয় সপ্তাহবাচ্চার প্রারম্ভিক খাদ্যপ্রায় ২৯ গ্রাম২.৯ কেজি
তৃতীয় সপ্তাহপ্রারম্ভিক খাদ্য; পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবর্তন শুরুপ্রায় ৪৩ গ্রাম৪.৩ কেজি
চতুর্থ সপ্তাহবাড়ন্ত হাঁসের খাদ্যপ্রায় ৭৭ গ্রাম৭.৭ কেজি
পঞ্চম সপ্তাহবাড়ন্ত হাঁসের খাদ্যপ্রায় ৯৩ গ্রাম৯.৩ কেজি
ষষ্ঠ সপ্তাহবাড়ন্ত হাঁসের খাদ্যপ্রায় ১০০ গ্রাম১০ কেজি
সপ্তম সপ্তাহবাড়ন্ত হাঁসের খাদ্যপ্রায় ১০৭ গ্রাম১০.৭ কেজি
অষ্টম থেকে দ্বাদশ সপ্তাহবাড়ন্ত হাঁসের খাদ্যপ্রায় ১২০ গ্রাম১২ কেজি
ত্রয়োদশ থেকে বিশতম সপ্তাহডিমপাড়ার আগের বাড়ন্ত খাদ্যপ্রায় ১৩৫ গ্রাম১৩.৫ কেজি
ডিম উৎপাদনের সময়ডিমপাড়া হাঁসের সুষম খাদ্যপ্রায় ১৫০–২০০ গ্রাম১৫–২০ কেজি

ছকটি খাদ্য কেনা ও দৈনিক হিসাব রাখার সহায়ক। বাচ্চা ক্ষুধার্ত থাকলে ছকের সংখ্যা ধরে খাবার বন্ধ করা যাবে না। এফএওর একই নির্দেশিকায় খাকি ক্যাম্পবেলের তুলনায় পেকিন হাঁসের খাদ্যগ্রহণ বেশি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে।

খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ তাপমাত্রা, চলাফেরা ও বংশগত বৈশিষ্ট্যেও বদলায়। তাই পাত্রে দেওয়া খাদ্যের পাশাপাশি অবশিষ্ট ও ছড়িয়ে নষ্ট হওয়া খাদ্য দেখতে হবে।

প্রথম দুই–তিন সপ্তাহ: অল্প খাবার, কিন্তু বেশি পুষ্টির প্রয়োজন

জীবনের শুরুতে হাঁসের বাচ্চার বৃদ্ধি দ্রুত হয়। এ সময় উপযোগী ছোট দানার বা ভাঙা দানার প্রারম্ভিক খাদ্য দিতে হবে, যাতে বাচ্চা সহজে মুখে নিতে পারে। বড় হাঁসের জন্য তৈরি শক্ত বা বড় দানার খাদ্য ছোট বাচ্চার জন্য সুবিধাজনক নয়।

বাচ্চাকে শুধু ভাত, চালের গুঁড়া বা কুঁড়া দিয়ে বড় করার চেষ্টা করলে পেট ভরলেও পুষ্টির ঘাটতি থেকে যেতে পারে। খাদ্যপাত্রে তাজা খাবার রাখতে হবে এবং ছোট বাচ্চার নাগালের মধ্যে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

বিভিন্ন নির্দেশিকায় প্রারম্ভিক খাদ্যের আমিষের মাত্রায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই হাঁসের উপযোগী, বয়স অনুযায়ী তৈরি সম্পূর্ণ খাদ্য নির্বাচন করাই বেশি নির্ভরযোগ্য।

কোন পর্যায়ে কত আমিষ ও ক্যালসিয়াম দরকার?

ডিম উৎপাদনকারী খাকি ক্যাম্পবেলের জন্য একটি সম্প্রসারণ নির্দেশিকায় নিচের পুষ্টিমান দেওয়া হয়েছে।

পুষ্টির বিষয়প্রারম্ভিক খাদ্যবাড়ন্ত খাদ্যডিমপাড়া হাঁসের খাদ্য
অপরিশোধিত আমিষ, ন্যূনতম২০%১৬%১৮%
ক্যালসিয়াম, ন্যূনতম১%১%৩%
ব্যবহারযোগ্য ফসফরাস, ন্যূনতম০.৫০%০.৫০%০.৫০%
বিপাকযোগ্য শক্তি, প্রতি কেজিতে২,৬০০ কিলোক্যালরি২,৫০০ কিলোক্যালরি২,৬০০ কিলোক্যালরি

এটি একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকার মান। জাত ও খাদ্য পরিকল্পনাভেদে অন্য গ্রহণযোগ্য মান থাকতে পারে। তবে ছকটির গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—বাচ্চা ও বাড়ন্ত হাঁসের খাদ্যের তুলনায় ডিমপাড়া হাঁসের খাদ্যে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন অনেক বেশি।

মেটজার ফার্মসের নির্দেশিকাতেও প্রারম্ভিক, বাড়ন্ত ও ডিমপাড়া পর্যায়ের জন্য আলাদা খাদ্য এবং ডিমপাড়া হাঁসের খাদ্যে প্রায় ৩ শতাংশ ক্যালসিয়াম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বাড়ন্ত খাদ্যে আমিষের মাত্রা তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। ফলে একটি ছকের শতাংশ দেখে সব খামারে একই খাদ্য প্রয়োগ করা ঠিক হবে না।

বাড়ন্ত হাঁস: শরীর গড়তে হবে, অতিরিক্ত মোটা করা নয়

বাচ্চার প্রারম্ভিক পর্যায় পার হওয়ার পর ডিমের জন্য পালন করা হাঁসকে বাড়ন্ত খাদ্যে নিতে হবে। এ সময় লক্ষ্য হবে বয়স ও জাত অনুযায়ী স্বাভাবিক ওজন অর্জন করা।

খাদ্য ব্যবস্থাপনা মূল্যায়নে খামারি তিনটি বিষয় দেখবেন: হাঁস নিয়মিত খাচ্ছে কি না, দলের অধিকাংশ হাঁসের বৃদ্ধি কাছাকাছি কি না এবং পালক ও চলাফেরা স্বাভাবিক কি না। শুধু বড় কয়েকটি হাঁস দেখে পুরো দলের অবস্থা বিচার করলে দুর্বল হাঁসগুলো নজরের বাইরে থেকে যেতে পারে।

একই দলের কিছু হাঁস খুব ছোট থাকলে খাদ্যের মানের পাশাপাশি পাত্রের সংখ্যা ও খাবার পাওয়ার সুযোগও যাচাই করতে হবে। শক্তিশালী হাঁসের ভিড়ে দুর্বল হাঁস পর্যাপ্ত খাবার না-ও পেতে পারে।

ডিমপাড়া হাঁস: পরিমাণের সঙ্গে পুষ্টির ঘনত্বও জরুরি

ডিমপাড়া হাঁসের জন্য দৈনিক ১৫০–২০০ গ্রাম খাদ্য একটি ব্যবহারযোগ্য পরিকল্পনার সীমা। কিন্তু ১৫০ গ্রাম নিম্নমানের খাদ্য এবং একই পরিমাণ সুষম খাদ্যের ফল এক হবে না।

ডিম উৎপাদনের সময় খাদ্যে প্রয়োজনীয় আমিষ, শক্তি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন থাকতে হবে। প্রাকৃতিক খাবারের সরবরাহ কমে গেলে বাড়তি খাদ্যের প্রয়োজন হতে পারে। আবার যথেষ্ট খাদ্য দেওয়া হচ্ছে, অথচ ডিম কমছে—এমন অবস্থায় শুধু খাদ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান ধরে নেওয়া যাবে না; বয়স, রোগ, আলো ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনাও মূল্যায়ন করতে হবে।

সম্পূর্ণ ডিমপাড়া খাদ্যের সঙ্গে ইচ্ছামতো ধান বা কুঁড়া মেশানোর একটি সমস্যা হলো পুষ্টির ঘনত্ব কমে যাওয়া। ধরুন, ১৮ শতাংশ আমিষের ৮০ কেজি খাদ্যের সঙ্গে ৮ শতাংশ আমিষের ২০ কেজি একটি উপকরণ মেশানো হলো। মোট মিশ্রণে আমিষ হবে:

(৮০ × ১৮% + ২০ × ৮%) ÷ ১০০ = ১৬%।

এটি বোঝানোর জন্য কাল্পনিক হিসাব। বাস্তবে উপকরণের পরীক্ষিত পুষ্টিমান ব্যবহার করতে হবে। একইভাবে মিশ্রণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টিও কমে যেতে পারে।

মাংসের হাঁসের জন্য আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন

পেকিন, মাসকোভি ও অন্যান্য মাংসের হাঁসের বৃদ্ধির হার এক নয়। তাই ডিমের হাঁসের খাদ্যপরিমাণকে মাংসের হাঁসের নির্দিষ্ট দৈনিক বরাদ্দ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

মাংসের হাঁসে খাদ্য পরিকল্পনা করতে হবে জাত, বাজারজাত করার বয়স, প্রত্যাশিত ওজন এবং খাদ্য ব্যবহারের দক্ষতা অনুযায়ী। বাচ্চার প্রথম পর্যায় ও পরবর্তী বৃদ্ধির পর্যায়েও খাদ্যের পুষ্টিমান পরিবর্তিত হয়।

নিয়াসিন: হাঁসের খাদ্যে যে ভিটামিনটি বিশেষভাবে খেয়াল করতে হবে

হাঁসের পুষ্টিতে ভিটামিন বি–৩ বা নিয়াসিন গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতির সঙ্গে বৃদ্ধি কমে যাওয়া ও পায়ের সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ডিমের হাঁসেও উৎপাদন ও ডিমের মানে প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণায় বয়স ও জাতভেদে নিয়াসিনের প্রয়োজনের পার্থক্য দেখা যায়।

তাই মুরগির খাদ্য হাঁসকে দেওয়ার আগে সেটি হাঁসের জন্য উপযুক্ত কি না, বিশেষ করে ভিটামিন-খনিজের সরবরাহ যথেষ্ট কি না, যাচাই করতে হবে।

পা দুর্বল দেখলেই নিয়াসিনের ঘাটতি ধরে নেওয়া যাবে না। আঘাত, পিচ্ছিল মেঝে, সংক্রমণসহ অন্য কারণও থাকতে পারে। খাদ্য সংশোধন বা সম্পূরক দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রাণিচিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের সহায়তা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় উপকরণ দিয়ে খাদ্য তৈরি করা যাবে?

স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে হাঁসের খাদ্য তৈরি করা সম্ভব। তবে উপকরণ একসঙ্গে মেশালেই সুষম খাদ্য তৈরি হয় না।

উপকরণের ধরনউদাহরণখাদ্যে প্রধান ভূমিকা
শক্তির উৎসভাঙা চাল, ভুট্টা, গমশক্তি সরবরাহ
আমিষের উৎসসয়াবিন মিল, মানসম্মত খৈল, মানসম্মত মাছের গুঁড়াবৃদ্ধি ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় আমিষ
খনিজের উৎসপ্রাণিখাদ্য উপযোগী ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের উপকরণহাড় ও ডিমের খোলস গঠন
ভিটামিন-খনিজ মিশ্রণহাঁসের উপযোগী নির্ধারিত মিশ্রণঅল্প পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ
প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডখাদ্য পরিকল্পনা অনুযায়ীআমিষের ভারসাম্য নিশ্চিত করা

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, খামারে সম্পূর্ণ খাদ্য তৈরির জন্য পুষ্টি ও খাদ্য মিশ্রণ সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান এবং উপযুক্ত উপকরণ প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে নির্দেশনা মেনে শস্যের সঙ্গে নির্ধারিত ঘনীভূত খাদ্য ব্যবহার করা যায়। সম্পূর্ণ প্রস্তুত খাদ্য ও ঘনীভূত খাদ্য এক জিনিস নয়—ব্যবহারের নিয়মও আলাদা।

শামুক, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক খাবার কতটা কাজে আসে?

চারণভিত্তিক হাঁস প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে বিভিন্ন খাবার সংগ্রহ করতে পারে। এতে খামারের কেনা খাদ্যের প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু প্রাকৃতিক খাবারের পরিমাণ ও পুষ্টিমান প্রতিদিন সমান থাকে না।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অল্প সংখ্যক হাঁস কিছু পরিবেশে প্রাকৃতিক খাবারে টিকে থাকতে পারলেও বৃদ্ধি ও ডিম উৎপাদন কম হতে পারে। দলের আকার বাড়লে শুধু চারণ থেকে যথেষ্ট খাদ্য পাওয়া আরও কঠিন হয়।

সুতরাং হাঁস সারাদিন বাইরে ঘুরেছে—এটুকু দেখে খাদ্য কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। ওজন, শরীরের অবস্থা ও ডিমের হিসাব দেখে সম্পূরক খাদ্য সমন্বয় করতে হবে।

খাবার দেওয়ার নিয়মও ফল বদলে দেয়

খাদ্যের অপচয় কমাতে উপযুক্ত আকারের দানাদার খাদ্য ও পাত্র ব্যবহার করা দরকার। অতিরিক্ত গুঁড়া খাদ্য হাঁসের মুখে লেগে পানির পাত্রে যেতে পারে। ভেজা খাদ্য দিলে তা তাজা অবস্থায় দিতে হবে; দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকা খাবার ব্যবহার করা উচিত নয়। এফএওর নির্দেশিকায় দানাদার খাদ্যে অপচয় কম এবং তাজা, ঝুরঝুরে ভেজা খাদ্য ব্যবহারের সুবিধা উল্লেখ রয়েছে।

খামারে কয়েকটি নিয়ম অনুসরণ করা যায়:

  • খাদ্য মেপে দিন এবং অবশিষ্ট খাদ্য লিখে রাখুন।
  • সব হাঁস যেন সহজে পাত্রে পৌঁছাতে পারে, তা নিশ্চিত করুন।
  • খাদ্যপাত্রে পানি ঢুকে খাবার নষ্ট হচ্ছে কি না দেখুন।
  • ভেজা, ছত্রাকযুক্ত বা অস্বাভাবিক গন্ধের খাদ্য ব্যবহার করবেন না।
  • নতুন খাদ্যে পরিবর্তনের সময় গ্রহণযোগ্যতা ও মলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।
  • খাদ্য দেওয়ার সময়ে নিরাপদ পানির সরবরাহ রাখুন।

পুকুরে নামার সুযোগ থাকলেও পান করার নিরাপদ পানির প্রয়োজনকে অবহেলা করা যাবে না।

মুরগির খাদ্য ব্যবহার করলে কী দেখতে হবে?

হাঁসের খাদ্য না পাওয়া গেলে কিছু মুরগির খাদ্য বিকল্প হতে পারে। তবে বয়স, পুষ্টিমান এবং খাদ্যে থাকা ওষুধ যাচাই করতে হবে। নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় হাঁসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি খাদ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং মুরগির খাদ্যে হাঁসের জন্য অনুমোদিত নয় এমন ওষুধ থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

কেনার আগে বিক্রেতা বা প্রস্তুতকারকের কাছে জানতে হবে: খাদ্যটি কোন বয়সের জন্য, আমিষ ও ক্যালসিয়ামের মাত্রা কত, হাঁসে ব্যবহারযোগ্য কি না এবং কোনো ওষুধ মেশানো আছে কি না।

১০০ হাঁসের খামারে হিসাব রাখবেন যেভাবে

ধরা যাক, ১০০টি ডিমপাড়া হাঁসকে দৈনিক মাথাপিছু ১৭০ গ্রাম খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। তাহলে প্রতিদিন প্রয়োজন:

১০০ × ১৭০ গ্রাম = ১৭ কেজি খাদ্য।

৩০ দিনে প্রয়োজন হবে ৫১০ কেজি। এটি পরিকল্পনার হিসাব; অবশিষ্ট ও অপচয় আলাদাভাবে মাপতে হবে।

একটি খাতায় প্রতিদিন হাঁসের সংখ্যা, দেওয়া খাদ্য, অবশিষ্ট খাদ্য, ডিমের সংখ্যা এবং অসুস্থ হাঁসের তথ্য রাখুন। খাদ্য খরচ বাড়লেও ডিমের সংখ্যা না বাড়লে এই নথি থেকে সমস্যার শুরু শনাক্ত করা সহজ হবে।

একটি ডিমের বিপরীতে খাদ্যের হিসাব বের করা যায়: দৈনিক ব্যবহৃত খাদ্য ÷ দৈনিক ডিমের সংখ্যা।

যেমন, দৈনিক ১৭ কেজি খাদ্য ব্যবহার করে ৭০টি ডিম পাওয়া গেলে প্রতি ডিমে খাদ্য ব্যবহার প্রায় ২৪৩ গ্রাম। এটি শুধু খাদ্য ব্যবহারের সূচক; ডিম উৎপাদনের পূর্ণ খরচে শ্রম, বাচ্চা কেনা, ঘর, চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয়ও যুক্ত হবে।

খামারির জন্য মূল করণীয়

হাঁসের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বয়স অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন করতে হবে, জাত অনুযায়ী পরিমাণ সমন্বয় করতে হবে এবং নিয়মিত উৎপাদনের হিসাব রাখতে হবে। বাচ্চার জন্য সহজে খাওয়ার উপযোগী প্রারম্ভিক খাদ্য, বাড়ন্ত হাঁসের জন্য সুষম বৃদ্ধির খাদ্য এবং ডিমপাড়া হাঁসের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামসহ সম্পূর্ণ খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি।

খাদ্যে সাশ্রয়ের ভালো পথ হলো অপচয় কমানো, উপকরণের মান যাচাই করা এবং হিসাব অনুযায়ী খাবার দেওয়া। প্রয়োজনীয় পুষ্টি কমিয়ে দিলে কম দামের খাদ্যও শেষ পর্যন্ত বেশি ব্যয়ের কারণ হতে পারে।

সর্বশেষ - ছাগল পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

রমজানে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংসের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন// মানুষ যাতে সাধ্যের মধ্যে দুধ, ডিম ও মাংস কিনতে পারেন সেজন্য ভ্রাম্যমান বিক্রয় কার্যক্রম – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

জলাতঙ্ক নির্মূলে প্রয়োজন সব প্রতিবন্ধকতা নিরসন

বিপিআইএ নির্বাচনে ‘পোল্ট্রি পেশাজীবী পরিষদ’-এর জয় : নতুন সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী, মহাসচিব শাফির রহমান

PhD in Electronic Media and Agriculture Development : Electronic Media’s Recommendations

কি ভাবে গলদা চাষিরা ঠকে যায়!

পদক

মোটাতাজাকরণের ষাঁড়কে বাজারের রেডি ফিড খাওয়ানোর উপকার, ক্ষতি ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা।।

মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্ববিদ্যালয় লেক হতে পারে নতুন দৃষ্টান্ত

হেরিফোর্ড (Hereford) গরু

বিশ্বজুড়ে আলোচিত প্রভুভক্ত কুকুরের বিস্ময়কর ঘটনা