গরু পালন/গর্ভকালীন গাভীর পরিচর্যা
গাভী সাধারণত ২৭০-২৯০ দিন নিজ গর্ভে বাছুর বহন করে। এই সময়কে গর্ভকাল বলে। গর্ভাবস্থায় গাভীর যত্ন ও অন্যান্য পরিচর্যার উপরই স্বাভাবিক প্রসব, ভালো বাছুর, দুগ্ধ উৎপাদন ও পরবর্তী কালে স্বাভাবিক গর্ভধারণ নির্ভর করে। কাজেই গাভী পালনের ক্ষেত্রে গর্ভবতী গাভীর যত্ন ও খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিম্নলিখিত নিয়মে গর্ভবতী গাভীর যত্ন নিতে হবে।
গাভীর গর্ভধারণ কালের হিসাব ও সম্ভাব্য বাচ্চা প্রসবের তারিখ জানা থাকতে হবে।
গর্ভকালের সাত মাস পর্যন্ত গাভীর খাদ্য, পরিচর্যা, দুধ দোহন, স্বাভাবিক ভাবেই চলবে। তবে ৭ মাসের পরেই গাভীকে অবশ্যই পৃথক করতে হবে। এই সময় খাদ্য, পরিচর্যা ও বাসস্থান গাভীর অবস্থার উপযোগী হতে হবে।
পর্যাপ্ত আলো বাতাসযুক্ত সুপরিসর, সহজেই গাভী নড়াচড়া করতে পারে এমন ঘরে রাখতে হবে।
গাভীর ঘর দৈনিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে জীবাণুনাশক ঔষধ মিশ্রিত পানি দ্বারা ঘর ধুয়ে দিতে হবে।
গাভী যেন পড়ে গিয়ে আঘাত না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
গর্ভবতী গাভীর উপর অন্য কোনো গরু বা প্রাণি যেন লাফিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
গর্ভাবস্থার ৭-৮ মাস দুধ দোহন বন্ধ করতে হবে। দুধের প্রবাহ বন্ধ না হলে দানা খাদ্য কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে তবে এমনভাবে কমানো যাবে না যাতে গাভীর স্বাস্থ্য ভেঙে যাওয়ার আশংকা থাকে।
গাভীর শোবার জায়গায় খড় দিয়ে বিছানা তৈরি করে দিতে হবে। বিছানার খড় নোংরা হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করে দিতে হবে, তাছাড়া বিছানার খড় দৈনিক রোদে শুকাতে হবে।
গাভীকে কোনো ক্রমেই ভয় পাওয়ানো, দ্রুত তাড়ানো বা উত্তেজিত/উত্যক্ত করা চলবে না।
গর্ভবতী গাভী দ্বারা হাল টানা, ভারবহন, ফসল মাড়াই করানো যাবে না।
প্রসবের দুই সপ্তাহ আগে সহজপাচ্য খাদ্য খাওয়াতে হবে। এই সময় গাভীকে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। শীতের সময় পানি কুসুম কুসুম গরম করে দিতে হবে।
গরমের দিন হলে গাভীকে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে।
আসন্ন প্রসবা গাভীকে সব সময় চোখে চোখে রাখতে হবে। প্রসবের ২/৩ দিন আগে থেকে ২৪ ঘণ্টা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে।
























