
আসছে শীতে ছাগলের যে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগ হতে পারে তার প্রতিকার ও চিকিৎসা।।
প্রতিবেদন শেষে যা জানা যাবে-
ওলান প্রদাহ / ম্যাস্টাইটিস
ধনুষ্টংকার/ টিটেনাস
তড়কা/ এ্যানথ্রাক্স
এন্টারোটক্সিমিয়া ক্ষুরারোগ
পিপিআর
একথাইমা/ ঠোঁটের ক্ষত রোগ
গোটপক্স
ছাগল পালনে জীব-নিরাপত্তা

ওলান প্রদাহ/ম্যাস্টাইটিস
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, মাইকোপ্লাজমা, ফাংগাসসহ ১৮-২০ ধরণের জীবাণু দ্বারা দুগ্ধবতী ছাগলের ম্যাস্টাইটিস বা ওলান প্রদাহ রোগ হয়ে থাকে। এ রোগে ছাগীর ওলান লাল হয়ে ফুলে যায়, শক্ত হয়ে যায়, হাত দিয়ে স্পর্শ করলে গরম অনুভ‚ত হয়, দুধ দোহন করলে পাত্রে দুধের তলানি পড়ে, দুধ উৎপাদন কমে যায়, দুধের স্বাদ লবণাক্ত হতে পারে, তীব্র প্রকৃতির রোগে ওলানের ভিতর পুঁজ হয়। পরে দুধের সাথে রক্ত আসে ও দর্গন্ধ হয়। ওলান ও বাটে ব্যাথা হয় দুধ দোহন করতে বা বাচ্চাকে টেনে খেতে দিতে চায় না। একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্ত ছাগলকে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নে বর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়-
১. মাঝে মাঝে ওলানের প্রত্যেক কোয়ার্টারের দুধ কালো কাপড়ে নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোন তলানি, পুঁজ বা রক্ত আছে কিনা, দুধের রং পরিবর্তন হয়েছে কিনা।
২. ছাগীকে গাদাগাদি বা ঠাসাঠাসি করে রাখা যাবে না। প্রসবের আগে ও পরে ছাগীকে সমতল ও নরম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখতে হবে।
৩. দুধ দোহনের সময় হাত পরিস্কার করে নিতে হবে। প্রয়োজনে সাবান বা ক্লোরিন সলিউশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. বড় ছাগল ছানাকে ওলান থেকে দুধ চুষে খেতে দেওয়া যাবে না।

ধনুষ্টংকার/টিটেনাস
যে কোন অপারেশন, খাসীকরণ, বাচ্চা প্রসবের সময় ছাগীতে বা ছাগল ছানার নাভীতে ক্ষত সৃষ্টি হলে উক্ত ক্ষতে যদি ক্লোস্টিডিয়াম টিটানি নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে তখন টিটেনাস রোগ হয়। এ রোগে আক্রান্ত ছাগলের চোয়াল, গলা ও দেহের অন্যান্য অংশের মাংসপেশী শক্ত হয়ে যায়। দাঁতের মাড়ির মাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে দাঁত লেগে যায় বলে ছাগল খেতে পারে না। খিঁচুনি দেখা যায়, মুখ থেকে লালা ঝরে, প্রথম দিকে দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং শেষ দিকে তাপমাত্রা কমে যায়, দেহ শক্ত হয়ে বেঁকে যায়, পা ও ঘাঁড় শক্ত হয়ে যায় বলে আক্রান্ত ছাগল চলাফেরা করতে পারেনা এমনকি দাড়াতেও পারেনা। তীব্র আক্রান্ত ছাগল কয়েকদিনের মধ্যে মারা যায়।
একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী টিটেনাস আক্রান্ত ছাগলকে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্চনীয়ঃ
১. খোঁজাকরণ, নাড়ি কর্তন, লোম কাটাসহ যে কোন ধরণের অপারেশনের সময় ছাগলকে টিটেনাস টক্সয়ড/এন্টি টিটেনাস সিরাম ইনজেকশন করতে হবে।
২. ডেটল, সেভলন প্রভৃতি এন্টিসেপটিক দিয়ে ক্ষতস্থান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
এক বছর পরপর দু’বার ছাগীকে এন্টিটিটেনাস সিরাম/টিটেনাস টক্সয়ড ইনজেকশন প্রদান করলে এ রোগের আশংকা অনেক কমে যাবে।

তড়কা/এ্যানথ্রাক্স
ব্যাসিলাস এ্যানথ্রাসিস নামক এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এ রোগ হয়। এ রোগে আক্রান্ত ছাগল লক্ষণ প্রকাশের আগেই অনেক সময় মারা যায়। ছাগল টলতে টলতে পড়ে গিয়ে হাপাতে থাকে, খিঁচুনি দেখা যায় এবং মারা যায়। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় (১০৩-১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট), খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়, জাবর কাটে না, শ্বাস কষ্ট হয়, নাক মুখ দিয়ে লালা পড়ে, পেট ফুলে ওঠে, রক্ত মিশ্রিত পায়খানা হয়। রোগের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে মল কালো হতে হতে আলকাতরার মত হয়ে যায়। মরা ছাগলের নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত মিশ্রিত ফেনা বের হয়। তড়কা একটি মারাতœক ব্যাধি। রোগ লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে দেরী না করে একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী তড়কা আক্রান্ত ছাগলকে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্চনীয়
১. মৃত ছাগলকে মাটিতে পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা মাটির গর্তে চুন বা বিøচিং পাউডার দিয়ে তার উপর মৃতদেহ রেখে মৃতদেহের উপর আবার চুন বা বিøচিং পাউডার দিয়ে মাটি চাপা দিতে হবে।
২. কোন অবস্থাতেই মৃত ছাগলের চামড়া ছাড়ানো যাবে না। কারণ চামড়া এ রোগের জীবাণু বহন করে।
৩. আক্রান্ত প্রাণি বা মৃতদেহ কোন অবস্থাতেই ব্যবচ্ছেদ করা যাবে না।
৪. মৃত ছাগলের ব্যবহৃত সকল জিনিস পুড়ে ফেলতে হবে।
৫. লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে আক্রান্ত প্রাণিকে পৃথক করে চিকিৎসা দিতে হবে।
৬. অসুস্থ্য ছাগলকে বিক্রি করা যাবে না। অসুস্থ্য ছাগলকে এক স্থান হতে অন্য স্থানে চলাচল করানো যাবে না।
৭. সুস্থ্য ছাগলকে নিয়মিত (১ বছর পর পর) এ্যানথ্রাক্স রোগের টিকা প্রদান করতে হবে।

এন্টারোটক্সিমিয়া
ক্লোস্ট্রিডিয়াম প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট টক্সিন দ্বারা এন্টারোটক্সিমিয়া রোগ দেখা দেয়। পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্যবস্তু এ রোগ সৃষ্টিতে ভ‚মিকা রাখে। এ রোগে আক্রান্ত ছাগল শরীরের ভার বহন করতে পারে না, চারণ-ভ‚মিতে হাটতে হাটতে কাপঁতে থাকে, খিঁচুনি দেখা যায়, মুখ দিয়ে লালা ঝরে. পেট ফুলে উঠে, ডায়রিয়া হয়। তীব্র প্রকৃতির রোগে হঠাৎ কাপুনি দিয়ে মারা যায়। রোগ লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে দেরী না করে একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টারোটক্সিমিয়া আক্রান্ত ছাগলকে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য ছাগলকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন স্থানে রাখতে হবে এবং বিশুদ্ধ খাবার ও পানি প্রদান করতে হবে।

ক্ষুরারোগ
ক্ষুরারোগ ছাগলের একটি ছোঁয়াচে সংক্রামক রোগ। এ রোগে মৃত্যুর হার কম হলেও উৎপাদন মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ রোগে আক্রান্ত ছাগীর দুধ উৎপাদন কমে যায়, গর্ভবতী ছাগীর গভর্পাত হয়, শরীরে কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে, মুখ হতে লালা ঝরে, মুখের ভিতরের পর্দায়, জিহŸায়, দাঁতের মাড়িতে, ক্ষুরের ফাঁকে এমনকি ওলানে ফোস্কা পড়ে। মুখে ঘায়ের কারণে ছাগল খেতে পারে না, ফলে দূর্বল হয়ে পড়ে। ক্ষুরে ঘা হওয়ায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটে। আক্রান্ত ক্ষতে মাছি ডিম পাড়লে পোকা হতে পারে। বাচ্চা ছাগলে এ রোগ হলে হার্ট আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
এ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্ত ছাগলকে পৃথক করে সাপোর্টিভ চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। কুসুম গরম পানিতে ফিটকিরি বা পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট গুলে মুখের ও পায়ের ঘা ভালভাবে পরিস্কার করতে হবে। ছাগলের ঘর ২% আয়োসান বা অন্যান্য ডিসইনফেকট্যান্ট দ্বারা পরিস্কার করতে হবে। রোগাক্রান্ত ছাগলের মল মূত্র, বিছানা ও ব্যবহৃত উচ্ছিষ্ট খাদ্যদ্রব্য মাটিতে পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। মৃত ছাগলকে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। কোন অবস্থাতেই মৃত ছাগলের চামড়া ছাড়ানো যাবে না এবং পথে ঘাটে ফেলা যাবে না। অসুস্থ্য ছাগলকে স্থানান্তর করা যাবে না এবং বাজারে বিক্রি করা যাবে না।

পিপিআর
পিপিআর ছাগলের ভাইরাসজনিত একটি মারাত্বক রোগ। এ রোগের জীবাণু ছাগলের দেহে প্রবেশের ৪-৫ দিন পর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। দ্রæত চিকিৎসা না করালে ছাগল মারা যেতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত ছাগলের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, নাক দিয়ে শ্লেষ্মা ঝরে এবং নাকের ভিতরে শ্লেষ্মা জমে যায়, পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া দেখা দেয়, জিহবা, দাঁতের মাড়ি, মাজল ও মুখের ভিতর ঘা হয়, মলের রং গাঢ় বাদামী হয় এবং মলের সাথে মাঝে মাঝে রক্ত মিশানো মিউকাস আসে। শ্বাস কষ্ট, কাশি প্রভৃতি নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। চিকিৎসায় বিলম্ব হলে ৫-১০ দিনের মধ্যে ছাগল মারা যায়। একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী পিপিআর আক্রান্ত ছাগলকে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিষেধক টিকা ব্যবহার করা প্রয়োজন । বাচ্চার ৪ মাস বয়সে টিকা প্রদান করতে হয়। অনেক সময় ঝুঁকি এড়াতে বাচ্চার ২ মাস বয়সে টিকা দেওয়া হলে পুনরায় ৪ মাস বয়সে বুষ্টার ডোজ দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। একবার টিকা দিলে ১ বছর পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে।

একথাইমা/ঠোঁটের ক্ষত রোগ
কন্টাজিয়াস একথাইমা হচ্ছে ছাগলের একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এ রোগে আক্রান্ত ছাগলের নাক ও মুখের চারদিকে ফুসকুড়ি হয়। ঠোঁট ও মাড়িতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ক্ষতের উপর মরা চামড়ার আবরণ থাকে যা সরিয়ে দিলে লাল ক্ষত দেখা যায়। ক্ষতের জন্য ঠোঁট ফুলে যায়। অনেক সময় চোখ, ওলান, মলদ্বার ও পায়ের খুরের উপরের চামড়ায় ফুঁসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। ফোস্কা ফেটে তরল আঠাল পদার্থ ঝরতে থাকে এবং প্রদাহ হয়। অনেক সময় এই ক্ষত অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়ে রোগ জটিল আকার ধারণ করে। একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী কন্টাজিয়াস একথাইমা আক্রান্ত ছাগলকে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে । আক্রান্ত ক্ষত ফিটকিরি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত স্থানে মিথাইল বøু বা ক্রিষ্টাল ভায়োলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য ছাগল ছানার ১-২ দিন বয়সে ১ম ডোজ, ১০-১৪ দিন বয়সে ২য় ডোজ এবং ৩ মাস পর ৩য় ডোজ প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

গোটপক্স
গোট হচ্ছে ছাগলের একটি অন্যতম মারাত্বক ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে সংক্রামক রোগ। এ রোগে আক্রান্ত ছাগলের জ্বর হয়। চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়ে, মুখ দিয়ে লালা ঝরে। আক্রান্ত ছাগলের সারা শরীরে ফোস্কা পড়ে। সাধারণত মুখের চারপাশে, নাকে, মাজলে, মুখের ভিতরে দাঁতের মাড়িতে, কানে, গলায়, ওলানে ও বাঁটে পশম কম এমন জায়গায় বসন্তের গুটি বা ফোস্কা দেখা যায়। বসন্ত রোগ দেখা দিলে একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী বসস্ত আক্রান্ত ছাগলকে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। আক্রান্ত ক্ষতে এন্টিবায়োটিক পাউডার বা কর্টিসোন ক্রিম লাগানো যেতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে অসুস্থ্য ছাগলকে পাল থেকে আলাদা করে ফেলতে হবে। সুস্থ্য ছাগলকে গোট পক্স টিকা প্রদান করতে হবে।

জীব-নিরাপত্তা
খামার এলাকার বেড়া বা নিরাপত্তা বেষ্টনী এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে সেখানে অনাকাঙ্খিত ব্যক্তি, শেয়াল-কুকুর ও অন্যান্য বণ্যপ্রাণি প্রবেশ করতে না পারে। প্রবেশ পথে ফুটবাথ বা পা ধোঁয়ার জন্য ছোট চৌ-বাচ্চায় জীবাণুনাশক মেশানো পানি রাখতে হবে। খামারে প্রবেশের আগে খামারে গমনকারী তার জুতা পরিবর্তন করে পা ডুবিয়ে জীবাণুমুক্ত করে খামার সংরক্ষিত জুতা পরবেন। খামারের জন্য সংগৃহীত নতুন ছাগল সরাসরি খামারে পূর্বে বিদ্যমান ছাগলের সাথে রাখা যাবে না। নতুন আনীত ছাগলকে স্বতন্ত্র ঘরে সাময়িক ভাবে পালনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ধরনের ঘরকে সংনিরোধ ঘর বা কোয়ারেন্টাইন বলে । অন্ততঃ দুই সপ্তাহ এই শেডে রাখা বিশেষ জরুরী। এসব ছাগলের জন্য প্রাথমিক কিছু চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রথমে এদেরকে কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে। এজন্য বহিঃপরজীবি এবং অন্তঃপরজীবীর জন্য কার্যকর কৃমিনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
চর্মরোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিটি ছাগলকে (০.৫%- শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) ম্যালাথিয়ন দ্রবণে গোসল করাতে হবে। কোয়ারেন্টাইন শেডে ছাগল রাখার পর ১৫ দিনের মধ্যে যদি কোনো রোগ না দেখা দেয় তাহলে প্রথমে পিপিআর রোগের ভ্যাকসিন এবং সাত দিন পর গোটপক্সের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে। শেষ টিকা প্রদানের সাত দিন পর এসব ছাগলকে মূল খামারে নেয়া যেতে পারে।
প্রতিদিন সকাল এবং বিকালে ছাগলের ঘর পরিষ্কার করতে হবে। কোনো ছাগল যদি অসুস্থ হয় তাহলে তাকে আলাদা করে আইসোলেশন শেডে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি কোনো ছাগল মারা যায় তবে অবশ্যই তার কারণ সনাক্ত করতে হবে। ল্যাবরেটরিতে রোগ নির্ণয়ের পর তদানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিশেষ ক করে অন্যান্য ছাগলের জন্য নিতে হবে। মৃত ছাগলকে খামার থেকে দূরে নিয়ে মাটির গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে। রোগাক্রান্ত ছাগলের ব্যবহার্য সকল সরঞ্জামাদি ও দ্রব্যাদি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
























