RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

ছোট গল্প : শিরোনামহীন

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

চারিদিকে নিশ্চুপ শুধু বৃষ্টি পড়ার রিমঝিম শব্দ। আকাশ শুধু বিজলী চমকায় কেঁদেই চলেছে। আর বেয়াকুবের মত দাড়িয়ে আছে এই বাস্তব প্রকৃতি। এখন সবকিছু প্রকৃতির ধরা ছোয়ার বাইরে। সবার মনটা কেমন গলে আসে এমন সময় চোখে শিতল স্নিগ্ধ ও নরম পরশ লাগে ঘুম আসে যায়। আমারও কেমন ঘুম ঘুম আসছিল তবুও ঘুমাতে যেতে পারলাম না। কারন কেমন যেন একটা অস্থিরতা আমার ভিতর কাজ করছিল। আমি বার বার বিদ্যুতের সুইচ টিপতে লাগলাম কিন্তু বাল্ব জ্বলেনা। আমার খেয়াল নেই যে এখন বিদ্যুৎ অফ আছে। বৃষ্টি হলে সাধারনত বাংলাদেশের বিদ্যুতের কেন্দ্র উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সাপ্লাই বন্ধ রাখে। কারন আকাশ থেকে বৈদ্যুতিক লাইনের উপর বর্জ্য পড়ে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তার চেয়ে বড় যেটা সেটা হচ্ছে ঔ সময়টুকু বিদ্যুৎ সাপ্লাই বন্ধ রাখলে কিছুটা লোড শেডিং কমে। এছাড়া বাংলাদেশে লোড শেডিং এর জন্য দিনে সর্বদা ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় শিল্প এলাকায়। আর গ্রামাঞ্চলে তো ৬ থেকে ৮ঘন্টার বেশী থাকে না। ঘুম ঘুম চোখে একটি বই নিয়ে বিছানার উপর কাত হয়ে পড়তে গেলাম, পারলাম না। ভাবলাম যাই কিছু একটা লিখি তাই লেখা শুরু করলাম এই কাহিনী…

শিরোনামহীন
(গল্পের নায়ক মুন্নার রুমমেট টিপুর কাছ থেকে পাওয়া কিছু তথ্য, নায়িকা তমালিকার মুখে শোনা কিছু কথা বাকিটা কল্পনা)
১২/০৬/১৯৯৭ শুরু ১০/১১/২০১১ শেষ।

 

খুলনার সরকারী বি.এল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক ছাত্র মুন্না। একই সাথে পড়াশুনা করত নুসরত। নুসরত ধনী পিতার একমাত্র কন্যা। আচার আচরন খুব লাজুক স্বভাবের। সকলের সাথে মিশতে চায় না, কথা বলতে চায় না। নিজেকে খুব অহংকারী মনে করে।
মুন্না ও নুসরত দুজন পরস্পর দুজনকে চেনে ও জানে। সবাই ভাবে ওদের গভীর বন্ধুত্ব স্থাপন হয়েছে। মুন্না ছিল ডানপিটে ছেলে, সারাক্ষন ক্যাম্পাসে গ্যাঞ্জাম ফ্যাসাদ করে বেড়াত। নুসরতের একটি কথায় ‘মুন্না, তুমি গ্যাঞ্জাম ফাসাদ কর কেন? তুমি যেটা কর ওসব ভাল না।’
ব্যাচ এতে মুন্না গ্যাঞ্জাম ফ্যাসাদ করে না। সকলের সাথে প্রীতি সুরে কথা বলে। কেউ ওকে বকনী কিংবা বেশি কিছু বললে ও কোন উত্তর করে না। এক সময় দলের বড় বড় নেতারা ওকে কর খাজনা দিত, তারা ওকে ব্যবহার করত। ও যার কাছে যা চাইত চাওয়ার সাথে সাথে পেয়ে যেত। এক দম দেরী করত না, কোন নেতা। সারা ক্যাম্পাসে নেতাদের সম্মান করা হত। আর নেতারা ওকে যেমন ব্যবহার করত, তেমনি ভয়ও করত। কারন যে কোন সময় ও যে কোন ব্যক্তির উপর চোখ উল্টায় দিতে পারে। আর সেই মুন্না, নুসরতের এ এক কথায় সব কিছু ত্যাগে করে ফেলেছে। নেতারা ওর উপর ক্ষিপ্ত। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে অগ্নিম। কাজ বাকী। পরে তাদের টাকা ফেরত দিয়েছে। বলেছে ভাই আপনি আমার সামনে যা বলেছেন, আপনি যাহা করতে বলেছেন, আমি তাহা আজীবন গোপন রাখব। আমাকে আর ও পথে পাবেন না। আমাকে একটি বার ভাল হওয়ার সুযোগ দিন।

কাকুতি মিনতি করে কথাবলা শুনে সবাই অবাক হয়েছে। সারাক্ষন নুসরতের একটু সানিধ্য পাওয়া যায় কিনা সে চেষ্টা করেছে।

নুসরতের আর একটি কথায়
-মুন্না তুমি সিগারেট খাও কেন? আর তুমি যাদের সাথে আড্ডা দাও, তাদের ভাল মনে হয় না।
মুন্নার যে বদ অভ্যাস ছিল মাঝে মাঝে বাংলা মদ খাওয়া, তাড়ী খাওয়া, গাঁজা, সিগারেট, বিড়ি খাওয়া। সব কিছু ত্যাগ করেছে। ওর সব বন্ধু হতবাক, যারা প্রতিদিন ওর কাছ থেকে সিগারেট খেত। যারা ওর সিগারেট খাওয়ার আশায় ওর সাথে আড্ডা দিত। যাদেরকে ও নেশা করিয়ে পিছু পিছু রাখত, কাজ করাত। আজ তারা কেউ ওর কাছে দাড়াতে পারছে না। ওর কাছে আসা মাত্রই দুর দুর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের সাথে ও আর আড্ডা দেয় না। ওরা যেখানে থাকে, সে জায়াগায় আড্ডা মারে না। এমনকি তার আশে পাশেও যায় না। শান্ত শিষ্ট ভাল ভদ্র ছেলের মত চলা ফেরা করে। যারা একদিন ওকে ভয় করত। আজ, ও তাদের ভয় করে। কখনো এলো পাতাড়ী ঘোরা ফেরা করে না। সকলের সাথে বিনয়ি ও মার্জিত ভাষায় কথা বলে।
নুসরতের আর একটি কথা
-তুমি চুল বড় রাখ কেন?
চাঁদাবাজী মাস্তানী পলিটিক্স করতে গেল সম্ভাবত চুল বড় রাখলে একটু ভাল দেখা যায়। কেউ বড় রাখে আর কেউ কেউ আর্মি কাটিং ছাট দেয়। তেমনি মুন্নার মাথাার চুলগুলো বড় ছিল। মানে ফ্যাশানের চুল। যেমন-সিনেমায় নায়করা চুল বড় রাখে ঠিক তেমনি। অর্থাৎ বড় চুলের জন্য মুন্নাকে খারাপ দেখাতো তা নয়। তবে বলা যায় আরো বেশী ভাল দেখাতো। সেই বড় চুলগুলো মুন্না সেলুনে যেয়ে কেটে ছোট করেছে। প্রতিদিন একবার সেভ হয় আর সপ্তাহে এক বার চুল কাটায়। হাতে পায়ের নখ তো কোন দিন বড়ই হতে পারে না। কারন পকেটে থাকে চাবির রিং এতে সংযোজিত সিজার। তা দিয়ে প্রতিদিন নখ কাটে এবং নখ পরিস্কার করে। তারপর সারাক্ষন দামী দামী পারফিউম ব্যবহার করে। প্যান্ট এর সহিত ম্যাচ করে শাট পরে সুট পরে সু পরে। অর্থাৎ সারাক্ষন পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখে নিজেকে নুসরতের সামনে। যাতে নুসরত ওর প্রতি আকৃষ্টি হয়। সেই সাথে ও প্রতি দিন বাসায় ফিরে রাত জেগে জেগে ডায়রী লেখে…
প্রিয়তমা তোমায় ভালবেসে আমি সব কিছু করিতে পারি, পাড়ি দিতে পারি উত্তাল তরঙ্গিত সমুদ্র। বরপে ভাসমান আটলান্টিক মহাসাগর। উঠতে পারি হিমালয় পবর্তের শীর্ষ চুড়ায়। ভাঙ্গতে পারি পৃথিবীর সব চেয়ে বৃহৎ অট্রালিকা।
প্রিয়তমা তুমি আমার মনের কথা বুঝ না। যদি বুঝ তবে আমার প্রতি সদয় হয়ে কাজ কর না কেন? আমাকে তুমি আর কতদিন লুকিয়ে রাখবে। এভাবে লুকিয়ে রাখলে তো আমি হারিয়ে যাব।
প্রিয়তমা তোমাকে ভালবাসতে বাসতে আমিতো তোমার হয়ে গেছি। কেন তুমি আমাকে কবুল বলে গ্রহন করছ না? তোমার এমনি লুকোচুরিতে আমি শেষ হয়ে যাব। বল তুমি কখন আমার হবে? কখন তোমায় পাব?

মুন্নার ঘরে আসে একমাত্র তমালিকা। তমালিকা ছাড়া আর কাউকে ওর ঘরে আসতে দেখা যায় না। তমালিকা হচ্ছে- মুন্না, তমালিকার মাকে খালাম্মা বলে ডাকে সে সুত্রে খালাতো বোন। তমালিকা মুন্নার মাত্র দুই ইয়ার জুনিয়ার। দেখতে শুনতে খুব সুন্দরী। মুন্নার তমালিকাদের বাসায় যাওয়ার পর থেকে এলাকার সবাই ধরে নিয়েছে এদের ভিতর কোন রকম যোগ সুত্র স্থাপন হয়েছে। অনেকে একথা বলেও ফেলে মুন্নার সাথে তমালিকার বিয়ে হবে।

মুন্নার এই ডায়রি প্রতিদিন তমালিকা এসে পড়ে। তমালিকাকে মুন্না আবার তমা বলে মাঝে মাঝে ডাকে। তমালিকা ধরে নিয়েছে মুন্না তমালিকার জন্যই এ ডায়েরী লিখছে। তাই মনের অজান্তে তমা হারিয়েছে মুন্নার ভিতর। সেই সাথে ডায়রির কথা মত ওর চাল-চলন, কথা-বার্তা অঙ্গ ভঙ্গি দেখায়। কিন্ত তাতে মুন্না তেমন সন্তুষ্ট হয়না। তমার কাছে ধরা দেয় না। তমা নিজেকে একেবারে মুন্নার কাছে বিলিয়ে দেয়। তাতে মুন্না তমাকে গ্রহন করে না। এমন ভঙ্গি দেখায় যা আপন ভাই বোনের মাঝেও এমন ভঙ্গি দেখা যায় না। অনেক কিছু ভাবনার পর তমা একদিন মুন্নাকে নিয়ে গেল নদীর ধারে এক নিরিবিলি পরিবেশে। পাশাপাশী বসে দুজন সুর্য অস্তমিত হচ্ছে। সন্ধ্যার কালো ছায়া আর একটু পরেই নেমে আসবে। আকাশ বাতাস সব নিশ্চুপ। কবি সাহিত্যিকের প্রিয় সময়। এমনকি পৃথিবীর প্রতিটা প্রানীর, প্রিয় সময় এটা। যেমন সারাদিন শেষে পাখী ঘরে ফিরে। কিচির মিচির করে এই সময়। মানুষের এই সময়টা হাতে কাজ থাকে না। এমনকি প্রতিটা প্রানী সব কিছু ফেলে আপন জনের সাথে মিলিত হবার জন্য কাছে আসে। সে রকম রোমান্স সমৃদ্ধ সময়ে ছোট উপন্যাসের মত এক খানা চিঠি বের করে মুন্নার হাতে দিল তমা।

মুন্না এইটা কি? বলে পড়তে শুরু করল।
তারপর হাসি মুখে তমালিকার হাত দুটি ধরে মুন্না বলছে-আমার হৃদরের টুকরা প্রিয়তমা। তোমার চিঠিটা আমি পড়েছি। তুমি আমাকে খুব ভালবাস। আমিও তোমাকে খুব ভালবাসি কিন্তু তোমার আর আমার ভালবাসাটা একটু ভিন্ন। তুমি আমাকে যেভাবে নিয়েছ, আমি তোমাকে সেভাবে নিতে পারিনি। আমি মনে করি তুমি আমার পৃথিবীর সব চেয়ে বড় বন্ধু। তুমি নিজেকে ছোট কর না তমা।

তমা – মুন্না তুমি কি বলছ। আমি বুঝতে পারলাম না।
তমা মুন্নাকে চিরদিন মুন্না ভাই বলে সম্বোধন করে আর আপনি বলে কথা বলে। কিন্তু আজ আবেগে বিহŸল হয়ে তমা মুন্নার উপর প্রভাব ফেলেছে। মুন্না সেটা লক্ষ্য করছে।

মুন্না -তমা তুমি যাহা বুঝতে পেরেছ, সেটা সত্য নয়। যেটা বুঝতে পারনি সেটাই সত্য।
তমা -আমি যা দেখেছি। যা অনুভব করেছি। যা স্পর্শ করেছি। তাকি মিথ্যা?
মুন্না -মিথ্যাও নয়। তবে সত্যও নয়।
তমা – তোমার ডায়েরিতে যা লেখা, তার সব মিথ্যা? যদি মিথ্যা হয়! তা টেনে ছিড়ে ফেল।
মুন্না -না না, ডায়েরি মিথ্যা নয়। ডায়রি ১০০% সত্য।
তমা-তাহলে তুমি কেন আমার সাথে ছলনা করছ? বল, আমাকে ভালবাস। বল, আই লাভ ইউ।
মুন্না ভাবল এ সময় তমাকে স্পষ্ট কথা বলে ফেললে মনে ভিষন কষ্ট পাবে। যাক আস্তে আস্তে ও সব জেনে যাবে। তখন ঠিক হয়ে যাবে। আর এখন ওর সাথে মধুর সম্পর্কটা, নষ্ট করা উচিৎ হবে না। তাই প্রসঙ্গ চেঞ্জ করে।
মুন্না-আচ্ছা তমা, দেখ আকাশে কত পাখী। কেমন এক সাথে উড়ে যাচ্ছে। সবাই কি একই নীড়ে থাকে। কিংবা জলাশয়ে পড়ে। তমা কিছু বুজতে পারে না মুন্নার কথায়। তমা তাহলে চল এখন উঠা যাক। আজ তোমাকে খুব সুন্দরী মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে চিত্র নায়িকা পপি। হা হা হা বলে হাসল মুন্না।

তমা-মুন্না, তুমি খালি দুষ্টমী কর। আচ্ছা মুন্না, সত্যি আমি সুন্দরী?
মুন্না -তেমন মনে হয়না। মনে হয় তুমি একটা প্রেতনী বুড়ি। হা হা হেসে উঠল।
-এইটা কিন্তু ভাল হছে না। লজ্জাবনত মাথা নীচু করল। মুন্না! আবেগ মিশৃত কন্ঠে
-দেখ তমা, তোমাকে একটি অনুরোধ করব। হঠাৎ পরিবর্তন ভাল নয়। তুমি আমাকে তুমি বলে সম্বোধন কর। তাতে আপত্তি নেই। তবে শুধু মুন্না না বলে ভাইটা জড়িয়ে রেখ। কারন ভাইয়া ডাকটা তোমার মুখে শুনতে খুব ভাল লাগে। এই তমা দেখ ঘড়িতে কয়টা বাজে? আর বসা ঠিক হবেনা। দ্রুত বাসায় যেতে হবে। আর তমা আমাকে বাদ দিয়ে অন্য চিন্তা করলে খুব ভাল হবে মনে হয়। মাই ডিয়ার সুইট হার্ট। বলে হেসে তমালিকার নাকের উপর কপাল দিয়ে আস্তে আঘাত করে মুন্না। তখন তমালিকা মুন্নার মাথায় হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে বলে।
-মরে গেলেও পারব না।
-তাহলে আপাতত মর। তারপর দেখা যাবে।
তারপর দুজন রিক্সা উঠে বাড়ী চলে এল। রাতে বসে ডায়রি লিখছে। কলেজে নুসরতের সাথে যা ঘটেছে তাই লিখছে।
প্রিয়তমা তোমার সাথে আজ অনেক কথা হল। তোমার সাথে কথা বলতে যে কত ভাল লাগে তা বলে বুঝাতে পারব না। তুমি আমার হৃদয়ের স্পন্দন। কেন তুমি এমন করে কথা বল! তুমি কি সহজ ভাবে কথা বলতে পার না! তোমার কি হৃদয় ধর্ম বলতে কিছুই নেই! তুমি আমাকে না বললে কি হবে! তুমি কিন্তু সত্যি আমাকে ভালবাস! আর ভালবাস বলেই সব সময় আমাকে আঘাত মেরে কথা বলো বুঝি আমি সেটা।

নুসরতের পরিচয় হলো ওর পিতা বাগেরহাটের মুরোলগঞ্জের চেয়ারম্যান। এলাকায় অনেক জমি জমা আছে আর ২/৩শো বিঘা জমির ওপর চিংড়ী মাছের ঘেরও আছে। অনেক ধরনের ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে জড়িত। নুসরত দৌলতপুরের পাবলায় বালিকা মেসে থাকে। ক্যাম্পাস থেকে ওয়াকিং ডিসটেন্স বলে। প্রতিদিন সকালেই ক্যাম্পাসে চলে আসে আর বিকেল ৪/৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকে। নুসরত যতক্ষন ক্যাম্পাসে থাকে মুন্নাও ততক্ষণ থাকে। দুরে থেকে চোখে চোখে রাখে যে অন্য কারো সাথে নুসরত কোন ধরনের সম্পর্ক করে কিনা, সেটা দেখার জন্য। নুসরতের বান্ধবী আছে দুজন একজন তিতলি আর একজন সাথী। সবাই ওরা এক মেসে থাকে। তিতলি ও সাথী দুজনই মুন্নাকে ভাল করে চেনে। মুন্নার অতীত পরিচয় জানে।

তমালিকার সাথে বেশ কিছু দিন ধরে মুন্নার দেখা নেই। ক্যাম্পাসে মুন্নাকে পেয়ে তমালিকা ভেবেছে, মুন্নাকে ডেকে নিয়ে নদীর কুলে কিছুক্ষণ বসবে। মুন্না এতই ব্যস্ততা দেখালো যে, ভাল-মন্দ জিজ্ঞেসও করতে পারছে না। তমালিকা তখন মুন্নাকে বলল মা আপনাকে সন্ধ্যায় জরুরীভিত্তিতে যেতে বলেছেন। তমালিকা জানে মায়ের কথা বললে মুন্না আসবেই। কিন্তুর তমালিকার মা আজ সকালেই তমালিকার নানাবাড়ী নওয়াপাড়া গিয়েছেন। রাতে বাসায় আসবেন না।

তমালিকা কলেজ থেকে ফিরে জর্জেটের লাল শাড়ী, লাল শায়া, লাল ব্লাউজ পরেছে। এর সাথে ম্যাচ করে লাল রেশমী চুড়ি কপালে লাল টিপ, ঠোটে লাল লিপিস্টিক। এতো সুন্দর করে মেক-আপ করেছে যে বলিউডের হিরোইন প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার চেয়ে বেশি সুন্দরী মনে হবে তমালিকাকে। তমালিকার ইচ্ছা, আজ মুন্না এলে, ওর মুখ থেকে ভালবাসা আদায় করে ছাড়বে। সেইই ভেবে নিজেকে উপস্থাপন করবে মুন্নার সামনে। মুন্না মাগরিবের আজানের সময় এলো। ঘরের দরজা খোলা, ও মনে করেছে খালাম্মা মনে হয় নামাজ পড়তে গেছে, তাই তমালিকার মায়ের ঘরে বসে আছে মুন্না। অনেকক্ষন হয়ে গেছে চুপচাপ বসে আছে মুন্না। মুন্নার ঘরে কেউ আসছে না। এমনকি ঘরের বাতিটাও কেউ জ্বালিয়ে দিচ্ছেনা। বারান্দার বাতিটার আলো জানালা দিয়ে প্রবেশ করেছে। সেই আলোয় ঘরে কিছুটা আলো আছে। মুন্না তখন মনে মনে ভাবছে। তমা গেল কই? তমাকে পেলেওতো কিছুটা কথা বলা যেত। সময়টা পার করা যেত। চারিদিকে বার বার তাকায় মুন্না কারো কোন দেখা নেই। মুন্না ঘরের ভিতর পায়চারি করছে। পায়চারি করতে করতে যখন দরজা ঠেলে অন্য রুমে যেতে যায়। দরজা ঠেলে খুলতেই দেখতে পায়, মুখ বরাবর উঁচু করে মোমবাতি জ্বালিয়ে দাড়িয়ে আছে তমালিকা। ঐ ঘরটায় কোন আলো ছিল না। অন্ধকার ঘরের মধ্যে মোমবাতির আলোয় শুধু তমালিকাকেই দেখা যাচ্ছে। তমালিকার চোখ, তমালিকার নাক, তমালিকার ঠোট। আসলে এরকম মুহুর্তে যে কোন পুরুষ তমালিকার দিকে চেয়েই থাকবে। চোখে পলক ফেলতে পারবে না। মুন্নাও চোখে পলক ফেলল না। তমালিকার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো।

তমা যে এতো সুন্দর আগে কখনো দেখিনি এভাবে মুন্না। তমার ঠোটের স্পুলিং এসে মুন্নার চোখে লাগে। মুন্না আর পারলনা দাড়িয়ে থাকতে হেটে তমাকে ধরতে যায়। তমা পিছায়, মুন্না সামনে দু কদম এগিয়ে যায়, তমা দু কদম পিছিয়ে যায়। মুন্না আবার এগিয়ে যায় তমা পিছায়। আগাতে পিছাতে তমা গিয়ে দেওয়ালে পিট ঠেকে যায়। তমা ফু দিয়ে মোমবাতি নিভিয়ে দেয়। মুন্না তখন তমার দুই বাহু চেপে ধরে।
খালাম্মা কোথায়?
বাইরে গেছে?
ফিরবে কখন?
দেরি আছে? আজকে নাও ফিরতে পারে।
বাসায় কে কে আছে?
আমি আর তুমি?
মানে… তমালিকা ঘরের বাতি জ্বালিয়ে দেয়।
মানে সহজ। আমি আর তুমি। আমি আর তুমি ছাড়া বাসায় আজ আর কেহই নেই। আব্বু ফিরবে রাত ১০টার পরে।
বাসায় কেউ নেই। তুমি আমাকে আসতে বললে কেন?
তুমি আমাকে দেখবে, আমি তোমাকে দেখবো বলে।
তুমি আগে কখনো আমাকে দেখনি?
তুমি আজ বে-রসিক কেন মুন্না? তুমি আজ আমাকে দেখেছ। আমাকেই দেখেছ। আমার চোখে চোখ রেখেছ। আমার বাহু ধরেছো। আমার পাশে বসে হাতটা ধরোনা। এতক্ষন তুমি হারায় ছিলে। এখন আমাকেও একটু হারাতে দাও। আমি বড় হয়েছিনা মুন্না। ঘরের সবগুলো বাতি জ্বলে উঠায় পুরো ঘর আলোকিত। পৃথিবীর যত রূপ সৌন্দর্য আছে সব এসে তমাকে সাজিয়েছে। তমার দিকে থেকে চোখ সরিয়ে নেবার মতো ক্ষমতা কারো নেই। লাল জর্জেট শাড়ীর মধ্য দিয়ে তমার পেট, হালকা চর্বিযুক্ত নাভি। শাড়ীর কুচি যেন মুন্নার ললুপ চাহনিটাকে কুচি কুচি করছে। মুন্না ইচ্ছা করলেও চোখ সরিয়ে আনতে পারবেনা লাল জর্জেট শাড়ী উঁচু করে বেরিয়ে আসা ফোলে থাকা তমালিকার স্তনযুগল থেকে। ক্রমশঃ মুন্নার শরীর শীতল হয়ে আসছে। মুন্না গিয়ে পাশের খাটের উপর হেলান দিয়ে বসে মুখোমুখি দাড়িয়েছে তমালিকা। ফ্যানের বাতাসে শ্যাম্পু করা চুলগুলো উড়ছে। অপূর্ব সৌর্ন্দয সৃষ্টি করে তমালিকা দাড়িয়ে আছে মুন্নার সামনে। মুন্না আগে যা কোন দিন দেখিনি। আজ তা দেখছে। ওর আরো দেখতে মন চাচ্ছে। তমালিকা একটু এগিয়ে খাটের পাশে হেলান দিয়ে দাড়ায়। দুজন তাকিয়ে আছে দুজনের চোখের দিকে। হঠাৎ চোখের ইশারা হয়ে গেল। মুন্না এক ঝলকেই তমালিকাকে টেনে গায়ের উপরে ফেলল। তমালিকা এমন ভাবে মুন্নার গায়ের উপর পড়ল। দুজনের নাক নাকের উপর বুক বুকের উপর। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরলো। এমনভাবে জড়িয়ে ধরলো যে, এতো জোরে কখনো এরা কেহই অন্য কাউকে জড়িয়ে ধরেনি। দুজনের শরীর কাঁপতে লাগল। দুজনেই চোখ বন্ধ করে ঠোটে ঠোট মিলিয়ে প্রেম সুধা পান করে।

মুন্না তমালিকাকে আগে কখনো যেভাবে ভাবিনি আজ তেমন ঘটনা ঘঠে গেল। অপরাধী অপরাধী মনে হচ্ছে মুন্নার। মুন্না রাত নয়টার দিকে বাসায় চলে যায়।

পরদিন নুসরতের জন্মদিন। মেসে নুসরতের জন্মদিন পালন হবে। বাড়ী থেকে কেউ আসবেনা। মেসের বান্ধবীরা উইশ করবে। এজন্য কিছু নাস্তা পানি কিনা হবে সকালে স্থির হলো। ১০টার দিকে ক্যাম্পাসে আসে নুসরত। মুন্নার সাথে সেমিনারে দেখা হয়। মুন্না, ৫ পাউন্ডের একটি বড় কেক এবং প্যাকেজিং কাগজে মোড়ক করা ছোট একটি মোড়ক বক্স নুসরতের হাতে তুলে দিয়ে হ্যাপি বার্থডে বলে উইশ করে। সৌজন্যতা বলে নুসরত মুন্নাকে বলল
-ধন্যবাদ। আমাদের মেসে সন্ধ্যায় বার্থডে পার্টি আছে। কিন্তু তোমাকেতো সেখানে যেতে বলতে পারছিনা। বালিকা মেস বাড়ীওয়ালার কড়া নির্দেশ আছে, বালকদের প্রবেশের ব্যাপারে। চলো ক্যান্টিনে গিয়ে কিছু খাই।
তখন মুন্না কলেজ গেটের সামনে যে ক্যান্টিনগুলো আছে সেখানে নুসরতের সাথে খেতে যাওয়াটা ভাল হবে বলে মনে করলো না। কারণ কলেজ গেটে সব সময় শ খানেক ছাত্রছাত্রী দাড়িয়ে আড্ডা মারে। তখন মুন্না বলল-খাওয়াটা আজ থাক, অন্যদিন হবে। আজ চলি। মুন্না চলে গেল। নুসরতের বান্ধবী তিতলি ও সাথী এলো, কেকটি নিয়ে ওরা বাসায় চলে গেল। ক্লাস আর করবেনা আজকে।

মুন্না বাসায় ফিরে ডায়রি লিখছে…
প্রিয়তমা, আজ তোমাকে যে উপহারটা দিলাম যতœ করে রেখ, অলঙ্কার মনে করে। যদি কোনদিন আমি তোমার পাশে না থাকি। সে দিন এটি আমার স্মৃতি হয়ে তোমার পাশে থাকবে।

সে দিনের পরে তমালিকা লজ্জায় মুন্নার সামনে যায় না। মুন্না লজ্জায় তমালিকার সামনে যায়না। ৭দিন হলো তমালিকার সাথে মুন্নার দেখা হয়না। তমালিকা এলো মুন্নার বাসায়। মুন্না বাসায় নেই। মুন্নার ঘরে গিয়ে ডায়রিতে দেখে লেখা আছে- প্রিয়তমা, আজ তোমাকে যে উপহারটা দিলাম যতœ করে রেখ, অলঙ্কার মনে করে। যদি কোনদিন আমি তোমার পাশে না থাকি। সে দিন এটি আমার স্মৃতি হয়ে তোমার পাশে থাকবে। তমালিকা খুশিতে আটখানা হয়ে বাড়ীতে চলে গেল।

এ দিকে মুন্না ভাবছে নুসরত জন্মদিনের উপহার সোনার আংটিটি পেয়ে খুব খুশি হয়েছে। মুন্নাকে এসে একটু আদর ভাল বাসা দিবে। অনার্স ফাইনাল শেষ হয়েছে। রিজাল্ট বের হলেই মাস্টার্সের ভর্তি তার পর মাস্টার্সের ক্লাস। এখন অবসর সময় কাটায় গল্প গুজব আড্ডাবাজী করে। কিন্তু ১০ দিন হয়ে গেল নুসরত ক্যাম্পাসে আসেনা। সেমিনারের সামনে নুসরতের সাথে মুন্নার দেখা। চোখের ইশারায় মুন্না নুসরতের কাছে গেল। নুসরত মুন্নাকে ডেকে নিয়ে ক্যাম্পাসের উত্তর পাশের নদীর কুলে আমগাছের নিচে গিয়ে বসলো। মুন্না বাদামওয়ালার কাছ থেকে ২০টাকার বাদাম কিনে নিল। নুসরত মুন্নাকে জানায় সে দক্ষিন কোরিয়া চলে যাচ্ছে। তার ভিসা হয়ে গেছে। আর নাকে পরা নাক ফুলটি দেখিয়ে বলল, গত ৫দিন আগে তার পছন্দের ছেলের সাথে তার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলের নাম রিপন, ছোট বেলা থেকে তাদের সম্পর্ক ছিল, রিপন ইন্টার পাস করে দক্ষিণ কোরিয়া চলে যায়। ১ মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিল বিয়ে করে ওকে নিয়ে আবার দক্ষিণ কোরিয়া চলে যাবে।

মুন্না মনে মনে গল্প ভাবছে। মেয়েরাতো অনেক সুন্দর করে নিজের ডিমান্ড ছেলেদের কাছে তুলে ধরে। মুন্নাও তাই মনে করলো। মুন্না উপস্থিত কনগ্রাসুলেশন জানাল।

পরের দিন থেকে নুসরত আর ক্যাম্পাসে আসেনা। কোনভাবে নুসরতের দেখা পাচ্ছেনা। মুন্না ছটপট করে বেড়াচ্ছে। ৩ দিন পর মুন্না নুসরতের পাবলা বালিকা মেসে গিয়ে হাজির। সেখানে তিতলীর সাথে দেখা। তিতলীর সাথে কথা বলে ক্লিয়ার জানতে পারে। নুসরতের পছন্দের ছেলের সাথে ওর বিয়ে হয়েছে। নুসরত এই বালিকা মেসের সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ওর মালামাল যা কিছু ছিল তার সব কিছু নিয়ে ও মুরোলগঞ্জ চলে গেছে। তিতলীর কাছ থেকে বাগেরহাট মুরোলগঞ্জের ঠিকানা নিয়ে পরের দিন বাগেরহাট মুরোলগঞ্জ চলে যায়। অনেক কষ্ট করে নুসরতদের বাড়ীতে গিয়ে পৌছায়। ও নুসরতের সাথে ওর কি সম্পর্ক কি পরিচয় দিবে ভাবছে! ভাবতে ভাবতে নুসরতের বাবার সাথে দেখা হয়। ও নুসরতের বাবাকে জানায়। ওরা এক সাথে পড়ে। এই মুরোলগঞ্জে একটা কাজে এসেছে কাজের ফাঁকে নুসরত ও ওর বাবার সাথে দেখা করে যাবে। তখন নুসরতের পিতা মুন্নাকে জানায়। আগামীকাল সকাল ৭ টায় নুসরতদের ফ্লাইট। তারা স্বামী স্ত্রী দক্ষিন কোরিয়া চলে যাচ্ছে। আজ সকালে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। রাতে তারা ফার্মগেটের ইমপেরিয়াল রেস্ট হাউজে থাকবে।

মুন্না মুরোলগঞ্জ থেকেই ঢাকার উদ্দেশ্যে ছোটে। ও ভাবল লাইনের কোষ্টারে যদি যাই সকাল ৭ টার আগে ঢাকায় পৌছাতে নাও পারি। তখন বাগেরহাট হয়ে গোপালগঞ্জে আসে। গোপালগঞ্জ থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা। এরপর ভাঙ্গা থেকে কেউড়াকান্দি। রাত তখন ১২টা। আকাশে প্রচন্ড মেঘ। কিছুক্ষনের মধ্যে ঝড় বৃষ্টি শুরু হলো। লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ। রাত ২ টার দিকে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল শুরু হয়। ফেরিতে লোডিং আন লোডিংএ সময় যাবে। তাই প্রথম লঞ্চে পার হয়ে আসে মাওয়া, রাত তখন ৪ টা। মাওয়া ঘাটে এসে বাস, ¯ুŒটার কোনটাই না পেয়ে একটি ট্রাকে ওঠে আসে গুলিস্থান, তখন ভোর ৫টা। গুলিস্থান থেকে স্ক্রুটার না পেয়ে রিক্সা নিয়ে রওনা করে আসে ফার্মগেট। ইমপেরিয়াল রেষ্ট হাউজ যখন খুজে পায় তখন ৫ টা ৪০ মিনিট। রেষ্ট হাউজ থেকে জানতে পারে ওরা ৪০ মিনিট আগে রেষ্ট হাউজ ছেড়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে চলে গেছে। ফার্মগেট থেকে স্ক্রুটারে দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে সাড়ে ৬ টায় পৌছায় বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরের লউঞ্জে ঢোকার জন্য ৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকে। ততক্ষনে নুসরতের বডিং পাস হয়ে গিয়ে লাগেজ চলে গেছে আর নুসরত আর ওর স্বামী লাইন ধরে বিমানযাত্রীবাহী কোচে উঠছে। মুন্না তখন নুসরত নুসরত বলে চিৎকার করছে। মুন্না নুসরতকে দেখলেও, নুসরত মুন্নাকে দেখতে পায়নি। আর এটা দেখতে পাবার কথাও না। কারণ নুসরততো ভাবিনি মুন্না এসে পেছনে দাড়িয়ে ডাকবে তাকে। কিছুক্ষন পর ৭টা ৫মিনিটে বিমান আকাশে উড়ে, নুসরত তার স্বামীর সাথে দক্ষিণ কোরিয়া চলে গেল। মুন্না হাত নাড়িয়ে বাই বাই জানায়। মুন্না আকাশের দিকে তাকিয়ে মাটিতে বসে পড়ে। কিছুক্ষন বসে থাকে। দেখে আসে পাশে বিমানবন্দরের কর্তব্যরত ক্লিনাররা ক্লিন করছে আর ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

এ দিকে তমালিকার সাথে মুন্নার দেখা নেই ২০/২৫ দিন হলো। তমালিকার যখন শরীর খারাপ (ঋতুস্রাব) হওয়ার কথা তখন শরীর খারাপ হলোনা। ও খুব চিন্তায় আছে। এ ব্যাপারটা কারো সাথে সে শেয়ার করতে পারছে না লজ্জায় ও ভয়ে। ডাক্তারের কাছে যাবে কিনা ভাবছে।

মুন্না ওর জীবনে নুসরত ছাড়া আর কিছু ভাবিনি কখনোই। ডানপিঠে ছেলেটি শান্ত শিষ্ঠ হয়েছিল নুসরতের ভালবাসা পাবার জন্য। সেই নুসরত ওকে এভাবে ফাঁকি দিয়ে চলে যাবে ও কখনো ভাবিনি। ওর আর কিছুই ভাল লাগে না। রাতে ঘুমাতে পারেনা। কিছু খেতে পারেনা। কারো সাথে কথা বলতে ভাল লাগেনা। এ অবস্থায় ৩/৪দিন ধরে ঘুমায় না। ওর রুমমেট টিপু অনেক জুনিয়র বলে মুন্নার কোন ব্যাপারে নাক গলায় না। আর টিপু বেশ কয়েকদিন হলো প্রথম বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা শেষ ও বাড়ীতে গেছে। ও ঘুমানোর জন্য এক পাতা সিডাকসিন ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছে। তাও ঘুম আসছেনা। পেটে ক্ষুধাও আছে। হোস্টেলে ওর খাটের নিচে ঢেকি বানা নাউয়ারশাইল ধানের চিড়া থাকে। ক্লান্ত লাগছে, বিছানায় শুয়ে চিড়ার ডিব্বাটা বুকের উপর রেখে শুয়ে শুয়ে চিড়া খাচ্ছে। সিডাকসিনের কাজ বাড়ছে ওর শরীর শীতল হয়ে আসছে। চিড়া খেতে গিয়ে গলায় ও বুকে চিড়া বেঁধে গেছে। পানি খাওয়া দরকার কিন্তু ক্লান্ত দেহ উঠে গিয়ে পানি এনে খেতে পারিনি। ঐ বিছানার উপর পড়ে কিছুক্ষনের মধ্যে মারা গেছে। সকাল বেলা পাশের রুমের এক ছাত্র ওকে ডাকে ও ডাকের উত্তর করেনা। পরে জানালা দিয়ে দেখে খাটের উপর মুন্নার মৃতদেহ ও তখন আরো জোরে জোরে ডাকতে থাকে কোন সাড়া পায়না। পরে আরো দুজন হলমেটের সহযোগিতা নিয়ে ধরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে দেখে মুন্নার মৃতদেহ পড়ে আছে। ও সবাইকে জানায়।

তমালিকার চিন্তা চেতনা সব মুন্নাকে ঘিরে। রাতে তমালিকা স্বপ্ন দেখে সে মা হতে চলেছে। মুন্না এই সংবাদে খুশিতে তমালিকাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ উল­াস করছে। তারপর ভাবছে এই সংবাদ সবাইকে জানাবে কি করে! বিয়ের আগে সন্তান হওয়া! সমাজের সবাই কিভাবে নিবে! এরকম স্বপ্ন দেখে তমালিকার ঘুম ভাঙ্গে। কলেজে ক্লাস নেই তারপরও আসে মুন্নার সাথে দেখা করার জন্য।

কলেজ ক্যাম্পাসে মাইকে কোরান তেলোয়াত হচ্ছে। ক্যাম্পাসে শোক ঘোষনা করা হয়েছে। ঐ দিনে কলেজের সকল কর্মকান্ড স্থগিত করা হয়েছে। ১১ টার সময় সরকারী বি এল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে মুন্নার নামাজে জানাজা হলো। খবর পেয়ে মুন্নার ভাই এসেছে লাশ নিতে। একটি ট্রাকের মধ্যে মুন্নার লাশ উঠানো হলো। তমালিকা এসে ট্রাকের পাশে দাড়িয়ে লাশটি না দেখে চলে গেল, কবি নজরুল ইসলাম হলের দিকে। যে হলে মুন্না থাকতো। ও ভেবেছে কলেজে কে মারা গেল? সেটা মুন্নার কাছে গিয়ে শুনবে। মুন্নার রুমে গিয়ে দেখে রুম এলোমেলো। মুন্নার খাটের উপর কিছুই নেই। বই পত্রগুলোও নেই। নিচে খাটের চালির ফাঁকা দিয়ে তাকিয়ে দেখে মুন্নার লেখা ডায়রিটা। তমালিকা ডায়রিটা তুলে ময়লা ধুলা বালি ঝেড়ে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে। তখন মাইকে ঘোষনা হয় “আগে মুন্নার লাশবাহী গাড়ী যাবে, পরে অন্য গাড়ী যাবে” তমালিকার কানে তখন মুন্না নামটি শুনতে পেয়েছে। তমালিকা দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে বুঝলো। ওর মুন্না ওকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে। ও মুন্না বলে দৌড় শুরু করে…কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে দৌড়ায় প্রশাসনিক ভবনের কাছে আসতে না আসতে, মুন্নার লাশবাহী গাড়ী বহর তখন কলেজ গেট দিয়ে বেরিয়ে বড় রাস্তায় চলে গেছে। তমালিকার-মুন্না মুন্না বলে আর্তচিৎকার কেউ আর শুনলো না। বরঞ্চ তমালিকার ডিপার্টমেন্টের এক ম্যাডাম এসে তমালিকাকে ধরে বসে। তমালিকা ম্যাডামের কোলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। প্রশাসনিক ভবনের বারান্দায় ওকে নিয়ে মাথায় চোখে মুখে পানির ছিটা দিলে তমালিকার জ্ঞান ফেরে, চেয়ে দেখে তমালিকার সামনে বেশ কয়েকজন প্রফেসর দাড়িয়ে আছে। তাদের সামনে তমালিকা কোন কথাই বলতে পারেনা। এক জন প্রফেসর বলছে-‘মুন্না, খুব ভাল স্টুডেন্ট ছিল। ও আমাদের কলেজের গর্ব। ওর বিদায় সবাইকে কাঁদিয়ে গেল।’

একজন ক্লাসফ্রেন্ডের সহযোগিতায় তমালিকা বাড়ী গেল। তমালিকার কোন কিছু ভাল লাগেনা। খাইতে শুতে ঘুমাতে কোন কাজ তমালিকার ভাল লাগেনা। তমালিকার মা তমালিকার চাল চলন দেখে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ডাক্তার জানায় তমালিকা মা হতে চলেছে। তমালিকার মা খুব চিন্তায় পড়ে। তমালিকা ওর মাকে জানায় সে মুন্নাকে ভালবাসতো, মুন্নাও তমালিকাকে ভালবাসতো। তার প্রমানস্বরুপ এই ডায়রি। যেটা মুন্না নিজের হাতে লিখে রেখে গেছে। তমালিকার মা ওর গর্ভের সন্তানকে নষ্ট করতে বলে। মৃত মুন্নার অবৈধ সন্তানের দায় দায়িত্ব পৃথিবীতে কেউ নিবেনা। তমালিকা ওর মাকে বুঝায়। মুন্না ডায়রিতে যে কথা লিখে গেছে তার সে অমর্যাদা করতে পারবেনা।

প্রিয়তমা, আজ তোমাকে যে উপহারটা দিলাম যত্ন করে রেখ, অলঙ্কার মনে করে। যদি কোনদিন আমি তোমার পাশে না থাকি। সে দিন এটি আমার স্মৃতি হয়ে তোমার পাশে থাকবে।

মা বলে কথা। তমালিকা ওর মাকে সাথে নিয়ে মুন্নার গ্রামের বাড়ী মাগুরাতে যায়। মুন্নার একমাত্র বড় ভাই আন্নাকে গিয়ে বলে সব কথা। আন্না জানতো বাগেরহাট মুরোলগঞ্জের নুসরত নামের একটি মেয়েকে মুন্না ভালবাসতো। তমালিকাকে আন্না অস্বীকার করলো। আর স্বীকার করেওবা কি করবে? মুন্নাতো চলে গেছে অনেক দুরে। কাঁদতে কাঁদতে মা মেয়ে ফিরে আসে বাড়ীতে। তমালিকার বাবা ব্যাঙ্কার মানুষ অনেক হিসেবি। তমালিকাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলে। তমালিকা পিতা মাতার সব অনুরোধ আদেশ নির্দেশ উপেক্ষা করে বাড়ী ছেড়ে চলে যায় এবং একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। নাম রাখে অহর্নিষ। তমালিকা এখন ঢাকায় থাকে। অহর্নিষকে ঢাকার কোন অভিজাত স্কুলে ভর্তি করতে পারেনি। তাই ভারতের দার্জেলিং এর একটি আবাসিক স্কুলে ভর্তি করে সেখানে পড়াশুনা করায়। তমালিকা আর বিয়ে করেনি। মুন্নার স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকবে। একটি স্বনামধন্য বেসরকারী সংস্থার (এনজিও) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

**********

সর্বশেষ - গরু পালন

আপনার জন্য নির্বাচিত

অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের সংখ্যা অত্যধিক হলেও তাদের অধিকাংশই স্বীকৃতির বাইরে-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

উপকূলে লবনাক্ততা ও প্রতিকুলতা সহিষ্ণু ফেলন ডাল চাষে বাম্পার ফলন ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার

গবাদিপ্রাণি মোটাতাজাকরণ

বোরো মৌসুমে হাওরাঞ্চলে নিয়ন্ত্রিত বালাইনাশক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত

ম্যাসেজ অব বাংলাদেশ পদক

UMS কি ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র? ইউএমএস তৈরীর পদ্ধতি

লাউ চাষ পদ্ধতি

জেলেদেরকে সুদমুক্ত ঋণ দিতে না পারলেও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

দেশের প্রাণীকুলের বিদ্যমান রেড লিস্ট হালনাগাদকরণ

আগামী ১৮ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫