পোল্ট্রি খাতকে নিরাপদ, আধুনিক ও লাভজনক করতে রংপুরে দিনব্যাপী বিভাগীয় কারিগরি কর্মশালা অনুষ্ঠিত।।
পোল্ট্রি খাতকে নিরাপদ, আধুনিক ও লাভজনক করতে রংপুরে দিনব্যাপী বিভাগীয় কারিগরি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে রংপুর পর্যটন মোটেলে ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি)-এর উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৯টায় নিবন্ধন, পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠ ও উদ্বোধনী পর্বের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন প্রফেসর ড. মো. মাহমূদুল হাসান শিকদার, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং সদস্য সচিব, বিভাগীয় কর্মশালা কমিটি, ওয়াপসা-বিবি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার, ভিআইপি শাহাদাত পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের পরিচালক সাহেদা পারভীন তৃষা এবং ওয়াপসা-বিবি-এর সাধারণ সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুর রহমান। কর্মশালাটির সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও আহবায়ক, বিভাগীয় কর্মশালা কমিটি, ওয়াপসা-বিবি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ওয়াপসা-বিবির কার্যকরী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজমুস সাকিব হামিম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ওয়াপসা-বিবির কার্যকরী কমিটির সদস্য মো: জাকারিয়া ইসলাম, যো আব্দুর রহমান রাজ ডাঃ মো আজিমুল হক, ডাঃ মো রাকিবুর রহমান, রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নাজমুল হুদা, বিভিন্ন উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন, রংপুর বিভাগের প্রাইভেট প্রাকটিশনারস, নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী লিমিটেড, প্যারাগণ গ্রুপ এবং আর আর পি এগ্রো ফার্মের জেলা প্রতিনিধিগণ।
কর্মশালায় ‘নিরাপদ ও আধুনিক ব্রয়লার খামার তৈরিতে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব” এবং “স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা” বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য মডেল খামার পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

প্রধান অতিথি ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার বলেন, দেশে ডিম ও মুরগির মাংসের ঘাটতি না থাকলেও প্রান্তিক খামারীরা কাঙিক্ষতভাবে টিকে থাকতে পারছে না। অনেক খামারী লোকসানে থেকেও সামাজিক কারণে খামার চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে গবেষণা ও নীতিগত সহায়তা জরুরি। তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলের পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে মুরগির রোগ বাড়ছে। তাই খামারীদের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে উৎপাদন নিরাপদ হয় এবং লাভ নিশ্চিত হয়।
বিশেষ অতিথি ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জনগণের প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎপাদনে সক্ষম এবং এর বড় অংশ প্রাণিসম্পদ যাত থেকে আসে। এখন সময় গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার। এজন্য যামারী, উদ্যোক্তা, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
পোল্ট্রি উদ্যোক্তা সাহেদা পারভীন তৃষা বলেন, বর্তমানে ডিমের দাম কম থাকায় খামারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কিন্তু দাম বাড়লে তা কমানোর উদ্যোগ দেখা যায়, বিপরীতে কম দামের সময় সহায়তা কম পাওয়া যায়-যা খামারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ওয়াপসা-বিবির সাধারণ সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুর রহমান বলেন, দেশের পোলট্রি খাতকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ওয়াপসা-বিবি সবসময় গবেষক, খামারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তির সেতুবন্ধন তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নতুন ধারণা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা যামারীদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন বিভাগে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং বিভাগীয় কর্মশালার আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, দেশের পোল্ট্রি খাতকে নিরাপদ, টেকসই ও আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে মাঠপর্যায়ের খামারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, শুধুমাত্র উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, বরং উৎপাদনের গুণগত মান ও বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের বিভাগীয় কর্মশালা খামারীদের সাথে পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রেক্ষাপটে আবহাওয়াজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শেষে তিনি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় ‘নিরাপদ ও আধুনিক ব্রয়লার খামার তৈরিতে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মোঃ মাহমুদুল হাসান এবং ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ডাঃ মো আজিমুল হক।
কর্মশালায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৭০ জন খামারী অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাটের জয়দেবপুর গ্রামে একটি মডেল পোল্ট্রি খামার পরিদর্শন করা হয়। সেখানে খামারীরা সরেজমিনে খামার ব্যবস্থাপনা ও বায়োসিকিউরিটি সম্পর্কে ধারণা নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করেন।
খামারীরা তাদের নানা সমস্যার কথা আয়োজকদের সামনে তুলে ধরেন এবং তা নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। আয়োজকরা এসব সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
প্রফেসর ড. মোঃ ইলিয়াস হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং আহ্বায়ক বিভাগীয় কর্মশালা কমিটি ওয়ার্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স এসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা


























