
আশা জাগিয়েও বাংলাদেশে কেন ব্যর্থ হলো কাদাকনাথ বা কড়কনাথ মুরগি?
কাদাকনাথ , যাকে কালী মাসি (“কালো মাংসের মুরগি”)ও বলা হয়, এটি একটি ভারতীয় প্রজাতি । এদের উৎপত্তিস্থল মধ্যপ্রদেশের ধর এবং ঝাবুয়া ।
এই পাখিগুলি বেশিরভাগই গ্রামীণ এবং উপজাতিদের দ্বারা প্রজনন করা হয়।
তিনটি জাত রয়েছে: জেট ব্ল্যাক, গোল্ডেন এবং পেন্সিলড।
এই জাতের মাংসের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক (GI ট্যাগ) ট্যাগ রয়েছে যা ৩০ জুলাই ২০১৮তারিখে ভারত সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল।কাদাকনাথ মুরগী বা কড়কনাথ বা ব্ল্যাক মিট চিকেন, যার মাংস, ত্বক এবং এমনকি হাড়ও কালো, এর উচ্চ পুষ্টিগুণ ও ঔষধি গুণের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি দেশীয় জাত। বাংলাদেশে এর ব্যাপক চাহিদা ও উচ্চ বাজারমূল্যের কারণে অনেক খামারি এর চাষ শুরু করেছিলেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি।
কড়কনাথ মুরগি বা কাদাকনাথ মুরগী ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণগুলো

১. জলবায়ু ও পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে ব্যর্থতা:
কাদাকনাথ মুরগী বা কড়কনাথ মুরগির আদি নিবাস ভারতের শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ুতে। কিন্তু বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং আর্দ্র আবহাওয়া, বিশেষ করে বর্ষাকালে, তাদের জন্য অনুকূল নয়। এই অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার কারণে তারা সহজেই রোগাক্রান্ত হয়।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম:
আমাদের দেশী মুরগির তুলনায় কড়কনাথ মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। রাণীক্ষেত, ফাউল পক্সের মতো সাধারণ রোগগুলোও তাদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে মৃত্যুর হার অনেক বেশি হয়। ছোট আকারের, বায়ো-সিকিউরিটি ছাড়া খামারে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়।

৩. খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা বেশি:
এই মুরগিগুলোর সুস্বাস্থ্য ও দ্রুত বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার প্রয়োজন। সাধারণ খাবারের চেয়ে কাদাকনাথ মুরগী বা কড়কনাথ মুরগির জন্য বিশেষ খাবার অনেক ব্যয়বহুল। ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়, যা ছোট খামারিদের জন্য লাভজনক নয়।

৪. বাজার ও ক্রেতার অনভ্যাস:
কাদাকনাথ মুরগী বা কড়কনাথ মুরগির মাংসের দাম সাধারণ মুরগির চেয়ে অনেক বেশি এবং এর কালো মাংসের চেহারা অনেক ভোক্তার কাছে অপরিচিত। ফলে একটি বড় বাজার তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং উচ্চ মূল্য ও চাহিদা উভয়ই সীমিত থাকে।

৫. উৎপাদন খরচ বেশি:
কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, উচ্চ মৃত্যুহার, বিশেষ খাবারের চাহিদা এবং বাসস্থান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা মিলিয়ে কাদাকনাথ মুরগী বা কড়কনাথ মুরগি পালনের খরচ অনেক বেশি। ফলে আশা অনুযায়ী লাভ হয় না।
পরিশেষে বলা যায়, কাদাকনাথ মুরগী বা কড়কনাথ মুরগি বাংলাদেশের বড় বাণিজ্যিক খামার, যেখানে জলবায়ু ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আছে, সেখানে লাভজনক হতে পারে। তবে আমাদের দেশের ছোট ও মাঝারি আকারের খামারিদের জন্য এটি এখনো একটি চ্যালেঞ্জিং জাত।
























