ভালবাসায় পাথরে ফুল ফোটে
(অন্যমুখে শুনা একটি সত্য ঘটনা)

কায়েস একজন উচ্ছ শিক্ষিত ধনী পিতার একমাত্র পুত্র। পিতা শহিদুল ইসলামের সহিত মা শাহানার বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তখন কায়েসের বয়স চার বৎসর। শহিদুল সাহেব দ্বিতীয় বিবাহ করে হালিমাকে, আর শাহানার বিয়ে হয় কামাল সাহবের সাথে। কামালের ঘরে যাবার পর শাহানার একটি কন্যা হয় তার নাম বন্যা। কিন্তু শহিদ সাহেবের দ্বিতীর ন্ত্রী হালিমার কোন সন্তান হয়না। তাই হালিমা কায়েসকে পুত্র স্নেহে লালন পালন করেছে। কায়েসের বয়স এখন ২৭ বৎসর। কায়েস তার ভার্সিটির বান্ধবী শান্তাকে পছন্দ করে। পিতার কোম্পানীতে শান্তার চাকরীর ব্যবস্থাও করে। তারপর দু জন বন্ধু থেকে অফিসের সহকর্মীতে পরিনত হল। শহিদ সাহেবও শান্তাকে পছন্দ করে। কাজে কর্মে কথা বার্তা রুপে গুনে শান্তা অতুলনীয়া। শহিদ সাহেব চায় ছেলের পছন্দকে স্বীকৃতি দিয়ে শান্তাকে পুত্র বধু করবে। কিন্তু মা হালিমা এটা মেনে নিতে পারল না। কারন কায়েস হালিমাকে মা বলে ডাকলেও তার মা বর্তমান রয়েছে। সে মায়ের কাছে অবাধে যাওয়া আশা করে। এই যাওয়াটা হালিমা পছন্দ করেনা। সে শাহানার কোন চিহ্ন দেখতে চায় না বা তার সামনে শাহানার কোন মঙ্গল কামনাকারীকেও ঘৃনা করে। এখন আবার শান্তার সাথে কায়েসের বিয়ে হোক এটা চায় না। কারন শান্তা বউ হয়ে এ বাড়ীত এলে হালিমার বাড়ীতে কোন কর্তৃত্ব থাকবেনা বা কমে যেতে পারে। কারন শান্তা একজন উচ্চ শিক্ষিতা। তারপর শান্তা স্বামীর অফিসে চাকরী করে। কোম্পানির অফিস ও বাসা দুটাই কর্তৃত্ব চলে যাবে শান্তার হাতে। এই ভয় ওর মনে সারাক্ষন দানা বেঁধে আছে। তাই ও নানা ভাবে স্বামীকে বুঝায়। কায়েসকে বিয়ে দেওয়ার জন্য।
শহিদ সাহেব শান্তাকে পুত্র বধু করবে কিন্তু হালিমা তাতে রাজী নয়। এক সময় হালিমারই জয় হলো। কায়েসের বিয়ে হচ্ছে হালিমার দু-সর্ম্পকের বোনের মেয়ের সাথে। যার নাম নাজিয়া। নাজিয়ার ছোট বেলা থেকেই মাথায় সমস্যা আছে। মাঝে মাঝে পাগলের মত যা-তা ব্যবহার করে বসে। সকলের ধারনা বড় হয়ে ওর বিয়ে হলে ভাল হয়ে যাবে।
নাজিয়ার বিয়ে হয়ে গেল কায়েসের সাথে। এ বিয়ে হওয়াতে শান্তা ভিষন কষ্ট পেল। শহিদ সাহেব শান্তাকে বলল কায়েসের বিয়ে এটা তার ইচ্ছায় হচ্ছে। কায়েস শান্তার বন্ধু ও কলিক হয়ে থাকতে চায়। শান্তা মনে কষ্ট পেলেও বাস্তবতাকে সহজে মেনে নিতে হল।
কিন্তু কায়েস কাকে বিয়ে করেছে। বাসর ঘর থেকেই কায়েসকে বালিশ দিয়ে পিটিয়ে বের করে দিল নাজিয়া। তারপর কায়েসের ধারে কাছে যায় না। সারাক্ষন পাগলামী করে, বাসায় কাউকে সম্মান করে না, কারো কথা শোনে না। যা ইচ্ছে তাই করে, হাসা-হাসী নাচা-নাচীতে মেতে আছে। কায়েস নাজিয়ার কাছে গেলে, হাতের কাছে যা পায় তাই দিয়ে আঘাত করে। শান্তা এসে কায়েসের সেবা করে। কায়েস বুঝতে পারে শান্তার এ সেবা যতœ কেন? বুুঝেও কায়েস নাজিয়াকে কিছু বলেনা আরো নাজিয়াকে বেশী করে ভালবাসে। সে শান্তাকে বুঝাতে চায় সে একজন স্বামী তার ন্ত্রী যা হোক না কেন ন্ত্রীকে বুঝিয়ে নেওয়া স্বামীর কর্তব্য। স্ত্রীকে স্বামীর মনের মত করে গড়ে তোলার দায়িত্ব স্বামীরই। তাই কায়েস নাজিয়া যা চায় তাই করে। নাজিয়ার মন জয় করে তাকে ভাল করার জন্য। একদিন নাজিয়া কায়েসের অফিসে যেতে চাইল, কায়েস নাজিয়াকে অফিসে নিয়ে গেল। নাজিয়া অফিসে যেয়ে টেবিলের উপর রাখা সব গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের কাগজগুলো টেনে ছিড়ে ফেলল। শান্তা কায়েসকে এই খাম-খেয়ালীর জন্য তিরষ্কার করল। কায়েস কোন প্রতিবাধ না করে নাজিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলল।
আর একদিন কায়েস নাজিয়াকে নিয়ে মা শাহানার বাসায় গেল। মা শাহানা ও পালক পিতা কামাল খুব খুশী হল দু জনকে দেখে। কিন্তু বন্যা কাছে আসতেই বন্যার গলার হারটার দিকে নাজিয়ার চোখ গেল এবং জোর করে গলার হারটা কেড়ে নিল। বন্যার গলার নীচে হারের চাপে কেটে গিয়ে রক্ত বের হতে লাগল। মা শাহানা এ দৃশ্য দেখে কেঁদে কায়েসকে তিরস্কার করতে লাগল। কায়েস নাজিয়াকে কিছুই বলল না। শুধু মাকে বলল মা ‘এটা তোমার জন্য।’ তারপর কামাল শাহানাকে কায়েস সমন্ধে বুঝাতে লাগল কায়েস একটা ভাল ছেলে একদিন নাজিয়াকে কায়েস ভাল করে ফেলবে। নাজিয়াকে চিরদিন এভাবে পাগলামী করতে দিবে না।
আর একদিন শহিদ সাহেবের অনেক বড় বড় বন্ধুর আগমন ঘটেছে বাসায়। তার মধ্যে নাজিয়ার পাগলামী শুরু হয়েছে। শহিদ অপমানীত হল বন্ধুদের কাছে। অফিসে দরজা লাগিয়ে কাঁদছে আর ভাবছে হালিমার পরামর্শে কায়েসকে নাজিয়ার সাথে বিয়ে দেওয়া উচিৎ হয়নি। ছেলেটার জীবন শহিদ নষ্ট করে দিয়েছে। একটা পাগলীর সাথে বিয়ে দিয়ে। এমন সময় শান্তা এল। শান্তার সামনে শহিদ আবেগ বসত সব বলে ফেলল। শান্তার কায়েসের উপর যে ধারনা ছিল তার সংশোধন হল। শান্তা ছুটে গেল কায়েসের কাছে, ঠিক এ সময় নাজিয়া কায়েসকে ফুলদানী দিয়ে মেরে আহত করে রেখেছে। শান্তা কায়েসের সেবা করতে গেলে, কায়েস শান্তাকে জড়িয়ে ধরল। নাজিয়া, শান্তাকে ঘুষি মেরে ফেলে দিয়ে কায়েসের মাথা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। কায়েস শান্তাকে বলল ‘দেখেছ শান্তা, আমার বউ আমাকে কত ভালবাসে। আর তার পাগলামিটা ছিল আমার অযোগ্যতার জন্য। শান্তা আমি সুখী। আমার স্ত্রী নাজিয়াকে নিয়ে যথেষ্ঠ সুখী।’ শান্তা কায়েসকে বলল ‘তুমি সুখী। আমিও সুখী’ বলে বেরিয়ে পাশের রুমে গেল। নিজের ভুলের জন্য আহত হালিমা এসে শান্তাকে কাছে টেনে বসিয়ে বলল ‘মা আমার ভুলের অনেক প্রায়শ্চিত্য হয়েছে। তুমি আমাকে ক্ষমা করে, আমাদের ঘরে এসো’ শান্তা হালিমাকে বলল-‘আমার চেয়ে ল²ী তোমার ঘরে আছে। তাকে তুমি মন থেকে ল²ী বানিয়ে নিও।’
এদিকে নাজিয়া কায়েসকে বলছে আমার কথামত চললে তোমাকে আর কিছুই বলবনা। কায়েস নাজিয়াকে বলল তোমার সব কথা আমি শুনব তুমি যদি আমার কথা শোন। এভাবে দু জন দু জনার কথা শুনতে শুনতে নাজিয়া একদিন পাকা বুদ্ধিমতী ও ঘরের ল²ী হয়ে গেল।
**********
























