RRP
agriculture news
Health Care
Open
diamond egg
renata-ltd.com
fishtech
Ad3
Spech for Promotion
avonah
বুধবার , ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অন্যান্য
  3. ইউটিউব
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপন্যাশ
  6. এ্যাসিভমেন্ট
  7. ঔষধ
  8. কবিতা
  9. কীটনাশক
  10. কৃষি ব্যক্তিত্ব
  11. কৃষি সংবাদ
  12. কৃষি সেক্টরের নিদের্শনা
  13. কৌতুক
  14. খাবার
  15. খামার পদ্ধতি
 

কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার থাকা প্রয়োজন

প্রতিবেদক
Md. Bayezid Moral
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ ৭:৩১ অপরাহ্ণ

কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার থাকা প্রয়োজন – ড. জাহাঙ্গীর আলম।।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দলটির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর তিনি যুক্তরাজ্যে অনেকটা নির্বাসনেই ছিলেন। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দেশে ফিরে এসে তিনি ঘটনাপরস্পরায় দলের প্রধান ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। তার আচরণ, কথা ও পরিকল্পনা দেশের জনগণের আস্থা কুড়াতে সক্ষম হয়। নির্বাচনী জনসভাগুলো পরিণত হয় লোকে লোকারন্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ফেজবুকে তিনি এবং তার কন্যা বেরিষ্টার জাইমা রহমান ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালান। তাদের মুখাবয়ব ও কথার ফুলঝুরি জনগণের মাঝে দারুণ মুগ্ধতা ছড়ায়। তিনি দেশের মানুষের মন জয় করেন। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেয়। অতঃপর তিনি সরকার গঠন করেন। ইতিমধ্যেই তিনি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ দিয়েছেন। সরকার পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেছে নতুন মন্ত্রী সভা। সামনে অনেক ঝুঁকি ও সম্ভাবনার হাতছানি নিয়ে শুরু হয়েছে এই নতুন সরকারে স্বপ্নের পথযাত্রা।

দেশের বর্তমান অবস্থা বেশ অস্থির। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা ভঙ্গুর। মব সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি জনসাধারকে অস্থির করে রেখেছে। নতুন বিনিয়োগে আস্থার সংকট। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ তলানিতে। অসংখ্যা মানুষ কর্মহীন। সকল স্তরে দুর্নীতি বাসা বেধে আছে। জনবিমুখ ও লোভী আমলাতন্ত্র দেশের প্রশাসনে জগদ্দল পাথরের মত বসে আছে। অপরদিকে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় বন্ধাত্ব বিরাজমান। পণ্য সরবরাহ শৃংখলে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি মূল্য পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলছে। গত প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনমাত্রাকে দুর্বিসহ করে রেখেছে। পাশাপাশি দুর্বল ব্যাংকি খাত, সরকারের ঋণ বৃদ্ধি ও রাজস্ব আহরণে ব্যর্থতা জাতীয় অর্থনীতিকে এক নাজুক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের সামনে এখন আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, দুর্বৃত্তায়ন হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, আমলাতন্ত্রের সংস্কার, কৃষি ও শিল্পে উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি হ্রাস বড় অগ্রাধিকার।

খাতওয়ারি বিবেচনায় সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য কৃষি খাত। এটি প্রধান উৎপাদনশীল খাত এবং এটি খাদ্য নিরাপত্তার সংগে সরাসরি যুক্ত। স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫৪ বছর ধরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বছরে গড়ে প্রায় ৩ শতাংশ হারে। গত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়ায় ১.৭৯ শতাংশে। তাতে খাদ্য আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। চাল ও গম মিলে গত অর্থবছরে মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৬ লাখ ৭২ হাজার ৩১ টন। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১৩ লাখ ১ হাজার ৩৯ টন। বর্তমান অর্থবছরে তা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাতে বিদেশি মুদ্রার মজুদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ডলারের তুলনায় টাকার বিনিময় হার নমনীয় বিধায় অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্য শস্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তদুপরি অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার অস্থির হয়ে ওঠাছে। উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি সাধারণ ভোক্তাদের জীবন অতীষ্ঠ করে তুলছে। গত ৪ বছর যাবত বিশ^বাজারে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হার বিবেচনায় লাল তালিকাভুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ।

গত কয়েক মাস আগে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা নমনীয় হয়ে এসেছিল। কিন্তু গত ৪ মাস ধরে তা লাগাতার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জানুয়ারিতে এর পরিমাণ ছিল ৮.২৯ শতাংশ। এর আগে ডিসেম্বরে ছিল ৭.৭১ শতাংশ। এরূপ উচ্চ মূল্যস্ফীতির ৬২.৮ শতাংশই এসেছে আমিষ জাতীয় পণ্য থেকে। বাজারে মাছ, মাংস, শুঁটকি, দুধ ও ডালের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। এমতাবস্থায় ফসল কৃষি ও শস্যবহির্ভূত কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের জন্য ন্যূনতমপক্ষে ৪ শতাংশ হারে বৃহত্তর কৃষি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি করা দরকার। সেক্ষেত্রে আগামী দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া অপরিহার্য।

স্বাধীনতার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রায়ত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সত্তর এর দশকের শেষ ভাগে খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের উপর সর্বোধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসুচি গ্রহণ করেছিলেন। চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছিলেন। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ৩১ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছিল। তারই শাসনামলে ১৯৮১ সালে দেশকে সর্বপ্রথম খাদ্যে স্বয়ম্ভর বলে ঘোষণা করা হয় এবং কিছু চাল বিদেশে রফতানি করা হয়। পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণের ফলে কৃষিতে বিনিয়োগ হ্রাস পায়। ভর্তুকি নেমে আসে প্রায় শূন্যের কোঠায়। ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থবছরে ভয়াবহ বন্যায় কৃষিখাতে বিপর্যয় নেমে এলে তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দেয়া পুনরায় শুরু করে। ২০০১-২০০২ অর্থবছরের বাজেটে তার পরিমাণ ১০০ কোটি টাকায় উপনীত হয়।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকার ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ ১১০০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করে। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরের বাজেটে তা আরও বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করা হয় ১২০০ কোটি টাকা। এটি ছিল মোট বাজেটের প্রায় পৌণে ২ শতাংশ। এর পর কৃষি ভর্তুকির আকার বেড়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কৃষি ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ করা হয় ১৭ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। এটি মূল বাজেটের ২.২ শতাংশ, যা অপ্রতুল। এটি মোট কৃষি উৎপাদনের ১০ শতাংশ বা ৪০ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি করা উচিত। বৃহত্তর কৃষি খাতে মোট বাজেটের ১০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ দেয়া যুক্তসংগত। বর্তমানে তা ৫.৮৬ শতাংশ।
বিএনপির নির্বাচন ইশতেহারে কৃষি কার্ড করা এবং তার মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি, ঋণ, বীমা সুবিধা ইত্যাদি প্রদানের কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির কৃষকের মাঝে প্রগতিশীল হারে আচ্ছাদিত ভর্তুকিযুক্ত উপকরণ এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষকের কার্ড খুবই সহায়ক হতে পারে। বর্তমানে মূল সমস্যা কৃষি উপকরণে সরবরাহ ঘাটতি। উদাহরণ স্বরূপ রাসায়কি সারের কথা বলা যায়। এবার বোরোর মৌসুমে কৃষকগণ তাদের প্রয়োজনের অর্ধেক পরিমাণ সারও যোগার করতে পারছেন না। সদ্য বিদায় নেয়া অন্তরবর্তীকালীন সরকারের আমলে গ্যাস সংকটের অজুহাতে অধিকাংশ সার কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরদিকে অর্থ সংকটের কারণে পর্যাপ্ত সার আমদানি করা যায় নি। ফলে তীর্ব সার সংকট দৃষ্টি গোচর হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে সারের দাম বেড়ে গেছে। এ সংকট মোকাবেলায় দেশের সার কারখানাগুলো পুরোদামে চালু করা দরকার। বীজ ও বালাই নাশকের আমদানি হ্রাস করে দেশের অভ্যন্তরে তা উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দেয়া দরকার। বিদেশি নামকরা কোম্পানিগুলোর সংগে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের ভেতর কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কারখানা স্থাপন করা দরকার। খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করে ভূ-উপরিস্থিত পানির সৎ ব্যবহারের মাধমে সেচের সম্প্রসারণ করা উচিত।

বিএনপির নির্বাচন ইশতেহারের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকার। এর জন্য সরকারের শস্য সরবরাহ নীতির পরিবর্তন করা দরকার। ফসলের উৎপাদন খরচের উপর ন্যূনপক্ষে ২০ শতাংশ লাভ যোগ করে শস্য সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। বর্তমানে শুধু ধান-চাল ও গম উৎপাদন মৌসুমে সরকারিভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়। এর পরিধি বৃদ্ধি করে প্রাথমিকভাবে ১০টি ফসল সংগ্রহের পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের ১০ শতাংশ কৃষকের নিকট থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা উচিত। গত উৎপাদন মৌসুমে আলুর মূল্যে ধস ঠেকাতে অন্তরবর্তী সরকার হিমাগার প্রান্তে আলুর সর্বনি¤œ মূল্য ২১ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল এবং ৫০ হাজার টন আলু কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তার কোনটাই বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এর পর আলু চাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য মূল্য সমর্থন প্রদানের কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন না করেই বিদায় নিয়েছে অন্তবর্তী সরকার। এরূপ নিস্কর্মা প্রতিশ্রুতি অর্থহীন। বাজারে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য বাজারে সরকারের বড় ধরনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি নিস্কৃয় করে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। শুধু চোখ রাঙানি দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের নৈরাজ্য বন্ধ করা যাবে না। সেক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহ ক্ষেত্রেও সরকারকে কৌশলী ভূমিকা নিতে হবে। তাছাড়া কৃষি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, বিপণন, আমদানি ও রফতানি নীতি সুষ্ঠুভাবে প্রণয়নের জন্য একটি কৃষি মূল্য কমিশন গঠন করা যেতে পারে।

কৃষি উন্নয়নের সঙ্গে পল্লী উন্নয়ন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। সম্প্রতি কৃষি পণ্যের উৎপাদনে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তাতে সমবায় ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি সহায়তা রয়েছে। কৃষকদের সংগঠিত করা, উপকরণের যোগান দেয়া, পানি সেচের ব্যবস্থা করা, ঋণের যোগান দেয়া এবং কৃষি পণ্য বিপণনে সহায়তা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে কৃষি সমবায়। চিরায়ত সমবায় বিভাগ এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে ভবিষ্যতেও। বর্তমানে কৃষি খামারের আকার দ্রুত ছোট হয়ে যাচ্ছে। শতকরা প্রায় ৯২ শতাংশ কৃষকই এখন ছোট ও প্রান্তিক। এদের সংগঠিত করে উৎপদন দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য এবং পরিকল্পিতভাবে গ্রামেরান্নয়নের মাধ্যমে কৃষি জমি হ্রাস ঠেকানোর জন্য স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ সুফল বয়ে আনতে পারে। সম্প্রতি একজন জননন্দিত রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই মন্ত্রণালয়টির হাল ধরেছেন। এক সময় তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়েরও একজন সফল প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি কৃষি ও পল্লী উন্নয়নের মধ্যে কার্যকরভাবে সমন্বয় সাধন করতে পারেন। স্বাধীনতার সময় ফসল কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, বন, খাদ্য ও পানিসম্পদ একই মন্ত্রণালয় অধীনে ছিল। পরে কাজের সুবিধার্থে কৃষি মন্ত্রণালয় ভাগ করে বিষয়ভিক্তিক আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখন শুধু ফসল খাত চিরায়ত কৃষি মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচয় বহন করছে। এসব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে কাজের পূণরাবৃত্তি আছে। সেক্ষেত্রে সমন্বয়ের দারুণ অভাব। একজন সিনিয়র মন্ত্রীকে এ সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা মন্ডলী নিয়ে বর্তমান মন্ত্রীসভার আকার বেশ বড়। তাতে পরিচালন ব্যয় কম নয়। দেশের নাজুক অর্থনীতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকার পরিচালন ব্যয় যথাসম্ভভ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। পুরনো কর্মচারিদের বেতন-ভাতা সীমিত রেখে নতুন কর্ম সংস্থানে আর্ধিক মনোনিবেশ করা উচিত। দীর্ঘ দিন ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আঁটসাঁট মুদ্রা ও রাজস্বনীতি অনুসরণ করা উচিত। অনুৎপাদনশীল খাতে বেশি বিনিয়োগ করা উচিত। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের নেতৃত্বে সামনের দিনগুলোতে উন্নত ও নিরাপদ জীবন যাপনের প্রত্যাশা করছে দেশের সাধারণ মানুষ। এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন সরকারের সাফল্য কামনা করছি।


ড. জাহাঙ্গীর আলম: একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ। সাবেক উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (ইউজিভি); সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই); সাবেক সদস্য-পরিচালক (কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এবং সাবেক পরিচালক, ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকস।

সর্বশেষ - গরু পালন