মৎস্য খাতে অবদানের স্বীকৃতি: কিশোরগঞ্জে ১৪ উদ্যোক্তাকে গোল্ড মেডেল দেবেন প্রধানমন্ত্রী।।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে ১৬ আগস্ট বিশেষ আয়োজন; উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ অবমুক্তকরণসহ একাধিক কর্মসূচির উদ্বোধন।।

কিশোরগঞ্জ, ৮ আগস্ট ২০২৬:
দেশের মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সারা দেশ থেকে নির্বাচিত ১৪ জন সফল উদ্যোক্তাকে গোল্ড মেডেল দেওয়া হবে। আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
শনিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সারা দেশ থেকে নির্বাচিত ১৪ উদ্যোক্তা
মন্ত্রী জানান, দেশের মৎস্য উৎপাদন ও এ খাতের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ১৪ জনকে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হবে গোল্ড মেডেল। জাতীয় পর্যায়ের এ সম্মাননা মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তাদের নতুন উদ্যোগ, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, কিশোরগঞ্জ দেশের মৎস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উৎপাদনের মাঠের কাছাকাছি গিয়ে মৎস্য খাতের সফল উদ্যোক্তাদের সম্মানিত করতে চায় সরকার।
কিশোরগঞ্জে একাধিক কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
মন্ত্রী জানান, কিশোরগঞ্জ সফরে প্রধানমন্ত্রী উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
শিক্ষার্থীদের বই বহনের জন্য স্কুলব্যাগ দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী।
‘জনগণ যেখানে, সরকার সেখানে’
জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি সাধারণত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলেও এবার কিশোরগঞ্জকে কেন বেছে নেওয়া হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,
“এটাই সরকারের ভিন্নতা—জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। জনগণ যেখানে, সরকার সেখানে।”
তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য উৎপাদন এলাকা। বিশেষ করে হাওরকেন্দ্রিক মৎস্যসম্পদ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। মৎস্য খাতে অবদান রাখা উদ্যোক্তাদের উৎপাদনের মাঠের কাছাকাছি এনে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দিতে চায় সরকার।

হাওরে মাছ কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার
হাওরে মাছের মৌসুম চললেও বিভিন্ন বাজারে আগের তুলনায় মাছের বেচাকেনা কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্বীকার করেন, হাওরাঞ্চলে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তিনি বলেন, “হাওর অঞ্চলে দিনে দিনে মাছ কমে যাচ্ছে—এটা আপনি যেমন অনুভব করছেন, সরকারও সেটা অনুভব করছে।”
দেশীয় মাছের উৎপাদন ও প্রাকৃতিক প্রজনন বাড়াতে হাওর, খাল-বিল এবং সমুদ্র এলাকায় নতুন করে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এসব অভয়াশ্রমে মাছের নিরাপদ প্রজনন, পোনা সংরক্ষণ এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
অবৈধ জালের উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান
দেশের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ ও অবৈধ জালের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আর কোথাও যেন অবৈধ জাল উৎপাদন করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার যথেষ্ট সচেতন রয়েছে।”
মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ফলে শুধু বড় মাছই ধরা পড়ছে না; মাছের ছোট পোনা এবং বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণীও নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অবৈধ জাল দেখলে প্রতিরোধের আহ্বান
শুধু প্রশাসনিক অভিযান দিয়ে অবৈধ জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, অবৈধ জালের বিরুদ্ধে সরকার অভিযান পরিচালনা করবে। পাশাপাশি কোথাও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখলে স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধভাবে এর প্রতিবাদ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপস্থিত ছিলেন যারা
মতবিনিময় সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, কিশোরগঞ্জ-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























