
পোলট্রি মুরগীর ডিমের উপকারিতা।। ড. বায়েজিদ মোড়ল।।
পোলট্রি বা ফার্মের মুরগীর ডিম প্রোটিন, ভিটামিন (A, D, B12), এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের একটি সস্তা ও চমৎকার উৎস। এটি উচ্চমানের অ্যামিনো অ্যাসিডের মাধ্যমে পেশি গঠন, মস্তিষ্ক ও হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করে। এতে থাকা কোলিন মেধা বিকাশে এবং লুটেইন চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে, যা নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখা স্বাস্থ্যকর।
পোলট্রি ডিমের প্রধান উপকারিতাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

- উচ্চমানের প্রোটিন: প্রতিটি ডিমে প্রায় ৬-৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা পেশি গঠন ও মেরামতে অপরিহার্য ।
- মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: ডিমে প্রচুর পরিমাণে ‘কোলিন’ থাকে, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, স্মৃতিশক্তি এবং গর্ভবতী মায়ের মেধা বিকাশে সহায়তা করে ।
- দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে: ডিমে লুটেইন এবং জেক্সানথিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা বয়সের কারণে হওয়া দৃষ্টিশক্তি হ্রাস (ম্যাকুলার ডিজেনারেশন) প্রতিরোধ করে ।
- হার্টের স্বাস্থ্য: এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ভিটামিন D এবং অন্যান্য খনিজ উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: ক্যালোরি কম হলেও প্রোটিন বেশি থাকায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ।
- গর্ভবতী ও শিশুদের জন্য: ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি১২ থাকার কারণে এটি গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুবই উপকারী।
পোলট্রি বনাম দেশি ডিম: পুষ্টিবিদের মতে, খামারের বা পোলট্রি ডিমেও দেশি ডিমের মতোই প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় মিনারেল থাকে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নিয়মিত ডিম খাওয়া নিরাপদ এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ।

ডিম একটি সহজলভ্য ও উন্নতমানের আমিষ জাতীয় খাদ্য; যাতে রয়েছে প্রাকৃতিক ভিটামিন, যা দেহগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সব ধরনের ডিমে রয়েছে অতি মূল্যবান ওমেগা-৩, যা হৃৎপিণ্ডকে কার্যকর রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের রান্না করা ডিমে (৫০গ্রাম) ৭৮ ক্যালোরি, ৬.২৯ গ্রাম প্রোটিন, ০.৫৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৫.৩ গ্রাম মোট ফ্যাট রয়েছে, যার মধ্যে ১.৬ গ্রাম স্যাচুরেটেড ফ্যাট,২.০ গ্রাম মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট,০.৭ গ্রাম ফ্যাট এবং ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল।
একটি সাধারণ মুরগির ডিমে প্রোটিন আছে প্রায় ছয় গ্রাম, যাতে রয়েছে মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় নয়টি অ্যামিনো অ্যাসিড। মুরগির ডিমে রয়েছে অতি মূল্যবান ওমেগা-৩, যা হৃৎপিণ্ডকে কার্যকর রাখতে সাহায্য করে। কোলিন ডিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা গর্ভবতী মায়ের মস্তিষ্কজনিত জটিলতা দূরীকরণে সহায়তা করে, গর্ভাবস্থায় শিশুর মেধা ও স্মৃতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ডিমে আছে ফলিক অ্যাসিড অথবা ফোলেট, যা ত্রুটিপূর্ণ সন্তান জন্মদানের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া রয়েছে সেলেনিয়াম, যা মানুষের মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে এবং ক্যানসার, বিশেষত প্রোস্টেট ক্যানসার রোধে সহায়তা করে। ডিমে রয়েছে ৫ গ্রাম কোলেস্টেরল, যার প্রায় ৩.৫ গ্রাম উপকারী ও ভালো কোলেস্টেরল, যা মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রয়োজন, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। ডিমে রয়েছে লিউটিন ও জিয়াজ্যান্থিন, যা চোখের ছানি পড়া রোধে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ মানুষ দিনে একটি ডিম খেতে পারে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী বছরে প্রত্যেক মানুষের গড় ডিম গ্রহণ ন্যূনতম ১০৪ টি হওয়া উচিত। ডিমের সাদা অংশে ১১% প্রোটিন ও হলুদ অংশে ১৬% প্রোটিন রয়েছে। ডিমে ক্যালসিয়ামও রয়েছে।
তথ্যসুত্রঃউইকিপিডিয়া

























