ডিমের খোসার মান উন্নয়নে খাদ্যের গুরুত্ব

বছরের পর বছর ধরে ডিম তৈরীর সময় হ্রাস করার মাধ্যমে ডিম উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। একটি ডিম উৎপাদন করতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘন্টা। ডিমের খোসার ক্যালসিফিকেশন হতে সময় লাগে ১২ ঘন্ট এবং অভিপজিশনের ২.৩০ ঘন্টা আগে শেষ হয়। অতএব বলা যায় কালসিফিকেশন ঘরে প্রধানত দিনের শেষের দিকে এবং রাতের বেলায়। ক্যালফিকেশনের শেষের দিতে বা রাতের শেষের দিকে গিজার্ডে কি পরিমাণ ক্যালসিয়াম তাকে তার উপর ডিমের খোসার গুণাগুণ বহুলাংশে নির্ভর করে। থাছাড়া খাদ্য দেওয়ার সময়, আলোক কর্মসূচি এবং ক্যালসিয়াম কার্বনেটের আকারের উপরও ডিমের খোসার গুণাগুণ নির্ভর করে।
ডিম তৈরী হওয়ার বিভিন্ন ধাপসমূহ ঃ
ডিমের অভিপজিশনের সময়ের উপর নির্ভর করে ক্যালসিফিকেশনের সময় নির্ণয় করা যায়।
১) একটি ডিম পাড়ার ১০ মিনিট পর আরেকটি ডিম্বানুর অভুলেশন ঘটে।
২) অভুলেশনের ৫ ঘন্টা পর ডিম জরায়তে প্রবেশ করে। বাছাই প্রক্রিয়র মাধ্যমে এই সময় পরিবর্তন করা যায় না।
৩) এই সময় অ্যালবুমেশন পানির সাথে যুক্ত হয় এবং ম্যামিলারী কোর (গধসসরষষধৎু পড়ৎবং) গঠিত হয় না।
৪) পরবর্তী ১২ ঘন্টা ক্যালসিফিকেশন সহ অর্থাৎ অ।ভুলেশন হওয়ার পর ১০-১২ ঘন্টা পর্যন্ত।
* ডিমের খোসা তৈরির সময় ক্যালসিয়ামকে দ্রবীভূত করার জন্য প্রোভেন্ট্রিকুলাস থেকে সব সময় হাইড্রো ক্লোরিক এসিড যুক্ত দ্রবণ নিঃসৃত হয়।
* ক্যালসিয়ামযুক্তদ্রবণ নিঃসৃত করার জন্য গিজার্ড নিয়মিত সংকুচিত হয়।
* ক্যালসিফিকেশন ঘটে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত, প্রতি ঘন্টায় ডিমের খোসার ওজন ০.৪৫ গ্রাম করে বাড়তে থাকে।
* রাতের শেষের দিকে ক্যালসিয়ামের মজুত যদি কম থাকে তবে ডিমের খোসার গুণাগুন খারাপ হয়্
* ক্যালসিফিকেশনের শেষের দিকে ডিমের খোসা রঙিন হয় ও ডিম পাড়ার ৯০ মিনিট আগে ডিমের কিউটক্যাল গঠিত হয়।
ক্যালসিফিকেশন ঘটার সময়
(ঞযব ঈধষভপরভরপধঃরড়হ চবৎরড়ফ) :
ডিম পাড়ার রেকর্ডের উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে লাইট বন্ধ করার ১০ ঘন্টা থেকে ১০ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ মুরগি ডিম পাড়ে, অর্থাৎ রাতের অন্দকার যদি ৮ ঘন্টা হয় তবে লাইট অন করার ২-২:৩০ ঘন্টার মধ্যে ৫০% মুরগির ডিমপাড়া সম্পন্ন হয়।
১. তাই বলা যায়, যদি রাতের অন্ধকারে ৮ ঘন্টা হয় তবে লাইট বন্ধ করার সাড়ে তিন ঘন্টা-চার ঘন্টা পূর্ব হতে ক্যালসিফিকেশন শুরু হয়।
* যে সমস্ত মুরগি খুব সকালে ডিম পাড়া শুরু করে তাদের ক্যালসিফিকেশন শুরু হয় রাইট বন্ধ করার ৬ ঘন্টা আগে থেকে।
* যে সমস্ত মুরগিদুলো শেষের দিকে ডিম পাড়ে তাদের ক্যালসিফিকেশন শুরু হয় লাইট বন্ধ করার দেড় ঘন্টা আগে থেকে
নিচের মুরগির ডিমের ক্যালসিফিকেশনের হার দেকানো হলো-
* শতকরা ১০ ভাগ মুরগির ডিমের ক্যালসিফিকেশন শুরু হয় লাইট বন্ধ করার সড়ে ৫ ঘন্টা আগে থেকে।
* শতকরা ৮০ ভাগ মুরগির ডিমের ক্যালসিফিকেশন শুরু হয় লাইট বন্ধ করার দুই থেকে আড়াই ঘন্টা আগে থেকে।
২. ৫০% মুরগি লাইট অন করার পর ক্যালসিয়াম খায়, যা ঐ দিন ডিমের ক্যালসিফিকেশনের জন্য ব্যবহৃত হয় না। ১০% মুরগির ক্যালসিফিকেশন সম্পন্ন হয় লাইন অন করার দেড়-দুই ঘন্টা আগে।
টেবিল-১ মুরগির পায়খানা থেকে প্রাপ্ত লাইমষ্টোন কণার আকার
কণার আকার কণার শতকরা হর
খাদ্যে পায়খানা
টেবিল- ২
কণার আকার পায়খানা থেকে প্রাপ্ত লাইমষ্টোনের পরিমাণ
(মোট ওজনের মতকরা হার হিসাবে)
কণার আকার এবং ক্যালসিয়াম জমার পরিমাণ (ক্যালসিয়াম গ্রহণের পরিমাণ ৩.৭৫ গ্রাম)
কণাগুলোর আকার কণাগুলো
পায়খানায় নির্গত ২৪ ঘন্টা পর গিজার্ডে জমার পরিমাণ প্রাপ্ত ক্যালসিয়ামের পরিমাণ
মুরগির ক্যালসিফিকেশন সম্পন্ন হয় লাইট অন করার দুই-আড়াই ঘন্টা পর।
৩. মধ্যরাতের আলো ডিমরে অভিপজিশনের সময়কে পরিবর্তন করে না কিন্তু ডিম পাড়ার ডিমের খোসার গুণাগুণের উপর রাতের বেলায় ২ ঘন্টা আলো দেওয়ার প্রবাব (লাইট বন্ধ করার ২ ঘন্টা অথবা ৩ ঘন্টা পর আলো দেওয়া হয়। সময়কে একটু বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ ৫০% মুরগি ৩০ মিনিট দেরিতে ডিম পাড়ে এবং ৮০% মুরগি ১ ঘন্টা দেরিতে ডিম পাড়ে।
ক্যালসিয়ামের উৎসঃ
একটি ডিমের খোসা তৈরি করতে প্রায় ২.২ গ্রাম ক্যালসিয়াম লাগে যা আসে মুরগি কর্তৃক গ্রহীত খাদ্য থেকে এবং মুরগির ক্রপ ও গজার্ডে জমাকৃত ক্যালসিয়াম থেকে। খাদ্য কণার আকার ২-৪ মি.মি. হওয়া ভাল কারণ এটা দিনের শেষের দিকে মুরগিকে ক্যালসিয়াম গ্রহন করতে উৎসাহিত করে এবং গিজার্ডে মোটামুটি ভাল পরিমাণ ক্যালসিয়াম জমা থাকে। খাদ্য কণার আকার যদি ১.৫-২মি.মি. এর কম হয় তা তবে মুরগির পাকস্থলীতে খাদ্য কম সময়ে থাকে, ফলে হজম কম এবং শোষিত পুষ্টি ক্ষুপাদানের পরিমাণও কম হয়। যার ফলশ্র“তিতে অনেক পুষ্টি উপাদান মুরগির পায়খানার মাধ্যমে বেরিয়ে যায় (টেবিল ১,২,৩) যদি মুরগিগুলোকে খাদ্য দেওয়ার সময় ঠিক না থাকেএবং খাদ্য দানার আকার ত্র“টিপূর্ণ হয় তবে তারা মেডুলারী হাড় থেকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে। হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ বেড়ে যাওয়ার ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং ডিম পাড়ার মাঝামাঝি সময় থেকে ডিমের খোসার গুণাগুণ নষ্ট হতে থাকে। মেডুলারী হাড়ে ক্যালসিয়ামের ব্যবহার বেশী হয় তবে ক্যালসিফিকেশন বাধাগ্রস্থ হতে পারে। “মেডুলারী হাড় যত ছোট হয় ডিমের খোসা তত মোটা হয়”
ডিমের খোসার গুণাগুণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরীক্ষণে (ঞৎধরষ) দেখা যায় যে, যদি রাতের শেষের দিকে মুরগির দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ পর্যাপ্ত থাকে তবে ডিমের খোসার গুণাগুণ ভাল হয়। বাদামী খোসার ডিম পাড়ে এমন স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য। নিæলিখিত নিয়ম অনুসরণ করলে ক্যালসিয়ামের ক্সেত্রে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যেতে পারে ঃ
দিনের শেষের দিকে খাদ্য গ্রহণ বাড়িয়ে দিয়ে মধ্য রাতে খেতে দিলে ২-৪ মি.মি. আকারের ক্যালসিয়াম কার্বনেটের দানা
সরবরাহ করে যা সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়।
দিনের শেষের দিকে খাওয়ানো ঃ
যখন খাদ্যে কোন ক্যালসিয়াম তাকে না অথবা সামান্য ক্যালসিয়াম থাকে কিন্তু খাদ্যে যদি ঝিনুকের খোসা সাপ্লিমেন্ট হিসাবে দেওয়া হয় তবে দিনের শেষ পাঁচ ঘন্টায় মুরগি ঐ ঝিনুকের খোসা খায় সারাদিন খাদ্যে বিভিন্ন মাত্রার ক্যালসিয়াম দেেিয় দেখা গেছে যে, অপরাহ্নে (অভঃবৎহড়ড়হ) মুরগি কি পরিমাণ ক্যালসিয়াম খায় তার উপর ডিমের খোসার গুণাগুণ নির্ভর করে এই কারণেরই দিনের শেষের দিকে ক্যালসিয়াম সরবরাহের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হয়। এটি ঝিনুকের খোসা হিসাবে দেওয়া যায। ঝিনুকের খোসা হিসাবে দেওয়া অথবা দানাদার লাইমস্টোন হিসাবে দেওয়া যায়। ঝিনুকের খোসা অথবা লাইমস্টোন হিসাবে দেওয়া যায়। ঝিনুকের খোসা অথবা লাইমস্টোন ডিমের খোসা গঠনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
রাতের বেলায় কখন খাবার দেওয়া উচিত তার উপর একটি গবেষণা চালানো হয়েছিল। এজন্য মুরগির দুইট ফ্লক নেওয়া হয়েছিল। এজন্য মুরগির দ্ইুটি ফ্লক নেওয়া হয়েছিল এবং একটি ফ্লককে রাইট বন্ধ
টেবিল ৭ ঃ- দেহের অভ্যন্তরে লাইমেষ্টোন দ্রবণীয়তা এবং খাদ্য বন্ধ করার ৫ ঘন্টা পর গিজার্ডে লাইমষ্টোনের মুজতের পরিমাণ
লাইমষ্টোনের ব্যাস (মি.মি) দ্রবনীয় (%) গিজার্ডে লাইমষ্টোন মজুতের পরিমাণ (গ্রাম)
টেবিল-৮ ঃ ক্যালসিয়াম দানার আকার এবং দ্রবণীয়তার মধ্যে সম্পর্ক দেহের ভিতরে এবং দেহের বাহিরে ক্যালসিয়ামের দ্রবনীয়তা এবং গিজার্ডে ক্যালসিয়ামের মজুতের উপর লাইমষ্টান কণার আকারের প্রভাব
লাইমষ্টোনের কণার ব্যাস দ্রবনীয়তা (%) গিজার্ডে মজুতের পরিমাণ (গ্রাম)
সরবরাহ করে যা সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়।
























