অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পোল্ট্রি খামার

ভুমিকাঃ পৃথিবীর উন্নয়শীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।দেশে শিল্পায়ন হওয়ার ফলে, মানুষের কর্মের বিস্তার ঘটেছে এবং আয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মজীবি মানুষের সময়ের স্বল্পতার কারনে তাহারা নিরাপদ সহজপ্রাপ্য ও স্বল্প মুল্যের খাদ্য গ্রহনের উপর নির্ভর করে। পোল্ট্রি পন্য যথা ডিম ও মাংস সহজলভ্য, দামেও কম। তাই বর্তমান যুগের মানুষ নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত প্রচুর প্রোটিন যুক্ত এবং স্বল্প মূল্যের কারনে পোল্ট্রি ফার্মের উৎপাদিত ডিম ও মাংস নিয়মিত খাদ্য হিসাবে গ্রহন করেছে।
বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় জনসংখ্যা বহুল দেশ হওয়ার কারনে স্থানীয় বাজারে পোল্ট্রি পন্য এবং ডেইরী পন্যের চাহিদা ব্যাপক। চাহিদার তুলনায় স্থানীয় কৃষক বা উৎপাদন কারীরা খুবই স্বল্প পরিমানে পোল্ট্রি এবং ডেইরী পন্যের যোগান দিতে পারে। মোট চাহিদার তুলনায় এ যোগান অপ্রতুল। এশিয়ার সর্ব দক্ষিনের এবং নদী মাতৃক দেশ হওয়ার কারনে এক সময় স্থানীয় অধিবাসীদের চাহিদানুযায়ী প্রচুর সবজি এবং মাছের যোগান পাওয়া যেত। গত ১০/১২ বৎসর যাবৎ পরিবেশের বিরুপ প্রভাবের ফলে মৎস সম্পদ এবং বন্যার ফলে প্রতি বৎসর প্রচুর সংখ্যক গরু, ছাগল, ভেড়া, হাস, মুরগী সহ বহু পশু-পাখী মারা যায়। ইহাতে আমাদের স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত এনিমেল প্রোটিনের ঘাটতি ব্যাপক ভাবে পরিলক্ষিত হয়।
বর্তমানে জাতীয় সমস্যা সমূহের মধ্যে অপুষ্টি সমস্যা অন্যতম। এ সমস্যা দেশের জাতীয় অর্থনীতি ও সমাজ বিকাশের পথে এক মারাতœক অন্তরায়। পুষ্টি জরিপে দেখা যায়, পুষ্টিহীনতা আমাদের জাতীয় অগ্রগতিতে বিরাট বাঁধার সৃষ্টি করছে। আমিষ দেহ গঠনের প্রধান উপকরণ। দেহের বাড়ন্ত অবস্থায় এর প্রয়োজন সবচেয়ে বেশী। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকের দৈনিক খাদ্যে আমিষ জাতীয় খাদ্যের বেশ অভাব রয়েছে। সে অভাব পূরণকল্পে অন্যান্য আমিষ জাতীয় খাদ্যের মধ্যে পোল্ট্রি শিল্পের উৎপাদিত পন্য যথা ঃ মাংস ও ডিম উলেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। পুষ্টিকর খাদ্যের মধ্যে ডিম সবচেয়ে উন্নত মানের। আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে যে সমস্ত খাদ্য উপাদানের প্রয়োজন তার প্রায় সবকটিই এতে বিদ্যমান। মুরগির মাংসও অন্য সমস্ত জীবজন্তুর মাংস থেকে বলকারক। এতে আমিষ, খনিজ ও খাদ্যপ্রাণ জাতীয় খাদ্য উপাদান প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডঐঙ এর মতামত অনুযায়ী একজন মানুষের দৈনিক প্রেটিনের চাহিদানুযায়ী প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ এবং একটি ডিম খাদ্য তালিকায় রাখা জরুরী। ইহা আমাদের দেশে আরও বেশী জরুরী। কিন্তু উৎপাদনের ঘাটতি এবং সকলের ক্রয়ক্ষমতা না থাকায় এনিমেল প্রোটিনের চাহিদা মিটানো সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাবে নিকট ভবিষ্যতে মানুষের আয় বাড়লে চাহিদা বাড়বে এবং চাহিদানুযায়ী এনিমেল প্রোটিনের যোগান অবশ্যই স্থানীয় ভাবে ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় মুক্ত বাজার অর্থনীতির ফাকে এনিমেল প্রোটিন আমদানীর জন্য প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যায় হয়ে যাবে। দেশের মানুষের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার প্রয়োজনের গুরুত্ব বিবেচনায় এনে অবশ্যই ব্যাপক হারে প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
সরকারী নীতি
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অত্যান্ত আন্তরিক ভাবে প্রাণিজ প্রোটিনের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাপক ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে আস্ছে। সরকারের সবরকম চেষ্টা ও সহযোগীতার ফলে দেশের কিছু কিছু সাধারন কৃষকদের দিয়ে পোল্ট্রি এবং ডেইরী শিল্পের ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে এর উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা করে আস্ছে। কিন্তু স্থানীয় কৃষকদের এ সর্ম্পকৃত বিজ্ঞান ভিত্তিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষন না থাকায় সরকারের সব রকম প্রচেষ্টা বিফল হয়ে দেশের প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে স্থানীয় চাহিদার উপড় ভিত্তি করে সরকারী এবং বে-সরকারী ভাবে পোল্ট্রি এবং ডেইরী শিল্প স্থাপনের সুবিধার জন্য অনেক ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। ডেইরী এবং পোল্ট্রি শিল্প রক্ষা, ইহার মান উন্নয়ন এবং ব্যাপক প্রসারের গুরুত্বের কথা বিবেচনায় এনে সরকারী ভাবে “প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয়” গঠন করা হয়। সরকারী নির্দেশ এবং ব্যবসায়ীক মুনাফার আশায় সরকারী ও বে-সরকারী ব্যাংকগুলো-এ সেক্টরে ব্যাপক ভাবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। ইহা অত্যান্ত দুঃখের বিষয় যে সরকারের উদার নীতি এবং ব্যাংক গুলোর ঋণ বিতরণ নীতি সহজ হওয়ার পরও পোল্ট্রি এবং ডেইরী সেক্টরে তেমন কোন উন্নতি হয় নাই। কারন কৃষিকাজ এবং কৃষির সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য পেশা সমুহকে স্থানীয় কিছু মানুষ এখনো ভিন্ন দৃষ্টিতে বিচার করে থাকে। তাহারা কৃষকদেরকে নিæশ্রেনী বা নিæ আয়ের মানুষ হিসাবে বিবেচনা করে থাকে।
অপর দিকে আনন্দের বিষয় এই যে, কিছু ব্যাবসায়ী বিদেশী প্রযুক্তি এবং মেশিনারিজ ব্যবহার করে পোল্ট্রি হ্যাচারী শিল্পের ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছেন। ৮/১০ বৎসর আগেও যেখানে বাচ্চা এবং বাচ্চা ফোটানোর ডিম বিদেশ থেকে আমদানী করতে হত ফলে একটি বয়লার বাচ্চার মূল্য ছিল ৩০/৩৫ টাকা এবং লেয়ার বাচ্চা ২৫/৩০ টাকা, বর্তমানে আমাদের দেশে বিদেশী পরিবেশ নিয়ন্ত্রীত শেড এবং বিদেশী প্রযুক্তি ব্যাবহার করে প্যারেন্ট স্টক হতে হ্যাচিং ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে একদিন বয়সের বয়লার এবং লেয়ার বাচ্চার উৎপাদন করা হয়, ফলে বর্তমানে বাজারে একটি ব্রয়লার বাচ্চার দাম ৩০/৩৫ টাকা এবং লেয়ার বাচ্চার দাম ৪০/৫০ টাকায় সহজেই পাওয়া যায়। ইহা সরকারের উদার নীতি এবং পোল্ট্রি ও ডেইরী শিল্পের মেশিনারী আমাদানীর ট্যাক্স, ভ্যাট, ইত্যাদি মওকুফের সু-ফল।
সরবরাহ ও স¤প্রসারণ
শহর ও পলী এলাকার বাণিজ্যিক পোল্ট্রি শিল্পে একদিন বয়সী বাচ্চা ও সুষম খাদ্য সরবরাহ করার লক্ষ্যে আধুনিক হ্যাচারি ও উন্নতমানের ফিড মিল স্থাপন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে যেসব সমস্যা মুখ্য তা হচ্ছে যেসব উন্নতমানের ব্রীড বাইরে থেকে এনে বাচ্চা ফোটানো হয় তা সবটুকু চাহিদা মেটাতে পারে না। এই ঘাটতি পূরণে কিছু কিছু হ্যাচারি নিম্নমানের ডিম আমদানি করে বাচ্চা ফুটিয়ে সরবরাহ করে। ফলে নিম্নমানের বাচ্চা উৎপাদনের ঝুঁকি থেকে যায়। অন্যদিকে ফিড মিলগুলোর জন্য শতকরা ৮০ ভাগ খাদ্য উপাদানই আমদানি করতে হয়। যার পিছনে ব্যয় হয়ে যায় অনেকখানি। ছোট ছোট ফিডমিলগুলো খরচ বাঁচাতে নিম্নমানের দেশী অথবা কমদামের আমদানিকৃত খাদ্য উপাদান ব্যবহার করে। এতে স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। একটি পরিসংখ্যা অনুযায়ী ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে (৩১ হ্যাচারি থেকে) একদিন বয়সী ৩৯.৫ মিলিয়ন বাচ্চা উৎপাদিত হয়েছে ২০০০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে (৪২টি হ্যাচারি থেকে) ১০৬ মিলিয়ন। ২০০৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পোল্ট্রি হ্যাচারী শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হলেও, পোল্ট্রি মাংস ও ডিম উৎপাদন শিল্পের তেমন কোন উন্নতি হয় নাই বা তেমন কোন উন্নত প্রযুক্তি ব্যাবহার করে স্থানীয় চাহিদা বিত্তিক যুকিমুক্ত কোন পোল্ট্রি পন্য উৎপাদন শিল্প গড়ে উঠে নাই। ইহাতে আমাদের নিকট ভবিষ্যতে হ্যাচারি শিল্পের কনজুমার কমে গিয়ে হ্যাচারি শিল্পকে ধংসের দিকে নিয়ে যাবে ও স্থানীয় চাহিদা মিটানের লক্ষ্যে প্রানিজ প্রোটিন আমদানী নির্ভর হয়ে পড়বে।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের পোল্ট্রি
ভারত, নেপাল এবং চীনের মাঝখানে ১,৪০,০০০ বর্গকিলোমিটার বিশিষ্ট ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশ। যেখানে ১৪০ মিলিয়ন জনগণের শতকরা ৮০ ভাগই গ্রামে বাস করে এবং তারা চরম দারিদ্রের শিকার। এমন একটি দেশ সরকারি ও বেসরকারি উভয় মহলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে পোল্ট্রি আজ শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ পর্যায়ে পোল্ট্রি পালনের বিষয়ে জনগণকে উৎসাহিত করে আসছে। ব্র্যাক এর একটি বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি মানুষ পোল্ট্রি পালনের সঙ্গে জড়িত। তবে এদেশে এখনও পোল্ট্রি শিল্পে বড় বাধা হচ্ছে পোল্ট্রির মড়ক। অনুন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা, অবহেলিত খামার ব্যবস্থাপনা এবং দুর্বল ভ্যাকসিনেশন পদ্ধতি অনুসরণের ফলে খামারগুলোর শতকরা ২৫ ভাগ মড়কের শিকার হয়ে থাকে। অবশ্য বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ এসব ঘাটতি দূরীকরণের লক্ষ্যে ব্রিডিং ফার্ম এবং হ্যাচারি অপারেশন, ফিড মিল ও ফিড এনালাইসিস, ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনোস্টিক সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে খামারীদের প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করছে। বাণিজ্যিক পোল্ট্রি পালনকারীরা একদিন বয়সী বাচ্চা ক্রয় করে দুই মাস পালন করার পর খামারদের কাছে বিক্রি করে। লেয়ার খামারীরা এসব বাচ্চা (পুলেট) ডিম উৎপাদনের জন্য পালন করে। অন্যদিকে ব্রয়লার খামারীরা একদিন বয়সী বাচ্চা ক্রয় করে ছয় সপ্তাহ পালন করার পর বাজারে বিক্রি করে। এভাবে ডিম উৎপাদনকারীরা গড়ে মাসে ১২ মার্কিন ডলার ও ব্রয়লার উৎপাদনকারীরা ৫০ মার্কিন ডলার আয় করে। ইতোমধ্যে যাঁরা ফিড ও ডিম বিক্রেতা হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছেন তাঁরাও বেশ ভালোই আয় করছেন। গত ২০ বছরে পোল্ট্রি বাংলাদেশে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করেছে।
বায়োসিকিউরিটি
বানিজ্যিক ভাবে পোল্ট্রি শিল্প স্থাপনের পূর্বে উদ্যোক্তাগন অবশ্যই স্থাপিত ফার্মটিতে বায়োসিকিউরিটি সম্পর্কে নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপনের বেলায় এটা মনে রাখতে হবে যে, “ চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযবহ ঈঁৎব”
বায়োসিকিউরিটি যা বায়োস ও সিকিউরিটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। বায়োস অর্থ জীবন আর সিকিউরিটি অর্থ নিরাপত্তা। বায়োসিকিউরিটি হল কতিপয় ব্যবস্থাপনা কৌশল যা কোন নির্দিষ্ট এলাকার ভিতরে বা আশে পাশে রোগ সৃষ্টিকারী জীবানুর অনুপ্রবেশ ও বিস্তার নিয়ন্ত্রন করে বা কমিয়ে দেয়। ঐ এলাকায় রোগ জীবানু বিনাশ করা বা তার সংখ্যা কমিয়ে সংক্রমন মুক্ত করার জন্য বায়োসিকিউরিটির সংগে আর যে বিষয় গুলো বিবেচনায় আনা হয় তা হলোঃ
ক্স রোগ-জীবানু মুক্ত করন।
ক্স স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থার উৎকর্ষ সাধন।
ক্স কার্যকর টিকা ও সঠিক চিকিৎসা প্রদান।
ক্স সঠিক পুষ্টিমান সম্পন্ন ও টাটকা খাদ্য প্রদান।
ক্স সঠিক পরিচর্জা প্রদান।
একটি খামারকে লাভজনক ও বিপদমুক্ত রাখতে হলে অবশ্যই বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা নিতে হবে। বায়োসিকিউরিটি বাবদ যে পরিমান অর্থ ব্যয় হবে উহাকে অহেতুক ভাবা একদম ঠিক হবে না বরং এটা খামারকে বিপদমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে ও অধিক লাভজনক করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বলে বিবেচনা করতে হবে।
বায়োসিকিউরিটির প্রভাবক করন সমূহ (ঋধপঃড়ৎ ওহভষঁবহপরহম ইড়রংব ঝবপঁৎরঃু) ঃ- বিভিন্ন কারনে ফার্মে অবস্থানরত মুরগীর দেহে রোগের সংক্রমন ঘটতে পারে ও বিবিধ উপায়ে তা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন পোল্ট্রির ক্ষেত্রে ঃ-
ক্স বন্য প্রাণী, ইদুর ও ছুচোর মাধ্যমে।
ক্স মশা-মাছি, তেলাপোকা ও অন্যান্য পোকা-মাকরসার মাধ্যমে।
ক্স মুরগীর অ-পরিচ্ছন্ন বিষ্টার মাধ্যমে।
ক্স উন্মুক্ত সূর্য-রশ্মির মাধ্যমে।
ক্স লোকজনের খামারে যথেচ্ছ প্রবেশের মাধ্যমে ।
ক্স মান নিয়ন্ত্রন হীন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে।
ক্স ফার্মে ব্যবহৃত অ-পরিশোধিত পানির মাধ্যমে।
ক্স কুকুর, বিড়াল বা শিয়াল জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে।
উপড়ের সবগুলো কারনেই একটি পোল্ট্রি ফার্মে বায়োসিকিউরিটি কর্মসুচী পালনের পরিকল্পনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করায়। পোল্ট্রি অধ্যুষিত এলাকায় এক ফার্ম থেকে অন্য ফার্ম অনেক দূরে স্থাপন করা উচিত। নিরাপদ কোলাহল মুক্ত লোকালয়ের বাহিরে নীরব পরিবেশে ফার্ম স্থাপন করতে হবে। সম্বব হলে বড় রাস্তা থেকে দূরে ফার্ম স্থাপন করা উচিত। কারন এ ধরনের রাস্তা দিয়ে শব্দ সৃষ্টিকারী যানবাহন ও অন্যান্য ফার্মের মুরগী বা ডিম বহন কারী যানবাহন চলাচল করে ও রোগ জীবানু ছড়ায়।
ফার্মের বিভিন্ন ধরনের ময়লা আবর্জনা ও ব্যবহৃত লিটার সময়মত যথাসম্ভব ফার্ম থেকে দূরে ফেলার ব্যবস্থা থাকতে হবে বা শুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা শুকানো লিটার জৈবসার হিসাবে জমিতে ব্যবহার করতে হবে। শেডের ভিতরে ও বাইরের মেঝে, দেয়াল ও রাস্তা এমন ধরনের বস্তুদিয়ে নির্মাণ করতে হবে যাতে করে সহজে পরিস্কার ও জীবানু মুক্ত করা যায়। জীবানু মুক্ত করার জন্য নিয়মিত ভাবে শক্তিশালী ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া নাশক সিডইনফ্যানটেন্ট (জীবানু নাশক) ব্যবহার করতে হবে যা জৈব পদার্থের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।
কার্যকরী পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও রোগ জীবানু মুক্তকরন প্রক্রিয়া ফার্মে রোগের আক্রমনের হার কমিয়ে দেয়, বায়োসিকিউরিটি ফার্মে আক্রমনের হার নিয়ন্ত্রন করে এবং বায়োসিকিরিটি কার্যক্রমকে অধিক ফলপ্রসু করে। ফার্মের সকল ঘড়-বাড়ী, শেড, যন্ত্রপাতি ও সম্পূর্ণ ফার্ম এলাকা নিয়মিত ভাবে পরিস্কার ও জীবানুমুক্ত রাখা উচিত। ফার্মে সব সময় পরিষ্কার জীবানু মুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে উক্ত পানির রোগ জীবনুর সংখ্যা নিরুপন করিয়ে নিতে হবে। পানির ট্যাংকের উপর সার্বক্ষনিক ঢাকনার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যবহৃত পানি অবশ্যই জীবানু মুক্ত হতে হবে। খাদ্য রাখার পাত্র ও সরবরাহ সামগ্রীও পরিস্কার রাখতে হবে। ফার্মে সরবরাহকৃত খাদ্য বা উপকরন সমূহের জন্য ব্যবহৃত গুদামও সাস্থ্য সম্মত হতে হবে।
বায়োসিকিউরিটির উলেখিত ধাপগুলো নিয়মিত ভাবে পর্যবেক্ষন ও অনুশীলন করতে হবে। উৎপাদনকারী সংস্থা বা কোম্পানীর নির্দেশ মোতাবেক শুধুমাত্র পরীক্ষিত ব্রডস্পেকট্রাম বায়োসিকিউরিটি সামগ্রী ব্যাবহার করা উচিত।
ফার্মের বায়োসিকিউরিটির চেক লিষ্ট ঃ
ক্স পরিবেশ নিয়ন্ত্রীত হাউজিং সিষ্টেমের ব্যবহার।
ক্স পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করন।
ক্স পর্যাপ্ত পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করন।
ক্স ভেন্টিলেশন সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে শেডের পরিবেশ নিয়ন্ত্রন।
ক্স তাপনিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে শেডের তাপমাত্রা ঠিক রাখা।
ক্স যথাযথ ভাবে আলোর নিয়ন্ত্রন নিশ্চিত করন।
ক্স পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও টাটকা খাবার পরিবেশন।
ক্স উন্নত মানের খাচার ব্যবহার, যাতে মুরগীর বিষ্টা আটকাবে না।
ক্স মুরগীর পরিত্যাক্ত বিষ্টা সঠিক ভাবে পরিস্কার করা, সপ্তাহে কমপক্ষে ৭ বার।
ক্স সর্বাধিক উৎপাদনের দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করন।
ক্স নিয়মিত প্রতি বেচের রক্ত পরীক্ষা করা।
ক্স ধকল প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা।
ক্স সঠিক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা।
ক্স পরজীবি ও ইদুর, ছুচো নিয়ন্ত্রন করা।
ক্স মৃত মুরগীর স্বাস্থ্য সম্মত সৎকার করা।
ক্স ফার্ম পরিচালনায় ব্যাক্তি বর্গের যথাযথ প্রশিক্ষন।
একটি ফার্মকে লাভজনক ও যুকিমুক্ত করতে হলে বায়োসিকিউরিটি নিরাপত্তা অবশ্যই গ্রহন করতে হবে। আমাদের দেশে ব্যবহৃত পোল্ট্রি ফার্মের নির্মাণ সামগ্রী, যথা- টিন, কাঠ, বাশ, পলিথিন, চট, খাদ্যের পাত্র, পানির পাত্র, আশে পাশের উন্মুক্ত পরিবেশ ও সর্বপরি বস্তাবন্দি খাবার কতটুকু নিরাপদ উহা বিবেচনায় আনা দরকার।
এইজন্য আমাদের নির্মাণাধীন পোল্ট্রি ফার্মকে সম্পূর্ণভাবে বায়োসিকিউরিটির নিয়ন্ত্রনে রেখে সহজে পরিচালনার জন্য নিরাপদ স্থানে ফার্ম স্থাপন ও নিরাপদ টেকনোলজী এবং নিরাপদ যন্ত্রপাতী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উৎপাদনের ত্রিধারা
বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পকে মোট তিনটি ধারায় ভাগ করা যেতে পারে। প্রথমতঃ সনাতন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একেবারে গ্রামীন পর্যায়ে দেশী জাতের দেশী মুরগি উৎপাদন ও পালন করা হয়। এই পদ্ধতিতে উৎপাদনশীলতা খুব কম তবে উৎপাদন খরচ একেবারে নেই বললেই চলে। এইসব মুরগি কেবলমাত্র গ্রামের একটি নির্দিষ্ট এলাকার পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে ও কিছুটা অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে থাকে। দ্বিতীয়তঃ আধাথ-সনাতন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে দেশী জাতের সঙ্গে উন্নত জাতের মুরগি উৎপাদন করা হয়। এ পদ্ধতিতে মুরগির ঘরবাড়ি, খাদ্য, ঔষধ, রোগ-ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি খাতে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ থেকে আয় হয় মোটামুটি। তৃতীয়তঃ সম্পূর্ণ আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। এটি হচ্ছে এমন একটি উন্নত পদ্ধতি যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে উন্নতজাতের মুরগি ও ডিম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করা হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, জেনেটিক্যাল উন্নতজাতের বাচ্চা, সুষম খাদ্য, ভ্যাকসিন, ঔষধ ও অন্যান্য আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয় বলে এই ধারার উৎপাদন পদ্ধতি যথেষ্ট ব্যয়বহুল। এজন্য মুনাফার মাত্রাও এক্ষেত্রে বেশি। পণ্য বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ চ্যানেল যতো বেশি জোরদার করাযাবে তাতে বেশি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পোল্ট্রি পালন লাভজনক হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অবশ্য কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে তা শুধু বাণিজ্যিক পোল্ট্রির ক্ষেত্রেই নয়, গ্রামীণ পোল্ট্রির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তবে খুব শীগগিরই এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।
স্থানীয় সিষ্টেম সমূহ
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ইউরোপ, আমেরিকাতে মানুষের উন্নত জীবন যাপন এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহনের কথা বিবেচনায় এনে ডেইরী এবং পোল্ট্রি শিল্পের উন্নতি সাধনের জন্য লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করে। সে যুগে বিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহার তেমন ছিল না। সেই উনবিংশ শতাব্দীতে যে সমস্ত প্রযুক্তি ব্যাবহার করে ইউরোপ আমেরিকার কৃষকগণ ডেইরী ও পোল্ট্রি শিল্প উন্নয়নে চেষ্টায় নিযুক্ত ছিল বর্তমানে আমাদের দেশের পোল্ট্রি এবং ডেইরী শিল্পের কৃষকগণ তাদের পরিত্যাক্ত প্রযুক্তি সমূহ ব্যবহার করে এ ব্যাবসায়ে কোনমতে টিকে আছে। পৃথিবীর উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশ সমূহে উলেখিত সিষ্টেম সমূহ বহু বছর পূর্বেই পরিত্যাক্ত হয়েছে।
স্থানীয় ভাবে ব্যাবহৃত সিষ্টেমঃ যথা- (ক) ডিপ লিটার পদ্ধত্তি (খ) পিরামিড টাইপ খাচা পদ্ধত্তি।
ডিপ লিটার ও দেশীয় খাচা পদ্ধতিতে পারিচালিত ফার্ম সমূহে কোন প্রকার বায়োসিকিউরিটি থাকে না।
ক) ডিপ লিটার পদ্ধত্তি ঃ
ক্স উপড়ে টিনের চালা, মেঝে কাঁচা বা ইট বিছানো, চারিদিকে তারের তৈরী জাল ও প্লাষ্টিক বা চটের পর্দা।
ক্স মেঝে শুকনো রাখার জন্য কাঠের গুড়া বা ধানের খোসা ব্যবহার করা হয়।
ক্স প্লাষ্টিক পাত্রে খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়।
ক্স চিক গার্ড স্থাপন করে সর্বোচ্চ ৫০০ শত বাচ্চাকে ব্র“ডিং করতে হয়।
ক্স অধিক পাওয়ারের বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করে বাচ্চাকে ব্র“ডিং এবং আলোর ব্যবস্থা করতে হয়।
ক্স এই পদ্ধত্তিতে একটি শেডে ৫০০ হতে সর্বোচ্চ ২৫০০ শত মুরগী পালন করা যায়।
ক্স সাধারনত ছোট খামারীগণ এই পদ্ধতি ব্যবহার করে মুরগী লালন পালন করে থাকে।
ডিপ লিটার পদ্ধত্ততিতে লেয়ার ফার্ম পরিচালনা করা অত্যান্ত কষ্টকর ও ব্যায় সাপেক্ষ। ইহাতে বায়োসকিউরিটির কোন সুত্র/পদ্ধত্তিই রক্ষা করা সম্ভব হয় না। ফলে অধিক সংখ্যক লেয়ার বার্ডস পালনে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ ঝুকি পূর্ণ। অসুবিধাসমূহ নিন্মে উলেখ করা হলো ঃ-
ক্স নির্মিত শেডের উপকরনাধী জিবানু মুক্ত থাকে না এবং শেড সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে।
ক্স রোগ-জীবানু দ্বারা সহজেই মুরগী আক্রান্ত হয়।
ক্স তাপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা না থাকায় মুরগী সহজেই হিট ষ্ট্রোক / ঠান্ডায় মারা যায়।
ক্স মুরগীর বিষ্টা পরিস্কার করা হয় উৎপাদন শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ ৮০ সপ্তাহ পর।
ক্স লিটার হিসাবে ব্যবহৃত কাঠের গুড়া বা ধানের খোসা জীবানু মুক্ত থাকে না বা করা হয় না।
ক্স মুরগীর টিকা ও ঔষধ প্রয়োগ কষ্টকর ও ব্যয় সাপেক্ষ।
ক্স উন্মুক্ত স্থানে ডিম দেয়, ডিম মুরগীর নাগালের মধ্যে থাকে, ফলে অনেক সময় ডিম ভেংগে যায়।
ক্স উন্মুক্ত প্লাষ্টিক পাত্রে খাবার পরিবেশনের ফলে ০-৮০ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত ৫৬০ দিনে প্রায় ৫ কেজি খাবার নষ্ট করে ফেলে, যার মূল্য প্রায় ১৫০ টাকা।
ক্স উন্মুক্ত প্লাষ্টিক পাত্রে খাবার পানি ও ঔষধ মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়। প্লাষ্টিক পাত্রের পানি ধারন ক্ষমতা পাঁচ লিটার। প্রতি ৮/১০ টি মুরগী ২৪ ঘন্টায় ২ লিটার পানি পান করে এবং ২৪ ঘন্টা পর পানি পরিবর্তন করে দিতে হয় ফলে একটি মুরগীর জন্য ঐষধ ও পানি বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ১০০ টাকা খরচ হয়।
ক্স পরিত্যাক্ত বিষ্টা পচে যায়, ফলে এমোনিয়া ও অন্যান্য গ্যাস তৈরী হয়ে শেডে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, মুরগীর চোখ জালাপোড়া করে এবং শাষ কষ্টে মুরগী মারা যায়।
ক্স শেডে টিন ব্যবহারের ফলে রোদের সময় তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে খাওয়া কমে যায়, প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়না, ডিমের আকার ছোট হয়ে যায়, ডিমের খোসার মান খারাপ হয়, ডিম উৎপাদন কমে যায়।
ক্স ডিম উৎপাদন সংখ্যা ৭২ সপ্তাহ বয়সে ২৫০-২৬০ টি।
ক্স এ-প্রযুক্তিতে ডিমের উৎপাদন প্রায় ৫০টি কম হয় যাহার মূল্য ৬.৫০ টাকা হারে ৩২৫.০০ টাকা
ক্স মর্টালিটির হার সর্ব নিæ ১৫-২০%
ক্স প্রতি বৎসর খাবার পাত্র ও পানির পাত্র পরিবর্তন করতে হয় ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়।
ক্স ডিপলিটার পদ্ধতিতে প্রতি বৎসর ফার্মে বিপুল পরিমান কাঠের গুড়া বা ধানের খোসার প্রয়োজন হবে।
ক্স একই সাথে ৫০০ হতে ২৫০০ বেশী মুরগী লালন পালন কষ্টকর ও যুকি পূর্ণ।
ক্স একটি লেয়ার মুরগীর জন্য জায়গার প্রয়োজন প্রায় ১.২০ বর্গফুট।
ক্স প্রতি ১০০০ মুরগী লালন পালনের জন্য ১জন অভিজ্ঞ কর্মচারীর প্রয়োজন।
মুরগী পালনে নিæ বর্ণিত আয় কমে গিয়ে উৎপাদন মূল্য বেড়ে যাবে ঃ-
ক্রমিক নং বিবরণ একক মূল্য (টাকা) মোট মূল্য (টাকা)
১। একটি মুরগী ৫ কেজি খাবার নষ্ট করবে। ৫ ৩০.০০ ১৫০.০০
২। ডিমের উৎপাদন কম হবে ৫০ টি ৫০ ৬.৫০ ৩২৫.০০
৩। প্রতি বৎসর কাঠের গুড়া ও ধানের খোসার জন্য ব্যয় হবে ১টা মুরগীর জন্য ১কেজি ১ ১০.০০ ২০.০০
৪। অতিরিক্ত ঔষধ লাগবে প্রতি মুরগীতে ১ ৫০.০০ ১০০.০০
৫। বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত খরচ হবে ১ ১০.০০ ২০.০০
৬। পরিচর্জার জন্য অতিরিক্ত খরচ হবে ১ ১০ ২০.০০
মোট অতিরিক্ত ব্যয় বা ক্ষতি ১টি মুরগীর জন্য – ৬৩৫.০০
অতএব দেশীয় ডিপ লিটার পদ্ধত্তিতে মুরগী পালন যন্ত্রপাতি নির্ভর না হলেও সম্পূর্ণ ভাবে অতিরিক্ত শেড ও প্রচুর লোক বলের উপর নির্ভরশীল এবং সঠিক রক্ষনাবেক্ষন অত্যান্ত কঠিন ও বিনিয়োগ ঝুকিপূর্ণ।
দেশীয় খাচা পদ্ধতিঃ-
ক্স উপড়ে টিনের চালা, মেঝে কাচা বা ইট বিছানো, চারিদিকে তারের তৈরী জাল ও প্লাষ্টিক পর্দা বা চটের পর্দা অথবা সম্পূর্ণ পাকা, বহুতল বিশিষ্ট শেড, চারিদিকে তারের তৈরী জাল ও প্লাষ্টিক পর্দা বা চটের পর্দা।
ক্স তিন তলা বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির খাচার ব্যবহার।
ক্স খাঁচার মাপ (১র্২র্ ১র্৩র্ ) = ১৫৬ বর্গ ইঞ্চিতে মুরগীর ধারন ক্ষমতা ৩টি।
ক্স প্রতিটি মুরগীর জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা ৫২ বর্গ ইঞ্চি।
ক্স খাঁচা হতে বিষ্টা সরাসরি ড্রেন বা চ্যানেল এ ধারন করা হয়।
ক্স খাবার পরিবেশন ম্যানুয়ালী, মুরগীর খাচায় বাসানো উন্মুক্ত ট্রের মাধ্যমে খাবার পরিবেশন করা হয়।
ক্স খাচায় ব্যবহৃত উন্মুক্ত ট্রের মধ্যে পানি সরবরাহ করা হয়।
ক্স এই পদ্ধত্তিতে ডিম উৎপাদনের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২৭৫-২৮০ টি, ৭২ সপ্তাহে।
ক্স ডিম সংগ্রহ ম্যানুয়ালী করা হয় এবং ডিম ভাংগার হার ৫%
ক্স শেডে বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করা হয়।
ক্স ব্র“ডিং বা পুলেট মুরগী পালনের জন্য আলাদা শেড ব্যবহার করা হয়।
ক্স ডিপ লিটার পদ্ধতিতে ব্র“ডিং করা হয় ফলে বেশী পরিমান জায়গার প্রয়োজন হয়।
উলেখিত খাঁচা পদ্ধতিতে লেয়ার মুরগী পালন অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ ও ব্যয় সাপেক্ষ। ইহাতে শেড উন্মুক্ত থাকার ফলে বয়োসিকিউরিটির কোন সুত্র/ পদ্ধত্তি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। ফলে উক্ত পদ্ধতিতেও বিনিয়োগ যুকিপূর্ণ। দেশীয় খাঁচা পদ্ধত্তির অসুবিধা সমূহ নিন্মে উলেখ করা হলোঃ-
ক্স ফার্মে ব্যবহৃত প্লাষ্টিক বা চটের পর্দায় সহজেই পরজীবি ক্ষতিকারক জীবানু আশ্রিত হয়ে আক্রমন করে।
ক্স শেড সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। ফলে রোগ-জীবানু দ্বারা সহজেই মুরগী আক্রান্ত হয়।
ক্স তাপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা না থাকার ফলে মুরগী গরমের সময় হিটষ্ট্রোক এবং শীতের সময় ঠান্ডায় মারা যায়।
ক্স ড্রেন বা চেনেল-এ মুরগী বিষ্টা ত্যাগ করার ফলে উহা পচে মারাক্তক দূর্গন্ধ ও এমোনিয়া গ্যাসের সৃষ্টি হয়, ফলে মুরগী অসুস্থ হয়ে উৎপাদন কমে যায় ও মারা যায়।
ক্স মুরগীর পরিত্যাক্ত বিষ্টা সুইপার দিয়ে ম্যানুয়ালী পরিস্কার করা হয়; ইহা ব্যয় সাপেক্ষ ও কষ্টকর।
ক্স উন্মুক্ত স্থানে বিষ্টা ত্যাগ করার ফলে মাছি ডিম দিয়ে ফ্লাই কিটের জন্ম দেয়, ফলে পরিবেশ দূষিত হয়।
ক্স শেডে বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহারের ফলে উপড়ে থাকা গ্যাস যথা- এমোনিয়া, কার্বনডাই অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড আবার নীচে এসে মুরগীর শাষ কষ্টের কারন ঘটায়।
ক্স মুরগীর টিকা ও ঔষধ প্রয়োগ কষ্টকর ও ব্যয় সাপেক্ষ।
ক্স গরমের দিনে অধিক তাপমাত্রার কারনে লেয়ার ফার্মের বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দেয়। যথাঃ- খাওয়া কমে যায়, প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না, ডিমের আকার ছোট হয়ে মান খারাপ হয় এবং ডিমের আকার ছোট হয়ে যায়।
ক্স শেড উন্মুক্ত থাকার ফলে সহজেই বাতাস, পানি ও সূর্যরশ্নি বাহিত রোগ জীবানু দ্বারা ফার্ম আক্রান্ত হয়।
ক্স মুরগীর মর্টালিটির হার ১০%-১৫%।
ক্স পোকা-মাকড়, ইদুর-বিড়াল, শেয়াল কুকুর দ্বারা ফার্ম সহজেই আক্রান্ত হয়।
ক্স উন্মুক্ত ভাবে খাবার ও পানি পরিবেশন করার ফলে সহজেই রোগ সৃষ্টিকারী জীবানু দ্ধারা আক্রান্ত হয়।
ক্স ১টি মুরগী ০-৮০ সপ্তাহে প্রায় ৩ কেজি পরিমান খাবার নষ্ট করে।
ক্স ডিম সংগ্রহ ম্যানুয়ালী করা হয় ফলে অনেক সময় ডিম ভেংগে যায়, ডিম ভাংগার পরিমান ৫%
ক্স খাচা তৈরীর উপকরন নিম্ন মানের হওয়ার ফলে ইহাতে মরিচা আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়।
ক্স মুরগীর বিষ্টা খাচার মধ্যে লেগে থাকে ফলে বিষ্টা হতে বিভিন্ন রোগ-জীবানুর জন্ম হয়ে মুরগী আক্রান্ত হয়।
মুগরী লালন পালনে নিæ বর্ণিত আয় কমে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবেঃ-
অর্থনৈতিক ক্ষতি সমূহ
ক্রমিক নং বিবরণ একক মূল্য
(টাকা) মোট মূল্য
(টাকা)
১। একটি মুরগী ৩ কেজি খাবার নষ্ট করবে। ৩ ৩০.০০ ৯০.০০
২। ডিমের উৎপাদন কম হবে ৩০ টি ৩০ ৬.৫০ ১৯৫.০০
৩। অতিরিক্ত ঔষধ লাগবে প্রতি মুরগীতে ১ ৫০.০০ ৫০.০০
৪। বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত খরচ হবে ১ ১০ ২০.০০
৫। পরিচর্জার জন্য অতিরিক্ত খরচ হবে ১ ৫ ২০.০০
মোট অতিরিক্ত ব্যয় বা ক্ষতি ১টি মুরগীর জন্য – ৩৭৫.০০
অতএব দেশীয় খাচা পদ্ধত্তিতে লেয়ার মুরগী লালন পালন ৩০% যন্ত্রপাতি নির্ভর হলেও উৎপাদন যুকিপূর্ণ, অতিরিক্ত লোকবল, অতিরিক্ত জমি ও শেডের উপর নির্ভর করতে হয় যা রক্ষনাবেক্ষন অত্যান্ত কষ্টকর ও বিনিয়োগ যুকিপূর্ণ।
আমাদের দেশের পোল্ট্রি ফার্মে এমোনিয়া হ্যাজার্ড
এমোনিয়া পোল্ট্রি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর গ্যাস। মুরগির খাদ্যের আমিষ অংশ হজমে ও আত্মীকরণ প্রক্রিয়ার শেষ প্রান্তে এসে ইউরিক এসিড নামক বর্জ্য কিডনি দিয়ে প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যয়। অন্য অংশটি পায়খানার সাথে বেরিয়ে আসে। পায়খানা-প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে আসা ইউরিক এসিড অণুজীব (ইধপঃবৎরধ) ঘটিত গাজন (ঋবৎসবহঃধঃরড়হ) প্রক্রিয়ায় এমোনিয়া গ্যাসে পরিণত হয়। এমোনিয়া উদগীরণ প্রক্রিয়া সম্পাদনে কিছু প্রাকৃতিক পরিবেশ উস্কানিদাতা হিসাবে কাজ করে যেমন অধিক তাপ, বর্ধিত চঐ বা অষশধষরহব চঐ ড়ভ খরঃঃবৎ ভেজাভেজা বিছানা এবং পরিবেশ, ঘরে বায়ু চলাচল ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা সর্বোপরি অস্বাস্থ্যকর খামার পরিবেশ। খামারে উঁচু মাত্রায় এমোনিয়ার উপস্থিতি পোল্ট্রি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বাতাসে ২৫ পিপিএম এমোনিয়া উপস্থিতিই ক্ষতিকর তবে ৫০ পিপিএম এ পৌঁছালে তা মারাত্মক পরিণতি সৃষ্টি করে। মুরগিতে দেখা যায় নানা শ্বাসতান্ত্রিক জটিলতা ও উপসর্গ।
এখন প্রশ্ন হলো আমাদের শীতকাল অর্থাৎ বাংলাদেশের শীতকালের সাথে এমোনিয়ার সম্পর্কটা কি? আমাদের দেশের পোল্ট্রি স্থাপনাসমূহ মূলত উন্মুক্ত পদ্ধতিতে তৈরি (ইঁরষঃ ধং ড়ঢ়বহ ংরফবফ ঢ়ড়ঁষঃৎু) মুরগি খামারে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাপ নিয়ন্ত্রণের তেমন ব্যবস্থা নাই। গ্রীষ্মকালে ঘর খোলামেলা রাখলেও শীতকালে শীত নিবারণের জন্য ঘর উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হয় না। চট, বস্তা, পলিথিন দিয়ে আমাদের খামারীগণ ঘর মুড়ে দেন পর্যায়ক্রমে। অল্প বয়স্ক বাচ্চার জন্য তাপ বহাল রাখতে এমনকি ব্র“ডার বাচ্চার জন্য তাপ বহাল রাখতে এমনকি ব্র“ডার ঝঢ়ধপব টিও মাঝে মধ্যে কাগজ কিংবা পলিথিন এমনকি চাদর দিয়ে ঢেকে দিতে দেখা যায়। এমনকি করার কারণ হলো খামারীগণের ব্র“ডিং সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাব। শীতকালে প্রতি ১৫০ টি বাচ্চার জন্য দেড় ফুট ব্যাসার্ধের একটি করে ব্র“ডার হোভার দরকার। প্রতিটি হোভারে অন্তত চারটি বাল্ব স্থাপনের ব্যবস্থা থাকতে হয়। দিনরাতে তাপমাত্রার ওঠা নামার সাথে সাথে বিভিন্ন ক্ষমতার বাল্ব ব্যবহার করে সঠিক ব্র“ডিং তাপ বজায় রাখার নিয়ম কিন্তু আমাদের দেশে সঠিক ব্র“ডিং হয় না বললেই চলে। ফলত খামারীবৃন্দ অনৈতিক পদ্ধতিতে তাপ নিয়ন্ত্রনের জন্য উঠে পড়ে লেগে যান। প্রচুর অক্সিজেন সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক বাতাসের চলাচলকে খামারীগ ক্ষতিকর বলে মনে করে থাকেন।
আমরা জানি মুরগি যে পরিমাণ খাদ্য খায় পানি পান করে তার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ। এই বিপুল পরিমাণ পানির কিছুটা শারীরিক গঠনে ব্যবহৃত হয়ে অধিকাংশটুকু পায়খানা-প্রসাবের সাথে বেরিয়ে আসে, জমা হয় বিছানায়। বিছানার আর্দ্রতা বাড়ে, বাড়ে এমোনিয়া উদগীরণ। এই এমোনিয়া নিষ্কাশন অতীব জরুরী কিন্তু যেহেতু শীতকাল এবং মুরগির ঘর চারিদিক দিয়ে বন্ধ করে রাখা তাই বাড়তে থাকে ক্ষতিকর এমোনিয়া স্তর মারাত্মকভাবে। খামার ঘরের মধ্যকার বাড়তি আর্দ্রতা ও এমোনিয়া নিষ্কাশিত হওয়া প্রয়োজন। এজন ঙঢ়বহ ঝরফবফ চড়ঁষঃৎু ঐড়ঁংব এ দরকার পর্যাপ্ত খোলাবাতসের গমনাগমন কিন্তু শীতকাল বিদায় সেটি সম্ভব হয় না।
এমোনিয়া যেহেতু ঝাঁজালো গ্যাস এবং নানা শ্বাসতন্ত্রীয় কোষ তন্ত্রে নাজুক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটায় ফলত কোষে বিদ্যমান আন্তঃকোষিয় মাইক্রোপ্লাজমা জীবাণু উসকে ওঠে-পুরো, শ্বাসতন্ত্রের কোষ ও সিলিয়তে একটি আন্দোলন বয়ে যায়, কোষে ধরে ফাটল এবং এই সুযোগটি গ্রহণ করে প্রথমতঃ ই কলাই অনুজীব পরবর্তীতে পরিবেশে সতত বিদ্যমান রাণীক্ষেত রোগের ভাইরাস। এর পরের ইতিহাস বাংলাদেশের পোল্ট্রি খামারীদের হাড়ে হাড়ে জানা। প্রতি বছর শীতকালের পোল্ট্রি ধ্বংসের বিষয়টি যেন অবশ্যম্ভাবী হয়ে গেছে আমাদের দেশে। এমোনিয়া পালন করছে মুখ্য ভূমিকা।
রোগাবস্থাসমূহ ঃ
১. এমোনিয়া শ্বাসতন্ত্রের নাসারন্দ্র-গলবিল (ঘধংড়-চযধৎুহবী) অঞ্চলে তৈরি করে অতিক্ষুদ্র ছিদ্রপথ এবং তরান্বিত করে অণুজীব ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের অনুপ্রবেশ। সৃষ্টি করে শ্বাসীয় সমস্যা।
২. এমোনিয়া ল্যারিংকস, ফ্যারিংকস, ট্রাকিয়া, ব্রংকাস অঞ্চলের কোষ লাগোয়া সিলিয়া সমূহ শ্বাসত্েত্রর কোষমূহকে কম্বলের মত করে ঢেকে রেখে রক্ষা করে থাকে।
৩. এমোনিয়া শে¬ষ্মা পর্দা (গঁপঁং সবসনৎধহব) ও চোখে অবস্থিত তরল পদার্থে দ্রবীভূত হয়ে এমোনিয়াম হাইড্রোক্লোরাইড নামক অত্যন্ত ঝাঁজালো ক্ষারে (অষশধষর) পরিণত হয়। এই এলক্যালির প্রভাবে চোখ জ্বালা করা, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া অর্থাৎ কবৎধঃড়পড়হলঁহপঃরারঃরং রোগের উদ্ভব ঘটায়-মুরগি চোখ মেলতে পারেনা, অক্ষি গোলক গোলাটে ও অস্পষ্ট হয়ে যায়, মুরগি খাদ্য-পানি গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়, শরীরের ওজন কমে যায় মারাত্মকভাবে।
৪. এমোনিয়ার কারণে ফুসফুস থেকে অতিরিক্ত শে¬ষ্মা নির্গত হয় ফলে সিলিয়াগুলো ঢেকে যায় ও অকর্মণ্য হয়ে পড়ে। সিলিয়া ধ্বংস হওয়ার ফলে মুরগি, বায়ুবাহিত রোগদ্বারা প্রবাহিত হয় এবং রাণীক্ষেত, ব্রংকাইটিস, ই.কলাই ঘটিত বায়ুথলির প্রদাহ (ধরৎংধপবঁষরঃরং) রোগের প্রতি নাজুক হয়ে পড়ে। এমনকি ককসিডিওসিস রোগও বাড়তে দেখা যায়।
৫. উঁচু স্তরের এমোনিয়ার প্রভাবে খাদ্য গ্রহণ কমে যায়, ফলে উৎপাদন দক্ষতাও কমে যায়। মাংস ও ডিম উৎপাদন ব্যাহত হয়।
৬. উঁচু এমোনিয়ার উপস্থিতিতে চোখে ব্যবহৃত টিকায় টিকা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে দেখা যায়।
মুরগির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যাদি
হাঁস-মুরগির ব্যবস্থাপনা একটি বিশেষ কারিগরী কাজ। প্রায়ই দেখা যায় ফার্মের ব্যবস্থাপনার সামান্য ত্র“টির জন্য অনেক ক্ষতি সাধন হয়ে থাকে। বিশেষ করে বাচ্চা মুরগির অনেক ক্ষতি হয়। এমন কি সময়মত ব্যবস্থা না নিতে পারলে সকল বাচ্চাই মারা যেতে পারে। স্বাভাবিক যে সমস্ত কারণগুলি ফার্মের মোরগ-মুরগীর ক্ষতি করতে পারে এমন কয়েকটি আলোচনা করা হল।
অত্যাধিক ঠান্ডা ঃ
আমাদের দেশে শীত কালেই শুধু অত্যধিক ঠাণ্ডা লাগতে পারে। অত্যধিক ঠাণ্ডায় ফলে বাচ্চাগুলি একসাথে গুটি পাকিয়ে থাকতে ভালবাসবে, সবসময় কিচির মিচির শব্দ করতে থাকবে, অবসন্নতায় ভোগার পর মারা যাবে।
কি কি কারণে মোরগ-মুরগি ঠাণ্ডায় ভুগতে পাওে:-
১) রাত্রে থাকার ঘরের দরজা-জানালা বা ভেল্টিলেটর খোলা থাকলে।
২) ভিতরে অপর্যাপ্ত তাপের ব্যবস্থা হলে।
৩) ব্র“ডারে নিচে অল্প পরিমাণ জায়গা থাকলে।
৪) ব্র“ডারের নিচে অধিক তাপ থাকলে।
৫) এক দিনের বাচ্চাকে এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় নেওয়ার সময় যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে।
ঠাণ্ডায় মুরগি বা বাচ্চাগুলি কি লক্ষণ দেখাবে:-
১) বাচ্চাগুলি একটার সাথে অন্যটা জড়সড় হয়ে গুটলি পাকিয়ে থাকবে।
২) খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিবে, শ্বাসকষ্ট দেখা যাবে, ডানাগুলি ছেড়ে দিবে, অবসন্নতায় ভুগবে এবং মারা যাবে।
৩) ঠাণ্ডায় ভোগার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে সহজে।
অত্যধিক গরমঃ-
আমাদের দেশে বিশেষ করে বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাসে অত্যধিক গরমের ফলে অনেক ফার্মেই যথেষ্ট ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে। ফার্মের মুরগির একদম গরম সহ্য করতে পারে না। অন্যদিকে অধিকাংশ ফার্মে টিনের চালার ঘরে মুরগি রাখা হয়ে থাকে।
কি কি কারণে অত্যধিক গমের সহায়ক থাকে:-
১) আমাদের দেশের আবহাওয়ায় অত্যধিক আদ্রতা।
২) টিনের ঘরের চালের প্রচণ্ড তাপ।
৩) ফার্মের অধিক চর্বিযুক্ত মুরগির জাত।
৪) একটানা কয়েকদিন পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়া।
৫) মুরগির যথেষ্ট পরিমাণে ভেল্টিলেশন এর ব্যবস্থা না থাকা।
অত্যধিক গরমে কি কি লক্ষণ দেখা দেবে:-
১) মোরগ-মুরগি শ্বাস কষ্ট পাবে, জোরে জোরে শব্দ করে শ্বাস নিতে থাকবে।
২) অধিক তৃষ্ণায় অধিক পরিমাণে পানি খাবে কিন্তু দানাদার খাদ্য কম খাবে।
অভুক্ত না অনাহারে থাকাঃ-
আপনার ফার্মের হাঁস-মুরগি যদি অর্ধভুক্ত বা সম্পূর্ণভাবে অনাহারে থাকে তবে উহাদের আস্তে আস্তে শরীরের ওজন কমবে, শুকিয়ে যাবে এবং সপ্তাহ খানেক এর মধ্যে মারাও যেতে পারে।
কি কি কারণে উহারা অনাহারে থাকতে পারে:-
১) ব্র“ডিং তাপমাত্রা যদি কম থাকে তবে উহারা খাদ্েযর কাছে যাবে না কারণ উহারা নিস্তেজ হয়ে পড়বে।
২) খাবার জায়গা যদি কম হয় তবে অনেকগুলি যেতে পারবে বাকিরা খাদ্যের কাছে ভিড়তে পারবে না। এভাবে নিস্তেজ গুলি সর্বদা বঞ্চিত হবে, ফলে আরও নিস্তেক হয়ে পড়বে।
৩) ফিডার বা খাবার পাত্র যদি সমভাবে সব জায়গায় না থাকে।
৪) অত্যধিক তাপমাত্রা বা গরম থাকলে, অধিক পরিমাণে পানি শরীর থেকে বের হয়ে গেলে।
৫) অপুষ্টিকর খাদ্য বিশেষভাবে যদি ব্রিডিং মুরগির দেওয়া হয়।
৬) অপর্যাপ্ত বা অত্যধিক পরিমাণ আলো মুরগির ঘরে থাকলে।
৭) খাদ্য না খেয়ে যদি লিটার বা বিছানা খাওয়ার অভ্যাস করে।
অনাহারে থাকলে কি কি লকষণ দেখতে পাবেন:-
১) যে কয়টি অর্ধাহারে বা অনাহারে থাকবে উহাদেরকে রোগা মনে হবে। অলস ও সুস্থ সবলগুলো থেকে দূরে দূরে থাকতে দেখা যাবে।
২) পালকগুলি উসকো-খুসকো এবং পাখা ঝুলে পড়বে।
৩) মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে ৫-৭ দিনের মধ্যেই।
শরীরে পানি শূন্যতা (উবযুফৎধঃরড়হ):-
যে সমস্ত কারণে মুরগি পানি শূন্যতায় ভুগতে পারে:-
১) পর্যান্ত পরিমাণে পানি সরবরাহ না করা।
২) পানির পাত্রটি অধিক ঠান্ডা অথবা গরম স্থানে রাখলে।
৩) সরবরাহকৃত পানি সুস্বাদু না হলে।
৪) পানির পাত্রটি মোরগ-মুরগি বা বাচ্চার জন্য সুবিধামত তৈরী না হলে। যখন আপনার মুরগির বাচ্চাগুলি পানি পাবে না, উহাদের মৃত্যুর হার ৪-৫ দিনের মধ্যে অনেক বেড়ে যাবে, এমনকি ৭-১০ দিনের মধ্যে সবগুলি মারাও যেতে পারে।
পানি শূন্যতায় ভুগলে কি কি লক্ষণ দেখতে পাবেন:-
বাচ্চাগুলি দুর্বল হয়ে পড়বে, শুকনা মনে হবে, পায়খানা শক্ত হয়ে যাবে।
আঘাত (ওহলঁৎরবং): হাঁস-মুরগি যে সমস্ত কারণে স্বাভাবিক আঘাত পেতে পারেঃ
লিঙ্গ চিহ্নিত করতে:-
ছোট বাচ্চাদের লিঙ্গ চিহ্নিত করার সময় অসাবধানতাঃ উহাদের পায়ে বা ডানায় আঘাত পেতে পারে। ফলে পা বা ডানা মচকিয়ে এমনকি ভেঙ্গেও যেতে পারে। এ ছাড়া যান্ত্রিক উপায়ে যখন রেকটাম বা পায়খানার রাস্তার ইহা নিরূপন করা হয় তখন এ সমস্ত জায়গায় বিশেষ ক্ষতি হতে পারে। কাজেই এ ব্যাপারে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা এবং অভিজ্ঞ লোকদ্বারা লিঙ্গ চিহ্নিত করা উচিত।
ঠোঁট কাটা (উবনবধশরহম):-
ঠোঁট কাটার সময় যথেষ্ট সাবধান না হলে, অথবা এ কাজে পারদর্শী না হলে, অথবা ব্যবহৃত যন্ত্র ঠিকমত ধারালো না হলে মোরগ-মুরগি মাত্রাতিরিক্ত আঘাত পেতে পারে। যার প্রভাব স্বভাবতই উহাদের শরীরের বৃদ্ধি এবং উৎপাদনের উপর পড়বে। অনেক সময় অত্যধিক রক্তপাতের ফলে মারাও যেতে পারে, বিশেষভাবে যদি আপনার মোরগ-মুরগিগুলি ভিটামিন-কে এর অভাবে ভোগে। কোন কোন ক্ষেত্রে এ কারণে রক্তপাতের রক্ত মুরগি খেয়ে ফেলতে পারে যা তার অস্ত্রের বা পাকস্থলীতে অসুবিধার সৃষ্টি করে। ঠোঁট কাটার সময় অতিরিক্ত আঘাত পেলে মোরগ-মুরগীগুলি খাদ্য খেতে চাবে না। আর যদি ঠোঁটে ঘা হয়ে যায় তাহলে সহজে ভাল হয়ে উঠে না। তাই ঠোঁট কাটার সময় যেন এরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখাই একান্ত কর্তব্য।
ঠোকরা-ঠুকরী (ঈধহহরনধষরংস):-
যে সমস্ত কারণে আপনার ফার্মের মোরগ-মুরগির মধ্যে ঠোকরা-ঠুকরী অভ্যাস দেখা দিতে পারে ঃ
১) অল্প জায়গায় অনেক বেশী মোরগ-মুরগি থাকলে।
২) ব্রডারের নিচে অত্যধিক গরম থাকলে।
৩) সুষম খাদ্যের অভাবে, বিশেষ করে লবণ এবং এমাইনো এসিড এর অভাবে।
৪) বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে।
৫) আলোর পরিমাণ বেশী থাকলে।
এরূপ অভ্যাস হলে মোরগ-মুরগিগুলি তাদের নিজেদের পা, লেজ এবং শরীর চুলকাবে। এভাবে অনেক জায়গায় রক্তক্ষরণ হয়ে যেতে পারে। আর রক্তক্ষরণ হলে ঐ জায়গায় অন্যান্যগুলিও ঠোঁটের দ্বারা আঘাত করবে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। ঠোঁট কাটা (উবনবধশরহম) ছাড়া অনেক মোরগ-মুরগি এক সাথে এ অভ্যাস সহজে গড়ে উঠে। কারণ খুঁজে বের করে তার অবসান করাই একমাত্র ব্যবস্থা।
এ্যামোনিয়া বিষক্রিয়া ঃ
যখন অনেক দিনের পুরাতন বিছানায় মুরগির বাচ্চাকে ব্র“ডিং করাবেন তখনই মুরগির মল-মূত্র লিটার বা বিছানার দ্রব্যাদি সংমিশ্রণে এমোনিয়া গ্যাসের সৃষ্টি হয়। এ্যামোনিয়া বিষক্রিয়া শুরু হওয়ায় বাচ্চাগুলি শরীরের সাথে অথবা খাবার বা পানির পাত্র, দেওয়া বা অন্য কিছুর সাথে চোখ ঘষলে। চোখ লাল হয়ে যাবে, কনজাংটিভাইটিস, কর্ণিয়ার ঘা ইত্যাদি দেখা দিবে। শুকিয়ে যাবে এবং অবশেষে মারা যেতে পারে।
এরূপ পরিস্থিতি যাতে না হয় তার জন্য সর্বদা শুকনো লিটার ব্যবস্থা রাখবেন এবং মাঝে উহা পরিবর্তন করে নতুন লিটার দিবেন। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে খরচ কমানোর জন্য লিটারগুলি রোদ্রে ভালভাবে শুকিয়ে আবার ব্যবহার করতে পারেন।
কার্বন মনোঅক্সাইড বিষক্রিয়া ঃ
অপর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা এবং বিশেষ করে কেরোসিন এর ব্র“ডার ব্যবহার করলে ব্র“ডিং আস্তে আস্তে কার্বন মনোঅক্সাইড জমা হয়ে উহার বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এরূপ বিষক্রিয় দেখা দিলে বাচ্চাগুলি ঝিমুতে থাকবে, আস্তে আস্তে ঢলে পড়বে। অবশেষের মৃত্যুর আগে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। এ ধরনের বিষক্রিয়ায় যেন আপনার ফার্মের ক্ষতি না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ করে কেরোসিন বা কাঠের/বাঁশের আগুনের ব্র“ডার ব্যবহার করলে যথেষ্ট ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখবেন।
আমাদের পরিকল্পনা সমূহ
স্থান নির্বাচন ঃ-
পোল্ট্রি ফার্ম বা যে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পূর্বে শিল্পের উৎপাদিত পণ্য সমূহ যথাযথ ভাবে বা সহজেই বাজারজাত করনের উপর অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। স্থানীয় পোল্ট্রির ক্ষেত্রে পণ্যের বাজারজাত করনের সব চেযে বড় বাজার হলো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা জেলা। উৎপাদিত মালামাল অর্থাৎ ডিম ও মাংসের পরিবহন ব্যয়, কম সময়ে বাজারজাত করনের নিশ্চয়তা ও এলাকাভিত্তিক চাহিদার উপড় ভিত্তি করে এলাকা ———- জেলার ———- থানাধীন ———–গ্রামে অত্যান্ত মনোরম পরিবেশে প্রস্তাবিত নির্মানাধীন পোল্ট্রি ফার্মটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঢাকা হতে প্রকল্পের দুরত্ব মাত্র —– কিলোমিটার, মেইন রোড হতে পাকা সংযোগ সড়কের মাধ্যমে ঢাকা পৌঁছানো যায়। ফার্ম হতে সড়ক পথে দেশের যে কোন স্থানে যোগাযোগ করা যায়।
আমাদের প্রস্তাবিত নির্মানাধীন ফার্ম এলাকার বৈশিষ্ট সমূহ ঃ-
ক্স লোকালয় হতে দূরে, ফার্ম এলাকাটি অবস্থিত।
ক্স শেয়াল-কুকুর, ইদুর-বিড়াল অন্যান্য ক্ষতিকারক প্রাণীর প্রভাব মুক্ত।
ক্স এলাকাটি বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ, ফলে কোন জঙ্গঁল বা জঙ্গলী জানোয়ার নাই।
ক্স ফার্ম এলাকায় কোন লোক জনের যাতায়াত নাই বিধায় মনুষ্যবাহী রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা নাই।
ক্স ফার্ম হতে মুরগীর বিষ্টা নদী বা সড়ক পথে অনেক দূরে স্থানান্তর করা সম্ভব।
ক্স ফার্ম এলাকার আশেপাশে কোন পচা নর্দমা নাই।
ক্স প্রস্তাবিত ফার্মের আশে পাশে বা ৪-৫ কিলোমিটার মধ্যে কোন পোল্ট্রি ফার্ম নাই।
ক্স ফার্মের উৎপাদিত ডিম/মাংস ২০/২৫ মিনিটের মধ্যে রাজধানীর যে কোন বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব।
ক্স বিক্রয় বাজার নিকটবর্তি হওয়ায় ফার্মে উৎপাদিত পণ্য পরিবহন ব্যায় কমে যাবে।
ক্স ফার্ম এলাকার আশ-পাশ দিয়ে ক্ষতিকারক কোন যানবাহন চলাচলের ব্যাবস্থা নাই।
ক্স ফার্ম এলকার পরিবেশ স্বাস্থ্যকর ও মনোরম।
ক্স উক্ত ফার্মে, ফার্ম এলাকার বায়োসিকিউরিটির সব রকমের নিয়ম রক্ষা করা সম্ভব।
অতএব, উলে¬খিত এলাকায় ফার্মটি প্রতিষ্ঠিত হলে, নির্বিঘœ উৎপাদন, বাজার-জাত করন, সঠিক রক্ষনাবেক্ষন এবং বিনিয়োগ যুক্তিযুক্ত রাখা সম্ভব। ইহা ছাড়াও আমাদের ফার্মে নিমোক্ত প্রযুক্তিসমূহ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
























