আসল জাতের সোনালী মুরগি চেনার উপায়।। ড. বায়েজিদ মোড়ল।।

সোনালি মুরগি চেনার প্রধান উপায় হলো এদের পালকের রং খয়েরি বা সোনালি-হলদেটে হওয়া এবং পা মসৃণ ও উজ্জ্বল হলুদ বা সাদাটে হওয়া। দেশি মুরগির তুলনায় এদের গায়ের পালক কিছুটা ফ্যাকাশে হয়, ঝুঁটি বা ঝুঁটি ফ্যাকাশে লাল রঙের এবং অত্যন্ত চঞ্চল প্রকৃতির হয়। এদের শরীর সুঠাম ও হাড় শক্ত হয়।
সোনালি মুরগি চেনার বিস্তারিত উপায়গুলো নিচে দেওয়া হলো

গায়ের রং ও পালক: সোনালি মুরগির গায়ের রং প্রধানত খয়েরি, হলদেটে বা সোনালি এবং কালো রঙের মিশ্রণ হতে পারে । পালকগুলো বেশ উজ্জ্বল ও ঘন হয় ।
পা: আসল সোনালি মুরগির পা মসৃণ ও উজ্জ্বল হলুদ বা ফ্যাকাশে হয়, দেশি মুরগির মতো খসখসে বা অমসৃণ হয় না।
ঝুঁটি ও কান: এদের মাথার ঝুঁটি বা ঝুঁটি কিছুটা ফ্যাকাশে লাল রঙের হয়, যা গাঢ় লাল রঙের দেশি মুরগি থেকে আলাদা।
আচরণ: সোনালি মুরগি খুব চঞ্চল ও ছটফটে প্রকৃতির হয়, এরা দেশি মুরগির মতো সবসময় ঝিমিয়ে থাকে না।
ডিম: সোনালি মুরগির ডিমের খোসা সাধারণত হালকা ক্রিম বা বাদামি বর্ণের হয়ে থাকে।
ওজন: এগুলো দেশি মুরগির চেয়ে দ্রুত বাড়ে এবং সাধারণত ৭০০ গ্রাম থেকে ১.৫ কেজির মধ্যে হলে বেশি সুস্বাদু হয় ।

সোনালি ও দেশি মুরগির পার্থক্য
পা: সোনালি মুরগির পা মসৃণ, দেশি মুরগির অমসৃণ।
ঝুঁটি: সোনালি মুরগির ঝুঁটি ফ্যাকাশে, দেশি মুরগির গাঢ় লাল।
পশম: সোনালি মুরগির পশম ফ্যাকাশে, দেশি মুরগির পশম উজ্জ্বল।

আমরা অনেকেই জানি না। আমাদের দেশে বিপুল পরিমাণ সোনালি মুরগি পালন করা হয়ে থাকে। সোনালি মুরগি পালন করার জন্য আসল জাতের সোনালি মুরগি চেনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সোনালি মুরগি পালন করার মাধ্যমে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। আবার অনেকেই সোনালি মুরগির খামার গড়ে তুলছেন। সোনালি মুরগি পালনের জন্য এর সঠিক জাত সম্পর্কে জানা অতীব জরুরী। আসুন আজ জেনে নেই আসল জাতের সোনালি মুরগি চেনার উপায় সম্পর্কে-
আসল জাতের সোনালি মুরগি চেনার উপায়
যেসব বৈশিষ্ট্য দেখে আসল সোনালি মুরগি চেনা যায় সেগুলো নিচে দেওয়া হল-

১। শরীরের রঙের দিক থেকে সোনালি জাতের মোরগের গায়ের রং সাধারণত সোনালি রঙের সাথে কালো রং মিশ্রিত থাকে। আর সোনালি রঙের মুরগির গায়ের রং সাধারণত হলুদ কালো হয়ে থাকে। এছাড়াও স্থান ও পরিবেশভেদে সোনালি মুরগির গায়ের রং বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকে।

২। সোনালি মুরগির শরীরের গঠন সাধারণত মাঝারি আকারের হয়ে থাকে। সোনালি মুরগি সাধারণত অনেক বড় আকারের হয় না। সোনালি মুরগিগুলো মাঝারি আকারের হলেও শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী।
৩। ডিম দেখেও সোনালি মুরগির আসল জাত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আসল জাতের সোনালি মুরগির ডিমের খোসার রং সাধারণত ক্রিম বর্ণের হয়ে থাকে। ডিমের এমন রং দেখেও আসল জাতের সোনালি মুরগি সহজেই চেনা যায়।

৪। আসল জাতের সোনালি মুরগি বেশ চঞ্চল প্রকৃতির হয়ে থাকে। কোন প্রকার বিপদ দেখলেই এই জাতের মুরগিগুলো সজাগ হয়ে ওঠে। কোন শত্রুর আক্রমণ হলে এই জাতের মুরগিগুলোও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং নিজেদেরকে রক্ষা করে।
৫। একটি পূর্ণ বয়স্ক সোনালি মুরগির ওজন ১ থেকে ১.৫ কেজি এবং একটি পূর্ণ বয়স্ক সোনালি জাতের মোরগের ওজন ২ থেকে ২.৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এমন ওজন দেখেও আসল জাতের সোনালি মুরগি সহজেই চেনা যায়।

৬। ডিম উৎপাদনের সক্ষমতা দেখেও আসল জাতের সোনালি মুরগি চেনা যায়। একটি আসল জাতের সোনালি মুরগি বছরে প্রায় ২০০ থেকে ২২০টি ডিম দিয়ে থাকে।
৭। আসল জাতের সোনালি মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। তাই আসল জাতের সোনালি মুরগিগুলোর রোগ অনেক কম হয়ে থাকে। আর সেজন্য এই জাতের মুরগি পালনে ওষুধের জন্য খরচও অনেক কম হয়ে থাকে।
























