RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

মাছ চাষ ভাগ্য গড়ায় শূন্য হাতের আরব আলী আজ কোটিপতি

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

মাছ চাষ ভাগ্য গড়ায়. শূন্য হাতের আরব আলী আজ কোটিপতি
ড. বায়েজিদ মোড়ল

জীবন মানেই সংগ্রাম। জীবন থাকলেই সংগ্রাম থাকবেই। এই জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়া মানুষের সংখ্যা কিন্তু বেশী নয়। বিএ পাশ করার পর চাকরি খুজতেচিলেন তখন ভারো কোন চাকরি না পেয়ে বেকার সময় কাটাচ্ছিলেন। ওদিকে ওর বাবার আর্থিক অনাটনের কারনে এমএ ভর্তি হয়েও পড়াশুনা ছেড়ে আয়ের পথে বেরিয়ে পড়েন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার কুমারগাতী ইউনিয়নের ডেওয়াখোলা গ্রামের আরব আলী। ময়মনসিংহ এলাকটাই অনেক আগে থেকেই মাছ চাষের জন্য এগিয়ে ছিলো। আশ পাশে কেউ কেউ তখন বাণিজ্যিক মাছ চাষ শুরুও করেছিলো। ২৫-২৬ বছরের যুবক তখন আরব আলী বিএ পাশ করে বেকার ঘুরে বেড়ায়। আর বেকার ছেলেকে পরিবারসহ আতœীয় স্বজন কেহই ভালো কথা বলে না শুধু বলে সবাই চাকরি বাকরি করে তুই কি করিস কিন্তু কেউ একটা চাকরি দেয় না কিংবা কেউ ভালো বুদ্ধি দেয় না। একদিন এক পুুকুরের পাশে বসে ছিলো সারাটাদিন সেই পুকুরের পাশে বসে বসে ভাবতেছিলো কি করবেন। সকাল এগারোটার দিকে একবার এসে পুকুরের মালিক পুকুরের মাছ খাবার খাওয়ায় গেলো আবার বিকালে এলো পুকুরের মালিক মাছকে খাবার খাওয়াতে। তখন ঐ লোকের সাথে বসে পাঙ্গাশ মাছ চাষের ব্যাপারে কথা বলেন। কোথায় মাছের পোনা পাওয়া যাবে? কোথায় খাবার পাওয়া যাবে? মাছের রেডি খাবার দিতে না পারলে কি দিতে হবে ! প্রতিবেশি ঐ লোকের মুখে তার মাছ চাষের গল্প শুনে মনে মনে ভাবলেন আমিতো মাছ চাষ করতে পারি। বসে না থেকে কিছু একটা করি। যা হয় হবে। ওর বাবাকে বলল সে মাছ চাষ করবে কিন্তু ওর বাবা ছেলের এমন ইচ্চার কোন গুরুত্বই দিলো না। আর সব বাবা মা আশা করে ছেলে লেখা পড়া শিখে সরকারের কোন বড় অফিসার হোক। আজ এই ৪১ বছরে পা দেওয়া উদিয়মান তারুণ্যভরা যুবক ১৯৯৮ সালে ২৬ বছর বয়সে ক্ষুদ্র পরিসরে পাঙ্গাশ চাষ শুরু করেন। বাড়ীর পাশে ডোবা পৈত্রিক ৪ কাঠা জমির একটি ছোট্ট পুকুরে ৬ হাজার পাঙ্গাশ মাছের পোনা ছাড়েন বাকিতে। পরে বাবার কাছে হাত পা ধরে সেই পোনার দাম দেন।এভাবে তিনি শুরু করলেন পাঙ্গাশ মাছ চাষ।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

পুকুরের পাড়ে একটি চায়ের দোকান ছিল সে চা দোকানদারকে বলেছিলো চায়ের উচ্ছিষ্ট বর্জ তার পুকুরে ফেলতে। এতে দুজনেরই উপকার হয়েছিলো। চায়ের দোকানদার সারা দিনের উচ্ছিষ্ট ফেলতে তার জন্য কষ্টকরে দুরে যেতে হতো, পাশাপাশী আরব আলীর জন্য মাছের খাবার হিসেবে চায়ের উচ্ছিষ্ট বর্জ উপকার হলো। এরপর বাবার কাছ থেকে আর কোন টাকাও আনতে পারলেন না আর মাছের জন্য পিলেট খাবারও কিনতে পারলেন না। তারপরও আশা ছাড়লেন না রাস্তায় গুরুর গোবর দেখলে নিজের হাতে গোবরটুকু কুড়িয়ে এনে পুকুরে ফেলতেন। ৭-৮মাস পরে একদিন পুকুরে জাল ফেরলেন দেকলেন পুকরে অনেক মাছ হয়েছে সেদিন কিছু মাছ বিক্রি করলেন। সেই টাকা দিয়ে বাবার কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরত দিতে গেলেন তখন ওর বাবা বলল ‘টাকা ফেরত দিতে হবে না। এই টাকা দিয়ে বাকি মাছকে খাবার কিনে খাওয়াও দেখ তোমার লাভ হবে।’ মাছের খাবার কেনা শুরু করলেন। আর বছর শেষে মাছ বিক্রি করে পেলেন ১ লাখ ২ হাজার টাকা। প্রথম বছর উৎপাদন ভাল হওয়ায় তিনি আরো বেশী মাছ চাষে আগ্রহী হলেন এবং ১৯৯৯ সালে অন্যের ২ টি পুকুর লিজ নিয়ে চাষ শুরু করলেন। খরচ খরচা শেষে বছর শেষে লাভ হলো ৩ লাখ টাকা। আরো উদ্যোমী হলেন এর পরের বছরই ২০০০ সালে ৪টা পুকুর লিজ নিয়ে ভাল লাভ করলেন এবং জমি কিনে পুকুর কেটে মাছ চাষের পরিধী বাড়াতে লাগলেন। ২০০৩ সালে এসে আরব আলী আরো ৪টা পুকুর লিজ নিলেন মোট ৮টি পুকুরে পাঙ্গাশের সাথে যোগ করলেন রুই কাতলা মৃগেল থাই পুটি চিলবারকার্প আর মনোসেক্স তেলাপিয়া। পেলেন অভাবনীয় সাফল্য। প্রতি বছর ব্যবসা ভাল হয়, ক্রয় করেন জমি বাড়তে থাকে পুকুরের সংখ্যা। ২০০৪ সালে জমি কিনে আরো দুটি পুকুর খনন করেন মোট ১০টি পুকুরে মাছ চাষ করেন । ঐ বছরই তিনি শুরু করেন থাই কই এর চাষ। জীবনে আসে নতুন মাত্রা। চার মাসের এই ফসল ঘুরিয়ে দেয় তার জীবনে মোড়। মাছ চাষের সবচেয়ে বড় খরচ হচ্ছে মাছের খাবার। মাছের খাবার খরচ কমানোর জন্য নিজেই শুরু করলেন ফিসফিড উৎপাদন। তিনি যে খাবার পুকুরে দিতেন, দেখা যেত সেই খৈল ভুষি ধানের কুড়া পানির সাথে মিশে পানি নষ্ট হয়ে যেত।

ভুট্টা, গমের আটা, শুটকি মাছের গুড়া, সরিষার খৈল, ময়দা ইত্যাদির মিশ্রনে হয় ফিসফিড। কাঁচামালগুলো যেহেতু সহজ লভ্য তখন তিনি মুক্তাগাছা বাজার সংলগ্ন এলাকায় গড়ে তুলেন একটি ফিসফিড মিল ২০১১ সালে। এ মিলে প্রথম দিকে প্রতিদিনের উৎপাদন ছিল ১০ টন বর্তমানে ৬০-৭০ টন পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে। নিজের মাছের খাবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত খাবার বাজারে বিক্রি করেন তিনি। তার উৎপাদিত ফিসফিড দিয়ে এখন মুক্তাগাছার সব বড় বড় মাছের খামারগুলো চলছে। তার নিজস্ব ও লিজ নেয়া প্রায় দেড়শো একর জমির উপর ৬০টি পুকুর। ফিডমিল পুকুর মিলে বর্তমান কর্মরত আছেন ৮২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। কাঁচামাল সংগ্রহ খাদ্য সরবরাহের জন্য ট্রাকও কিনেছেন দুটি। এছাড়া তার ১০ বিঘা জমিতে চাষ হয় ধান আর বিভিন্ন শাকসবজী।

তার সম্পত্তির মোট মূল্য এখন কয়েক কোটি টাকা। তিনি বলেন মানুষের নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস এবং সে যা ভাবছে সেভাবে যদি কাজ করে এবং তার চিন্তা চেতনা যদি সৎ হয় তাহলে সাফল্য আসবেই। মাছ চাষ কম ঝুকির ব্যবসা। পরিকল্পিত ভাবে চাষ করতে পারলে ব্যাঙ্কের টাকার মত। ব্যাঙ্কের টাকা রাখলে সাপ্তাহিক বন্ধ আছে সকাল বিকাল সন্ধ্যা আছে কিন্তু পুকরে মাছ থাকলে সকাল বিকাল রাত যখন টাকার প্রয়োজন হবে, তখন মাছ বিক্রি করে টাকা পাওয়া যাবে। আরো বলেন মাছ চাষের জন্য একটি পুকুরের মাছ বিক্রি করতে হবে। সেই টাকা দিয়ে আর একটি পুকুরের মাছকে খাবার খাওয়াতে হবে। এক সাথে সবগুলো পুকুরে ইনভেষ্ট করতে গেলে সামাল দেওয়া খুব জটিল হয়।

আরব আলী পাঙ্গাশ চাষের ব্যাপারে অন্যান্য খামারী ও নতুন খামারীদের অনেক ধরনের বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, পুকুরের পানির পরিবেশ ভালো রাখার জন্য অবস্থা বুঝে পুকুরের পানি আংশিক পরিবর্তন করতে হবে এরপর প্রতি ১৫দিন অন্তর শতকে ২৫০ গ্রাম হারে চুন ও খাবার লবন একত্রে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়াও অবস্থা বুঝে শতকে ২৫০ গ্রাম হারে পটাশ সার প্রয়োগ করতে হতে পারে। এ সকল পদক্ষেপ ছাড়াও পুকুরের তলদেশে জমে থাকা ক্ষতিকর গ্যাস অপসারনের জন্য ২-৩দিন পর পর দুপুরের সময় পানিতে নেমে অথবা হররা টেনে পানির ততদেশ আলোড়িত করার ব্যবস্থা করতে হবে।পুকরে গ্যাস সৃষ্টির প্রধান কারণ খাদ্যের উচ্ছিষ্টাংশ জমা হওয়া। খাদ্য প্রয়োগের সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য কোন ক্রমেই পুকুরে প্রয়োগ করা যাবে না। মাছ চাষে পুকুরের পানি অধিক সবুজ, পুকুরের তলদেশে গ্যাস সৃষ্টি হওয়া ও পানিতে দ্রবীভুত অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দিলে অনেক সময় কিছু মারাও যেতে পারে। পুকুরের সার্বিক পরিবেশ ভালো রাখার জন্য জিওলাইট, একুয়াম্যাজিক এবং ক্ষতিকর গ্যাস হতে মাছ রক্ষার জন্য গ্যাসনেক্স ব্যবহার করা যেতে পারে। অক্সিজেনের অভাব হলে পুকুরে পানি দেবার ব্যবস্থা করতে হবে।পুকুরের পানি অধিক সবুজ হয়ে গেলে পুকুরে খাদ্য প্রয়োগ কমিয়ে দিতে হবে। তখন তুতে বা রাসায়নিক বøু লেগুন ব্যবহার করে সাময়িকভাবে সবুজ ভাব পাইটোপ্লাঙ্কটন দুর করা গেলেও তা ক্ষণস্থায়ী হয়। পুকুরে অধিক ঘনত্বে মাছ থাকলে খাবার দিলে তখন মাছ পানির উপরের স্তরে চলে আসে তখন শিকারী পাখির উপদ্রব হতে পারে।এভাবে ৮-৯ মাস চাষের পর পাঙ্গাশ মাছ গড়ে প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ গ্রাম ওজনের হয়ে যায়। এ সময় পাঙ্গাশ মাছ বাজারে পাঠানোর উত্তম সময় । এরপর মাছ পুকুরে থাকলে মাছের খাবার খরচ বৃদ্ধি পায়।

২০১২ সালে পাঙ্গাসের পোনা ক্রয়সহ তার আনুসাঙ্গিক খরচ হয়েছিল ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।যেখানে সে বছর শুধুমাত্র এই পাঙ্গাস থেকে আয় করেন ১০ কোটি লাখ টাকা। আর আরব আলী এ সব সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১১ সালে ৭ জুলাই রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় রোপ্য পদক লাভ করেন। এছাড়াও মৎস্য খাদ্য প্রস্তুতিতে তিনি পেয়েছেন জাতীয় মৎস্য পুরষ্কার ২০১২।

সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

উপকূলে লবনাক্ততা ও প্রতিকুলতা সহিষ্ণু ফেলন ডাল চাষে বাম্পার ফলন ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার

উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে ৫৫ হাজার দরিদ্র পরিবার উপকৃত হয়েছে -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

জার্মান সফররত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী জার্মানের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ নিয়ে গবেষণা ও বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান

গবাদি প্রাণীতে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি

গরুর রক্ত প্রস্রাব বা ব্যাবেসিওসিস রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও ঔষধ

রমজানে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংসের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন// মানুষ যাতে সাধ্যের মধ্যে দুধ, ডিম ও মাংস কিনতে পারেন সেজন্য ভ্রাম্যমান বিক্রয় কার্যক্রম – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

উপকূল বাঁচাতে বনায়ন ও কৃষি সংরক্ষণ জরুরি।—পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

কোন গরুতে বেশি লাভ দুধের খামার নাকি মোটাতাজাকরণ ?

অ্যানথ্রাক্স সচেতনতা

রসুন খাওয়ার উপকারিতা ও সতর্কতা