ড. বায়েজিদ মোড়ল
আজ ( ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ রোজ মঙ্গলবার) ঘটা করে মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মনিটরিং-০১ জনাব মোঃ শাহদত খন্দকার সাথে ৩ জন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে এসিআই প্রাণি কৌলি তত্ত্ব গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। কর্মকর্তাগণ হচ্ছেন গাজীপুর জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) ডাঃ মোঃ সেলিম উল্যাহ, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নার্গিস খানম এছাড়া শ্রীপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আশরাফ হোসেন ।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়িতে গড়ে উঠেছে এসিআই প্রাণি কৌলি তত্ত্ব গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্র। দেশী গাভীর দুধ যেখানে ১/২ লিটার করে দিত সেখানে শংকর জাতের গাভীর দুধ ১৫-১৬ লিটার করে দেয়। গবাদী পশুর কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে দেশের গো সম্পদ অনেক সমৃদ্ধ হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশী এখন বেসরকারীভাবেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হিমায়িত সিমেন তৈরী করছে, তাদের ভিতর অন্যতম এই এসিআই প্রাণি কৌলি তত্ত্ব গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্র।
২০১৩ সালে এসিআই প্রাণি কৌলি তত্ত্ব গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের কাজ শুরু হলেও ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এসে তারা ষাড় থেকে কৃত্রিমভাবে সিমেন সংগ্রহ করে হিমায়িত সিমেন স্ট্র দিয়ে সারাদেশের ডেইরি খামারীদের সেবা প্রদান শুরু করে । বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এসিআই জেনেটিক্সএর উৎপাদিত সিমেন পৌছে গেছে ও খামরীদের গরুর জাত উন্নয়নে সফলতা পেয়েছে।
প্রায় সাড়ে ৫ একর জমির উপরে প্রতিষ্টিত এই এসিআই প্রাণি কৌলি তত্ত্ব গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্র বা ক্যাম্পাস। হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান আছে ১০০% ৯৩% ৮৭% ও ৭৫%। শাহীওয়াল আছে ১০০% ও ৮৭% । এছাড়া দেশীয় জাত সংরক্ষন ও উন্নয়নের জন্য রেড চিটাগাং ক্যাটেল বা আরসিসি ষাড়ও আছে। এসব ষাড় থেকে সিমেন সংগ্রহ করার পর সেটা জার্মানীর বিখ্যাত মিনিটিউব কোম্পানীর যন্ত্রপাতি দিয়ে তৈরী ল্যাব । জার্মান থেকে ২ জন প্রশিক্ষক এসে এদের ট্রেনিং করায় এবং নিয়মিত জার্মানীর প্রশিক্ষকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করে করে এই ল্যাবের টেকনিশিয়ানরা দক্ষতা অর্জন করে এসিআই সিমেন স্ট্র তৈরী করে।

আমেরিকার বিখ্যাত কোম্পানী একসিলেটোরিজ ল্যাবের প্রধানও এসিআই এর এই ল্যাব পরিদর্শন করেন। এবং এনটিআরসি সুপারিশ করেছেন। এসিআই সিমেন বেস্ট এবং প্রতিটা ষাড় এনটিআরসি দ্বারা সার্টিফাইড হয়েছে।
এখানে শতাধিক ষাড়ের মধ্যে কিছু আছে প্রোডাকশনবুল, কিছু আছে টেস্টিং বুল, আবার কিছু আছে রিয়ারিং বুল।
কৃত্রিম প্রজননের কলা-কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এসিআই। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে অসংখ্য বেকার যুবক। ইতিমধ্যে এসিআই সিমেন ব্যবহার করে ভালো ফলাফল পাচ্ছে খামারিগণ এবং দারুনভাবে প্রশংসিত হচ্ছে । বতর্মানে সারাদেশে প্রায় ২০০০ এআই কর্মী নিয়োগ পেয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে খামারীদের কৃত্রিম প্রজনন সেবা দিচ্ছে।
সাধারণ প্রজনন হচ্ছে গাভীকে ষাড় দিয়ে প্রজনন করানো, আর কৃত্রিম প্রজনন হলো উন্নত প্রজাতির ষাড় থেকে কৃত্রিমভাবে বীজ সংগ্রহ করে, বিভিন্ন প্রসেসিংএর মধ্য দিয়ে একটা স্ট্র এর মধ্যে হিমায়িত করে রাখা এবং সেই বীজ আবার কৃত্রিমভাবে গাভীর জরায়ুতে স্থাপন করে দেওয়া। উন্নত জাতের বিদেশী ষাড়ের বীজ আমাদের দেশী গাভীর সাথে ক্রস করে যে বাছুর হয় তাকে বলে উন্নত সংকর জাতের বাছুর এবং উন্নত জাতের বাছুর হওয়া মানেই উন্নত জাতের গাভী, ও উন্নত জাতের ষাড়। ফলে দুধ বেশী করে দেয় এবং ষাড়ও অধিক মাংশলো হয়। যেটা আমাদের দেশের খামারীদের চাহিদা।

এসিআই এর প্রতিটা পন্য মান সম্মত হিসেবে সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত। তাই কোম্পানীর সুনামের কারনেই এসিআই সিমেনও খামারীদের কাছে গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে, কারন খামারীদের জন্য যা যা প্রয়োজন হয় তার সবকিছু এসিআইতে পাওয়া যায় বলে খামারীদের মুখে হাসী ফুটিয়েছে।
এসিআই নিবিড় গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে গাভীর উচ্চ গর্ভধারণ হার যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি । আজ ঘটা করে মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মনিটরিং-০১ জনাব মোঃ শাহদত খন্দকার সাথে ৩ জন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে এসিআই প্রাণি কৌলি তত্ত্ব গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। কর্মকর্তাগণ হচ্ছেন গাজীপুর জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) ডাঃ মোঃ সেলিম উল্যাহ, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নার্গিস খানম এছাড়া শ্রীপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আশরাফ হোসেন । তখন এসিআই প্রাণি কৌলি তত্ত্ব গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন মেহমানদের পুরো কেন্দ্রটি ঘুরে ঘুরে দেখান।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়িতে গড়ে ওঠা এসিআই প্রাণি কৌলি তত্ত্ব গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের খামার ব্যবস্থাপনা, গরুর খাদ্য ব্যবস্থাপনা, গরুর থাকার জায়গার পরিবেশ, সিমেন কালেকশন সেন্টার ও টেকনোলজি, সিমেন পরীক্ষার নিরিক্ষার ল্যাব, সিমেন ফিলিং, টেস্টিং, রেজিষ্ট্রেশন, হিমায়িতকরন ও সংরক্ষন কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এসিআই প্রাণি কৌলি তত্ত্ব গবেষনা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের সর্বাঙ্গিন সফলতা কামনা করেন। আরো বলেন সরকারের পাশাপাশীএসিআই দেশের গো সম্পদের জাত উন্নয়নে অগ্রনি ভুমিকা রাখছে।
























