RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

গরু মোটাতাজাকরণ বা হৃষ্টপুষ্টকরণ পদ্ধতি শিখুন

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ৯:১৪ অপরাহ্ণ

গরু মোটাতাজাকরণ বা হৃষ্টপুষ্টকরণ পদ্ধতি শিখুন,

আর্টিকেল থেকে যা জানা যাবে-

গরু হৃষ্টপুষ্ট করণ কি?

গরু হৃষ্টপুষ্টকরণের উদ্দেশ্য

প্রাণির দৈহিক ওজন নির্ণয়

গরু মোটাতাজাকরণের সুবিধা সমূহ

খামার স্থাপন পরিকল্পনা

প্রকল্প চালুর উপযুক্ত সময়

গরু মোটাতাজাকরণ বা হৃষ্টপুষ্ট করণ কি?

গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ বলতে কিছু সংখ্যক স্বাস্থ্যহীন গরু বা বাড়ন্ত গরুকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় উন্নত সুষম খাবার সরবরাহের মাধ্যমে স্বাস্থবান গরু তৈরী করে বাজারজাত করাকে বুঝায়।

গরু মোটাতাজাকরণ বা হৃষ্টপুষ্টকরণের উদ্দেশ্য

দেশে আমিষের চাহিদা পূরণ।

প্রাণিসম্পদ বিষয়ে উদ্যোক্তা তৈরি করা।

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য চামড়া শিল্পের সমৃদ্ধি।

জাতীয় আয় বৃদ্ধি করা ও বেকার সমস্যার সমাধান করা।

জৈব সার সহজলভ্য করা।

বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে গোবর থেকে গ্যাস আহরণ করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কর্মসূচির সম্প্রসারণের মাধ্যমে অধিক জনগণকে এ কাজে উৎসাহিত করে তাদের আর্থ- সামাজিক অবস্থার উন্নতি করা।

প্রাণির দৈহিক ওজন রেকর্ডকরণ

এই প্রকল্পে প্রাণির ওজন নিয়মিত রেকর্ড করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রকল্প চালুর শুরুতে ক্রয়কৃত সবগুলো প্রাণির ওজন পৃথক পৃথক ভাবে রেকর্ড করতে হবে এবং ১৫ দিন পর পর প্রতিটি প্রাণির ওজন খাবার সরবরাহের সংগে বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা যায়। তাতে পালনের অগ্রগতি বুঝা যায়। প্রকৃত প্রাণির ওজন নির্ণয় করার জন্য ব্যাল্যান্স ব্যবহার করাই উত্তম। তবে সহজ ১টি ফর্মুলাতে প্রাণির ওজন বের করা যায়। প্রাণির সঠিক ওজনের কাছাকাছি ফলাফল পাওয়া যায়। ক্লথ টেপের সাহায্যে প্রাণির দৈর্ঘ্য ও বুকের মাপ নেওয়া হয়।

চিত্রঃ গরুর ওজন নির্ণয়ের জন্য দৈর্ঘ্য ও বুকের বেড় মাপার পদ্ধতি

প্রাণির দৈর্ঘ্য= প্রাণির লেজের উপরের পিন পয়েন্ট থেকে অথবা পাছার উঁচু, হাড় হতে সোল্ডার পয়েন্ট বা গলার মাঝ বরাবর পর্যন্ত।

বুকের বেড়= সামনের ২ পায়ের ঠিক পিছনের দিক বরাবর

এছাড়াও গবাদি প্রাণির বুকের বেড় থেকে তাদের দৈহিক ওজন নির্ণয় করা যায়।

প্রাণির ওজন রেকর্ড এর মাধ্যমে ঐ প্রাণির দৈনিক মাংস বৃদ্ধির পরিমাণ জানা যায়।

এটি নির্ণয় করার জন্য নিম্নের ফর্মূলা ব্যবহার করা হয়।

প্রাণির দৈনিক মাংস বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াল= প্রকল্পের গরুর বিক্রয় করার সময় ওজন – প্রকল্প শুরুর সময় প্রাণির ওজন/ সময়ের ব্যবধান (দিন)।

গরু মোটাতাজাকরণের সুবিধা সমূহ

কম মূলধন ও কম জায়গার প্রয়োজন হয়।

অল্প সময়ের (৪-৬ মাসের) মধ্যে গরু হৃষ্টপুষ্ট করে অধিক মূল্যে বাজারে বিক্রয় করা যায় অর্থাৎ আর্থিক মুনাফা অর্জন করা যায়।

খুব অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরৎ পাওয়া যায়।

বেকার যুবক ও মহিলাদের কর্মসংস্থানে সুযোগ বেশি।

বসতভিটা আছে এমন সকল পরিবার স্বল্প বিনিয়োগ করে এ প্রকল্পের আওতায় আসার ব্যাপক সুযোগ লাভ করতে পারে।

বাজারের মাংসের চাহিদা সব সময় বেশি থাকার কারণে বাজার দর নিম্নগতির সম্ভাবনা কম ও লোকসানের ঝুঁকি কম থাকে।

বাড়ন্ত গরুর রোগ-ব্যাধির প্রকোপ খুব কম থাকে, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভবনা খুব কম।

স্থানীয় বাজার-হাট থেকে অনায়াসে প্রাণি ক্রয় করে প্রকল্প শুরু করা যায়। স্থানীয় ভাবে খাদ্যের সাথে বাড়ির উচ্ছিষ্ঠ খাদ্যের সদ্ব্যবহার হয়।প্রকল্পে তুলনামূলক ঝুঁকি কম।

খামার প্রকল্প গ্রহণ পূর্ব বিবেচ্য বিষয়

গরু হৃষ্টপুষ্ট করার পূর্বে নিম্নের আলোচিত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে ঃ

মূলধন

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে কত টাকার প্রয়োজন হতে পারে এবং এই টাকার উৎস কি হতে পারে, তা পূর্বেই ঠিক করতে হবে। মূলধন পুরোপুরি সংগ্রহ না করে কার্যক্রম শুরু করলে প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।

গরু বিক্রয়ের হাট

সাধারণতঃ হাট-বাজার থাকলেই উহাকে হৃষ্টপুষ্ট করা গরু বিক্রয়ের হাট আছে বুঝায় না। এলাকায় কতটি স্থানে কতটি গরু প্রতিদিন/প্রতি সপ্তাহে জবাই করা করা হয় তা একটি জরীপের মাধ্যমে জানতে হবে। ক্রেতারা কি পরিমাণ গরুর মাংস খায়, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ কত দরে গরুর মাংস বিক্রয় হয় তাও জানতে হবে। গরুটি বিক্রয়ের জন্য হাটে যেতে হবে নাকি ক্রেতা এসে নিয়ে যাবে সে সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

পশুখাদ্য সামগ্রীর প্রাপ্যতা

গবাদিপশু যেসকল খাদ্যদ্রব্য ভক্ষণ করে সে সম্পর্কে যেমন পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে তেমনি খাদ্য দ্রব্যগুলি কোথায়, কতদূরে এবং কত দরে সংগ্রহ করা যাবে তা জানতে হবে। বছরের সব সময় পাওয়া যাবে কিনা এবং একবারে কিনে রাখার মত পরিমাণ পাওয়া যাবে কিনা তা জানতে হবে।

কর্মী কর্মী ব্যবস্থাপনা

প্রকল্প সঠিক বাস্তবায়নের জন্য দুই বা দুই এর অধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি কর্মী টিম গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তির কাজের সাথে অপরের সমন্বয় থাকা জরুরি। কর্মীদের হতে হবে- সৎ, পরিশ্রমী, অভিজ্ঞ, নিবেদিত, দায়িত্ববান, বুদ্ধিমান, সহানুভ‚তিশীল, পূর্বে এ কাজ বা অনুরূপ কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

খামার স্থাপন পরিকল্পনা

বীফ ফ্যাটেনিং প্রকল্পে খামার পরিকল্পনা একটি গুরুতপূর্ণ অধ্যায়। নিম্নে খামার স্থাপন পরিকল্পনার বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হলো।

১। ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা                                                  

গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে নিজস্ব চিন্তা ভাবনা।                                                                                              

খামার স্থাপন বিষয়ে আগ্রহ ও আন্তরিকতা।                                         

নিজস্ব মূলধন অথবা মূলধন প্রাপ্তির উৎস।                                            

খামার পরিচালনার জন্য সময় প্রদান।                                      

ব্যবস্থাপনা/পরিচালনার জন্য বিশ্বস্ত ও দক্ষ কর্মী।                                             

২। উপকরণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা                                                                                              

গরু প্রাপ্তির উৎস।                                                                                          

খামারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।                                                       

খাদ্য সামগ্রীর উৎস ও প্রাপ্যতা।                                                                 

খামার পরিচালনা বিষয়ে নিজস্ব দক্ষতা।

সম্পদের প্রাপ্যতা।

খামার স্থাপনের জন্য নিজস্ব জমি।

মাংসের বিক্রয় মূল্য।

৩। বাজারের নিশ্চয়তা                                                                             

উৎপাদিত গরুর জন্য স্থানীয় বাজার                                                       

মাংসের স্থানীয় চাহিদা অথবা বিপণনের বিকল্প ব্যবস্থা                                       

স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে গরুর মাংস বিক্রয়ের পরিমাণ            

৪। সুযোগ সুবিধা

খামার স্থাপনের জন্য পরিবেশ

আবর্জনা ও বর্জ্য অপসারণ সুবিধা

সেনিটেশন সুবিধা

বৃহদাকার খামার হলে খামারে নিয়োজিত ব্যক্তিদেও আবাসিক সুবিধা ও যানবাহন।    

৫। খামারের স্থান

ছোট খামার হলে বসত বাড়ির নিকট, অন্যথায় অন্যান্য খামার থেকে যথা সম্ভব দূরে

লোকালয় থেকে সম্ভাব্য দূওে

ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা

বৈদ্যুতিক সুবিধা

উঁচু স্থান যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই

৬।গরু মোটাতাজাকরণ বা হৃষ্টপুষ্টকরণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পদক্ষেপসমূহ

বাণিজ্যিকভাবে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণের জন্য কমপক্ষে ১২টি অত্যাবশ্যকীয় পদক্ষেপের প্রতি বিশেষভাবে নজর দিতে হয় ঃ

১. প্রকল্প চালুর উপযুক্ত সময়।

২. সঠিক জাতের গবাদি প্রাণি নির্বাচন ও ক্রয়।

৩. বিভিন্ন প্রাণির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।

৪. বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক টিকা প্রদান

৫. গবাদি প্রাণির স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থানের ব্যবস্থাকরণ।

৬. সুষম ও পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ ও নিশ্চিতকরণ।

৭. প্রাণির দৈহিক ওজন রেকর্ড করা

৮. প্রাণির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা

৯. এঁড়ে গরু খোঁজাকরণ

১০. হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্পের জন্য মেয়াদকাল ।

১১. বাজারজাতকরণের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ।

১২. গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও মুনাফার তথ্য সংরক্ষণ করা।

প্রকল্প চালুর উপযুক্ত সময়

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় যে কোন সময় এ প্রকল্প শুরু করা যায়।

তবে আমাদের দেশে ঈদুল আযহার সময় গবাদিপশুর ব্যাপক চাহিদা থাকে।

এ উৎসবে যাতে হৃষ্টপুষ্ট করা গরু বিক্রয় করা যায় সে অনুযায়ী প্রকল্প শুরু করতে হবে অর্থাৎ উৎসবের ৪/৫ মাস পূর্বে প্রকল্প চালু করা যেতে পারে।

এছাড়া যে সময় গবাদিপশুর দাম কম থাকে এবং পশুখাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় সেই সময় প্রকল্প শুরু করা যায়।

যে সময়ে প্রাণির দাম চড়া ও খাদ্যাভাব এবং রোগের প্রকোপ বেশি সে সময় প্রকল্প হাতে নেয়া যাবে না। তবে নভেম্বর/ডিসেম্বর মাসে আরম্ভ করলে ভাল হয়।

কারণ, এ সময় একটু, ঠান্ডা থাকে ফলে গবাদিপ্রাণিকে এক স্থান হতে ক্রয় করে অন্য স্থানে সহজেই পরিবহণ করা সহজ হয় এবং প্রাণি নিজেকে নতুন স্থানের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে।

প্রকল্প চালুর উপযুক্ত সময় নির্ভর করবে যেখানে খামার করা হবে সেখানকার আবহাওয়া, গরু ও খাদ্যের বাজার দর ইত্যাদির উপর।

সর্বশেষ - গরু পালন