গাভী গরম হওয়ার লক্ষণ, কিছু সমস্যা, চিকিৎসা ও সঠিক কৃত্রিম প্রজনন।।
গাভী ডাকে আসা সঠিক ভাবে নির্ধারন

লাভজনক দুগ্ধ খামারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল গাভির ডাকে আসা বা গরম হওয়া । ডাকে আসা বা গরম হওয়া সঠিকভাবে নির্ধারন করতে না পারলে সময় মত প্রজনন করানো যাবে না, আর সময় মত প্রজনন করানো না গেলে গাভীর গর্ভ ধারন হবে না। তাই আপনাকে সঠিক ভাবে জানতে হবে আপনার গাভীটি গরম হয়েছে কিনা? এজন্য গাভীর ডাকে আসার লক্ষনগুলো জানা থাকা খুব প্রয়োজন।
১।লাফালাফি

গরু সাধারন লাফালাফি খুব একটা পছন্দ করে না। কিন্তু যখন সে ডাকে আসে তখন সে এই কাজটি শুরু করে।একটু খেয়াল করলেই দেখতে পারবেন, গরুটি যদি ডাকে আসে তাহলে সে অন্য গরুর উপর লাফানোর চেষ্ট করে।আবার অনেক সময় দেখা যায়, তার উপর অন্য গরু লাফিয়ে উঠলেও খুব একটা বিরক্ত হয় না। তখন মোটামুটি ভাবে ধরে নিতে পারেন গাভীটি ডাকে এসেছে। ডাকে আসলে গাভীটি অন্য গাভীকে লাফিয়ে উঠার সুযোগ দেয় এবং নিজেও লাফায়।
২।এলোমেলো কেশ

স্বাভাবিক ভাবে গাভীর পেছনের দিকে লেজের চার পাশের পশমগুলো সুশৃংখল হওয়ার কথা। কিন্তু যদি অন্য গরু পিছনে লাফিয়ে উঠে থাকে তাহলে তা এলোমেলো হয়ে যাবে। তাহলে বিষয় কি দাড়াঁল? যদি লেজের চারপাশের পশম এলোমেলো থাকে তাহলে ধারনা করতে পারেন গরুটি ডাকে এসেছে। তবে এটা দিয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না যে গরুটু ডাকে এসেছে। এই লক্ষনের সাথে অন্যান্য লক্ষনও মিলিয়ে দেখতে হবে।
৩।অন্তরঙ্গতা

গাভী ডাকে আসলে অন্য গাভীর সাথে তার অন্তরঙ্গতা বেড়ে যায়। অনেক সময় অন্য গাভীর গা চাটে, মুখে মুখ ঘসে, অন্য গরুর যোনিতে মুখ ঘসতেও দেখা যায় এবং অন্য গরুও ডাকে আসে গরুটি যোনিমুখ ঘসতে দেখা যায়।যদি একাধিক গরু এক সাথে ডাকে আসে তাহলে তাদের নিজেরদের মধ্যে দল পাকানোর প্রবনতা দেখা যায়। ডাকে আসার গাভীর যোনি মুখ অন্য গরু শুকে।
৪।অস্থিরতা

এই লক্ষনটি খামারীর খুব সহজেই চোখে পড়ে। যেই খামারী গাভীকে নিয়মিত দেখা শুনা করে তিনি সহজে এই পরিবর্তনটা বুঝতে পারে। এই ক্ষেত্রে আপনি খেয়াল করবেন গাভীটি এদিক ওদিক হাঁটা হাটি করবে। ঘন ঘন ডাকা ডাকি করবে। খাবার দাবার কমিয়ে দিবে।
৫।প্রস্রাব
ডাকে আসা গাভীটি ঘন ঘন অল্প অল্প প্রস্রাব করে। এই লক্ষনটিও অন্য লক্ষনের সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন।গাভী ডাকে আসলে ঘন ঘন প্রস্রাব করে।
৬।অঙ্গ-ভঙ্গি
ডাকে আসা গরুটি অন্য গরুর যোনীর ঘ্রান নেয় এবং মাথা উচুঁ করে জিহ্বা বের করে দেয়। লেজ উচিয়ে রাখে অর্থাৎ যোনীর মুখ থেকে লেজটি বারবার সরিয়ে রাখে।
৭।শ্লেষ্মা বের হওয়া

গরু ডাকে আসার একটি স্পষ্ট লক্ষন হল যোনী পথা দিয়ে স্বচ্ছ, আঠালো ডিমের সাদা অংশের মত শ্লেষ্মা জাতীয় পদার্থ বের হওয়া। এই পদার্থ যোণীমুখ, নিতম্ব, পা, পিঠ এবং তলপেটে লেগে থাকতে দেখা যায়। সাধারনত ডাকে আসা গাভীর শরীরে ইষ্টোজেন হরমোন বেড়ে যাওয়ার কারনে এ ঘটনা ঘটে। তবে গরু গরম হওয়ার আগে থেকে শুরু করে, গরম হওয়া এবং গরম চলে যাওয়ার পরও এই শ্লেষ্কা দেখা যেতে পারে। মজার বিষয় হল, কিছু কিছু গরু ডাকে আসলে কোন ধরনের শ্লেষ্মাই দেখা যাই না। কেবল মাত্র কৃত্রিম প্রজননের সময় জরায়ুতে চাপ দিলে এই শ্লেষ্মা দেখা যায়, এই জন্য অনেক গরু ডাকে আসলেও বুঝতে পারে না। এক্ষেত্রে বুঝার সহজ উপায় হল, অন্যান্য লক্ষণগুলো ভালভাবে খেয়াল করা।
৮।যোনী মুখ ফুলে যাওয়া

যে খামারী নিয়মিত গাভীটি দেখা শোনা করেন, উনি একটু খেয়াল করেই দেখতে পারেন প্রস্রাবের রাস্তা ( যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় যোনীমুখ বলে (vulvar lips)) একটু ফুলে গেছে। এই জায়গাটি স্বাভাবিক অবস্থায় একটু কুঁচকানো থাকে। যোনী মুখের ভিতরের দিকে লাচলে হয়ে যায়। সাধারনত ডাকে আসার একটু আগে এ ঘটনা ঘটে যা বেশিক্ষন স্থায়ী হয় না। পরবর্তীতে তা গাঢ় গোলাপী বর্ন ধারন করে। যোনী মুখে থাকে কেশগুলো কিছুটা ভেজা ভেজা হয়ে যায়।
৯।রক্তপাত
এই ঘটনাটি ডাক চলে যাওয়ার পরপরই ঘটে। অর্থাৎ ডাক চলে যাওয়া দুই-তিন দিন পর ঘটে । এটি দ্বারা বুঝা যাই গাভীটি ডাকে এসেছিল এবং ১৫-২০ দিন পর পুনরায় ডাকে আসবে। এই ক্ষেত্রে যোনি পথ দিয়ে সামান্য রক্ত পাত হতে দেখা যায়। যা সামান্য কালচেও হতে পারে।
১০। দুধ উৎপাদন
গাভী যখন ডাকে আসে তখন অন্যান্য দিনের তুলনায় দুধ উৎপাদন কমে যায়। শুধু মাত্র এই একটি লক্ষন দিয়েও গরু গরম হয়েছে কিনা সেটা বুঝে নিতে হয়। তবে এক্ষেত্রে অনেক দক্ষতার প্রয়োজন। গাভী গরম হলে সাধারনত এই লক্ষনগুলো প্রকাশ পায়।
তবে সবগুল লক্ষন একই গরুতে প্রকাশ নাও পেতে পারে। সেক্ষেত্রে দু’একটা লক্ষন দেখেই বুঝে নিতে হবে গরুটি ডাকে এসেছে কিনা। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই কোন লক্ষনই প্রকাশ নাও পেতে পারে। এই সব ক্ষেত্রে গাভী ডাকে এসেছে কিনা সেটা বুঝা মুশকিল হয়ে পড়ে। কিন্তু ঘটনা খুব কম। তাই এই দশটি লক্ষন জানলেই আপনি মোটামুটিভাবে বুঝে যাবেন আপনার গরুটি ডাকে এসেছে কিনা। আর কখন প্রজনন করাবেন।
গরু গরম হওয়ার আরো কিছু লক্ষণ নিম্নরূপঃ
- গাভী বা বকনা সহজে বসবে না, সে বেশির ভাগ সময় দাড়িয়ে থাকবে।
- ঝিমানি ভাব থাকবে।
- গরু গরম হওয়ার সময় যোনীমুখ ফুলে যায়।
- যোনী পথা দিয়ে স্বচ্ছ, আঠালো ডিমের সাদা অংশের মত শ্লেষ্মা জাতীয় পদার্থ বের হওয়া।
- গাভী ঘন ঘন প্রসাব করবে।
- লেজের গোড়া বা তার আশপাশের জায়গায় শুকনা আঁঠালো পদার্থ লেগে থাকবে।
- পাশে থাকা অন্য গাভির উপর লাফিয়ে উঠবে।
- খামারের অন্য গাভী তার উপর লাফিয়ে উঠলে সে নীরব থাকে।
- অন্তরঙ্গতা বৃদ্ধি পায়, অন্য গরুর গা, মুখ ও যোনীতে ঘসে এবং শুকতে থাকবে।
- লেজ উচিয়ে রাখে অর্থাৎ যোনীর মুখ থেকে লেজটি বারবার সরিয়ে রাখে।
- দুধ উৎপাদন কমে যাবে।
- কিছু কিছু সময় রক্ত ঝিল্লি বের হয়।
- গরু খাওয়া কমিয়ে দেয়।
- গাভী অস্থির থাকে ও ছটফট করে।
- অনবরত ডাকতে থাকে।
গাভী বার বার গরম হওয়া
যখন কোনো গাভী সঠিক সময়ে (১৮-২১ দিন) গরম হয় ও কোনো প্রকার অসুস্থতার লক্ষণ থাকে না এবং কমপক্ষে ২ বার প্রজনন করানোর পরেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হয় তখন তাকে বার বার গরম হওয়া গাভী বলে। ৩ বার প্রজনন করানোর পরেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হওয়ার হার প্রায় ৩০%। এতে করে বাছুর প্রদানের সংখ্যা কমে যায়। বার বার প্রজনন করানো ও চিকিৎসা করানোর খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় উন্নত মানের গাভী অকালে বাতিল করতে হয়, ফলে খামারি মানসিক চাপে পড়েন ও অর্থনৈতিকভাবে খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন। বাণিজ্যিক ডেইরি ফার্মে চারটি প্রধান সমস্যার মধ্যে বার বার গরম হওয়া একটি অন্যতম সমস্যা।
কারণগুলো
বাস্তবপক্ষে কিছু ক্ষেত্রে ভুল সময়ে প্রজনন করানোর ফলে হয়ে থাকে। কিছু গাভীতে প্রজনন তন্ত্রের বার্সা ও ডিম্বনালির জটিলতা ও জরায়ু সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে।
কাছাকাছি সময়ে গরম হওয়া
এ ক্ষেত্রে গাভী প্রজনন করানোর ১৭-২৪ দিনের মধ্যেই আবার গরম হয়।
কারণ-১. লুটিয়াল গ্রন্থির কার্যকারিতা তাড়াতাড়ি বন্ধ হলে বা স্বাভাবিক বা নিয়মিত ঋতুচক্রের মতো করপাছ লুটিয়াম স্বল্পস্থায়ী হলে এমন হতে পারে।
২. যদি ডিম দেরিতে নিঃসরিত হয় এবং প্রজননে বীজের মান ভালো না হয়।
৩. পূর্বেই ভ্রণ মারা গেলে বা দুর্বল/নিম্নমানের ভ্রণ সৃষ্টি হলে।
৪. জরায়ুর পরিবেশ ভালো না থাকলে।
৫. Pricocious ও ৬. Luteolyse হলে।
জরায়ু সংক্রমণ
জরায়ু সংক্রমণ সাধারণত ষাঁড় দ্বারা মিলনের সময়, অস্বাস্থ্যকর কৃত্রিম প্রজনন ও প্রসবের সময় ও পরে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে থাকে। এছাড়াও কিছু বিষয় বার বার গরম হওয়াকে প্রভাবিত করে। যেমন-ওলান প্রদাহ রোগ বার বার গরম হওয়ার হার বৃদ্ধি করে ও উৎপাদন কমিয়ে দেয়। দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর। বাচ্চা প্রদানের সংখ্যার ওপর। জটিল প্রসবের ঘটনা। প্রথম প্রজনন করানোর আগে চিকিৎসা দেয়া প্রভৃতি।
চিকিৎসা
১. প্রাথমিকভাবে গাভীর গরম হওয়ার সময় লিপিবদ্ধ করে বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে গাভীটি কাছাকাছি সময়ে গরম হচ্ছে অথবা দেরিতে গরম হচ্ছে।
২. ৩ বার প্রজনন করানোর পরও গর্ভধারণ না করলে আবার প্রজনন করানোর আগে ভালোভাবে ভেটেরিনারি ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করতে হবে।
৩. প্রজনন করানোর সময় গাভীকে ১০০-৫০০/s ciuw 1/s প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৪. জরায়ুতে গরম হওয়ার সময় ৮ম ঘণ্টা ও ৪তম ঘণ্টায় Penicillin (40 lac) প্রয়োগ করা যেতে পারে।
প্রতিরোধ
১. সঠিক সময়ে প্রজনন করতে হবে। গরম হওয়ার ১২ ঘণ্টা পরে ও ১৮ ঘণ্টার মধ্যে।
২. গাভী গরম হলে দুধের Progesteron level খুব কমে যায়। Progesteron এর মাত্রা নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দেয়া যায়।
৩. প্রজননকারীকে সতর্কতার সাথে গর্ভে বাচ্চা আছে কিনা তা দেখে নিয়ে তারপর প্রজনন করতে হবে।
৪. প্রজনন করানোর সময় গাভীকে কোনো প্রকার ধকল দেয়া যাবে না যেমন- অনেক দূর হেঁটে নিয়ে যাওয়া, খাদ্য পরিবর্তন করা ইত্যাদি।
৫. পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য দিতে হবে।
৬. ভালো বীজ ও দক্ষ প্রজননকারী দ্বারা প্রজনন করাতে হবে।
৭. প্রয়োজনে ২ বার প্রজনন করানো যেতে পারে।
৮. প্রজনন করানোর পর ৩ সেকেন্ড গাভীর ক্লাইটোরিসে ম্যাসেজ দিতে হবে।
৯. প্রজনন করানোর পর গাভীকে ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে হবে।
গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন
সাধারণত ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি পদ্ধতির মাধ্যমে গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করাকে কৃত্রিম প্রজনন বলে।
কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য উন্নত ষাঁড়ের শুক্রাণু ব্যবহার ও সুস্থ্য গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করতে পারলে বছরে বাচ্চা উৎপাদন দু’লক্ষেরও বেশি পাওয়া সম্ভব। গাভী ডাকে আসার ১২ থেকে ১৮ ঘন্টার মধ্যে গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন করাতে হবে। একটি ষাঁড়ের বীজ থেকে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৮০টি গাভীর প্রজনন করানো সম্ভব।
কিন্তু কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ গাভী প্রজনন করানো যায়। স্বাভাবিকভাবে একটি ষাঁড়ের সর্বমোট ৭০০ থেকে ৯০০টি বাছুর প্রসবে ভূমিকা রাখতে পারে।
কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অনেকাংশে সংক্রামক ব্যাধি রোধ করা যায় এবং গাভী ষাঁড়ের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয় না। আমাদের দেশে ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন বা সংস্থাপনে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় গাভীর উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়।
বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ষাঁড়ের অভাব থাকায় কৃত্রিম প্রজনন জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু কৃত্রিম প্রজননে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পদ্ধতিগত ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অসাবধানতা ও অনভিজ্ঞতার কারণে নানা সমস্যার সন্মুখিন হতে হয়।
রোগাক্রান্ত ষাঁড়ের বীজ গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করা হলে পরবর্তীতে দেখা যায় নানাবিধ সমস্যা। যার প্রভাব পরবর্তী বংশবিস্তারের উপর বর্তায়। এ ছাড়া অনেক গাভী বার বার গরম হয়ে থাকে।
রাসায়নিক দ্রব্য, ধূলিকণা, মাত্রারিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে খুব সহজেই ষাঁড়ের বীজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার যে সমস্ত জিনিস পত্রের সংস্পর্শে বীজ আসে তাতে রাসায়নিক পদার্থ থাকলেও বীজ নষ্ট হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বীজ তরল হলে কিংবা প্রজনন অঙ্গের বাইরে স্থাপন করা হলেও গাভী গর্ভধারণ করতে পারে না। ডিম্বাণু নির্গমনের আগে অথবা নির্গমনের পরে বীজ স্থাপন করলে গাভীর উর্বরতা হ্রাস পায়। তাই প্রথমবার বীজ স্থাপনের পর অন্তত ৬ ঘন্টা পর দ্বিতীয়বার বীজ স্থাপন করলে সুফল পাওয়া যায় বেশি।
বীজ স্থাপনের সময় প্রজনন অঙ্গ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে গাভীর নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। যেমন ব্রুসেলেসিস, ভিব্রিওসিস, ট্রাইকোমনোসিসসহ বিভিন্ন বংশগত রোগের সন্মুখিন হতে হয়। এ জন্য কোন সমস্যা দেখা দিলে প্রাণিচিকিৎকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
গাভী গর্ভবতী কিনা, নিয়মিত গরম হয় কিনা তা নির্ণয় করা, উন্নত ও উর্বর ষাঁড় নির্বাচন করা, গাভীর গর্ভধারনের ক্ষমতা নির্ণয় করা, গর্ভধারনের হার বৃদ্ধি করা, গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং ভেটেরিনারিয়ানের সাহায্যে গাভীর নিয়মিত পরিচর্যা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তার দিয়ে করতে হবে।

























