RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

ছেলের খেলার সাথী ভাগ্য বদলে দিল নুরজাহানের

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ছেলের খেলার সাথী ভাগ্য বদলে দিল নুরজাহানের

ড. মোড়ল কামরুল হাসান বায়েজিদ

দারিদ্রতাকে জয় করাই প্রতিটি মানুষের প্রথম কাজ। আত্ম-প্রত্যয়ী মানুষদের পক্ষেই কেবল দারিদ্রতাকে জয় করা সম্ভব। পরবর্তীতে নিরলস পরিশ্রম ও একাগ্রতা আর ধৈর্য তাকে নিয়ে যেতে পারে সফলতার চুড়ান্ত লক্ষ্যে। জীবন সংগ্রামী সেই সব মানুষদের গল্পের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আজ শুনুন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার স্বামী পরিত্যক্তা নুরজাহান বেগমের গল্প।

২০০০ সালের ঘটনা। সে সময় ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার স্বামী পরিত্যক্তা নুরজাহান বেগম পিতার বাড়ীতে থাকেন। স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর ঘটনাটি কোট পর্যন্ত গড়ায়। নুরজাহান বেগম জীবনে আর কখনো বিবাহ করবেনা বলে স্থির করে আণেক ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন্ সুন্দর একটি সংসার হয়েছিল। সেই সংসার জুড়ে একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান আলোকিত করে আছে। এতো সুখের সংসারে যখন ঘুনিপোকা লাগল তখন আর উইপোকায় খাওয়া সংসারে যেয়ে লাভ কি! এরকম ভাবনা সব সময় নুরজাহান বেগমের। স্বামীর প্রতি তার ভালবাসা এতই ছিল যে স্বামীকে ছাড়া সে বেঁচে থাকতে চায় নি। স্বামীকে ছাড়া সে একা চলবে এটা ভেবে মুর্ছা গেছে কয়েক বার। তার পরেওতো বাস্তব সত্যকে মেনে নিতে হবে। তাকে বেঁচে থাকতে হবে। বেঁচে থাকতে হবে তার আদরের সন্তানের জন্য। নুরজাহান মনমরা হয়ে বাড়ীতে বসে থাকে তার ছোট্ট ছেলে বাড়ীতে একা মনমরা হয়ে চলে।

একটা সময় দরিদ্র পিতার আয়ের উপর নির্ভর না থেকে কিছু একটা করবে ভাব ছিলেন। একদিন তার ছোট্ট ছেলের খেলার সাথী হিসেবে তার পিতা দুটি খরগোস ১০০ টাকা দিয়ে কিনে আনেন। খোরগোসের সাথে খেলা করে ছেলে। আর নুরজাহান বেগম সারাদিন খরগোস দুটিকে ঘাস লতা পাতা ও ভাত খাওয়াতে থাকে। তিন মাস পালনের পর মেয়ে খরগোসটি গর্ভবতি হয়। তার এক মাস পরে চারটি বাচ্চা হয়। শুরু হয় খরগোসের বংশ বৃদ্ধি। সেই দুটি খরগোস বাচ্চা দেয় সেই সাথে এই বাসায় এসে জন্ম নিয়া বাচ্চাগুলো বড় হয়ে তারাও বাচ্চা দেয়। তার বাসায় খরগোসের সংখ্যা এখন ১৮০টি। এছাড়া প্রতি মাসে খরগোস বিক্রি করে তার আয় আসে ৫-৬ হাজার টাকা। ছোট খরগোস ও বড় খরগোস বিক্রি করেন নুরজাহান বেগম। ছোট খরগোসগুলো মানুষ বাসা বাড়িতে পালন করার জন্য নিয়ে যায়। আর বড়গুলো চলে যায় ঢাকায় পাঁচ তারা হোটেলে।

তিনি আরো জানান খরগোস অত্যন্ত নিরীহ প্রাণী। খরগোস পালন করতে গেলে তেমন একটা ঝুকি ঝামেলা পোহাতে হয়না। বসতবাড়ীর বারান্দায়, বাঁশের খাঁচায় খরগোশ পালন করা যায়। মুরগী কিংবা গরু ছাগল পালন করতে গেলে জায়গা জমি যে পরিমানে প্রয়োজন হয় খরগোস পালনে তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। ছয়মাস বয়স হলে খরগোস বাচ্ছা দেয়া শুরু করে। প্রতি মাসে ৩/৪টি বাচ্চা দেয় এরা। তবে বছরে ৭-৮ বার বাচ্চা দিলে ৩-৪ বছর পর্যন্ত বাচ্ছা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি মাসে খরগোসের বাচ্চা দেয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। খরগোসের প্রজনন নিয়ে বলেন- তিন মাস বয়স হলে পুরুষ খরগোসকে আলাদা খাঁচায় রাখতে হয়। জননক্রীয়ায় আগ্রহী হলে মহিলা খরগোস মুখ দিয়ে নিজের গায়ের পশম ছিড়তে থাকে তখন তাকে পুরুষ খরগোসের খাঁচায় দিতে হয়। ৪-৫ ঘন্টার মধ্যেই জননক্রীয়া সমাধা হয়। তখন মহিলা খরগোসকে বের করে নিতে হয়। খরগোসের গর্ভকালীন সময় এক মাস। খরগোস বাচ্চা দেয় গর্তের ভিতর। ব্চ্চাা জন্ম নেওয়ার আগে মা ঘরগোস প্রায় এক থেকে দেড় ফিট মাটি গর্ত করে সেখানে বাচ্চা দেয় এবং এই গর্তে বাচ্চা আরো একমাস পর্যন্ত থাকে সেখানেই মা খরগোস বাচ্চাদের দুধ ও অন্যান্য খাবার খাওয়ায়। এর পর যখন বাচ্চারা নিজেরা নিজেদের খাবার খুজে খেতে পারে তখন মা খরগোস এই বাচ্চাদের ছেড়ে আবার গর্ভবতি হয়। তবে বাসা বাড়ীতে খরগোস পালনের সময় খরগোসের বাচ্চা দেবার জন্য খরগোসের ঘরে মাটির কলসী ও ঠিলার ভিতর কিছু নরম মাটি ও খড়কুটা দিয়ে বাসার মত করে দিলে সেখানে খরগোস বাচ্চা দেয় এবং সেখানে মা খরগোস বাচ্চাদের লালন পালন করতে পারবে।

এক মাস বয়সের একটি বাচ্চার দাম ৫০-৬০ টাকা। পূর্ণবয়স্ক একটি খরগোসের দাম ২০০-২৫০ টাকা। পূর্নবয়স্ক একটা খরগোসের গায়ে ৩-৫ কেজি পর্যন্ত মাংস হয়। ঘাস লতা পাতা তরকারীযুক্ত ভাত ও খেচুড়ি খরগোসের প্রধান খাদ্য।

খরগোসের অসুখ বিসুখ সম্পর্কে নুরজাহান বেগম বলেন-খরগোসের সাধারণত ডায়রিয়া, সর্দি এবং চর্মরোগ হয়ে থাকে। বারমিক ভ্যাকসিন চর্মরোগ ভাল হয়। খরগোস অত্যন্ত শ্রবণশীল। তাই উচ্চ শব্দ শুনলে খরগোসের হার্ট এ্যাটাক হতে দেখা গেছে। তখন খরগোস মারা যায়।

খরগোসের মাংস মুরগীর মাংসের মত স্বাদযুক্ত। চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট ও পাঁচতারা হোটেলগুলোতে খরগোসের মাংসের বেশ চাহিদা রয়েছে অনেক আগে থেকে। দিনে দিনে খরগোসের মাংসের চাহিদা বেড়েই চলছে। ময়মনসিংহ মুক্তাগাছায় দীর্ঘ দিন ধরে খরগোস পালন হয়ে আসছে আর এদের বিভিন্ন সময় উদ্বুদ্ধ করে থাকেন একজন এনজিও কর্মী মোহাম্মদ আলী খসরু।। খরগোসের চামড়া বিদেশে রপ্তানী হয় বলে জানায় জেএনডিপি নামক এনজিও এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলী খসরু। খরগোসের চামড়া দিয়ে মেয়েদের পার্টস তৈরী হয়। যে পার্টসগুলো সৌখিন মহিলাদের খরব পছন্দ।

নুরজাহনের দেখাদেখি এখন মুক্তাগাছার আরো অনেক মহিলারা খরগোস পালন শুরু করেছে। নুরজাহান সবাইকে খরগোস পালনে বিভিন্ন প্রকার বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেন। এলাকার গরীব মহিলাদের সামনে নুরজাহান বেগম এখন আদর্শ।

 

সর্বশেষ - গরু পালন