কৃষি ও আমিষ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান লিখেছেনঃ খাদ্যের পিছনে ব্যায় ,শত শত শ্রমিকের বেতন ও সাথে আছে ব্যাংকের সুদ । এসবকিছু মিলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে দাড়ীয়েছে দেশের হ্যাচারী প্রাতষ্ঠানগুলোর ।
এক দিনের বাচ্চা ও ডিমের সামান্য বৃদ্বি পেলেই “যত দোষ নন্দ ঘোষ” হ্যাচারী মালিকদের । তোকমা লেগে দেওয়া হয় সিন্ডিকেটের । আর সাংবাদিকদের দিন রাত নজর আসে এসব উদ্যোক্তাদের উপর । সুযোগ সন্ধানী সুমন হাওলাদারের মত লোকগুলোও তখন খড়ক তুলে কোর্পোরেট কোম্পানিগুলোর উপরে ।

এখন হ্যাচারী মালিক বা পোল্ট্রি শিল্পের কর্পোরেট মালিকদের দৈনিক কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে । কিন্তু কেন ? কি কারনে এই লোকসান ? এসব জানার সময় নেই এখন সাংবাদিকদের !
প্রতি বাচ্চার মুল্য ৫/৮ টাকাতেও ক্রেতা মিলছে না । অনেক হ্যাঁচারী মালিককে বাঁধ্য হয়ে জীবন্ত বাচ্চা মাটির নিচে পুঁতে দিতে হচ্ছে ।
কই আমাদের দেশপ্রেমিক সাংবাদিক ভাইয়েরা । আসুন আমাদের দুর অবস্থায় আপনারা দুরে কেন ? আর কিছুদিন পর তো খাওয়ার মুরগী খুঁজে পাবেন না । বাচ্চা বিক্রি না হলে আপনাদের থালায় মাংস বা আমিষ আসবে কিকরে ? নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক হ্যাঁচারী মালিক এইভাবে তার দুঃখ্য ও ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন সাপ্তাহিক কৃষি ও আমিষের কাছে ।
বাচ্চার মুল্য কমে যাওয়ার কারন খুঁজতে গিয়ে জানা যায় । বাচ্চার উৎপাদন বেড়ে গেছে , কিন্তু ক্রেতা হ্রাস পেয়েছে ।বাজারে এখন সবজির মুল্য কম , পুর্বে বাচ্চার মুল্য ৬০ টাকা থাকাতে অনেকেই ঘড়ে বসে দেশীয় পদ্ধতিতে বাচ্চা উৎপাদন করে বিক্রি শুরু করে । এতে করে অনিয়ন্ত্রন হয়ে পড়ে বাচ্চার মুল্য ।
কর্পোরেট কোম্পানিদের মতে তাদের একদিনের একটি ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ৪৬/৫০ টাকা , পাশাপাশি সোনালী কালার বার্ড ( সোনালী ) একদিনের একটি বাচ্চার উৎপাদন খরচ পড়ে ৩৬/৪০ টাকা ।
এদিকে বাজারে তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীরা প্রান্তিক খামারীদের এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে বলে দাবী করছেন মাঠ পর্যায়ের খামার মালিকগন ।
এসব তৃতীয় পক্ষ ব্যবসায়ীরা সাধারন খামারীদের কাছ থেকে ব্রয়লার ১১০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করে বিক্রি করছেন ১৭০/৮০ টাকা কেজি । সোনালী কিনছেন ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন ২৩০ টাকা কেজি ।
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রান্তিক খামারী সালাহউদ্দিন, বাচ্চু ও শাহীন আক্ষেপ করে বলেন, আমরা এত কস্ট করে লালন পালন শেষে যা মুনাফা পাই তাতে আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় ।অনেক সময় লোকসানে বাচ্চা বিক্রি করতে বাধ্য হই আমরা।
আর চোখের সামনে কেজি তে ৪০ থেকে ৫০ টাকা মুনাফা করছে এসব ব্যবসায়ীরা । আসলে এরাই সিন্ডিকেট ।
সরকার তো চুপচাপ । যেদিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন বা ব্যবস্হা নেওয়া দরকার সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই । তারা জানেও না আসল সিন্ডিকেট কারা ? পাবনার নারী উদ্যোক্তা রোমেলা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন , আমাদের প্রানিসম্পদে কোনো সংস্কার নাই । আপা হুদায় ফিটা কাটে , আর এটা হবে ,এটা করব বলে পুর্বের মন্ত্রীদের মতই একই ডায়লগ শুনি । আসলে আমাদের আমলারা ওনাকে যা বুঝায় উনি ঐ সুরেই কথা বলেন ?

আমাদের গলার কাঁটা তৃতীয়পক্ষ, এদেরকে উৎখাত করলেই আমাদের শান্তি, কর্পোরেটদের শান্তি । শান্তি ভোক্তা সাধারণের । বললেন কাপাসিয়ার খামার মালিক রইসউদ্দীন ।
গতবছর সরকারের কৃষি বিপনন কেন্দ্র হতে ডিম মুরগির বিক্রয় মুল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় । তাদের দাবি এই মুল্য যৌক্তিক । নিচের ছকের মুল্য নির্ধারণ যদি পর্যালোচনা ও যৌক্তিক গবেষনা করা যায় তাহলে সহজেই অনুমেয় করা যায় যে আমাদের সরকারের তথা কৃষি বিপনন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা যারা এই বিক্রয় মুল্য নির্ধারণ করেছেন তারা কতটুকু এই সেক্টরের উপর জ্ঞান রাখেন বা জানেন ।
যেখানে তৃতীয় পক্ষ কেজিতে নিম্নে ২০ , উর্ধ্বে ৪০ টাকা লাভ করছেন সেখানে কৃষি বিপনন কেন্দ্র উৎপাদককে ৮ টাকা লাভ ধরিয়ে দিচ্ছেন ।
সুত্র বলছে আসন্ন বাজেটে এবার পোলট্রির শুল্ক মুক্ত থাকবে না , এ যেন মরার উপর খড়ার ঘা । যদি সরকার এধরনের কোনো চিন্তাভাবনা করেই থাকে তবে তা হবে এই শিল্পের জন্য আত্মঘাতী । ডিম এবং মুরগি উৎপাদনের উপর এক বিরাট প্রভাব পড়বে । সহজলভ্য এই এনিমেল প্রোটিন সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে । পার্শ্ববর্তী দেশে লাইভস্টক এ সরকার বড় ধরনের ভর্তুকি দিয়ে আসছে যুগের পর যুগ । আমাদের এখানে শুল্ক মুক্ত থাকাতে শিল্পে সামান্য হলেও উপকারে আসতো ।
হ্যাঁ এ কথা ঠিক কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই শুল্ক মুক্তর সুযোগ সুবিধা অন্যভাবে গ্রহন করছেন । তবে এর জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্হ আছে , তারাই খুঁজে বের করুক কারা এই সুযোগ সন্ধানী, শাস্তির ব্যবস্হা নিশ্চিত করুক তারাই । মুস্টিমেয় অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য বৃহত্তর পোলট্রির ক্ষতিসাধন কাম্য নয় । আশাকরি সরকার যন্ত্র বিষয়টি বিবেচনা করবেন ।



























