ফুল কপি চাষ পদ্ধতি

ফুল কপি একটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও আমাদের দেশের জনপ্রিয় সবজি। আমাদের দেশে চাষকৃত ফুলকপির জাত অধিকাংশই সংকর জাতের এবং বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এসব স্থানীয় আবহাওয়ায় বীজ উৎপাদন করে না।
মাটি
আগাম ফসলের জন্য দো-আঁশ এবং নাবি ফসলের জন্য এঁটেল ধরনের মাটি উত্তম। এঁটেল দো-আঁশ মাটিতে জৈব সার প্রয়োগ করে ভালো ফসল জন্মানো যায়।
বীজের হার ও চারা উৎপাদন
চারা তৈরির জন্য ৬ ী ২ হাত আকারের বীজতলা তৈরি করতে হবে। একর প্রতি ১২০-১৪০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন। ফুলকপি চাষের জন্য ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা লাগাতে হয়। এজন্য লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ৬০ সেমি. (২ফুট) এবং লাইনে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৪৫ সেমি. (১১/২ফুট) হবে।
বপনের সময়
ভাদ্র-আশ্বিন (মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর) মাসে বীজ বপন করতে হয় এবং কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত (মধ্য নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর) জমিতে চারা রোপণ করা যায়।
সারের পরিমাণ
ফুল কপি চাষের জন্য মাঝারি উর্বর জমিতে নিæরূপ হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।
সারের নাম সারের পরিমান/ হেক্টর
ইউরিয়া ২৫০-৩০০ কেজি
টিএসপি ১৫০-২০০ কেজি
এমপি ২০০-২৫০ কেজি
গোবর ১৫-২০ টন
সার প্রয়োগ পদ্ধতি
জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর, সমুদয় টিএসপি ও অর্ধেক এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর চারা রোপণের ১ সপ্তাহ আগে মাদায় দিয়ে মিশিয়ে রাখতে হবে। এরপর চারা রোপণ করে জমিতে সেচ দিতে হয়। ইউরিয়া এবং বাকি অর্ধেক এমপি সার ৩ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর ৮-১০ দিন পর বাকি সার ১ম কিস্তি এবং চারা রোপণের ৩০ ও ৫০ দিন পর বাকি সার ২য় কিস্তিতে উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।
অন্তর্বতীকালীন পরিচর্যা
ফসলের যতœ যেমন- আগাছা দমন, সার প্রয়োগ, পানি সেচ, নিকাশ পানি ও আস্তরণ ভেঙে দেয়া এবং মাটি ঝুরঝুরে রাখে আবশ্যক। ফুলকপির ফুলের রঙ ধবধবে সাদা রাখার জন্য কচি অবস্থা থেকে চারদিকের পাতা বেঁধে ফুল ঢেকে দিতে হয়। অন্যথায় সূর্যালোক উন্মোচিত থাকলে ফুলের বর্ণ হলুদাভ হয়ে যায়।
উপাত্ত সংগ্রহ-কৃষি তথ্য সার্ভিস























