
সরদার জাহিদুল কবীর: ‘শিক্ষায় বন ও পরিবেশ, আধুনিক বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে বন অধিদফতরের আয়োজনে গত ২০ জুন বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৯। ওই দিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মেলার উদ্বোধন করেন।
এ বৃক্ষমেলা যেন রুক্ষ রুষ্ঠ প্রাণহীন বর্ণহীন শহরে এক ফোটা সবুজ প্রাণের মেলা। সবুজ গাছ-গাছালির চারা, সবুজ শিশু কিশোর, সবুজ প্রাণের অধিকারী দর্শনার্থীর ভিড়ে এ মেলা পরিণত হয়েছে পুরো বাংলাদেশের অবয়বে।
ছোট ছোট গাছে ঝুলছে আম, কাঁঠাল, লিচু, কমলা, আমড়া, আমলকিসহ নানা প্রজাতির ফল। টক মিষ্টি এসব ফলের পাশে শোভা পাচ্ছে রঙ্গন, পাতাবাহার, বাগানবিলাসসহ হরেক রঙ রকমের ফুল। চোখ আটকে যায়, পা থমকে দাঁড়ায়, মন উতাল হয় ঘর সাজানোর অর্কিড, বনসাই আর বাহারী রঙের ক্যাকটাসে।

শতাধিক ফল-ফলাদীর সঙ্গে আরো রয়েছে ‘টাচ মি নট-লজ্জাবতী’, কালো ধুতরা, কাটানেট, কালো তুলশী ও সুরমাকাটার মতো দুর্লভ সব ঔষধি গাছ। গাছের পাশাপাশি জৈবসার, ফুল-ফলের বীজ, এমনকি বীজ বোনার উপকরণও পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় বৃক্ষমেলায়।
একই স্থানে দেশি-বিদেশি হরেক রকমের ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ, জৈবসার, ফুল-ফলের বীজ, বীজ বোনার ও পরিচর্যার নানান উপকরণ নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বাণিজ্য মেলার মাঠে চলছে এ মেলা। বন অধিদফতরের সহকারী বন সংরক্ষক মো. এনামুল হক জানান, এবারের মেলায় রয়েছে মোট ১০৪টি স্টল। ১২টি স্টল রয়েছে সরকারি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের জন্য। ব্যক্তিমালিকানাধীন নার্সারি ও বেসরকারি ৭৭টি সংস্থার স্টল রয়েছে ৯০টি।
বাকি দু’টি স্টলের মধ্যে একটি মেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও অপরটি তথ্যকেন্দ্র। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এ মেলা।
মেলায় আম, পেয়ারা, লিচু, চায়না মাল্টার মতো ফলের গাছ ছাড়াও কিছু ঔষুধি গাছ এবার বেশি উঠছে। এগুলোর দাম ৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রায় সব স্টলেই শোভা পেয়েছে বনসাই, অর্কিড, ক্যাকটাসের মতো শোভা বর্ধনকারী গাছ।
ব্র্যাক নার্সারির ব্যবস্থাপক আবু তাহের জানান, তাদের কাছে হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রায় তিন লাখ টাকা দামের বনসাই গাছও রয়েছে। অর্কিড-এর দাম ২০০-১০০০ টাকার মধ্যে।
শহরে ছাদ বাগানের জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে কিছু কিছু স্টলে বিক্রি করা হচ্ছে পুষ্টি সমৃদ্ধ মাটি। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউটের স্টলে লিফলেটের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হচ্ছে।
এছাড়াও আগত দর্শনার্থীদের বনজ বৃক্ষ প্রজাতির মিশ্র বাগান তৈরির কৌশল, বৃক্ষের চারা রোপণ ও পরিচর্যাসহ বৃক্ষ ও পরিবেশ সম্পর্কিত নানা সচেতনতামূলক বিষয় সম্পর্কে অবগত করা হচ্ছে। এ মেলা চলবে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত।
—
























