
ড্রাম সাইলেজ তৈরি পদ্ধতিঃ
এই পদ্ধতিতে সাইলেজ তৈরি করতে বাজারে যে সকল প্লাস্টিক এর ড্রাম পাওয়া যায় তা ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি বড় ড্রামে সাধারণত ১২০ লিটার পানি ধারণ করতে পারে। সংগ্রহ করার সময় লক্ষ করতে হবে ড্রামেরমুখ যেন গোলাগার এবং প্রসারিত হয় । বাজার থেকে ড্রাম আনার পর তা পরিস্কার করে রোদে শুকাতে হবে। যাতে পূর্বে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ বা গন্ধ না থাকে। ড্রাম শুকানোর পর মাঠ থেকে কাঁচা ঘাস কেটে এনে পরতে পরতে ড্রামের মধ্যে সাজাতে হবে যাতে ঘাসের ভেতরে বাতাস না থাকে । চাষ করা ঘাস যেমন নেপিয়ার, পারা, জার্মান, ভ‚ট্টা ইত্যাদি ৩-৪ ইঞ্চি মাপে কেটে চেপে চেপে ড্রামে ভরতে হবে।
এই পদ্ধতিতে যেকোনো ধরনের সবুজ ঘাস চিটাগুরসহ অথবা চিটাগুর ছাড়াও সাইলেজ করা যেতে পারে । চিটাগুর দিয়ে সাইলেজ তৈরি করতে হলে সবুজ ঘাসের সাথে শতকরা ৩-৪ ভাগ চিড়াগুড় মেপে একটি পাত্রে নিতে হবে। তারপর ঘন চিটচাগুড়ে সাথে ১:১ পরিমানে পানি মিশিয়ে ঝর্না বা হাত দিয়ে ছিটিয়ে দিতে হবে। এই মিশ্রণ ঘাসে মেশানো পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। তারপর স্তরে স্তরে সবুজ ঘাস এবং চিটাগুড় মেশানো পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। সবুজ ঘাস অধিক কাঁচা হলে এর সাথে খড় মিশিয়ে সাইলেজ তৈরি করা যেতে পারে । এর জন্য প্রতি ১০০ কেজি সবুজ ঘাসের সাথে ৫ কেজি শুকনো খড় দিতে হবে । ড্রামের ভেতর ঘাস যত চেপে ভরা হবে সাইলেজ তত ভালোভাবে তৈরি হবে। এভাবে ড্রাম ভর্তি করে মুখের উপর ১০-১২ ইঞ্চি পর্যন্ত ঘাস সাজাতে েেহব। ঘাস সাজানো শেষ হলে ড্রামের উপর উঠে পা দিয়ে চাপ দিয়ে যতটচা সম্ভব চেপে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে বায়ুরোধক করতে হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই ধরণের একই ড্রামে ৬০-৭০ কেজি সবুজ ঘাসের সাইলেজ করা যেতে পারে। এখানো আরোও উল্লেখ্য যে, প্রথম দিকে ড্রাম ভর্তি করে ঢাকনা দিয়ে আটকে রেখে ৫-৭ দিন পর আবার খুলে দেখা যাবে যে ঘাস ফারমেন্টেশন হয়ে ড্রামের উপর কিছুটা অংশ ফাঁকা হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আরোও অতিরিক্ত ১৫-২০ কেজি পরিমাণ কাঁচা ঘাস দিয়ে পূরণ করে ঢাকনা আটকিয়ে মুড়ে দিতে হবে যাতে বাতাস ঢুকতে না পারে। এই ভাবে তৈরিকৃত ড্রাম সাইলেজ ১ বছর বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা যায়। কোন খামারী চাইলে ২০-২৫ ড্রাম একসাথে সাইলেজ তৈরি করে দূর্যোগকালীন সময় বাজার জাত করতে পারে।























